শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের শিকার ছিল মরিয়াম, অভিযোগ বাবার
শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের শিকার ছিল মরিয়াম, অভিযোগ বাবার
Summary: মাসখানেক আগে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়াম বেগমকে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ-সংলগ্ন ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে তোলেন সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলাম। সেখানে তিনি ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম শারীরিক ও মানসিকভাবে মরিয়ামকে নির্যাতন করতেন। মামলার এজাহারে মরিয়ামের বাবা মাসুম বিল্লাহ এই অভিযোগ করেছেন।
তবে গতকাল সোমবার রিমান্ড শুনানি শেষে আদালতে সাতক্ষীরা-৪ আসনের বিতর্কিত এমপি নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। ঘটনার সময় আমি বাসায় ছিলাম না। সে (মরিয়াম) আত্মহত্যা করেছে।’ মরিয়ামকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
মরিয়ামকে আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলায় এমপি গাজী নজরুল এবং তার স্ত্রী মাকছুদাকে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। গতকাল ঢাকার সিএমএম আদালত শুনানি শেষে গাজী নজরুলকে চার দিন এবং মাকছুদাকে এক দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
রোববার রাতে ন্যাম ভবনে গাজী নজরুলের ফ্ল্যাট থেকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ামের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সে সময় গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শেরেবাংলা নগর থানায় নেওয়া হয়।
পুলিশের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে গাজী নজরুল দাবি করেন, দুপুরে খাওয়া-দাওয়া শেষে মরিয়াম তার কক্ষে চলে যান। তিনি পাশের কক্ষে ছিলেন। তখন প্রথম স্ত্রীও বাসায় ছিলেন। ৫টার দিকে মরিয়ামের ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখে ডাকাডাকি করেন। পরে জানালা দিয়ে তাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখেন।
পুলিশ জানায়, রোববার গভীর রাতে মরিয়ামের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় গাজী নজরুল, মাকছুদা ও মরিয়ামের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। ওই মামলায় গাজী নজরুল ও মাকছুদাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকাল দুপুরে আদালতে নেওয়া হয়। প্রথমে তাদের ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।
থানা থেকে মামলাটি স্থানান্তর করে গতকাল বিকেলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ফলে রিমান্ড মঞ্জুরের পর আদালত থেকে গাজী নজরুল ও মাকছুদাকে তদন্তসংশ্লিষ্টরা মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যান। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মাসখানেক আগে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়াম বেগমকে ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে তোলেন গাজী নজরুল।
গাজী নজরুল জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হয়ে সাতক্ষীরা থেকে তিনবার সংসদ সদস্য হয়েছেন। ১৯৯১ ও ২০০১ সালের ভোটে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী হয়ে তৃতীয়বারের মতো এমপি হন গাজী নজরুল।
গত জুলাইয়ে সামাজিক মাধ্যমে এমপি গাজী নজরুলের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ২২ জুলাই গাজী নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মুখে গাজী নজরুল নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দিয়ে জানান, ভিডিওতে থাকা তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার বাসায় বিয়ে হয়। ২২ জুলাই নৈতিক স্খলনের দায়ে দল থেকে গাজী নজরুলকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী।
গতকাল বিকেল ৩টার দিকে গাজী নজরুল ও তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই শামসুজ্জোহা সরকার। আদালতে নেওয়ার সময় তাদের হাতে হাতকড়া, মাথায় হেলমেট ও বুকে বুলেট প্রুফ জ্যাকেট ছিল। অবশ্য কাঠগড়ায় নেওয়ার পর এসব খুলে দেওয়া হয়।
রিমান্ড শুনানির সময় ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী গাজী নজরুলের রাজনৈতিক প্রসঙ্গে কথা বলতে গেলে বিচারক তাকে থামিয়ে দিয়ে মামলার বিষয়ে বলতে বলেন। তিনি রিমান্ড আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ‘মামা ওবায়দুর রহমানকে প্রলোভন দেখিয়ে মরিয়ামকে বিয়ে করেন এমপি গাজী নজরুল। প্রথম স্ত্রীকেও রাজি করান মরিয়ামকে বিয়ে করাতে। তারা ন্যাম ভবনে বাস করতেন। আত্মহত্যায় প্ররোচনা অভিযোগে মামলা হয়েছে। হত্যার বিষয় উড়িতে দিতে পারি না।’
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে মরিয়ামের বাবা মাসুম বিল্লাহ সমকালকে বলেন, গাজী নজরুল তার আপন খালু। নজরুলের সঙ্গে মরিয়ামের সম্পর্কে জড়ানোর নেপথ্যে কাজ করেছেন তার শ্যালক ওবায়দুর রহমান। ওবায়দুর টাকার জন্য নজরুলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে দিয়ে মরিয়ামকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছেন। নজরুলের কাছে মরিয়াম মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
নজরুলের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হওয়া চিরকুট সম্পর্কে মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘ওটা মরিয়ামের হাতের লেখা কিনা জানি না। তার হাতের লেখা খুব একটা চিনি না। নির্যাতনের শিকার হলেও মরিয়াম কোনো কিছু জানায়নি আমাকে।’
এজাহারে মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেছেন, গত জুনে তার শ্যালক ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় গাজী নজরুলের সঙ্গে মরিয়ামের বিয়ে হয়। এর পর থেকে ৫ নম্বর ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদার সঙ্গে মরিয়াম বসবাস করতেন। ওই বাসায় গাজী নজরুল ও মাকছুদা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে মরিয়ামকে নির্যাতন করতেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল মোবাইল ফোনে বাদী মাসুম বিল্লাহকে দ্রুত ন্যাম ভবনের বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি মেয়েকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলে থাকতে দেখেন। এজাহারে বলা হয়েছে, বেলা আনুমানিক ৩টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে কোনো এক সময় ঘটনাটি ঘটেছে।
খবর পেয়ে সন্ধ্যা ৭টায় পুলিশ ওই বাসায় গিয়ে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে লাশ উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিট আলামত সংগ্রহ করে। এ সময় সেখান থেকে চিরকুট পাওয়া যায়। সেগুলো মরিয়ামের লেখা বলে ধারণা পুলিশের। চিরকুটে বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা এবং গাজী নজরুলের কারণে বিপর্যস্ত হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে। লেখাটি মরিয়ামের কিনা, তা ফরেনসিক পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানায় পুলিশ।
রাত ১০টার দিকে লাশ উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। গতকাল বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। এরপর লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন তারা।
শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, মামলাটি ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। দুই আসামিকে ডিবি আদালত থেকে মিন্টো রোডের কার্যালয়ে নিয়ে গেছে। ডিবি তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করবে।
গাজী নজরুলের কুশপুত্তলিকা দাহ
শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি জানিয়েছেন, মরিয়ামের মৃত্যুর ঘটনায় গাজী নজরুলের ফাঁসির দাবিতে শ্যামনগরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। উপজেলা সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে গতকাল বেলা ১১টায় পৌর সদরে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
শুরুতে জেসি কমপ্লেক্স চত্বর থেকে বিক্ষুব্ধ জনতা মিছিল নিয়ে পৌর সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে তারা গাজী নজরুলের কুশপুত্তলিকায় জুতাপেটা ও অগ্নিসংযোগ করে।
সমাবেশ চলাকালে বক্তব্য দেন নওয়াবেঁকী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান মিঠু, নুরনগর পাবলিক লাইব্রেরির আহ্বায়ক আবু ইউসুফ, ভুরুলিয়া সমবায় ক্লাবের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলহাজ্ব আবুল কালাম মোড়ল, তরুণ সমাজসেবক রেজাউল ইসলাম প্রমুখ।
বক্তারা মরিয়ামের মৃত্যুর জন্য গাজী নজরুলকে দায়ী করেন। নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়েটি একটি চাকরির আবেদন করতে গিয়ে এমপি গাজী নজরুলের খারাপ নজরে পড়ে।
জাতিসংঘকে আরও কার্যকর ভূমিকায় চান বিশ্বনেতারা
জাতিসংঘকে আরও কার্যকর ভূমিকায় চান বিশ্বনেতারা
Summary: বিশ্ববাসীর সামনে বিদ্যমান বহুমুখী সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘকে আরও কার্যকর ভূমিকায় ও আস্থার প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক সূচনার প্রাক্কালে স্থানীয় সময় রোববার নিউইয়র্কে বিভিন্ন প্রস্তুতিমূলক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও সাইডলাইন ইভেন্টে এই আহ্বান জানান তারা।
এ বছরের সামগ্রিক অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে– ‘আস্থা পুনঃস্থাপন এবং রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: সকলের জন্য কাজ করে এমন একটি জাতিসংঘ’। প্রস্তুতিমূলক আলোচনা ও পার্শ্ববর্তী ইভেন্টগুলোতে বিশ্বব্যাপী টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের শ্লথগতি এবং উন্নয়ন অর্থায়নের তীব্র সংকট দূর করতে কার্যকর উপায় নিয়ে নীতিনির্ধারকরা আলোচনা করেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত সাইডলাইন বৈঠকে মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স, অসংক্রামক রোগ এবং ভবিষ্যতের মহামারি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য খাতের টেকসই অর্থায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট ও ইউক্রেন যুদ্ধসহ বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।
নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে বাংলাদেশ সময় আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টা ৫ মিনিটে নিউইয়র্ক পৌঁছবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিতে গতকাল সোমবার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন।
ঢাকা থেকে প্রায় ৮ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের ফ্লাইট শেষে তুরস্কের স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে বিমানটি ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ইস্তাম্বুলে দুই ঘণ্টা ৩৫ মিনিট যাত্রাবিরতি করেন প্রধানমন্ত্রী। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি শেষে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হকের বরাত দিয়ে বাসসকে জানান, প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও অন্য সফরসঙ্গীদের নিয়ে তুর্কি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি তুরস্কের স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর ত্যাগ করে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।
বিমানবন্দর থেকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে প্রধানমন্ত্রীকে ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হবে। সফরকালে তিনি সেখানেই অবস্থান করবেন।
নিউইয়র্কে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু করবেন। সকালে তিনি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজনে স্বাগত প্রাতরাশে যোগ দেবেন।
প্রধানমন্ত্রীর কর্মব্যস্ত সূচি
সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংবর্ধনা গ্রহণ করবেন। ২২ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা ১০ মিনিটে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন তিনি। এ সময় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ের ফিস-এমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন।
এ ছাড়া মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত জুলি বিশপ, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা এবং মেটা প্ল্যাটফর্মসের চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল কাপলানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সন্ধ্যা ৭টায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট আয়োজিত সংবর্ধনায় অংশগ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী।
২৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৮টায় আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ। দুপুর ১টায় ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে জলবায়ু কার্যক্রম ও ন্যায়সংগত রূপান্তরবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশগ্রহণ ও বক্তব্য প্রদান।
২৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হুমকি মোকাবিলাবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বক্তব্য রাখবেন। বেলা সাড়ে ১১টায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু রোধে মিডওয়াইফারি অন্তর্ভুক্তিবিষয়ক অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য। দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর আড়াইটায় থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। বিকেল সাড়ে ৫টায় জাতিসংঘ অধিবেশনের সাধারণ আলোচনায় অংশগ্রহণ করে ভাষণ প্রদান করবেন। সন্ধ্যা ৭টায় স্থায়ী প্রতিনিধির আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি।
২৫ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৮টায় জেপি মরগান আয়োজিত ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠক। বেলা ১১টায় কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং দুপুর দেড়টায় যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপির নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী। রাত ১১টায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবেন এবং ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময়) তিনি শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফরকে আড়ম্বর অনুষ্ঠান নয়, মানুষের জন্য কাজ এবং ক্ষমতা প্রদর্শন নয়, বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
গতকাল দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। মুখপাত্র বলেন, এটি শুধু জাতিসংঘে দেশকে তুলে ধরা নয়, এটি জনগণের আকাঙ্ক্ষার আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিত্ব। এটি বাংলাদেশের স্বার্থ, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বমঞ্চে নতুন ইতিহাসের সূচনা।
নিউইয়র্কে মুখোমুখি বিএনপি-আওয়ামী লীগ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের অন্যতম ব্যস্ত ও বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকা জ্যাকসন হাইটস। এখানেই রাজনৈতিক পোস্টার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে রোববার ক্ষমতাসীন বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর মধ্যে তীব্র উত্তেজনা এবং মুখোমুখি অবস্থানের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশের শক্ত অবস্থানের কারণে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
কক্সবাজারে গ্রেপ্তার ৬ বিদেশি নাগরিকের ৩ দিনের রিমান্ড
কক্সবাজারে গ্রেপ্তার ৬ বিদেশি নাগরিকের ৩ দিনের রিমান্ড
Summary: কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন একটি রিসোর্টে আস্তানা গেড়ে আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার চীন ও তাইওয়ানের ছয় নাগরিকের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার দুপুরে কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম এস এম গিয়াস উদ্দিনের আদালত ওই ছয় বিদেশি নাগরিক ওয়ে চিং ওয়েন, সু ইয়াংফান, ইয়ান চাংসুং, সু হাইয়াং, উ জিয়ানশিওং ও ঝাং ঝোমিংকে রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন। শুনানি শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শওকত ওসমান বলেন, আসামিদের অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা গভীরভাবে তদন্ত এবং জব্দ করা ডিভাইসগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান বলেন, সাইবার অপরাধের সত্যতা উদ্ঘাটন যেমন জরুরি, তেমনি গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পর্যটন বা অন্য কোনো বৈধ কাজে বাংলাদেশে এসে থাকলে তাদের আইনগতভাবে মুক্তি পাওয়ারও সুযোগ রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের রামুর হিমছড়ি সমুদ্রসৈকতের পাশে তিনটি রিসোর্ট ও একটি আবাসিক ভবন ভাড়া নিয়ে আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারক চক্রের আস্তানা গড়ে তোলার অভিযোগ ওঠে। পরে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে মামলা করে রামু থানা পুলিশ।
পুলিশের মামলায় উল্লেখ করা হয়, আড়াই থেকে তিন শতাধিক চীন ও তাইওয়ানের নাগরিক সেখানে অবস্থান করে গোপনে কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন। একটি রিসোর্টের হলরুমে কম্পিউটার ল্যাব তৈরি করা হয়েছিল। পাশাপাশি তৈরি করা হয় ছয়টি সাউন্ডপ্রুফ কক্ষ।
সাবেক মন্ত্রী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন আরও ছয়জন
সাবেক মন্ত্রী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন আরও ছয়জন
Summary: চট্টগ্রামে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবিএল) ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচারের অভিযোগে মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে আরও ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। এ নিয়ে এই মামলায় ৫১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।
গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন আদালত।
মামলার আসামিদের মধ্যে জাবেদ ছাড়াও আছেন তাঁর স্ত্রী ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান, সাবেক পরিচালক আসিফুজ্জামান চৌধুরী ও রোকসানা জামান চৌধুরী। সাবেক পরিচালকদের মধ্যে আরও আছেন, বশির আহমেদ, আফরোজা জামান, সৈয়দ কামরুজ্জামান, মো. শাহ আলম, জোনাইদ শফিক, অপরূপ চৌধুরী প্রমুখ।
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আরামিট গ্রুপের প্রটোকল অফিসার ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে নামসর্বস্ব ভিশন ট্রেডিং নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক সাজিয়ে ব্যাংক থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করা হয়। পরে জাবেদ তাঁর কর্মচারীদের দিয়ে সেই টাকা উত্তোলন করে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করে সম্পত্তি কিনে নেন। ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই ৩১ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়। অভিযোগপত্রে ৯২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
গাজায় তীব্র হচ্ছে মানুষের হতাশা, ইসরায়েলি গুলিতে নিহত ৪
গাজায় তীব্র হচ্ছে মানুষের হতাশা, ইসরায়েলি গুলিতে নিহত ৪
Summary: ইসরায়েলি হামলায় গাজায় গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত চার ফিলিস্তিনি নিহত ও ১৭ জন আহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বুলেটিনে বলা হয়, নিহতদের একজন আগের হামলায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বুলেটিন অনুসারে, একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার ভোরে দক্ষিণ গাজা উপত্যকায় রাফাহর আল-মাওয়াসি এলাকায় ইসরায়েলি সেনারা এক ফিলিস্তিনি কিশোরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত কিশোরটি ঘটনাস্থলেই মারা যায় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। মধ্য গাজায় মৃত্যুর সড়ক নামে পরিচিত সালাহ আল-দিন সড়ক দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় এক ফিলিস্তিনি নারীকে লক্ষ্য করেও ইসরায়েলি ট্যাঙ্ক থেকে গুলি ছোড়া হয়। এই পথে ইসরায়েলি সেনাদের হামলায় শত শত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
এদিকে সমুদ্রপথেও উত্তেজনা বাড়ছে বলে জানা গেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে। গাজার উপকূলের কাছে ফিলিস্তিনি জেলেদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছে ইসরায়েলি নৌযান থেকে। এতে তিনজন জেলে আহত হন।
যুদ্ধবিরতির জন্য নির্ধারিত হলুদ রেখার কাছে বাস্তুচ্যুত হয়ে তাঁবুতে বসবাসকারী লোকজনকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে রোববার রাতেও। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে হামাদ এলাকার কাতার ক্যাম্পে অন্তত চার ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। এই এলাকাটি হলুদ রেখা থেকে বেশ দূরে হলেও সেখানে ব্যাপকভাবে ইসরায়েলি গুলি চালানো হয়। ইসরায়েলি সামরিক যান থেকেও গুলি ছোড়া হয় এবং এতে মানুষ আহত হন।
গাজায় বিপন্ন মানবিকতা
প্রায় এক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজা উপত্যকায় হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চলছেই।
গাজায় মানুষের হতাশা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। সেখানে মানুষের মানবিক পরিস্থিতিও অত্যন্ত সংকটাপন্ন। অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধবিরতির জন্য নির্ধারিত হলুদ রেখার ভেতরে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে বহু ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি বাহিনী গাজার ৭০ শতাংশের বেশি এলাকার ওপর সামরিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।
আলজাজিরার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর ৩৪৪ দিনের মধ্যে ৩০৮ দিনই গাজায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। অর্থাৎ মাত্র ৩৬ দিন গাজায় কোনো সহিংস হামলা, মৃত্যু বা আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। এর পরও যুক্তরাষ্ট্র বলে আসছে যুদ্ধবিরতি এখনও বহাল রয়েছে। ২০২৫ সালের ১৯ ও ২৯ অক্টোবর ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী দুটি দিন। সেসময় ইসরায়েলি হামলায় মোট ১৫৪ জন নিহত হন।
বাড়ছে বাসের ভাড়া, বেড়েছে পরিবহন ব্যয়
বাড়ছে বাসের ভাড়া, বেড়েছে পরিবহন ব্যয়
Summary: জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে বাড়তে যাচ্ছে বাসের ভাড়া। গত রোববার দিবাগত রাতে ডিজেলের বর্ধিত দাম কার্যকরের পর বেড়ে গেছে পরিবহন ব্যয়। বেসরকারি কনটেইনার ডিপো মালিকদের সংগঠন বিকডা ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ ‘ফুয়েল সারচার্জ’ আরোপ করেছে।
সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) যাত্রীবাহী বাসের ভাড়া কিলোমিটারে দূরপাল্লায় ২০ পয়সা এবং নগর পরিবহনে ১৮ পয়সা বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে। যদিও আসনবিন্যাসের কারণে ভাড়া বাড়বে আরও বেশি। তবে সরকারের অনুমোদন পাওয়ার আগেই সোমবার বিভিন্ন রুটের বাসে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হয়। লঞ্চের ভাড়া সরকারি সিদ্ধান্তের বৃদ্ধির আগেই খেয়া ও নৌপথে পণ্য পরিবহনের খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে।
রাজধানী ঢাকার কিছু বাসে সোমবারই বর্ধিত ভাড়া নেওয়া হয়। রাজধানীর ফার্মগেট থেকে যাত্রাবাড়ী হয়ে সাইনবোর্ডের দূরত্ব ১৪ দশমিক ৪ কিলোমিটার। কিলোমিটারে ২ টাকা ৫৩ পয়সা হিসেবে এ পথের ভাড়া ৩৭ টাকা। তবে এই রুটের লাব্বাইক পরিবহনে আগেই নেওয়া হতো ৪০-৪৫ টাকা। ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে সোমবার নেওয়া হয় ৫০। দূরপাল্লার বাসেও ভাড়া বৃদ্ধির খবর মিলেছে। দক্ষিণবঙ্গ থেকে ঢাকার রুটের বাসে এদিন যাত্রীপ্রতি ৫০ টাকা করে বেশি নেওয়া হয়।
ডিজেল-পেট্রোলের দামে রেকর্ড
ইরানের পর সৌদি আরব-ইয়েমেন যুদ্ধে আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে তেলের দাম। এর প্রভাবে রোববার রাতে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ডিজেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
গত ২১ এপ্রিল ডিজেলে ১৫ টাকা বৃদ্ধি করে ১১৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল সরকার। এর আগে ২০২২ সালের ৬ আগস্ট ডিজেলের দাম ৮০ থেকে বৃদ্ধি করে ১১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে কয়েক ধাপে দাম কমে। ডিজেলের ১৩৫ টাকা দাম দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
গত এপ্রিলে পেট্রোলের দাম ১১৬ থেকে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। জুনে তা হয় ১৪০ টাকা। এবার হয়েছে ১৬০ টাকা। অকটেনের দাম এপ্রিলে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা হয়েছিল। জুনে হয় ১৪৫ টাকা। এবার হয়েছে ১৬৫ টাকা।
২০২২ সালের আগস্টে পেট্রোলের দাম ৮৭ টাকা লিটার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১৩০ টাকা হয়েছিল। ৮৯ টাকার অকেটন হয়েছিল ১৩৫ টাকা। পরে কয়েক দফায় কমে পেট্রোল ও অকটেনের দাম প্রায় দুই বছর ১১৬ ও ১২০ টাকায় স্থিতিশীল ছিল। মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকারের মতো যানবাহন চলে অকটেন ও পেট্রোলে। বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, লঞ্চ, ট্রেন, ইঞ্জিনচালিত নৌকার মতো বাণিজ্যিক যানবাহন চলে ডিজেলে। রেল ছাড়াও যাত্রীবাহী বাস ও লঞ্চের ভাড়া সরকার নির্ধারণ করে। বাকি যানবাহন চলে চুক্তিতে। পরিবহন খাতে ব্যবহৃত জ্বালানির ৯০ শতাংশই ডিজেল।
ভাড়া বৃদ্ধিতে দেনদরবার
বাসের ভাড়া বৃদ্ধির জন্য দুপুরে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কাছে প্রস্তাব করে বাস মালিকদের সংগঠন সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। মালিকপক্ষ ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে চলা বাসে ভাড়া কিলোমিটারে ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বৃদ্ধি করে ২ টাকা ৭৩ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব করে। দূরপাল্লার ৫১ আসনের বাস ভাড়া ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বৃদ্ধি করে ২ টাকা ৪৩ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব করে। উভয় ক্ষেত্রে এর সঙ্গে ২০২২ সাল থেকে ডলারের দাম যত শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, ভাড়াও তত শতাংশ বৃদ্ধির দাবি করে। এতে ভাড়া দ্বিগুণ হয়ে যেত।
সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম সমকালকে বলেন, ২০২২ সালের পর ভাড়া পুনর্নির্ধারণে জ্বালানি তেল ছাড়া কোনো কিছুই বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। এই সময়ে ডলারের দাম ৮৬ টাকা থেকে ১২৩ টাকা হয়েছে। এ কারণে বাসের প্রতিটি যন্ত্রাংশ এবং আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পায়। গত এপ্রিলে ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বৃদ্ধিতে ১১ পয়সা ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়। যদিও বিআরটিএর ব্যয় বিশ্লেষণ কমিটির প্রস্তাব ছিল ২২ পয়সা ভাড়া বৃদ্ধির। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ছিল, দেশের আর্থিক পরিস্থিতির কারণে শুধু তেলের দাম সমন্বয় করা হয়। তেলের দাম কমলে অন্যান্য ব্যয় সমন্বয় করে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হবে। মালিকরা তা মেনে নিয়েছিলেন। এখনও আর্থিক অবস্থা ঠিক হয়নি। তাই ডিজেলের দাম ২০ টাকা বৃদ্ধিতে ২০ পয়সা ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব মালিকরা মেনে নিয়েছেন।
ভাড়া কত বৃদ্ধি পেতে পারে, তা সুপারিশে বিআরটিএর ভাড়া নির্ধারণ কমিটি সংস্থাটির বনানী সদর কার্যালয়ে পরিবহন মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ভাড়া যৌক্তিক হারে বৃদ্ধির সুপারিশ করা হবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রণালয় তা গ্রহণ করলে আজ মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির পর বর্ধিত ভাড়া কার্যকর হবে। মালিকরা অবশ্য সোমবার রাতেই প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তাব করেন।
ভাড়া বাড়বে বেশি
কিলোমিটারে ২০ এবং ১৮ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব করা হলেও আসলে ভাড়া বাড়বে আরও বেশি। গত এপ্রিলে ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোয় ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ১১ পয়সা বাড়ানো হয়েছিল। বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ৫৩ পয়সা। মিনিবাসের ভাড়া ২ টাকা ৪২ পয়সা। অন্যদিকে দূরপাল্লার পথে ৫২ আসনের বাসে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ২ টাকা ২৩ পয়সা। ভাড়া নির্ধারণ কমিটির এক সদস্য জানিয়েছেন, তারা নগর পরিবহনের ভাড়া ১৮ পয়সা এবং দূরপাল্লার বাসে ২০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। মন্ত্রণালয় তা থেকে কিছু কমাতে পারে।
দূরপাল্লায় ৫২ আসন ধরে বাস ভাড়া নির্ধারণ করা হলেও অধিকাংশ বাস ৪০ আসনের। আরামদায়ক যাত্রার জন্য অনেক বাসে আসন সংখ্যা ৩২ থেকে ৩৬টি। আসন কমলে ভাড়া বাড়ে। ফলে দূরপাল্লার নন-এসি বাসে ৫২ আসনের বাসে কিলোমিটারে সরকার নির্ধারিত ভাড়া ২ টাকা ২৩ পয়সা হলেও ৪০ আসনে তা ২ টাকা ৯০ পয়সা। ৫২ আসনের বাসে ২ টাকা ৪৩ পয়সা নির্ধারণ করা হলে ৪০ আসনের ক্ষেত্রে তা হবে ৩ টাকা ১৬ পয়সা। জানিয়েছে
কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে ‘ফুয়েল সারচার্জ’
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানিয়েছে, ডিজেলের দাম বাড়ানোয় বেসরকারি কনটেইনার ডিপো মালিকদের সংগঠন বিকডা ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ ‘ফুয়েল সারর্চাজ’ আরোপ করেছে। কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে এই চার্জ কার্যকর করা হবে বলে সোমবার বিকডার মহাসচিব স্বাক্ষরিত সার্কুলারে জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ডিজেলের দাম ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়ানোয় সারচার্জ আরোপ করা হয়েছে, যা সোমবার থেকে কার্যকর করার ঘোষণা দেন তারা।
একই পথে হাঁটছে বার্থ অপারেটরস শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরস অ্যান্ড টার্মিনাল অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। তারাও দর বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সংগঠনের সভাপতি ফজলে ইকরাম চৌধুরী চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবর জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করে নতুন দর নির্ধারণের জন্য চিঠি দিয়েছেন। তবে ব্যবসায়ীরা হঠাৎ দর বাড়ানোর এমন প্রচেষ্টাকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন।
বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোস অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার জানান, তেলের দাম বাড়ানোয় বাধ্য হয়ে মূল্য সমন্বয় করেছেন তারা। বিষয়টি আইসিডি ব্যবহারকারীদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিকডা জানায়, তাদের ফুয়েল সারচার্জের মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর এবং আইসিডির মধ্যে খালি কনটেইনার পরিবহন চার্জ, পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) এবং আইসিডির মধ্যে খালি কনটেইনার পরিবহন চার্জ, খালি কনটেইনার লিফট-অন বা লিফট-অফ চার্জ, রপ্তানি পণ্য স্টাফিং/ হ্যান্ডলিং প্যাকেজ চার্জ, রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনারের ভিজিএম চার্জ, আমদানি পণ্য ডেলিভারি প্যাকেজ চার্জ।
রপ্তানি পণ্য স্টাফিং বা হ্যান্ডলিং প্যাকেজ চার্জের মধ্যে রয়েছে– স্টাফিংয়ের পর লোড ইয়ার্ডে রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার পরিবহন, লোড ইয়ার্ডে রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার লিফট-অফ, এম্পটি ইয়ার্ডে খালি কনটেইনার লিফট-অন, এম্পটি ইয়ার্ড থেকে সিএফএস শেড পর্যন্ত খালি কনটেইনার পরিবহন, খালি কনটেইনারে রপ্তানি পণ্য স্টাফিং, ভেসেল বা জাহাজ নির্ধারণের পর লোড ইয়ার্ডে রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার লিফট-অন এবং চট্টগ্রাম বন্দর বা পিসিটিতে রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার পরিবহন।
আমদানিকৃত পণ্য ডেলিভারি প্যাকেজ চার্জের মধ্যে রয়েছে– আইসিডিতে কনটেইনার নামানো (লিফট-অফ), আমদানি ডেলিভারি ইয়ার্ডে কনটেইনার রাখা এবং কনটেইনার থেকে ট্রাকে আমদানি পণ্য খালাস ও ডেলিভারি (শ্রমিকসহ) এবং চট্টগ্রাম বন্দর বা পিসিটি থেকে আইসিডিতে আমদানি পণ্যবাহী কনটেইনার পরিবহন।
শুধু বন্দর নয়, চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন রুটে গণপরিবহনের ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন চালক ও হেলপাররা। কোনো কোনো রুটে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৩ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ১০ নম্বর রুটের বাসে ২ নম্বর গেট থেকে আগ্রাবাদ পর্যন্ত আগে ১৫ টাকা ভাড়া নেওয়া হলেও সোমবার কোনো কোনো বাসে নেওয়া হয়েছে ২০ টাকা।
নগরের ১০ নম্বর রুটের একটি বাসে ২ নম্বর গেট থেকে আগ্রাবাদ যাওয়ার সময় ২০ টাকা ভাড়া নেওয়া হয় বলে জানান শিক্ষিকা হাসনা হেনা। তিনি বলেন, ‘আগে এই দূরত্বের ভাড়া ১৫ টাকা দিয়েছি। আজ ২০ টাকা চাওয়া হয়েছে। পাঁচ টাকা বাড়তি নেওয়া হচ্ছে।’
শুনানির সময় উদ্বিগ্ন প্রথম স্ত্রী, গাজী নজরুল বললেন— বাসায় ছিলাম না
শুনানির সময় উদ্বিগ্ন প্রথম স্ত্রী, গাজী নজরুল বললেন— বাসায় ছিলাম না
Summary: কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়াম বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় নিজের ও প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। সোমবার রিমান্ড শুনানি শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। ঘটনার সময় আমি বাসায় ছিলাম না। সে (মরিয়াম) আত্মহত্যা করেছে।’
মরিয়াম কেন আত্মহত্যা করেছেন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি জানি না।’ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি।
এ সময় তার পাশে ছিলেন প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম। শুনানির পুরো সময় দুজনকে কাঠগড়ায় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। একপর্যায়ে মাকছুদা দুই হাতের ওপর মাথা রেখে দাঁড়িয়ে থাকেন। কিছুক্ষণ পর মাথা তুলে কিছুটা পেছনে সরে যান তিনি।
তখন স্ত্রীকে গাজী নজরুল জিজ্ঞেস করেন, তার খারাপ লাগছে কি না। মাকছুদা জবাব দেন, ‘না’। পরে মাকছুদার হিজাব কিছুটা মাথার ওপর উঠে গেলে নজরুল তাকে হিজাব নিচে নামাতে বলেন। এরপর মাকছুদা হিজাব ঠিক করে নেন। শুনানির সময় মাকছুদাকে কিছুটা উদ্বিগ্ন দেখা গেলেও গাজী নজরুলকে তুলনামূলক স্বাভাবিক ছিলেন।
আদালতে নেওয়ার সময় গাজী নজরুল ও মাকছুদার হাতে হাতকড়া, মাথায় হেলমেট এবং বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ছিল। পরে তাদের কাঠগড়ায় নেওয়া হলে এসব খুলে দেওয়া হয়। এরপর তারা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে মামলার শুনানি শোনেন।
রিমান্ড শুনানির সময় ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী গাজী নজরুলের রাজনৈতিক প্রসঙ্গে কথা বলতে গেলে বিচারক তাকে থামিয়ে দিয়ে মামলার বিষয়ে বলতে বলেন। তিনি রিমান্ড আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ‘মামা ওবায়দুর রহমানকে প্রলোভন দেখিয়ে মরিয়ামকে বিয়ে করেন এমপি গাজী নজরুল। প্রথম স্ত্রীকেও রাজি করান মরিয়ামকে বিয়ে করাতে। তারা ন্যাম ভবনে বাস করতেন। আত্মহত্যায় প্ররোচনা অভিযোগে মামলা হয়েছে। হত্যার বিষয় উড়িতে দিতে পারি না।’
এদিন দুপুরে শেরেবাংলা নগর থানা থেকে গাজী নজরুল ও মাকছুদাকে আদালতে আনা হয়। দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ামকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী তাদের রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে।
শুনানি শেষে আদালত গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিন এবং মাকছুদা ইসলামকে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে তাদের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ামের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরিয়ামের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে গাজী নজরুল, মাকছুদা ও মরিয়ামের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন।
ঢাকার সাবেক পুলিশ সুপারসহ ৬ কর্মকর্তা বরখাস্ত
ঢাকার সাবেক পুলিশ সুপারসহ ৬ কর্মকর্তা বরখাস্ত
Summary: ‘অসদাচরণ ও পলায়নের’ অভিযোগে ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান ও অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেনসহ ছয় পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার।
বাকি চার কর্মকর্তা হলেন– সিরাজগঞ্জের সাবেক পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল, সচিবালয় নিরাপত্তা বিভাগের সাবেক উপকমিশনার রাজীব দাস, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) দু্ই কর্মকর্তা সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জায়েদুল আলম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ রঞ্জন দে।
সোমবার এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সাবেক এসপি আসাদুজ্জামান রাজশাহীর সারদায় পুলিশ একাডেমিতে সংযুক্ত ছিলেন। তিনি ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত সাবেক এসপি মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন।
বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত সাবেক এসপি আরিফুর রহমান মণ্ডলও ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। ডিএমপিতে সংযুক্ত সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) রাজীব দাস ২০২৪ সালের ২ নভেম্বর থেকে এবং রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জায়েদুল আলম ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। সিলেটের এপিবিএন ৭-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ রঞ্জন দে ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বিভাগীয় কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এমপিওভুক্তির দাবিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি
এমপিওভুক্তির দাবিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি
Summary: দেশের ৫৩৩২টি নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দ্রুত এমপিওভুক্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ নন-এমপিও (বেতনবিহীন) শিক্ষক-কর্মচারী পরিষদ। দাবি পূরণে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।
সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা বছরের পর বছর বিনা বেতনে শিক্ষা কার্যক্রমে নিয়োজিত থেকে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের অধিকার রক্ষায় এসব প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত এমপিওভুক্ত করা প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ সামিয়া জামান পান্না।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে ৫৩৩২টি নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৬৮ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী বছরের পর বছর বিনা বেতনে শিক্ষা কার্যক্রমে নিয়োজিত থেকে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশে দেশের সব স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান– স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি, ডিগ্রি, অনার্স ও মাস্টার্স একযোগে এমপিওভুক্ত করার দাবিতে দেশের সব জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় রাজধানীতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী পরিষদের সভাপতি ইব্রাহিম খলিল বলেন, একজন শিক্ষক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে কাজ করলে তিনি বেতন ও সুযোগ-সুবিধা পাবেন, আর একই ধরনের দায়িত্ব পালন করা নন-এমপিও শিক্ষক বছরের পর বছর বিনা বেতনে থাকবেন, এই বৈষম্য দূর করা প্রয়োজন।
উৎপাদনশীল শিল্পকে টিকিয়ে রাখা কেন জাতীয় স্বার্থের অংশ
উৎপাদনশীল শিল্পকে টিকিয়ে রাখা কেন জাতীয় স্বার্থের অংশ
Summary: বিশ্ব খাদ্য সংস্থা (FAO)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের বাজারে যে আশঙ্কাজনক চিত্র উঠে এসেছে, তা দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে।
প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, গত আগস্ট মাসে ফুড প্রাইস ইনডেক্স বা খাদ্য মূল্য সূচক বেড়ে ১৩৩.৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২২ সালের শেষভাগের পর সর্বোচ্চ। আন্তর্জাতিক বাজারে চরম আবহাওয়া, ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটায় চিনি, ভোজ্যতেল ও খাদ্যশস্যের দাম রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।
দেশের অন্যতম প্রধান পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে সরবরাহ সংকটের কারণে পাইকারিতে প্রতি মণ চিনির দাম প্রায় ২০০ টাকা বেড়ে প্রায় ৩,৮০০ টাকায় উঠেছে। এর আগে দাম ছিল ৩,৬০০ টাকা। ৩৭.৩২ কেজির এক মণ হিসাবে প্রতি কেজিতে প্রায় ৫ টাকা বেড়ে দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০২ টাকা। দাম এই পর্যায়ে পৌঁছানোর ঘটনাটিও বর্তমান চাপের একটি উদাহরণ। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হলে তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপরই পড়ে। ফলে খাদ্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে শুধু আমদানি নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; দেশের উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সক্ষমতাকেও সচল রাখা জরুরি। এখানেই উৎপাদনশীল শিল্পকে টিকিয়ে রাখার বিষয়টি জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। বাংলাদেশের উৎপাদন খাতের সঙ্গে শুধু কারখানার শ্রমিক নয়, কৃষক, কাঁচামাল সরবরাহকারী, পরিবহন শ্রমিক, ডিলার, পাইকার ও খুচরা বিক্রেতাসহ বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা জড়িত। একটি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যাহত হলে তার প্রভাব শুধু কোম্পানির আর্থিক হিসাবেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং পুরো সাপ্লাই চেইন, কর্মসংস্থান, ব্যাংকিং খাত এবং ভোক্তা বাজারে তার অভিঘাত পড়ে।
সম্প্রতি প্রাইভেট ইকোনমিক জোনস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (PEZAB) এর একটি প্রস্তাব দেশের শিল্পায়নের অর্থায়ন সংকটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এনেছে। সংগঠনটি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নে প্রথমে ৫ হাজার কোটি টাকা এবং পর্যায়ক্রমে ১০ হাজার কোটি টাকার একটি সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত তহবিল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে।
তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, উদ্যোক্তাদের ৪ দশমিক ৫ শতাংশ সুদে ১৫ বছরের জন্য ঋণ দেওয়া হবে, যার মধ্যে চার বছর থাকবে গ্রেস পিরিয়ড। প্রকল্প ব্যয়ের ৩০ শতাংশ উদ্যোক্তার নিজস্ব অর্থায়ন এবং ৭০ শতাংশ ঋণের মাধ্যমে পূরণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রস্তাবের পেছনে যে বাস্তবতা রয়েছে, তা গুরুত্বপূর্ণ। অর্থনৈতিক অঞ্চল কিংবা বড় শিল্প প্রকল্পে বিনিয়োগের শুরুতেই বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়। জমি উন্নয়ন, রাস্তা, পানি, ড্রেনেজ, পয়োনিষ্কাশন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস নেটওয়ার্ক, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং অন্যান্য অবকাঠামো তৈরিতে বড় অঙ্কের মূলধন আটকে থাকে। কিন্তু কারখানা উৎপাদনে যাওয়ার আগে এসব বিনিয়োগ থেকে উল্লেখযোগ্য নগদ প্রবাহ তৈরি হয় না। ফলে উচ্চসুদের স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্যিক ঋণের ওপর নির্ভর করলে প্রকল্পের আর্থিক চাপ দ্রুত বেড়ে যায়।
PEZAB-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ২৩টি অনুমোদিত বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল রয়েছে, যার মধ্যে আটটি চূড়ান্ত সনদ পেয়েছে এবং বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। সংগঠনটির বক্তব্য, অনেক দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী এসব অঞ্চলে কারখানা স্থাপনে আগ্রহী হলেও অবকাঠামো উন্নয়নে বিলম্বের কারণে সেই বিনিয়োগ বাস্তবায়ন পিছিয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য শুধু জমি বরাদ্দ বা অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণা যথেষ্ট নয়; শিল্প স্থাপনের উপযোগী অবকাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের বড় উৎপাদনশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর বাস্তবতাও এই সমস্যার সঙ্গে অনেকটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। দেশের অন্যতম বৃহৎ ভোগ্যপণ্য উৎপাদক ও সরবরাহকারী সিটি গ্রুপ প্রায় ৪০টি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভোজ্যতেল, চিনি, আটা, ময়দা, লবণ, চাল ও ডালের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটিতে সরাসরি ২৫ হাজারের বেশি মানুষ কর্মরত এবং এর সঙ্গে কৃষক, ডিলার, পরিবহন শ্রমিক ও খুচরা বিক্রেতাসহ একটি বড় অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক যুক্ত। কিন্তু এই বিশাল উৎপাদন সক্ষমতার পেছনেও রয়েছে বড় ধরনের কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ। হোসেন্দী অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে একাধিক শিল্প ইউনিট নির্মাণ করা হলেও দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস ও জ্বালানি সংযোগ না পাওয়ায় সেগুলো কাঙ্ক্ষিত উৎপাদনে যেতে পারেনি। অর্থাৎ বিনিয়োগ করা হয়েছে, অবকাঠামো তৈরি হয়েছে, কিন্তু প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। এ ধরনের পরিস্থিতির আর্থিক প্রভাবও ব্যাপক। কারখানা চালু না হলেও ব্যাংক ঋণের সুদ, রক্ষণাবেক্ষণ, জনবল ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বহন করতে হয়। ফলে উৎপাদন থেকে যে নগদ প্রবাহ আসার কথা, তা না এলেও ব্যয় চলতে থাকে। দীর্ঘদিন এমন পরিস্থিতি চললে একটি উৎপাদনশীল প্রতিষ্ঠানও চলতি মূলধনের সংকটে পড়তে পারে। তাই শিল্পের স্থায়িত্বের আলোচনায় শুধু ঋণের পরিমাণ নয়, সেই ঋণের বিপরীতে উৎপাদন সক্ষমতা বাস্তবে কতটা কাজে লাগানো যাচ্ছে, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। সিটি গ্রুপের ক্ষেত্রে দেশি-বিদেশি প্রায় ৪৯টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নেওয়া প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিভিন্ন উৎপাদন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক দায় পরিশোধ করে এসেছে এবং অতীতে ঋণখেলাপির রেকর্ড না থাকার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে এবং আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আর্নেস্ট অ্যান্ড ইয়ং (EY)-এর সহায়তায় ঋণদাতা ব্যাংকগুলো একটি সমন্বিত পুনর্গঠন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। সম্পদ পুনর্বিন্যাস, মূলধন শক্তিশালীকরণ ও পরিচালনগত সংস্কারের মাধ্যমে উৎপাদন সচল রেখে ব্যাংকগুলোর অর্থ পুনরুদ্ধার করাই এর অন্যতম লক্ষ্য। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সংকটকে বৃহত্তর অর্থনৈতিক বাস্তবতার আলোকে বিবেচনা করার নজির রয়েছে। ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র জেনারেল মোটরসকে পুনর্গঠনের সহায়তা দিয়েছিল। কারণ প্রতিষ্ঠানটির পতনের প্রভাব শুধু একটি কোম্পানির ওপর নয়, পুরো অটোমোবাইল শিল্প, সরবরাহকারী ও বিপুল কর্মসংস্থানের ওপর পড়ার আশঙ্কা ছিল। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানও বিভিন্ন সময়ে কৌশলগত শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে পুনর্গঠনের মাধ্যমে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান রক্ষার পথ বেছে নিয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও তাই নীতিগত অবস্থান হওয়া উচিত ভারসাম্যপূর্ণ। অনিয়ম, দুর্নীতি বা ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপির ক্ষেত্রে অবশ্যই জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু কোনো উৎপাদনশীল প্রতিষ্ঠানের সংকট যদি মূলত অর্থায়ন, অবকাঠামো, জ্বালানি বা নগদ প্রবাহের সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হয় এবং প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদনে ফিরে আসার বাস্তব সম্ভাবনা থাকে, তাহলে তার জন্য কাঠামোবদ্ধ পুনর্গঠন বিবেচনা করা যেতে পারে।
সিটি গ্রুপের মুখপাত্র এবং নির্বাহী পরিচালক জনাব মাশিউল হক চৌধুরী বলেন, ‘সিটি গ্রুপ দীর্ঘ ৫৪ বছরের ইতিহাসে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করে আসছে; শুধুমাত্র খাদ্য নিরাপত্তাই নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সরকারের রাজস্ব সরবরাহ ঠিক রাখতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি এবং ভবিষ্যতেও আরও জোরালোভাবে যাতে তা করতে পারি সে জন্য বদ্ধপরিকর। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা আমাদের অংশীজনদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি এবং আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এই পরিস্থিতি থেকে দ্রুতই আমরা ঘুরে দাঁড়াব।’
বিষয়টি একটি বৃহত্তর জাতীয় অর্থনৈতিক প্রশ্ন। বাংলাদেশ যদি খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও শিল্পায়নকে একসঙ্গে এগিয়ে নিতে চায়, তাহলে উৎপাদনশীল শিল্পকে শুধু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। একটি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান সচল থাকার অর্থ কৃষকের বাজার নিশ্চিত হওয়া, শ্রমিকের কর্মসংস্থান বজায় থাকা, পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থা সচল থাকা, ব্যাংকের ঋণ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়া এবং ভোক্তার জন্য পণ্যের সরবরাহ অব্যাহত থাকা।
তাই উৎপাদনশীল শিল্পকে টিকিয়ে রাখা কোনো একক প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া নয়; বরং স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পুনর্গঠনের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতির উৎপাদনক্ষমতা রক্ষা করা। সংকটের সময়ে লক্ষ্য হওয়া উচিত অন্ধভাবে প্রতিষ্ঠান বাঁচানো নয়, আবার অপ্রয়োজনে একটি উৎপাদনক্ষম প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস হতে দেওয়াও নয়। লক্ষ্য হওয়া উচিত উৎপাদন সচল রাখা, কর্মসংস্থান রক্ষা করা এবং একই সঙ্গে ব্যাংক ও রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থ নিশ্চিত করা।
তেলের দাম বৃদ্ধিতে এনসিপির বিক্ষোভ, সরকারকে হুঁশিয়ারি
তেলের দাম বৃদ্ধিতে এনসিপির বিক্ষোভ, সরকারকে হুঁশিয়ারি
Summary: জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে সোমবার রাজধানীতে বিক্ষোভ করেছে এনসিপি। এ কর্মসূচি থেকে দলটির নেতারা বিএনপি সরকারকে বিদায়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, সরকার জনগণের গলায় ছুরি বসিয়েছে। যারা জনগণের গলায় ছুরি বসায়, তাদের আর ক্ষমতায় থাকার প্রয়োজন নেই।
রাজধানীর বাংলামোটরে সমাবেশের পর এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল হয়। মিছিলটি শেরাটন মোড়ে সামনে গিয়ে শেষ হয়।
বাংলামোটর মোড়ে সমাবেশে বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানিসংকট রয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা যে বিএনপি সরকারের নেই, সেটা ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে।
বিএনপি সরকার ইতিমধ্যে দেশের মানুষের সামনে ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে মন্তব্য করে নাসীরুদ্দীন বলেন, এই ব্যর্থ সরকারকে আমরা লংমার্চ থেকে বলেছি, তাদের সামনে একটাই পথ আছে—এক দফা দাবি। যদি সরকার মনে করে যে বিরোধী দল বা ১১–দলীয় জোট আমাদের কী করবে, আমরা বলব ১১–দলীয় জোট কিছু করবে না, জনগণ রাস্তায় আপনাদের ধাওয়া দেবে। কারণ, জনগণের পেটে আপনারা লাথি দিয়েছেন।
মিছিলে এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকার ও সদস্যসচিব এস এম শাহরিয়ার, ঢাকা জেলা উত্তরের আহ্বায়ক নাবিলা তাসনিদ, দলের যুব সংগঠন যুবশক্তির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ সোহেল, শ্রমিক সংগঠন জাতীয় শ্রমিক শক্তির সদস্যসচিব ঋআজ মোর্শেদসহ এনসিপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা অংশ নেন।
সেতু বিভাগে চুক্তিভিত্তিক সচিব হলেন আবদুর রউফ
সেতু বিভাগে চুক্তিভিত্তিক সচিব হলেন আবদুর রউফ
Summary: সেতু বিভাগের বর্তমান সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফকে একই পদে আরও এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মেজর জেনারেল মো. আলীমুল আমীন। সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি সচিব পদে পদোন্নতি পান মোহাম্মদ আবদুর রউফ। ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মেজর জেনারেল মো. আলীমুল আমীনকে প্রেষণে নিয়োগ দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। এতদিন এই পদে ছিলেন মেজর জেনারেল মো. নূরুল আনোয়ার।
তেলের দাম বাড়িয়ে গদি রক্ষা হবে না: গোলাম পরওয়ার
তেলের দাম বাড়িয়ে গদি রক্ষা হবে না: গোলাম পরওয়ার
Summary: জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা। সোমবার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে সমাবেশে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণ যেভাবে লংমার্চে রাজপথে নেমে এসেছে, পরবর্তীতে দেখা যাবে গ্রামগঞ্জ থেকে মানুষ লংমার্চ নিয়ে ঢাকার দিকে ছুঁটছে। তখন কিন্তু গদি রক্ষা করা যাবে না।
নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা থেকে দেশকে রক্ষায় বিরোধীদলের সঙ্গে আলোচনা করে করণীয় নির্ধারণে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, বিএনপি সরকার সাত মাসে তিন বার তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে।
বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তাঁকে রাষ্ট্র পরিচালনায় সহযোগিতা করেছিল জামায়াত। ওই সরকারও বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর ব্যর্থতায় বেকায়দায় পড়েছিল। এখনও আবার সেই টুকুকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে জনগণকে দুর্ভোগে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। জনগণ এখন বলে, 'টুকু যায় আর আসে'।
মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপির সভাপতিত্বে এবং দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপির পরিচালনায় সমাবেশে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এমপি বলেন, সাত মাসে তিনবার তেলের দাম বৃদ্ধি করে সরকার জনগণের ঘাড়ে ভোগান্তির বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে। তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের দাম বাড়লেও মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং করে তারা সংসদের দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। গণবিরোধী সরকারে পরিণত হয়েছে।
তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধান করতে না পারলে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেন, প্রশাসনে দলীয়করণ করে, রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয় নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখা যায় না।
সমাবেশ শেষে উত্তর গেট থেকে মিছিল করে বিজয়নগর পর্যন্ত যান জামায়াতের কয়েক হাজার নেতাকর্মী।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড নিয়ে শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে যা জানাল পুলিশ
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড নিয়ে শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে যা জানাল পুলিশ
Summary: ‘স্কুলছাত্র অপ্রতিমের কাছ থেকে মোবাইল ছিনিয়ে নিতে পাহাড়ের নির্জন স্থানে নিয়ে তাকে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়’ গত রোববার সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার পুলিশ সুপার এমন দাবি করার এক দিন পরই এ বক্তব্য প্রত্যাখান করে ভিন্ন দাবি জানান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার ৪ আসামির প্রকৃত বয়স নির্ধারণে তাদের ডিএনএ পরীক্ষার দাবি জানানো হয়। সোমবার কুবি ক্যাম্পাসে পৃথক মানববন্ধনে হত্যার প্রকৃত রহস্য বের করতে এসব দাবি জানানো হয়।
তবে এ দাবির বিষয়ে রাতে সমকাল কথা বলেছে কুমিল্লা জেলা পুলিশের সাথে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. লুৎফুর রহমান সমকালকে বলেন, ‘তদন্ত সবেমাত্র শুরু হলো। তদন্ত শেষ করতে অনেক সময় দরকার। সব কিছু তদন্তের আওতায় আসবে।’
এর আগে সোমবার সকাল সাড়ে দশটায় অপ্রতিম হত্যার বিচারের দাবিতে কুবির শিক্ষক সমিতি মানববন্ধনের আয়োজন করে। এতে বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহার শীলা বলেন, ‘আমি কাল (রোববার) রাতে ১২টা পর্যন্ত ম্যাডামের (অপ্রতিমের মা) সঙ্গে ছিলাম। তিনি আমাকে কিছু কথা জানিয়েছেন। চারজন অভিযুক্তকে এই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন ফাহাদ। সে প্রায় ১০ দিন আগে ম্যাডামের স্বামীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিনা বেতনে চাকরি নিয়েছিল। এ ছাড়া ম্যাডাম যখন সহকারী প্রক্টর ছিলেন, তখন তিনি এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। ওই সময় তিনি কয়েকজন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন। তাদের মধ্যে দুজন নাকি তুহিনের কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ছিল।’
ড. শীলার ভাষ্য, ‘ম্যাডাম চান, পুলিশ তদন্ত করে বিষয়টি বের করুক—এই প্রতিশোধের জেরেই তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে কি না। কিংবা বিষয়গুলোর সঙ্গে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে বের করার দাবি জানিয়েছেন ড. নাহিদা বেগম।’ ড. শীলা বলেন, ‘যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং যারা অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে দাবি করা হচ্ছে, তারা আদৌ অপ্রাপ্তবয়স্ক কি না। তা ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে যাচাই করার জন্য তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন।’ এ ছাড়া ম্যাডাম জোর দাবি জানিয়েছেন, ‘প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে হলেও অপরাধীদের যেন উপযুক্ত সাজা নিশ্চিত করা হোক।’
অপ্রতিম হত্যার তদন্ত নিয়ে পরিবার ও শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. লুৎফুর রহমান আরও বলেন, মোবাইল ছাড়াও এখানে আর্থিক, কিশোর গ্যাং সংশ্লিষ্টতার যোগসূত্র আছে কিনা তদন্ত করে দেখা হবে। এছাড়াও আসামিদের প্রকৃত বয়স নির্ধারণ করতে বিধিমোতাবেক যা যা করার সব করা হবে। ওই পুলিশ কর্মকর্তার ভাষ্য ‘আসামিদের শেল্টারদাতা বের করতে তাদের মোবাইল কল লিস্টও যাচাই করা হচ্ছে।’
গত শুক্রবার কুবি সংলগ্ন এলাকা থেকে নিখোঁজ হন অপ্রতিম। পর দিন কুবির অদূরে একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। রোববার দুপুরে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে চার জনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানান। এ পর্যন্ত এ হত্যায় সরাসরি জড়িত সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), ১৫ ও ১৬ দুই কিশোর ও সিয়ামকে (১৯) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে সিয়াম ছাড়া অপর ৩ জন গতকাল রাতে কুমিল্লার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। অপর দুই কিশোরকে সোমবার সকালে গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া তুহিন ও সিয়াম কুমিল্লা কারাগারে আছেন।
৫৪৬ গ্রাম ওজনের নতুন ফুল-ফ্রেম ক্যামেরা আনল ক্যানন
৫৪৬ গ্রাম ওজনের নতুন ফুল-ফ্রেম ক্যামেরা আনল ক্যানন
Summary: বাংলাদেশের বাজারে ২৪ দশমিক ২ মেগাপিক্সেলের নতুন ফুল-ফ্রেম মিররলেস ক্যামেরা ইওএস আর৮ মার্ক টু (EOS R8 Mark II) উন্মোচন করেছে জাপানের প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ক্যানন। ৫৪৬ গ্রাম ওজনের ক্যামেরাটিতে উন্নত অটোফোকাস, পাঁচ অক্ষের স্থিতিশীলতা প্রযুক্তি এবং দ্রুতগতিতে ছবি তোলার সুবিধাসহ বেশ কিছু নতুন ফিচার রয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ক্যামেরাটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
ক্যানন সিঙ্গাপুরের সিনিয়র ডিরেক্টর (আঞ্চলিক বিক্রয় ও বিপণন) নাগাই কাতসুয়ুকি বলেন, নতুন নকশা, সহজ ও স্বজ্ঞাত ফিচার এবং উন্নত ইমেজিং প্রযুক্তির সমন্বয়ে ক্যামেরাটি তৈরি করা হয়েছে। এটি বিভিন্ন পর্যায়ের ফটোগ্রাফারকে নতুন সৃজনশীল সম্ভাবনা খুঁজে নিতে এবং নিজস্ব দৃশ্যশৈলী গড়ে তুলতে অনুপ্রাণিত করবে।
ক্যানন জানিয়েছে, ব্যাটারি ও মেমোরি কার্ডসহ ক্যামেরাটির ওজন ৫৪৬ গ্রাম। এর আকার ১৩১ দশমিক ৪ × ৯০ × ৭৯ দশমিক ৭ মিলিমিটার। ক্যামেরাটির দেহের ভেতরে পাঁচ অক্ষের স্থিতিশীলতা ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে হাত কাঁপার কারণে ছবি ঝাপসা হওয়ার ঝুঁকি কমবে। আরএফ লেন্সের স্থিতিশীলতা ব্যবস্থার সঙ্গে ব্যবহার করলে কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ৭ দশমিক ৫ স্টপ পর্যন্ত স্থিতিশীলতা পাওয়া যাবে। ইলেকট্রনিক শাটারে প্রতি সেকেন্ডে সর্বোচ্চ ৪০টি ছবি তোলার সুবিধাও রয়েছে।
ক্যামেরাটিতে দ্বিতীয় প্রজন্মের ডুয়াল পিক্সেল সিমস অটোফোকাস রয়েছে। আগে থেকে নিবন্ধিত ব্যক্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে অনুসরণ করার সুবিধাও রাখা হয়েছে। নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য রয়েছে ‘ক্রিয়েটিভ অটো’ মোড। ছবি ও ভিডিওতে পছন্দের রং ও আবহ তৈরির জন্য নতুন দুটি কালার ফিল্টারও যুক্ত হয়েছে।
ভিডিও নির্মাতাদের জন্য ৬কে থেকে নমুনা নিয়ে তৈরি ৪কে ৬০পি এবং শব্দসহ ফুল এইচডি ১৮০পি ভিডিও ধারণের সুবিধা রয়েছে। রঙ সংশোধনের জন্য ক্যানন লগ থ্রি ব্যবহার করা যাবে। সরাসরি সম্প্রচারের জন্য তারযুক্ত ও তারবিহীন সংযোগের সুবিধাও রাখা হয়েছে।
ক্যানন জানিয়েছে, ক্যামেরাটিতে ডিজিক এক্স প্রসেসর, ওয়াই-ফাই ও ব্লুটুথ ৫.৩ সংযোগ এবং একটি এসডি কার্ড স্লট রয়েছে। স্থিরচিত্রে আইএসও ১০০ থেকে ১,০২,৪০০ পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। বর্ধিত পরিসরে তা ২,০৪,৮০০ পর্যন্ত নেওয়া সম্ভব।
ক্যামেরাটির সঙ্গে এক্সটেনশন গ্রিপ ইজি-ই২, ব্লুটুথ রিমোট কন্ট্রোলারসহ ট্রাইপড গ্রিপ এইচজি-১০০০টিবিআর এবং স্পিডলাইট ইএল-৫ (সংস্করণ ২) আনুষঙ্গিকও ঘোষণা করেছে ক্যানন। পণ্যের দাম ও প্রাপ্যতা বাজারভেদে ভিন্ন হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এবার জয়শঙ্করকেও নোটিশ নির্বাচন কমিশনের
এবার জয়শঙ্করকেও নোটিশ নির্বাচন কমিশনের
Summary: নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ায় এবার নোটিশ পেয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা ও সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আদভানি। সূত্রের খবর বলছে, এসআইআর-সংক্রান্ত নোটিশপ্রাপকের তালিকায় রয়েছেন আরও একাধিক হেভিওয়েট রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিত্ব। তাদের মধ্যে নির্বাচন কমিশনার এস এস সান্ধু, প্রবীণ কংগ্রেস নেতা কপিল সিব্বল, অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি, পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রির নাম উল্লেখযোগ্য।
মূলত নির্বাচনী নথিতে নামের বানানে অসংগতি, পূর্ববর্তী এসআইআরের নথির সঙ্গে বর্তমান তথ্যের ‘ম্যাপিং’ না থাকা অথবা তথ্যে যৌক্তিক অসংগতি ধরা পড়ার কারণেই সংশ্লিষ্ট ভোটারদের নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্র। নোটিশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্যের অসংগতি সম্পর্কে ব্যাখ্যা চাওয়া হচ্ছে।
জানা যায়, নথিতে নামের বানানসংক্রান্ত গরমিলের কারণেই এস এস সান্ধুকে নোটিশ পাঠানো হয়। অন্যদিকে আগের এসআইআরের তথ্যের সঙ্গে বর্তমান তথ্যের সামঞ্জস্য না থাকার কারণেও কয়েকজনের ক্ষেত্রে নোটিশ জারি করা হয়েছে।
এর আগে দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা, সাবেক উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড় ও তাঁর স্ত্রী, সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি মদন লোকুরসহ একাধিক ব্যক্তিকে একই ধরনের নোটিশ পাঠিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তাকে নোটিশ দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। পরে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়, তথ্যের গরমিলের কারণে তাঁকে নোটিশ পাঠানো হলেও ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়নি। পরবর্তী পর্যায়ে বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও তাঁর বাড়িতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করেন।
অন্যদিকে কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, পূর্ববর্তী এসআইআরের সঙ্গে পরিবারের কোনো সদস্যের নাম ‘ম্যাপ’-এ না থাকার কারণেই অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নাম নিয়ে অসংগতি তৈরি হয়েছিল।
একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির কাছে এসআইআরের নোটিশ পৌঁছানোর ঘটনায় আবারও আলোচনায় এসেছে নির্বাচন কমিশনের এই যাচাই প্রক্রিয়া।
জাপানে আঘাত হানল টাইফুন দুজুয়ান
জাপানে আঘাত হানল টাইফুন দুজুয়ান
Summary: শক্তিশালী টাইফুন দুজুয়ান সোমবার টোকিওতে আঘাত হেনেছে। ঘূর্ণিঝড়টি আসার আগে ছয়টি প্রশাসনিক অঞ্চল থেকে ১৯ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে সেখানকার প্রায় ৫০ হাজার পরিবার।
কানাগাওয়া প্রশাসনিক অঞ্চলে ভূমিধসে একটি বাড়ি ধসে পড়ার পর সেখানে এক নারী জীবন্ত চাপা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করছেন দমকলকর্মীরা। অন্যদিকে, চিবা প্রশাসনিক অঞ্চলে ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ করার সময় এক ব্যক্তি আটকা পড়েন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। টাইফুনের কারণে ৩০০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কিছু ট্রেন চলাচলও স্থগিত করা হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দুজুয়ানের বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার। কখনও কখনও ঝোড়ো বাতাসের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৯৪ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠেছে।
প্রশান্ত মহাসাগরে একের পর এক আঘাত হানা ঝড়ের সর্বশেষটি হলো দুজুয়ান। এ বছরের ‘সুপার এল নিনো’ সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বাড়িয়ে ঝড় সৃষ্টির জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করায় এসব ঝড় আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, মানুষের জীবনের জন্য ‘তাৎক্ষণিক হুমকি’ তৈরি হয়েছে। সংস্থাটি সবাইকে ‘অবিলম্বে’ নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার আহ্বান জানায়।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি টাইফুনের প্রভাব পর্যবেক্ষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সফর বিলম্বিত করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। টোকিওর দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থা বাসিন্দাদের বেসমেন্ট বা ভূগর্ভের তলায় না যাওয়ার সতর্কতা দিয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় ভারী বৃষ্টির তৃতীয় স্তরের সতর্কতা জারি রয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত দুটি কার্টুনের মাধ্যমে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, ‘বেসমেন্টে পানি দ্রুত ঢুকে পড়তে পারে এবং বাইরে কী ঘটছে তা দেখা সম্ভব নাও হতে পারে। ফলে সেখানে আটকা পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।’ সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়েছে, বাসিন্দাদের ‘অত্যন্ত সতর্ক’ থাকতে হবে।
দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থাটি ম্যানহোলের ঢাকনার ব্যাপারেও সতর্ক করেছে। বন্যার পানিতে এগুলো সরে গিয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
নিউইয়র্কে মুখোমুখি আ.লীগ-বিএনপি
নিউইয়র্কে মুখোমুখি আ.লীগ-বিএনপি
Summary: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের অন্যতম ব্যস্ত ও বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকা জ্যাকসন হাইটস। এখানেই রাজনৈতিক পোস্টার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে রোববার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ক্ষমতাসীন বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা এবং মুখামুখি অবস্থানের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশের শক্ত অবস্থানের কারনে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরকে ঘিরে আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরেই নানান প্রস্তুতি নিতে থাকে। তারা তারেক রহমানের সরকারকে অবৈধ উল্লেখ করে নানান কর্মসূচি পালন করছেন।
অন্যদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরাও তাদের প্রিয় নেতাকে বরন করতে সাংগঠনিক প্রস্তুতির বাইরে ব্যানারে নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। তবে সেসব ব্যানারের কয়েকটি আওয়ামী লীগের কে বা কারা ছিঁড়ে ফেলে। এ নিয়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সময় রোববার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে ইত্যাদি বাজারের সামনে এই ঘটনা ঘটে। তবে নিউইয়র্ক সিটির বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন।
উল্লেখ্য যে, দীর্ঘ বিশ বছর পর যুক্তরাষ্ট্র সফরে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে ৩৫ সদস্য সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওয়ানা হন তিনি। স্থানীয় সময় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ৬টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সফরসঙ্গীদের নিয়ে যাত্রা করেন তিনি। সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। তবে স্থানীয় সময় সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী ও সফরসঙ্গীদের। তাদেরকে স্বাগত জানাবেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী। এবার প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর ২১ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর স্মরণীয় করে রাখতে নিউইয়র্কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিভিন্ন ধরনের পোস্টার ও ব্যানার লাগিয়েছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। তাছাড়া গত এক মাস ধরে বিভিন্ন রকম প্রস্তুতি সভা করেছেন। অন্যদিকে তারেক রহমানের সফর ঠেকাতে আওয়ামী লীগের যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী নেতাকর্মীরাও কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে রোববার বিকেলে জ্যাকসন হাইটসের ইত্যাদি বাজারের সামনে একটি ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কেউ। এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ মিছিল বের করেন। এতে নেতৃত্ব দেন নিউইয়র্ক মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা ও যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক তোফায়েল চৌধুরী লিটনসহ কয়েকজন।
যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সাবেক সহসভাপতি আতিকুল হক আহাদ জানান, বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে দুই ঘণ্টাব্যাপী পাল্টাপাল্টি স্লোগান চলে।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবদুস সামাদ, যুবলীগ নেতা মিজানসহ আরো অনেকে। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, তারা তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এমনকি জাতিসংঘের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় তারা বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করবেন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে ব্যানার ও পোস্টার সাঁটায় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। কিন্তু রোববার আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী ওই পোস্টারগুলো ছিঁড়ে ফেলে বলে অভিযোগ ওঠে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয় এবং একপর্যায়ে তা ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি করে।
নিউইয়র্ক মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আমাদের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেছে। সেজন্য আমার নেতৃত্বে নিউইয়র্ক বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিল বের করি। অন্যদিকে আওয়ামী লীগও বিক্ষোভ করতে থাকে। তবে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশের বিপুলসংখ্যক সদস্য উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বৈশ্বিক আকাশসীমা ইরানের জন্য বন্ধ হবে মঙ্গলবার থেকে: মার্কিন অর্থমন্ত্রী
বৈশ্বিক আকাশসীমা ইরানের জন্য বন্ধ হবে মঙ্গলবার থেকে: মার্কিন অর্থমন্ত্রী
Summary: যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসনেট বলেছেন, আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে বৈশ্বিক আকাশসীমা সকল ইরানি এয়ারলাইন্সের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হবে। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট ২৭টি ইরানি এয়ারলাইন্সকে তাদের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।
বেসনেট বলেছেন, ইরানের সাথে এই যুদ্ধ কতদিন চলবে সেটি তিনি জানেন না। তবে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে চীনের সাথে কথা বলেছেন বলে জানান তিনি।
বুধবার চীনের প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্র সফর করতে যাচ্ছেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি।
এর আগে বেসনেট জানিয়েছিলেন, চীনের ভাইস-প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে দুই প্রেসিডেন্টের মধ্যে বৈঠকের পথ সুগম করবেন তিনি।
সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করে। এই পরিকল্পনার আওতায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ব্যাংকিং ও বাণিজ্য খাত, প্রযুক্তি, বিমান চলাচল এবং শিপিং খাতকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ২৭টি ইরানি এয়ারলাইন্সকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট
শিশুশিল্পীর প্রতিভা অন্বেষনে শাপলা কুড়ি প্রতিযোগিতা শুরু
শিশুশিল্পীর প্রতিভা অন্বেষনে শাপলা কুড়ি প্রতিযোগিতা শুরু
Summary: শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা অন্বেষণ ও বিকাশের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জিয়া শিশু একাডেমি আয়োজিত ‘শাপলা কুঁড়ি’র ১৪তম আসরের প্রাথমিক প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। আজ ২১ সেপ্টেম্বর সকাল ১০ টায় ঢাকার কাকরাইলে আইডিইবি ভবনে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘শিশুরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করা আমাদের সবার দায়িত্ব। শাপলা কুঁড়ির মতো আয়োজনের মাধ্যমে শিশুরা তাদের মেধা ও সৃজনশীলতা প্রকাশের সুযোগ পাবে।’
এবারের প্রতিযোগিতায় কেরাত, আবৃত্তি, সংগীত, নৃত্য, অভিনয় ও যন্ত্রসংগীত—এই ছয়টি বিষয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিশুরা অংশ নিচ্ছে। ‘যেখানে প্রতিভা, সেখানেই আমরা’ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতার প্রাথমিক নির্বাচনে ঢাকা, ফরিদপুর ও ময়মনসিংহ জোনের প্রতিযোগীরা অংশ নিচ্ছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একাডেমির পরিচালক সামিনা সাম্পা বলেন, ‘শিশুদের মধ্যে লুকিয়ে থাকা প্রতিভা খুঁজে বের করে তাদের সঠিকভাবে বিকশিত করার লক্ষ্যেই শাপলা কুঁড়ির আয়োজন। আমরা চাই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও প্রতিভাবান শিশুরা এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সামনে আসুক।’
২১ সেপ্টেম্বর ক ও খ বিভাগে পাঁচ শতাধিক প্রতিযোগি অংশ নেন। কেরাত, আবৃত্তি ও সংগীত বিষয়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ৬০ জন প্রতিযোগী ইয়েস কার্ড গ্রহন করেন। আগামীকাল ২২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে নৃত্য, অভিনয় ও যন্ত্রসংগীতের প্রতিযোগিতা।
এরপর বরিশাল, খুলনা ও যশোর জোনে ২৭ সেপ্টেম্বর কেরাত, আবৃত্তি ও সংগীত এবং ২৮ সেপ্টেম্বর নৃত্য, অভিনয় ও যন্ত্রসংগীত বিষয়ে প্রাথমিক নির্বাচন হবে। সিলেট, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম জোনে ২৯ সেপ্টেম্বর কেরাত, আবৃত্তি ও সংগীত এবং ৩০ সেপ্টেম্বর নৃত্য, অভিনয় ও যন্ত্রসংগীতের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রতিযোগীরা পরবর্তী সময়ে মূল পর্বে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
চার শতাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত অনুসন্ধান কেন বেআইনি নয়: হাইকোর্ট
চার শতাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত অনুসন্ধান কেন বেআইনি নয়: হাইকোর্ট
Summary: ষড়যন্ত্রের অভিযোগে আনা দেশের ২২ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শতাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটি কেন বেআইনি নয় এবং তা কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসীন আলী সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ রুল জারি করেন।
আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান এবং ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারদেরকে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের চার আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস, এম লিটন আহমেদ, রাশেদুল হক খোকন ও বিপ্লব কুমার দাস গত ৬ সেপ্টেম্বর জনস্বার্থে রিটটি করেন। আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন চঞ্চল কুমার বিশ্বাস।
রিট আবেদনে বলা হয়, গত ৪ আগষ্ট একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং ও তদন্ত কমিটি গঠন এবং তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। অথচ ওই সংবাদটি যাচাইহীন এবং এর ভিত্তিতে চার শতাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে এসব কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
রিট আবেদনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গঠিত এসব কমিটি আইন, বিধি, অধ্যাদেশ, সার্ভিস রুল বা সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী আইনগত কর্তৃত্বের বাইরে গঠিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এসব কার্যক্রম সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদে স্বীকৃত সমতা, আইনের আশ্রয়, ব্যক্তিস্বাধীনতা, চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনসম্মত পেশা পরিচালনার অধিকারের লঙ্ঘন।
রিটে ৪ আগষ্ট ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চার শতাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং, ইনকোয়ারি ও তদন্ত কমিটি গঠনের কার্যক্রম এবং ৩১ আগষ্ট এসব কমিটি বিলুপ্ত ও প্রত্যাহারের জন্য দেওয়া আবেদনের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববর্হিভূত ও আইনগত কার্যকারিতাহীন ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে রুল জারির প্রার্থনা করা হয়। একইসঙ্গে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে গঠিত সব ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং, ইনকোয়ারি ও তদন্ত কমিটি বিলুপ্ত ও প্রত্যাহার এবং ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নেওয়া কার্যক্রম বাতিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়।
এছাড়া রুল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় কোনো শিক্ষককে রাজনৈতিক মতামত, আইনসম্মত সংশ্লিষ্টতা, চিন্তা বা মতপ্রকাশের কারণে বিরূপ আচরণ, ভয়ভীতি, হয়রানি বা পেশাগত বৈষম্যের শিকার না করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকদের পাঠদান ও গবেষণা এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য নিরাপদ এবং নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিতে নির্দেশনা চাওয়া হয়।
টরন্টো উৎসবে ইতিহাস গড়ে অস্কারে যাচ্ছে ‘অ্যাং’, কী আছে এই সিনেমায়
টরন্টো উৎসবে ইতিহাস গড়ে অস্কারে যাচ্ছে ‘অ্যাং’, কী আছে এই সিনেমায়
Summary: টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (টিআইএফএফ) প্ল্যাটফর্ম পুরস্কার জয়ের পর এবার ২০২৭ সালের অস্কারের আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে জায়গা করে নিয়েছে ভারতীয় নির্মাতা থেজা রিওর সিনেমা ‘অ্যাং’।
সিনেমাটি থেজা রিওর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। ৩১ বছর বয়সী এই নির্মাতা ২০২১ সালে একই নামে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন। সেটি ক্লেরমঁ-ফেরাঁ আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ জুরি পুরস্কার পেয়েছিল। এবার সেই গল্পকে আরও বিস্তৃত পরিসরে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে বড় পর্দায় নিয়ে এসেছেন তিনি।
টিআইএফএফের প্ল্যাটফর্ম প্রতিযোগিতায় পাঁচ সদস্যের আন্তর্জাতিক জুরি নির্বাচিত ‘অ্যাং’ পেয়েছে ২০ হাজার কানাডিয়ান ডলার পুরস্কার। সিনেমাটির নির্মাণশৈলী, ভিন্নধর্মী দৃষ্টিভঙ্গি এবং একটি নির্দিষ্ট জগতের গভীর ও আবেগপূর্ণ চিত্রায়নের প্রশংসা করেছে তারা।
কোহিমায় (উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য নাগাল্যান্ডের পাহাড়ি রাজধানী) জন্ম নেওয়া থেজা রিও এই স্বীকৃতিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বহু বছর ধরে ‘অ্যাং’কে সঙ্গে নিয়ে পথ চলেছেন তারা। গল্পটি নিজেদের মতো করে বলার বিশ্বাস কখনো হারাননি।
নির্মাতা জানান, এটি তার এবং সিনেমাটির সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের জন্য বিশেষ মুহূর্ত। প্রথম সিনেমা হিসেবে এমন স্বীকৃতি পাওয়া বিরল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। নিজের জায়গা, মানুষ ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা থেকে সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন বলে জানান রিও।
ষাটের দশকের প্রেক্ষাপটে, ভারত-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী নাগাল্যান্ডের ঘন জঙ্গলে গড়ে ওঠা এক নির্জন কনিয়াক গ্রামকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে সিনেমার কাহিনি। গ্রামের প্রধান আংবা (অ্যাংলং কনিয়াক) দেখছেন, একে একে তার মানুষজন গ্রাম ছেড়ে চলে যাচ্ছে। কাছের আমেরিকান মিশনকে ঘিরে গড়ে ওঠা নতুন বসতিতে তারা গ্রহণ করছে নতুন জীবন—পশ্চিমা পোশাক, চার্চ, ইংরেজি শিক্ষা এবং নতুন ভাষা।
পুরোনো গ্রামে থেকে যান শুধু আংবা, তার অসুস্থ স্ত্রী এবং বাকপ্রতিবন্ধী ছেলে আমাও। তারা যেন হারিয়ে যেতে বসা এক সংস্কৃতির শেষ সাক্ষী। এই পরিবারের ভেতর দিয়েই থেজা রিও তুলে ধরেছেন উপনিবেশ, ধর্মীয় প্রভাব এবং সাংস্কৃতিক রূপান্তরের জটিল ইতিহাস।
`আং' কেবল একটি চলচ্চিত্র নয়; এটি নাগা জনগোষ্ঠীর ভেতর থেকে বলা এক আত্মকথন, যেখানে ব্যক্তিগত বেদনা মিশে গেছে একটি জাতির স্মৃতি ও পরিচয়ের প্রশ্নে। ছবিটি মনে করিয়ে দেয়, ইতিহাস শুধু বিজয়ীদের নয়—প্রান্তিক মানুষের গল্পও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
নিজেদের সম্প্রদায়ের গণ্ডি পেরিয়ে সিনেমাটি দর্শকের কাছে পৌঁছানোয় আবেগাপ্লুত থেজা রিও। তিনি টিআইএফএফের জুরিকে তাদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে ভারতের সংস্কৃতি ও নিজেদের জনগোষ্ঠীকে বিশ্বের দুটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে তুলে ধরার সুযোগ পাওয়াকেও বিশেষ অর্জন হিসেবে দেখছেন তিনি।
সাধারণত অস্কারের আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে প্রতিটি দেশ তাদের পক্ষ থেকে একটি সিনেমা মনোনয়ন দেয়। তবে এবার প্রথমবারের মতো বিশ্বের ছয়টি চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিযোগিতায় বিজয়ী সিনেমাগুলো সরাসরি গ্রহণ করছে অ্যাকাডেমি। টিআইএফএফের প্ল্যাটফর্ম প্রতিযোগিতার বিজয়ী হিসেবে ‘অ্যাং’ সেই সুযোগ পেয়েছে।
এদিকে ৯৯তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে ভারতের পক্ষ থেকে সেরা আন্তর্জাতিক ফিচার বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে মারাঠি থ্রিলার ‘গোন্ধল’। সন্তোষ দাভাখার পরিচালিত সিনেমাটি ২০২৫ সালের ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব ইন্ডিয়ায় (আইএফএফআই) সিলভার পিকক পুরস্কার পেয়েছিল।
ফলে ২০২৭ সালের অস্কার ঘিরে ভারতের সিনেমা অঙ্গনে ‘অ্যাং’ ও ‘গোন্ধল’—দুটি সিনেমাই বিশেষ আগ্রহ তৈরি করেছে। সূত্র: এনডিটিভি ও লাইভ মিন্ট
শি জিনপিং তিনদিনের সফরে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন
শি জিনপিং তিনদিনের সফরে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন
Summary: যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সোমবার চীন সরকার এই সফরের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
চীন জানিয়েছে, শি জিনপিং বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করবেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেছেন, দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ‘চীন-মার্কিন সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং বৈশ্বিক শান্তি ও উন্নয়ন নিয়ে তারা মতবিনিময় করবেন। এর আগে, ওয়াশিংটন জানিয়েছিল এই দুই নেতা এই সপ্তাহেই বৈঠকে বসবেন।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার অ্যান্ড্রুস এয়ার ফোর্স বেসে শি জিনপিংকে স্বাগত জানাবেন। পরের দিন তারা বৈঠক করবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট যখন মে মাসে বেইজিং সফর করেছিলেন তখন তাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন চীনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট।
ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ‘আমি তার সঙ্গে প্রায় সব বিষয়েই কথা বলবো।’ খবর-বিবিসি
জাতিসংঘ অধিবেশন: যুদ্ধ, এআই ছাড়াও যা থাকবে আলোচনায়
জাতিসংঘ অধিবেশন: যুদ্ধ, এআই ছাড়াও যা থাকবে আলোচনায়
Summary: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম নিয়মিত অধিবেশন শুরু হয়েছে ৮ সেপ্টেম্বর। মঙ্গলবার সদস্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের নিয়ে সাধারণ বিতর্ক পর্ব শুরু হবে। এতে অংশ নিতে বিভিন্ন দেশের নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জড়ো হয়েছেন।
অধিবেশনের সাধারণ বিতর্ক বলতে প্রচলিত কোনো বিতর্ককে বোঝায় না। এখানে সদস্য রাষ্ট্রগুলো পালাক্রমে বক্তব্য দেয়। কেবল প্রয়োজন হলেই কোনো প্রশ্নের জবাব দেওয়া হয়। রীতি অনুযায়ী, ১৯৩ সদস্য দেশের মধ্যে সাধারণ বিতর্কে প্রথম বক্তব্য দেন ব্রাজিলের সরকারপ্রধান। জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পর শুরুর বিতর্কগুলোতে কোনো দেশ আগে বক্তব্য দিতে চাইতো না। তখন ব্রাজিল এগিয়ে আসে। এরপর থেকে তারাই প্রথমে বক্তব্য দিয়ে আসছে।
সংস্থাটির সদরদপ্তর নিউইয়র্কে হওয়ায় দ্বিতীয় দেশ হিসেবে বক্তব্য দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর বক্তব্য দেওয়ার তালিকা তৈরি হয় পদমর্যাদা ও ‘আগে এলে আগে’ নীতি অনুসরণ করে। সাধারণত নেতাদেরকে ১৫ মিনিটের মধ্যে বক্তব্য শেষ করতে বলা হয়।
১৯৬০ সালে সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় বক্তব্য দেন কিউবার নেতা ফিদেল কাস্ত্রো, প্রায় সাড়ে ৪ ঘন্টা। ২০০৯ সালে লিবিয়ার তৎকালীন নেতা মুয়াম্মর গাদ্দাফি দেড় ঘণ্টার বেশি সময় বক্তব্য দিয়েছিলেন।
প্রতি বছর সাধারণ পরিষদের নিয়মিত অধিবেশন শুরুর সময় একটি প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়। নেতারা বক্তব্যের শুরুতে সংক্ষেপে প্রতিপাদ্য নিয়ে কথা বলেন। এরপর নিজেদের পছন্দের যেকোনো বিষয়ে বক্তব্য দেন। এবারের প্রতিপাদ্য- ‘আস্থা পুনরুদ্ধার ও রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য একটি কার্যকর জাতিসংঘ।’
সাধারণ বিতর্ক পর্বের সাইডলাইন বৈঠকে নেতারা যেসব বিষয়ে বক্তব্য ও আলোচনা করতে পারেন, সেগুলো তুলে ধরা হলো।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
প্রযুক্তিটি নিয়ে উদ্বেগ তৈরির দুই সপ্তাহের মাথায় সাধারণ পরিষদে উচ্চপর্যায়ের বিতর্ক হতে যাচ্ছে। খাতটির শীর্ষ নির্বাহীরা এরইমধ্যে দ্রুত উন্নয়নের গতি কমিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা সতর্ক করে বলেছেন, এআই শিগগিরই নিজে নিজে উন্নত হওয়ার সক্ষমতা অর্জন এবং মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
সম্প্রতি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, ‘এই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা যায় না। তাই বিশ্বনেতাদের আলোচনায় বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।’ তিনি আরও বলেন, এআই উন্নয়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ তৈরি প্রয়োজন। একইসঙ্গে অভিন্ন সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা উচিত। এর মাধ্যমে ভয়াবহ বৈশ্বিক বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হবে।
কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিষদও এআই নিয়ে বৈঠক করতে পারে।
ইরান যুদ্ধ
বুধবার দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বক্তব্য দেওয়ার কথা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং যুদ্ধে মধ্যস্থতার চেষ্টা করা দেশগুলোর নেতারাও অধিবেশনে উপস্থিত থাকবেন। তবে স্থবির হয়ে পড়া কূটনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা কম।
কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিষদ আরব নেতাদেরকে নিয়ে একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করতে পারে। সেখানে ইরান যুদ্ধ আলোচনার মূল বিষয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ
দেশটিতে চার বছরের বেশি সময় ধরে রাশিয়ার আগ্রাসন চলছে। যুদ্ধ অবসানে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবারের অধিবেশনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কিয়েভের প্রতি বৈশ্বিক সমর্থন আরও জোরালো করার চেষ্টা করবেন।
বুধবার জেলেনস্কির বক্তব্য দেওয়ার কথা। অন্যদিকে, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বক্তব্য দেবেন আগামী শনিবার। দুই দেশের সংঘাত নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদও পৃথক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করবে বলে আশা করা হচ্ছে। কিন্তু রাশিয়া ভেটো ক্ষমতার অধিকারী হওয়ায় পরিষদ এখনো যুদ্ধ বন্ধের পদক্ষেপ নিতে পারেনি।
যুদ্ধের অবসান ঘটাতে না পারায় ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন সময় হতাশা প্রকাশ করেছেন। চলতি মাসের শুরুতে তিনি ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলেন। নিউইয়র্কে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করবেন কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ইসরায়েল-ফিলিস্তিন
আগামী বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য দেবেন। গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি মনে করেন, নেতানিয়াহু শহরটিতে পৌঁছালে গ্রেপ্তার করা উচিত। কিন্তু গত জুলাইয়ে তিনি আইনি ক্ষমতা না থাকার কথা স্বীকার করেন। সম্প্রতি মামদানি বলেন, নেতানিয়াহুবিরোধী কোনো বিক্ষোভেও তাঁর অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই। তবে নিউইয়র্কবাসীর বিক্ষোভ করার অধিকারকে তিনি সম্মান করেন।
ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস সশরীরে বিতর্কে উপস্থিত থাকবেন না। যুক্তরাষ্ট্র তাঁকে ভিসা দেয়নি। আশা করা হচ্ছে, বৃহস্পতিবার তিনি ভিডিও কলের মাধ্যমে বক্তব্য দেবেন।
কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান এগিয়ে নিতে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হতে পারে। তবে লক্ষ্য অর্জনে কোনো অগ্রগতির আশা করা হচ্ছে না।
নতুন মহাসচিব নির্বাচন
জাতিসংঘ নতুন মহাসচিব বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তবে এখনো কেউ পদটিতে বসার দৌড়ে স্পষ্টভাবে এগিয়ে নেই। আগামী ৩১ ডিসেম্বর আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ শেষ হবে। ফলে এবারের অধিবেশনে নতুন মহাসচিবের বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।
রীতি অনুযায়ী, নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে একজন প্রার্থীর নাম সাধারণ পরিষদে সুপারিশ করা হয়। যার অর্থ, ওই প্রার্থীর বিষয়ে ভেটো ক্ষমতার অধিকারী দেশগুলোকেও একমত হতে হবে। নিরাপত্তা পরিষদে এই ক্ষমতার অধিকারী দেশগুলো হলো- যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স।
সুদানের সংঘাত
কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সুদান সংঘাত নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হতে পারে। দেশটির সামরিক বাহিনী ও র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সের মধ্যে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সংঘাত চলছে। এতে ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। যা বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি করেছে।
দেশটির দীর্ঘদিনের নেতা ওমর আল-বশিরকে ২০১৯ সালে ক্ষমতাচ্যুত করার পর দায়িত্ব নিয়েছেন সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান। তিনি বৃহস্পতিবার সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য দেবেন।
জলবায়ু পরিবর্তন
২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে শিল্প-পূর্ব সময়ের তুলনায় বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু সেটি অর্জনে বিশ্ব হিমশিম খাচ্ছে। তাই ছোট দ্বীপরাষ্ট্র ও জলবায়ু পরিবর্তনের ভুক্তভোগী দেশগুলো আবারও পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের নভেম্বরের পর চলতি বছরের আগস্টে প্রথমবারের মতো বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা ছাড়িয়ে যায়।
বাসভাড়া কিলোমিটারে ১৮-২০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব
বাসভাড়া কিলোমিটারে ১৮-২০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব
Summary: সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে লিটার প্রতি ২০ টাকা বৃদ্ধির সরকারি সিদ্ধান্তের পর বাসভাড়াও বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন পরিবহন মালিকরা। কিলোমিটার প্রতি বাসভাড়া ১৮ থেকে ২০ পয়সা বাড়াতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কাছে প্রস্তাব দিয়েছেন তারা। তবে বাসে সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা ও মিনিবাসে ৮ টাকা অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার বনানীতে বিআরটিএর প্রধান কার্যালয়ে ভাড়া সমন্বয় কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে জ্বালানি তেলের বাড়তি দামের পাশাপাশি বাস পরিচালনার অন্যান্য ব্যয়ও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এখন সুপারিশটি সরকারের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। এরপর সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির অতিরিক্ত মহাসচিব এএসএম আহমেদ খোকন বলেছেন, জ্বালানির দাম প্রতি লিটারে ১ টাকা বাড়লে বাসভাড়া কিলোমিটারে ১ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছি আমরা। সে হিসাবে লিটারে ২০ টাকা বাড়লে কিলোমিটারে ২০ পয়সা ভাড়া বাড়বে। প্রস্তাব অনুযায়ী আন্তঃজেলা বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৪৩ পয়সা এবং নগর বাসের ভাড়া ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৭৩ পয়সা হবে।
তিনি বলেন, আমাদের প্রস্তাব আমরা বিআরটিএর কাছে দিয়েছি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বিআরটিএ এটি মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে।
এর আগে গতকাল রোববার ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেন– চার ধরনের তেলের দামই লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। রোববার জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আজ সোমবার থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। ডিজেলের দাম বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫, পেট্রোল ১৬০ এবং অকটেন ১৬৫ টাকা লিটার হলো। এটা দেশের ইতিহাসে জ্বালানি তেলের সর্বোচ্চ দাম। এর আগে ডিজেল ১১৫, কেরোসিন ১৩৫, পেট্রোল ১৪০ এবং অকটেন ১৪৫ টাকা লিটারে বিক্রি হয়েছে।
চলতি বছরের এপ্রিলেও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর বাসভাড়া সমন্বয় করা হয়েছিল। তখন দূরপাল্লার বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ২৩ পয়সা করা হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের বাসে ২ টাকা ৪২ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫৩ পয়সা এবং ডিটিসিএ এলাকায় মিনিবাসে ২ টাকা ৩২ পয়সা থেকে ২ টাকা ৪৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।
অপ্রতিম হত্যা মামলায় দুই কিশোর টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে
অপ্রতিম হত্যা মামলায় দুই কিশোর টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে
Summary: অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দুই কিশোর মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসানকে টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। বয়স ১৫ ও ১৬ বছর হওয়ায় আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারের পরিবর্তে এই কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।
সোমবার বিকেল ৪টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের গাজীপুরের টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে আনা হয়। কেন্দ্রটির তত্ত্বাবধায়ক মো. এমরান খান জানান, দুই কিশোর স্বাভাবিক রয়েছে এবং খাবারও স্বাভাবিকভাবে খাচ্ছে।
কেন্দ্র সূত্র জানায়, প্রিজনভ্যান থেকে নামানোর পর তাদের মধ্যে কোনো অস্থিরতা দেখা যায়নি। স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে তাদের নির্ধারিত কক্ষে নেওয়া হয়। পরে খাবার দেওয়া হলে তারা স্বাভাবিকভাবেই তা খায়।
এর আগে অপ্রতিম হত্যা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে প্রধান আসামি সাইফুল ইসলাম তুহীনের বয়স ১৯ বছর। পরে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে মো. সিয়ামকেও (১৯) গ্রেপ্তার করা হয়।
চার আসামিকে কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হলে বয়স বিবেচনায় ফাহাদ ও কামরুলকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে এবং অপর দুই আসামিকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশের পর সোমবার বিকেলে দুই কিশোরকে টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে নেওয়া হয়।
শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের সূত্র জানায়, অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় কেন্দ্রের নিয়ম অনুযায়ী তাদের দেখভাল করা হবে। তবে অপ্রতিম হত্যা মামলায় তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি হবে আদালতে। মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলাকালে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের কেন্দ্রে রাখা হবে।
এশিয়ান গেমস থেকে ছিটকে গেলেন সাইফউদ্দিন
এশিয়ান গেমস থেকে ছিটকে গেলেন সাইফউদ্দিন
Summary: চোটের কারণে এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট থেকে ছিটকে গেলেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়েছেন তিনি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানিয়েছে, সুস্থ হতে তার প্রায় তিন সপ্তাহ পুনর্বাসন প্রয়োজন হবে।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ‘এ’ দলের চার দিনের ম্যাচ খেলার সময় হ্যামস্ট্রিংয়ে ব্যথা অনুভব করেন সাইফউদ্দিন। পরে শারীরিক পরীক্ষা ও এমআরআই করানো হলে চোটটি নিশ্চিত হয়।
জাতীয় দলের ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, সাইফউদ্দিনকে প্রায় তিন সপ্তাহ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
এশিয়ান গেমসে তার অনুপস্থিতির বিষয়টি বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনকে (বিওএ) জানিয়েছে বিসিবি। তার পরিবর্তে একজন ক্রিকেটারকে দলে নেওয়া হবে। তবে সেই পরিবর্তনের জন্য গেমস কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
২৪ সেপ্টেম্বর জাপানের উদ্দেশে দেশ ছেড়ে যাবেন ক্রিকেটাররা। ২৮ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ কারা হবে, তা ঠিক হবে প্রথম পর্বে। জাপান, হংকং, মালয়েশিয়া, নেপাল ও ওমানের মধ্যে কোনো একটি দলই হবে সেই প্রতিপক্ষ।
কোয়ার্টার ফাইনালে জিতলে ১ অক্টোবর সকাল ৯টায় প্রথম সেমিফাইনালে খেলবে বাংলাদেশ দল। সেই ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হতে পারে শ্রীলঙ্কা।
আশুলিয়ায় বিস্ফোরণের ঘটনায় বিজিএমইএর নিজস্ব তদন্ত কমিটি
আশুলিয়ায় বিস্ফোরণের ঘটনায় বিজিএমইএর নিজস্ব তদন্ত কমিটি
Summary: সাভারের আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় প্রীতি গ্রুপের কারখানায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং ভবিষ্যতে এই ধরণের সিলিন্ডার বা গ্যাস লরি খালাসের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ত্রুটি খতিয়ে দেখতে বিজিএমইএ তদন্ত কমিটি গঠন করছে।
সোমবার সংগঠনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংগঠনের পক্ষে সভাপতি মাহমুদ হাসান খান গভীর দুঃখ ও শোক প্রকাশ করে বলেছেন, এই সংকটের মুহূর্তে আহত ব্যক্তি ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো তাদের প্রথম ও প্রধান অগ্রাধিকার।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দুর্ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পরপরই বিজিএমইএ এর একটি বিশেষ ক্রাইসিস রেসপন্স টিম ও প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করেছে। আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিজিএমইএ এর একটি মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক তদারকি করছে।
গত রোববার সন্ধ্যায় সাভারের আশুলিয়ায় প্রীতি গ্রুপের একটি কারখানার সামনে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারভর্তি লরিতে বিস্ফোরণে ৭ জন নিহত হন। আহত হন অন্তত ১৫ জন। তবে এদের কেউ পোশাক খাতের শ্রমিক ছিলেন না।
দেশকে কুষ্ঠমুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
দেশকে কুষ্ঠমুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
Summary: বাংলাদেশকে কুষ্ঠমুক্ত করতে সরকার দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় অঙ্গীকার অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে কুষ্ঠমুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে। সোমবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত কুষ্ঠবিষয়ক এক সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ কথা বলেন।
কুষ্ঠ নির্মূলে সাসাকাওয়া হেলথ ফাউন্ডেশন ও এনজিও অংশীদারদের সহযোগিতার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য অর্জনে তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে। কুষ্ঠ নির্মূল ও স্বাস্থ্যসেবা সমপ্রসারণের পাশাপাশি দেশের চিকিত্সাসেবার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ডা. শাহ আলী আকবর আশরাফী, ডা. রাজেশ নারওয়াল, অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীম, প্রফেসর ডা. তাকাহিরো নানরী, শেখ মোমেনা মনি, ডা. আহমেদ জামশেদ মোহাম্মদ, ডা. মোহাম্মদ শাহরিয়ার সাজ্জাদ এবং ডা. মাহবুব আরেফিন রেজানুর উপস্থিত ছিলেন।
একই দিনে মহাখালীতে জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের নবনির্মিত রেসপিরেটরি ক্রিটিক্যাল কেয়ার ও ইন্টারভেনশনাল পালমোনোলজি সেন্টারের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এই সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার কাজ করছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক রোগী যেসব হাসপাতালে চিকিত্সা নিতে আসেন, সেসব প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় ১০টি করে কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, চিকিত্সকদের দক্ষতা বাড়াতেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে দীর্ঘ ২১ বছর পর আইসিইউ সেবা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। নতুন আইসিইউতে ৪০টি শয্যা যুক্ত হয়েছে।
ভালোবাসার মানুষকে ফিরে পেতে রতনের অদ্ভুত সিদ্ধান্ত
ভালোবাসার মানুষকে ফিরে পেতে রতনের অদ্ভুত সিদ্ধান্ত
Summary: ছোটবেলা থেকে শিউলিকে ভালোবাসে রতন। সময়ের সঙ্গে দুজনইবড় হয়েছেন, বদলে গেছে জীবনের পথও। শিউলি ফুল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন শিউলি। আর রতন শহরের পথে পথে শিশুদের খেলনা বিক্রি করে। অভাব-অনটনের জীবনেও শিউলির প্রতি গভীর ভালোবাসা নিয়ে সব সময় তার পাশে থাকে রতন। কিন্তু ছোটবেলার একটি অসুস্থতা শিউলির জীবনকে বদলে দিয়েছে।
সেই অসুস্থতায় একটি পা হারায় শিউলি। এরপর থেকে এক পায়ে ভর করে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে সে। শারীরিক এই প্রতিবন্ধকতার কারণে রতনের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক নিয়েও একধরনের হীনম্মন্যতায় ভোগে শিউলি। তার মনে হয়, এই শারীরিক পার্থক্যের কারণে তারা কখনোই ‘সমান সমান’ হতে পারবে না।
এদিকে মেয়ের বিয়ের জন্য উদ্যোগী হয় শিউলির মা। সবকিছু জেনেশুনে এক ব্যক্তি শিউলিকে বিয়ে করতে রাজি হয়। এমনকি ঠিক হয়ে যায় বিয়ের দিন-তারিখও। পরিস্থিতি যখন ধীরে ধীরে শিউলিকে রতনের কাছ থেকে দূরে নিয়ে যাচ্ছে, তখন তাকে ফিরে পাওয়ার মরিয়া চেষ্টা শুরু করে রতন। শিউলির মতো ‘সমান’ হওয়ার জন্য এক অদ্ভুত সিদ্ধান্ত নেয় সে।
ভালোবাসার মানুষটির সঙ্গে নিজেকে সমান করে তুলতে নিজের একটি পা হারানোর কথাও ভাবতে শুরু করে রতন। তার এই আত্মত্যাগের আকাঙ্ক্ষা গল্পে তৈরি করে আবেগঘন টানাপোড়েন। এমন গল্প নিয়েই নির্মিত হয়েছে নাটক ‘সমান সমান’।
ভালোবাসা, আত্মত্যাগ ও মানবিক অনুভূতির জটিল সমীকরণের এই গল্পে রতন ও শিউলি চরিত্রে অভিনয় করেছেন শ্যামল মাওলা ও নিশা চৌধুরী। নাটকটি পরিচালনা করেছেন রওনক রিপন।
সাইফুল আলম শামীম ও রওনক রিপনের চিত্রনাট্যে নির্মিত নাটকটি প্রথমে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভিতে প্রচারিত হয়। সম্প্রতি নাটকটি উন্মুক্ত হয়েছে ইউটিউবেও। খুব বেশি ভিউ না পেলেও দর্শকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছে ‘সমান সমান’।
নাটকটি দেখে একজন নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, ‘ভালো লেগেছে নাটকটি। তবে ভিউস আরও বেশি হওয়া উচিত ছিল।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘নিশা চৌধুরীর অভিনয়টা খুব সুন্দর হয়েছে।’ অন্য একজনের মন্তব্য, ‘খুব সুন্দর একটি কাজ।’
শ্যামল মাওলা ও নিশা চৌধুরী ছাড়াও নাটকটিতে অভিনয় করেছেন রেজওয়ান পারভেজ, আয়মন শিমলা, শিল্পী সরকার, সাইফুল আলম শামীম, শিশুশিল্পী কথা, কিষাণসহ আরও অনেকে।
জাপানে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি
জাপানে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি
Summary: জাপানে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগাচ্ছেন তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি পেশাজীবী। জাপানের অ্যাসোসিয়েশন অব ওভারসিজ টেকনিক্যাল স্কলারশিপ অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট (এওটিএস)-এর মাধ্যমে তাঁরা বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।
সোমবার রাজধানীর গুলশান ক্লাবের ল্যামডা হলে বাংলাদেশ এওটিএস এলামনাই সোসাইটির (বাস) ৪০তম বার্ষিক সাধারণ সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে সংগঠনের প্রায় ১৬০ জন সদস্য ও আমন্ত্রিত অতিথি অংশ নেন।
সভায় সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম, গত অর্থবছরের অর্জন, সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ এওটিএস এলামনাই সোসাইটির সভাপতি ও শিল্পপতি হালিমুজ্জামান। সভা পরিচালনা করেন সংগঠনের মহাসচিব শেখ নিজাম উদ্দিন আহমেদ।
বার্ষিক সাধারণ সভায় এওটিএস বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মোয়াজ্জেম হোসেন উপস্থিত ছিলেন। দেশের বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং সংগঠনের সদস্যরা এতে অংশ নেন।
জাপানে প্রশিক্ষণ
বাংলাদেশ এওটিএস এলামনাই সোসাইটি জাপানের এওটিএসের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দক্ষতা, প্রযুক্তি, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ে কাজ করছে। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটির মাধ্যমে বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের পেশাজীবীরা জাপানে প্রশিক্ষণের সুযোগ পেয়েছেন।
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি এওটিএসের মাধ্যমে জাপানে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফিরে তাঁরা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগাচ্ছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতেও তাঁরা ভূমিকা রাখছেন।
সংগঠনের মহাসচিব শেখ নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, এওটিএসের মাধ্যমে জাপানে প্রশিক্ষণ নেওয়া বাংলাদেশি পেশাজীবীরা দেশে ফিরে জাপানি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি, প্রযুক্তিগত জ্ঞান, দক্ষতা ও কাজের সংস্কৃতির অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আসছেন। এতে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা বাড়ার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে সহায়তা হচ্ছে।
ভিন্নমত-বাক্স্বাধীনতা দমনে সাইবার আইন সংশোধন করতে চায় সরকার
ভিন্নমত-বাক্স্বাধীনতা দমনে সাইবার আইন সংশোধন করতে চায় সরকার
Summary: ভিন্নমত ও বাক্স্বাধীনতা দমনে সরকার সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন করতে চাইছে বলে অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘জনগণের রায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতায় বিচ্ছিন্ন হচ্ছেন। সাইবার নিরাপত্তা আইন সংশোধন করে কালাকানুন রাজনীতিক আর সাংবাদিকদের ওপর চাপিয়ে দিতে চান, তাহলে হয়তো এটাই হবে অনিবার্য পরিণতির নতুন মাত্রা।’ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬: নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ নাকি বাকস্বাধীনতা দমন?’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেছেন তিনি। জামায়াতের তথ্য ও সম্প্রচার বিভাগ এ সেমিনার আয়োজন করে।
সংগ্রাম সম্পাদক আবুল আসাদের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রধান রফিকুজজামান রুমান। মূল প্রবন্ধে বলা হয়, আওয়ামী লীগ আমলের বিতর্কিত ডিজাটাল নিরাপত্তা আইনে শেখ মুজিবুর রহমানকে অবমাননা, মানহানি, হেয়প্রতিপন্ন শাস্তিযোগ্য অপরাধ ছিল। কুখ্যাত এই আইনের এসব ধারায় সেই সময়কার বিরোধীদলের নেতাকর্মীরা মামলার আসামি হন। দেশে-বিদেশে সমালোচনার মুখে শেখ হাসিনা সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করে ২০২৩ সালে সাইবার নিরাপত্তা আইন করেছিল। এই আইনেও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীদের কটূক্তি করার অভিযোগে বহু মামলা হয়।
প্রবন্ধে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ জারি করে। তা বিএনপি গত এপ্রিলে আইনের রূপান্তর করে। তবে ‘বাকশালীনতা’ রক্ষায় পাঁচ মাসের মাথায় সরকার আইনটি সংশোধন করতে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ আমলের মতোই মানহানি, হেয়প্রতিপন্নকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে যুক্ত করতে যাচ্ছে। এতে আবারও হয়রানি, নিপীড়নের পথ খুলবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে প্রবন্ধে।
আইনের সংশোধনীর খসড়া নিয়েও প্রশ্ন তুলে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের মানহানি হলে কনটেন্ট ব্লক করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে সরকারকে। কিন্তু রাষ্ট্রের মানহানি কী করলে হবে তা বলা নেই। ফলে সরকারের বিরুদ্ধে যে কোনো সমালোচনাকে রাষ্ট্রের জন্য মানহানিকর আখ্যা দিয়ে কনটেন্ট ব্লক করা হবে।
গুজব, অপতথ্যের ব্যাখ্যা স্পষ্ট করার দাবি
আইনের খসড়ায় মানহানি, হেয়প্রতিপন্ন, গুজব, অপতথ্য, বুলিং এর যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জামায়াত। প্রবন্ধে বলা হয়েছে, এগুলো অস্পষ্ট। ফলে যে কোনো আইনের অপব্যবহার হতে পারে। একজন ব্যাংক লুটেরাকে লুটেরা বললে, তিনি এর বিরুদ্বে মামলা করতে পারবেন- আইনের খসড়াটি পাস হলে। সাংবাদিকতা চাপের মুখে পড়বে।
বিদ্যমান আইন বহাল রাখার দাবি জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘চার-পাঁচ মাসে এমন কী হলো যে, সাইবার আইন সংশোধনে সরকার অস্থির হয়ে গেল? আসলে তাদেরকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভুতে ধরেছে। যা ইচ্ছা তাই বলবে এবং আইন বদলাবে, জনগণের রায় মানবে না।’
জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ‘মেজরিটির জোরে অতীতের অনেক সরকার কর্তৃত্ববাদী হয়েছিল। তাদের পরিণতি বর্তমান সরকার ভুলে গেছে। মেজরিটির জোরে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী হেবা আইনকে পরিবর্তন করল, গণভোটে ৭০ ভাগ মানুষের রায় বাতিল করতে চেষ্টা করছে’।
মিস-ইনফরমেশন-ডিজইফরমেশনের ব্যাখ্যা ব্যাপকভাবে নেই
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সাইবার সুরক্ষা আইনে মানহানি, গুজব, অসত্য, তল্লাশি, জব্দ এসব পরিভাষার যে ব্যাখ্যার মধ্যে রহস্য রাখা হয়েছে, এগুলো দিয়েই তো সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাদের আটকানো হবে। গুজবের কী ব্যাখ্যা? অপতথ্য, মিস-ইনফরমেশন-ডিজইফরমেশন এগুলোর ব্যাখ্যা ব্যাপকভাবে নেই। কারণ কী? শুভংকরের ফাঁকি দিয়ে এগুলো হাতে রাখা হয়েছে, যা দিয়ে বিরোধী দলকে ধরা যায়।’
অস্পষ্টতা থাকলে অপব্যবহার হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন গোলাম পরওয়ার। আইন প্রয়োগের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু আইন করলেই হবে না, কে প্রয়োগ করছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ‘ম্যান বিহাইন্ড দ্য মেশিন’ গুরুত্বপূর্ণ। কোনো শাসকের চরিত্র যদি কর্তৃত্ববাদী হয়, তাহলে আইনকে অপব্যাখ্যা, অপব্যবহার ও ভুল প্রয়োগের মাধ্যমে নিরপরাধ মানুষকেও শাস্তি দেওয়া সম্ভব।
সেমিনারে বক্তৃতা করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, নির্বাহী পরিষদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও নাজমুন্নাহার নীলু এমপি, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও মানবকণ্ঠ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, আমার দেশের যুগ্ম সম্পাদক এম আবদুল্লাহ, ডিইউজের সাবেক সভাপতি এলাহী নেওয়াজ খান, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন, নয়া দিগন্তের নির্বাহী সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলী, এনটিভির হেড অব নিউজ ফখরুল আলম কাঞ্চন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ, ডাকসুর জিএস এসএম ফরহাদ প্রমুখ।
মিরপুর বিআরটিএতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৬ জনের কারাদণ্ড
মিরপুর বিআরটিএতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৬ জনের কারাদণ্ড
Summary: মিরপুরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১ কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১১ জনকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে ছয়জনকে ৬০ দিন করে কারাদণ্ড এবং পাঁচজনকে মোট ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার বিআরটিএ কার্যালয় এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুজ্জামান। আদালত-৩-এর অধীনে পরিচালিত অভিযানে তাদের বিরুদ্ধে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—মো. মনির মোল্ল্যা, সুজন চন্দ্র দাস, মো. আল আমিন, মো. টিপু, মোফাজ্জেল হোসেন ও আব্দুল মান্নান শিকদার।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুজ্জামান বলেন, বিআরটিএতে আসা সেবাগ্রহীতাদের দ্রুত কাজ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে একটি প্রতারক চক্র তাঁদের কাগজপত্র ও টাকা নিয়ে পালিয়ে যেত বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি কমাতে অভিযান চালানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিআরটিএকে দালালমুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চলবে এবং ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সাবেক সিইসি হাবিবুল আউয়ালের জামিন, রাষ্ট্রপক্ষের স্থগিত আবেদন
সাবেক সিইসি হাবিবুল আউয়ালের জামিন, রাষ্ট্রপক্ষের স্থগিত আবেদন
Summary: সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালকে অন্তবর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে প্রশ্নে বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ৯ সেপ্টেম্বর জামিন মঞ্জুর করেন।
এদিকে ১২ দিন পর জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। সোমবার আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদনটি দাখিল করা হয়। চেম্বার বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক আবেদনটি শুনানির জন্য আগামী ২৬ অক্টোবর দিন রাখেন।
হাইকোর্টে হাবিবুল আউয়ালের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক, এস এম শাহজাহান ও ব্যারিস্টার সারা হোসেন, আইনজীবী মো. তায়্যিব-উল-ইসলাম সৌরভ ও সৈকত ভৌমিক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফজলুল করিম মন্ডল। এর আগে ২৮ জুন জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।
ড. শাহদীন মালিক সমকালকে বলেন, এটি একটি জামিনযোগ্য মামলা। যদি অপরাধ প্রমাণিত হয়, তাহলে অভিযুক্তকে সর্বোচ্চ এক বছর সাজা দেওয়ার বিধান রয়েছে। এক্ষেত্রে কাজী হাবিবুল আউয়াল ইতিমধ্যে এক বছরের বেশি সময় জেল খেটেছেন। তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা নেই।
২০২৫ সালের ২৫ জুন রাজধানীর মগবাজার এলাকা থেকে কাজী হাবিবুল আউয়ালকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। পরদিন ২৬ জুন তাঁর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার সিএমএম আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মুস্তাফিজুর রহমান। সেই থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
এর আগে গত বছরের ২২ জুন শেরেবাংলা নগর থানায় দশম, একাদশ ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন পরিচালনাকারী কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ, কে এম নূরুল হুদা ও কাজী হাবিবুল আউয়াল কমিশনের বিরুদ্ধে মামলা করে বিএনপি। মামলায় সাবেক তিন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ ২৪ জনকে আসামি করা হয়।
প্রস্তুতি ম্যাচে সৌম্যের ব্যাটে লিটনদের হারাল সোহানরা
প্রস্তুতি ম্যাচে সৌম্যের ব্যাটে লিটনদের হারাল সোহানরা
Summary: এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতিতে নিজেদের মধ্যে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। যেখানে টিম 'এ' এর নেতৃত্ব দেন লিটন কুমার দাস ও টিম 'বি' এর নেতৃত্ব দেন নুরুল হাসান সোহান। প্রস্তুতি ম্যাচে লিটনদের বিপক্ষে ৬ উইকেটে জিতে সোহানের দল।
মিরপুরে ২০ ওভারের ম্যাচে আগে ব্যাট করে টিম 'এ' ৬ উইকেটে ১৪০ রান করে। দলের হয়ে তানজিদ হাসান সর্বোচ্চ ৫৫ রান করেন। টিম 'বি' এর বোলারদের মধ্যে দুটি করে উইকেট নেন শরিফুল ও রিশাদ।
জবাবে সৌম্য সরকারের ৬১ রানের ইনিংসে ভর করে ১৯.৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৪১ রান করে জয় পায় নুরুল হাসান সোহানের টিম 'বি' দল। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯ রান আসে নাঈম শেখের ব্যাট থেকে। ১ টি করে উইকেট নেন শেখ মেহেদী, রুবেল মিয়া ও নাসুম আহমেদ।
বিদ্যার ‘কান্থা’ রহস্যের আড়ালে দাপুটে এক চরিত্র
বিদ্যার ‘কান্থা’ রহস্যের আড়ালে দাপুটে এক চরিত্র
Summary: অনেক আগে থেকে ‘জেলার ২’ নিয়ে দর্শকের আগ্রহ তুঙ্গে। এবার সেই কৌতূহলে নতুন মাত্রা যোগ করলেন বলিউড অভিনেত্রী বিদ্যা বালান। প্রকাশ হয়েছে ছবিতে তাঁর অভিনীত চরিত্র ‘কান্থা’র প্রথম ঝলক। এই চরিত্রে একেবারে ভিন্ন রূপে পর্দায় আসছেন এই অভিনেত্রী।
প্রকাশ হওয়া ভিডিওতে নীল শাড়িতে সিঁড়ি বেয়ে ধীর পায়ে নামতে দেখা যায় বিদ্যাকে। শাড়ির আঁচল সামলানোর ভঙি আর মুখের অভিব্যক্তিতে ফুটে উঠেছে চরিত্রটির আত্মবিশ্বাস ও দাপট। হাতে জ্বলন্ত সিগারেট সেই উপস্থিতিতে যোগ করেছে রহস্যের আবহ। খুব বেশি কিছু না বলেও কয়েক সেকেন্ডের এই ঝলকে ‘কান্থা’কে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
চরিত্রটির পরিচয় আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে অনিরুদ্ধ রবিচন্দরের আবহসংগীত। টানটান সুরের সঙ্গে বিদ্যার প্রবেশ দৃশ্যটি তৈরি করেছে নাটকীয় এক পরিবেশ। তবে ‘কান্থা’ আসলে কে? গল্পের মূল চরিত্র টাইগার মুথুভেল পাণ্ডিয়ানের সঙ্গে তার সম্পর্কই বা কী? আর গল্পে তাঁর ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ? এসব প্রশ্নের উত্তর আপাতত গোপন রেখেছেন নির্মাতারা।
‘জেলার ২’-এ আবারও টাইগার মুথুভেল পাণ্ডিয়ানের চরিত্রে ফিরছেন রজনীকান্ত। নেলসন দিলীপকুমার পরিচালিত ছবিটির প্রথম কিস্তিতে এই চরিত্রটি দর্শকের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। এবার দ্বিতীয় অধ্যায়ে পুরোনোদের পাশাপাশি যুক্ত হয়েছেন বেশ কয়েকজন নতুন মুখ। রজনীকান্তের সঙ্গে রয়েছেন রম্য কৃষ্ণান, যোগী বাবুসহ প্রথম ছবির একাধিক অভিনেতা।
নতুন যোগ দিয়েছেন সুরজ ভেঞ্জারামুদু ও এস জে সুরিয়া। তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে এবার দেখা যাবে বিদ্যা বালানকে। প্রথম ‘জেলার’-এর সাফল্যের পর স্বাভাবিকভাবে সিকুয়াল ঘিরে প্রত্যাশা অনেক। তার সঙ্গে নতুন নতুন চরিত্রের আগমন গল্প নিয়ে দর্শকের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে নজরদারি জোরদার করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে নজরদারি জোরদার করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
Summary: নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে বাজার নজরদারি আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, শুধু রমজান মাস নয়, সারা বছর নিত্যপণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে ব্যবসায়ী সংগঠন, আমদানিকারক, উৎপাদক এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানো হবে।
সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং সার্বিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাজারে কোনো ধরনের অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে দেওয়া হবে না। কেউ বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ালে বা অতিরিক্ত মুনাফা করার চেষ্টা করলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
তিনি বলেন, রমজান মাসে ভোগ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। তবে সরকারের বাজার ব্যবস্থাপনা শুধু রমজানকেন্দ্রিক নয়। সারা বছরই পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক ও মূল্য সহনীয় রাখাই সরকারের লক্ষ্য।
সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, গ্যাস সরবরাহে বিঘ্নের কারণে বিভিন্ন শিল্পের উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। পণ্য পরিবহনেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। ঝড়-বৃষ্টিসহ প্রতিকূল আবহাওয়ার প্রভাবও কয়েকটি এলাকায় বাজারে পড়েছে। তবে শীতকাল সামনে থাকায় অল্প সময়ের মধ্যেই নতুন সবজি বাজারে আসতে শুরু করবে এবং সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে নিয়মিত বাজার পরিস্থিতির খোঁজ রাখার আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পণ্যের দামে দুই-চার টাকার অস্বাভাবিক ওঠানামা সামগ্রিক হিসাবে খুব বড় মনে না হলেও তা সাধারণ মানুষের মধ্যে বাজার নিয়ে আস্থার সংকট সৃষ্টি করতে পারে। তাই বাজারে স্থিতিশীলতার পাশাপাশি মানুষের আস্থা ধরে রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি জানান, বাজারে মানুষের আস্থা আরও শক্তিশালী করতে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে নজরদারি ও মনিটরিং কার্যক্রম বাড়ানো হবে। আমদানিকারকদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করে পণ্যের মজুত, আমদানি ও সরবরাহ পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করা হবে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে দেশকেও এর অর্থনৈতিক চাপ বহন করতে হয়। সরকার ভোক্তাদের ওপর পুরো চাপ একবারে না দিয়ে একটি অংশ বহন করলে শেষ পর্যন্ত তা রাষ্ট্রীয় অর্থব্যবস্থার ওপরই পড়ে। তাই জ্বালানির দক্ষ ও সাশ্রয়ী ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সভায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের পক্ষ থেকে নিত্যপণ্যের চাহিদা, আমদানি, সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতির একটি চিত্র উপস্থাপন করা হয়। এতে জানানো হয়, গত বছরের তুলনায় দেশে নিত্যপণ্যের আমদানি ও এলসি খোলার পরিস্থিতি ইতিবাচক।
কমিশনের তথ্যানুযায়ী, দেশে মসুর ডালের বার্ষিক চাহিদা প্রায় সাত লাখ মেট্রিক টন। গত বছরের ১ জুলাই থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪২ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল আমদানি হয়েছিল। চলতি বছরের একই সময়ে তা বেড়ে এক লাখ ছয় হাজার মেট্রিক টনে পৌঁছেছে।
ভোজ্যতেলের কাঁচামাল বা সিড আমদানিতেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে দুই লাখ ৭৩ হাজার মেট্রিক টন সিড আমদানি হয়েছিল। চলতি বছর তা বেড়ে তিন লাখ ৮৬ হাজার মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে।
দেশে চিনির বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২০ থেকে ২১ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে শুধু রমজান মাসেই প্রায় তিন লাখ মেট্রিক টন চিনির চাহিদা তৈরি হয়। কমিশন জানিয়েছে, সামগ্রিকভাবে নিত্যপণ্যের আমদানি ও পাইপলাইন পরিস্থিতি ইতিবাচক রয়েছে।
সভায় ব্যবসায়ী নেতারা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, পরিবহন, সরবরাহ ও বাজারমূল্যসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলা, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম এবং ডাল, তেল, খেজুর, ডিম ও চিনি আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
পটিয়ায় কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষে কক্সবাজার এক্সপ্রেসের এক বগি লাইনচ্যুত
পটিয়ায় কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষে কক্সবাজার এক্সপ্রেসের এক বগি লাইনচ্যুত
Summary: চট্টগ্রামের পটিয়ায় রেললাইনের পাশে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মিনি কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষের পর আন্তঃনগর কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের পেছনের এক বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। সোমবার বিকেলে উপজেলার চক্রশালা রেলস্টেশন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার পর কক্সবাজারের সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। লাইনচ্যুত বগি উদ্ধারে চট্টগ্রাম থেকে রিলিফ ট্রেন পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে।
সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কমল মুন্সিরহাট বাজারসংলগ্ন চক্রশালা রেলস্টেশন এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
রেলওয়ে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে কক্সবাজার এক্সপ্রেস। ট্রেনটি বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চক্রশালা স্টেশন এলাকা অতিক্রম করার সময় রেললাইনের পাশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে থাকা একটি মিনি কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ভ্যানটি ট্রেনের ইঞ্জিনের সামনের অংশে আটকে যায়। ট্রেনটি কাভার্ড ভ্যানটিকে টেনেহিঁচড়ে আনসার ক্যাম্পসংলগ্ন মল্লাপাড়া এলাকা পর্যন্ত নিয়ে যায়। এ সময় ট্রেনটির পেছনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়।
পটিয়া রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আবদুস সালাম বলেন, রেললাইনের পাশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে থাকা কাভার্ড ভ্যানটির সঙ্গে সংঘর্ষের কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। এতে কোনো প্রাণহানি হয়নি। দুর্ঘটনার পর কক্সবাজার এক্সপ্রেস ঘটনাস্থলে আটকে আছে।
তিনি বলেন, লাইনচ্যুত বগিগুলো উদ্ধারের জন্য চট্টগ্রাম থেকে রিলিফ ট্রেন পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। উদ্ধারকাজ শেষে রেললাইন সচল হলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক আবু বক্কর সিদ্দিক দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কাভার্ড ভ্যানটির সঙ্গে ট্রেনের ধাক্কা লাগে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। দুর্ঘটনার পর কাভার্ড ভ্যানের চালক ও সহকারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, স্থানীয়দের সহায়তায় রেললাইন থেকে কাভার্ড ভ্যানটি সরানো হলেও ট্রেনটি কিছুদূর এগিয়ে যাওয়ার পর পেছনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। বর্তমানে বগি উদ্ধারের কাজ চলছে।
দুর্ঘটনার কারণে ওই রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে কক্সবাজারের সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৬৫৫
দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৬৫৫
Summary: দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৬৫৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, মারা যাওয়া ছয়জন রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯০ জনে। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরের প্রথম ২০ দিনেই ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩ হাজার ৬২৭ জনে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ১৬৬ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৬৭ জন ভর্তি হয়েছেন। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৮১ জন।
এ ছাড়া বরিশালে ২১৭ জন, চট্টগ্রামে ৩১৪ জন, খুলনায় ২৭১ জন, ময়মনসিংহে ৪৩ জন, রাজশাহীতে ১৪৬ জন, রংপুরে ৪১ জন এবং সিলেটে নয়জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
গাজী নজরুলের বিষয়ে সংসদ থেকে কোনো চিঠি আসেনি: ইসি সচিব
গাজী নজরুলের বিষয়ে সংসদ থেকে কোনো চিঠি আসেনি: ইসি সচিব
Summary: সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে সংসদ থেকে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) এখনও কোনো চিঠি আসেনি বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, চিঠি এলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে ইসি সচিব এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী ইসিতে চিঠি দিয়েছিল। কিন্তু আইন অনুযায়ী সংসদ থেকে কোনো চিঠি না এলে ইসির ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন (১৯) রোববার আত্মহত্যা করলে বিষয়টি নিয়ে আবারও আলোচনার সৃষ্টি হয়। এর আগে ওই স্ত্রীর সঙ্গে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সম্প্রতি জামায়াত তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে। একই সঙ্গে তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য ঘোষণার ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও ইসিকে চিঠি দেয় দলটি।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী রাজনৈতিক দল থেকে স্পিকারের কাছে উত্থাপিত বিরোধ স্পিকার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে পাঠালে কমিশন শুনানি শেষে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। স্পিকারের কাছে উত্থাপিত সেই বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য কোনো চিঠি এখনও ইসির কাছে এসে পৌঁছায়নি।
আইফোনের জন্য অপ্রতিমকে হত্যা- পুলিশের এ দাবিতে ভিন্নমত কুবি শিক্ষার্থীদের
আইফোনের জন্য অপ্রতিমকে হত্যা- পুলিশের এ দাবিতে ভিন্নমত কুবি শিক্ষার্থীদের
Summary: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিমকে তাঁর হাতে থাকা আইফোন ছিনিয়ে নিতে হত্যা করা হয়েছে, পুলিশের এমন দাবির বিষয়ে ভিন্নমত জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাঁদের দাবি, অপ্রতিম হত্যার পেছনে অন্য কোনো কারণ বা সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
সোমবার দুপুরে অপ্রতিম হত্যার প্রতিবাদ ও সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। পরে সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
এর আগে রোববার কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান দাবি করেন, মায়ের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে অপ্রতিমকে পরিকল্পিতভাবে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় বাধা দিলে তাঁকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। পরে মৃত্যু নিশ্চিত হলে ফোনটি নিয়ে তিনজন ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।
পুলিশের এই ভাষ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কুবির শিক্ষার্থীরা। সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও জাতীয় ছাত্রশক্তি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার আহ্বায়ক নাঈম ভূঁইয়া বলেন, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে অপ্রতিমের বাবা সদর দক্ষিণ থানায় ছেলের নিখোঁজের বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর পুলিশ যথাযথ তৎপরতা দেখিয়েছে কি না, সেটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
অপ্রতিমের কাছে থাকা আইফোনই হত্যাকাণ্ডের একমাত্র কারণ, পুলিশের এমন বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শিক্ষার্থী কাজী মিরাজ। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জীবনযাপন, তাঁদের কাছে থাকা দামি মুঠোফোন ও মোটরসাইকেলের বিষয়গুলোও তদন্তে বিবেচনায় নেওয়া উচিত। গ্রেপ্তার তুহিনের বিরুদ্ধে আগে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগ ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এসব বিষয়ের সঙ্গে অপ্রতিম হত্যার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে বের করার দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্যসচিব মোহাম্মদ আবুল বাশার বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্তের স্বার্থে কিছু তথ্য এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না বলে তাঁদের জানানো হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সামনে আনতে হবে।
আবুল বাশার বলেন, ‘আমরা হত্যার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করতে চাই। অপ্রতিম হত্যার কারণ তাঁর মা নাহিদা বেগমকে জানানো প্রয়োজন।’
শিক্ষার্থী ও ছাত্র অধিকার পরিষদের মহানগর সভাপতি সাইফ হোসেন বলেন, ওই তরুণের বয়স ১৯ বছর হলেও তাঁকে ১৫ বছর দেখিয়ে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
গত শুক্রবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকা থেকে নিখোঁজ হন অপ্রতিম। পরদিন কুবির অদূরের একটি জঙ্গল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে অপ্রতিমের হাতে থাকা আইফোনের ক্ষুদে বার্তা ও সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে তুহিন (১৯), ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোর এবং মো. সিয়ামকে (১৯) গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে সিয়াম ছাড়া অপর তিনজন রোববার রাতে কুমিল্লার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
শিশুদের ক্যানসার চিকিৎসায় ২৬ লাখ ইউরো দিচ্ছেন মেসি
শিশুদের ক্যানসার চিকিৎসায় ২৬ লাখ ইউরো দিচ্ছেন মেসি
Summary: মাঠের বাইরে মানবিক কাজেও নিয়মিতই আলোচনায় আসেন লিওনেল মেসি। এবার শিশুদের ক্যানসার চিকিৎসায় বড় অঙ্কের সহায়তার খবর এসেছে আর্জেন্টাইন তারকার নামের সঙ্গে। ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘ফুট মার্কেতো’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বার্সেলোনায় শিশুদের ক্যানসার চিকিৎসার জন্য একটি হাসপাতাল কমপ্লেক্স নির্মাণে ২৬ লাখ ইউরো দান করেছেন মেসি।
বার্সেলোনার সান্ত জোয়ান দে দেউ কেন্দ্রে গড়ে উঠতে যাওয়া এই কমপ্লেক্সে বছরে অন্তত ৪০০ শিশুর চিকিৎসা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ক্যানসার আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসাসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা একই জায়গায় এনে সমন্বিত চিকিৎসা দেওয়াই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে মেসির দাতব্য কাজ অবশ্য নতুন নয়। তার ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে শিশুদের লিউকেমিয়া গবেষণায় সহায়তা, আর্জেন্টিনার রোসারিওতে একটি হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রদান এবং মোজাম্বিকে শিশুদের অপুষ্টি মোকাবিলায় সহযোগিতা।
ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত হিসেবেও দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণ নিয়ে কাজ করছেন মেসি। ফুটবলের বাইরে তার এসব উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের জন্য বিভিন্ন মানবিক প্রকল্পে সহায়তা করে আসছেন তিনি।
ছিলেন স্বপ্নের নায়িকা, যেভাবে সিনেমা জগত থেকে সরে যান মিঠু
ছিলেন স্বপ্নের নায়িকা, যেভাবে সিনেমা জগত থেকে সরে যান মিঠু
Summary: সত্তরের দশকের বাংলা সিনেমার কথা উঠলে যে কয়েকটি মুখ দর্শকের চোখের সামনে ভেসে ওঠে তাদের মধ্যে অন্যতম মিঠু মুখোপাধ্যায়। সৌন্দর্য, নাচ, অভিনয় ও নিজস্ব ব্যক্তিত্ব—সব মিলিয়ে অল্প সময়েই সে সময়ের জনপ্রিয় নায়িকাদের একজন হয়ে উঠেছিলেন তিনি। তবে সাফল্যের শিখরে থাকা অবস্থাতেই ধীরে ধীরে চলচ্চিত্রজগৎ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন মিঠু।
দীর্ঘদিন ছিলেন প্রচারের আড়ালে। রোববার তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শেষ হলো এই অভিনেত্রীর বর্ণিল অধ্যায়।
বাংলা সিনেমা যখন সাদা-কালো থেকে রঙিন যুগে প্রবেশ করছে, ঠিক সেই সময়েই মিঠুর আবির্ভাব। ১৯৭১-৭২ সালের দিকে চিত্ত বসুর ‘শেষ পর্ব’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়ে পা রাখেন তিনি। তবে প্রথম সিনেমা তাকে তারকা করে তুলতে পারেনি। দর্শকের কাছে বড় পরিচিতি আসে দীনেন গুপ্তের ‘মর্জিনা আবদুল্লা’ দিয়ে।
‘মর্জিনা আবদুল্লা’য় মর্জিনা চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের নজর কাড়েন মিঠু। সিনেমাটির গান ও নাচেও তার উপস্থিতি ছিল অন্যতম আকর্ষণ। এরপর থেকেই বাংলা সিনেমায় নিজের জায়গা শক্ত করতে শুরু করেন তিনি।
১৯৭৩ সালে ‘নিশিকন্যা’ এবং পরের বছর অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়ের ‘মৌচাক’ তাকে আরও জনপ্রিয় করে তোলে। ‘মৌচাক’-এ রঞ্জিত মল্লিকের সঙ্গে তার জুটি দর্শকের কাছে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। উত্তমকুমার, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের মতো প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের পাশাপাশি মিঠুর উপস্থিতিও সিনেমাটিতে আলাদা করে নজর কাড়ে।
পরে রঞ্জিত মল্লিকের সঙ্গে ‘স্বয়ংসিদ্ধা’ সিনেমায় আবারও জুটি বাঁধেন মিঠু। ‘কবি’সহ আরও কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। পাশাপাশি মহানায়ক উত্তমকুমারের সঙ্গেও কাজের সুযোগ হয় তার। ‘হোটেল স্নো ফক্স’ ও ‘চাঁদের কাছাকাছি’ সিনেমায় উত্তমকুমারের সঙ্গে তার অভিনয় সে সময় দর্শকের আগ্রহ তৈরি করেছিল।
বাংলা সিনেমার পাশাপাশি হিন্দি সিনেমাতেও নিজের অভিনয় প্রতিভা দেখান মিঠু। ১৯৭৬ সালে দুলাল গুহর ‘খান দোস্ত’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় তার। পরে বাসু চট্টোপাধ্যায়ের ‘সফেদ ঝুট’, ‘দিল্লাগি’ ও ‘দো লড়কে দোনো কড়কে’ সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি।
তবে মুম্বাইয়ের ব্যস্ত সিনেমাজগৎ তাকে দীর্ঘদিন টানেনি। শেষ পর্যন্ত বাংলাতেই ফিরে আসেন মিঠু। এদিকে বাংলা সিনেমায় তখন নতুন প্রজন্মের নায়িকাদের উত্থান শুরু হয়েছে। মহুয়া রায়চৌধুরী ও দেবশ্রী রায়ের মতো অভিনেত্রীরা দর্শকের মধ্যে নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছিলেন। ফলে মিঠুর আগের মতো নিয়মিত ব্যস্ততা আর দেখা যায়নি।
দীর্ঘ বিরতির পর চন্দ্র বারোটের ‘আশ্রিতা’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় ফেরেন মিঠু। ১৯৯০ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটিতে তার বিপরীতে ছিলেন কনওয়ালজিৎ সিং। সিনেমাটি বাণিজ্যিক সাফল্য পেলেও এরপর আর নিয়মিত অভিনয়ে ফেরেননি তিনি। কার্যত সেখানেই ইতি ঘটে তার অভিনয়জীবনের।
এরপর জীবনের বাকি সময়টা অনেকটা আড়ালে কাটিয়েছেন মিঠু। মুম্বাইয়ে বসবাস করলেও সংবাদমাধ্যম কিংবা প্রকাশ্য উপস্থিতি থেকে দূরে থাকতেন। ফলে সময়ের সঙ্গে তার ব্যক্তিজীবন নিয়েও খুব বেশি তথ্য সামনে আসেনি। তবে পর্দা থেকে দূরে থাকলেও দর্শকের স্মৃতি থেকে কখনো মুছে যাননি মিঠু মুখোপাধ্যায়।
‘মর্জিনা আবদুল্লা’র মর্জিনা, ‘মৌচাক’-এর প্রাণবন্ত চরিত্র কিংবা রঞ্জিত মল্লিক ও উত্তমকুমারের সঙ্গে তার পর্দার মুহূর্ত—সত্তরের দশকের বাংলা সিনেমার ইতিহাসে মিঠুর জন্য তৈরি করেছে আলাদা একটি অধ্যায়। সূত্র: দ্য ওয়াল
নতুন ভিশন ও ইউনিক গ্রুপের এমডিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা
নতুন ভিশন ও ইউনিক গ্রুপের এমডিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা
Summary: প্রতারণার অভিযোগে নতুন ভিশন লিমিটেড ও ইউনিক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর আলীসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলা হয়েছে। আইনজীবী মো. সুলতান মাহমুদ বাদী হয়ে আজ সোমবার ঢাকা সিএমএম আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।
ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মো. জোনাইদ মামলাটি আমলে নিয়ে ডিবিকে তদন্তের নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী শোহেল মো. ফজলে রাব্বী।
মামলার অন্য আসামির মধ্যে রয়েছেন- নতুন ভিশন লিমিটেডের পরিচালক ও পিএইচপি পরিবারের পরিচালক মোহাম্মদ আলী হোসেন, দৈনিক আমাদের সময়ের সম্পাদক ও প্রকাশক।
মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়, বাদী ২০০৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পত্রিকায় রিপোর্টিং এবং সম্পাদকীয় বিভাগে নিয়মিতভাবে কাজ করেন। সে হিসেব অনুযায়ী ১৫ লাখ ৫৯ হাজার ৬২৫ টাকা পাওনা রয়েছে। চাকরি ছাড়ার পর বাদীকে তার পাওনা টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।
সৌদি আরবের সামরিক সহায়তার অনুরোধে দ্বিধায় পড়েছেন ট্রাম্প
সৌদি আরবের সামরিক সহায়তার অনুরোধে দ্বিধায় পড়েছেন ট্রাম্প
Summary: সৌদি আরবের অনুরোধে সাড়া দিয়ে হুতিদের ওপর হামলা চালানো হবে কি না- তা নিয়ে দুই সপ্তাহ ধরে দ্বিধায় আছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এরইমধ্যে একাধিকবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন।
ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে শুরু করা যুদ্ধ এখনো শেষ করতে পারেনি। এর প্রভাবে বিশ্ব অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাচ্ছে। এ অবস্থায় তেহরান সমর্থিত গোষ্ঠীটির ওপর হামলা হলে যুদ্ধের আরেকটি ক্ষেত্র তৈরি হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিয়ে হুতিরা ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। সৌদি আরব ও তাদের সমর্থিত সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধেও লড়াই তীব্র করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত বৃহস্পতিবার ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। তিনি আবারও মার্কিন প্রেসিডেন্টকে হস্তক্ষেপের অনুরোধ করেন।
গত বুধবার পর্যন্ত হুতিদের ওপর হামলা না করার সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন ট্রাম্প। উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেছিলেন, ওয়াশিংটন হামলার পক্ষে নয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার যুবরাজের সঙ্গে আলাপের পর তিনি সিদ্ধান্ত বদল করেন। হুতিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলার প্রস্তুতি নিতে পেন্টগনকে নির্দেশ দেন।
স্থানীয় সময় রোববার দুপুরে প্রেসিডেন্ট আবারও অবস্থান বদল করেন বলে মনে হচ্ছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হুতিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র আপাতত বিমান হামলা চালাবে না। সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলার অনুমতি না থাকায় এসব কর্মকর্তারা নিজেদের পরিচয় প্রকাশে রাজি হননি।
ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত নিয়ে হোয়াইট হাউসের জনসংযোগ দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শুধু বলেন, ‘সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি আছে। আমরা সবসময় মিত্রদের রক্ষা করে যাব।’
অভিযান সম্পর্কে অবগত দুজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট যখন হুতিদের বিরুদ্ধে হামলা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তখন কমান্ডাররা লক্ষ্যবস্তুর তালিকা তৈরি করছিলেন। বাছাইকৃত যুদ্ধবিমানগুলোতে বোমা তোলার কাজ করছিলেন সেনারা। অভিযান শুরু হওয়ার যখন কিছু সময় বাকি, তখন ট্রাম্প সিদ্ধান্ত থেকে সরে যান।
রোববার সকালে ফক্স নিউজকে মোবাইলফোনে একটি সাক্ষাৎকার দেন ট্রাম্প। তখন বলেন, ইরানের সঙ্গে বৃহত্তর যুদ্ধের বিষয়ে কী করা হবে, সে বিষয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর্যায়ে আছেন। আর হুতিদের প্রসঙ্গে বলেন, গোষ্ঠীটির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই করবে না বলে জানিয়েছে।
হুতিরা যখন লড়াই না করার বিষয়ে আশ্বাস দিচ্ছে, তখন ট্রাম্প হামলা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। কিন্তু যখন সৌদিতে হুতিদের হামলার প্রসঙ্গ সামনে আসছে, তখন প্রেসিডেন্টের দ্বিধা স্পষ্ট হচ্ছে।
কয়েকজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তার মতে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে সৌদি আরবের সহায়তা প্রয়োজন। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের ওপর চাপ তৈরি করতে রিয়াদও তাদের হাতে থাকা কৌশলগত সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে। যেমন, গত মে মাসে হরমুজ প্রণালিতে চলাচল করা জাহাজগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু রিয়াদ তখন নিজেদের ভূখণ্ডে থাকা ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহার করতে দিতে রাজি হয়নি।
এক কর্মকর্তা বলেন, হরমুজ প্রণালি এখনো অস্থিতিশীল। হুতিদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হলে, বাব এল-মান্দেব প্রণালি দিয়েও জ্বালানি পরিবহন বাধার মুখে পড়তে পারে। এছাড়া, গত এক বছরে হুতিরা তাদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করেছে। নতুন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার করছে। এসব দিক বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তারা বলছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে মার্কিন বাহিনী যুক্ত হলেও হুতিদের পরাজিত করা কঠিন হবে।
শিক্ষাকে ধ্বংস করা হয়েছে, সেই পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে চাই: এমপি চাঁদ
শিক্ষাকে ধ্বংস করা হয়েছে, সেই পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে চাই: এমপি চাঁদ
Summary: বিগত সময়ে শিক্ষাকে ধ্বংস করা হয়েছে। আমরা সেই পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে চাই বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা আমাদের সম্পদ। তাই তাদের নিয়মিত পাঠদানের দায়িত্ব শিক্ষকদের। এতে শিক্ষকদের কোনো অবহেলা বরদাশত করা হবে না।
সোমবার সকাল ১১টায় বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম আদর্শ মহাবিদ্যালয়ে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, কলেজের বহুতল ভবন নির্মাণ, পুরোনো স্থাপনা সংস্কার এবং নিচু জায়গা ভরাটের কাজ করা হবে। শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, সর্বক্ষেত্রে উন্নয়ন করা হবে। কৃষকেরা কৃষি কার্ড এবং সবাই ফ্যামিলি কার্ড পাবেন।
জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছেন। দেশে তখন দুর্ভিক্ষ ছিল। খাদ্য ঘাটতি পূরণের জন্য খাল খননের মাধ্যমে চাষাবাদ করে তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে পরিচিত করে দিয়েছেন।
বিএনপির রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি সাধারণ মানুষের দল। জিয়াউর রহমান দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, আর আওয়ামী লীগ সেটাকে ধ্বংস করেছে। সেই গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য বিএনপি আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে।
তিনি আরও বলেন, দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ ব্যবসা-চাঁদাবাজি করলে দলে তার কোনো গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না, সে যত বড়ই হোক।
কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি রুহুল আমিনের সভাপতিত্ব অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রভাষক হাফিজুল ইসলাম। ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে এমপিকে সংবর্ধনা দেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাইনুল ইসলাম আলাল। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু জাফর আলী, কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ফজলুল হাসান বাবু, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলহাজ আবু গফুর ফকির, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
৬০০ টাকা পাওনা নিয়ে বিরোধ, বাউফলে একই পরিবারের ৬ জনকে কুপিয়ে-পিটিয়ে আহত
৬০০ টাকা পাওনা নিয়ে বিরোধ, বাউফলে একই পরিবারের ৬ জনকে কুপিয়ে-পিটিয়ে আহত
Summary: পটুয়াখালীর বাউফলে ৬০০ টাকা পাওনা নিয়ে বিরোধের জেরে একই পরিবারের নারীসহ ছয়জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার সূর্যমণি ইউনিয়নের গোয়ালিয়া বাঘা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন মো. জহিরুল ইসলাম, মো. খাইরুল ইসলাম, মো. রেজাউল করিম, মনোয়ারা বেগম, হোসনেয়ার বেগম ও পূর্ণি বেগম। তাদের মধ্যে জহিরুল, মনোয়ারা, খাইরুল ও রেজাউলকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহত জহিরুল ইসলামের অভিযোগ, প্রতিবেশী মো. রাসেলের কাছে তাঁর জমিতে কাজ করার মজুরি বাবদ ৬০০ টাকা পাওনা ছিল। ওই টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে রাসেল ও তাঁর সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জহিরুলের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালান। এ সময় তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাঁর মা, দুই ভাইসহ পরিবারের অন্য সদস্যদেরও মারধর ও কুপিয়ে আহত করা হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৬০০ টাকা পাওনা নিয়ে জহিরুল ইসলামের সঙ্গে রাসেলের রোববার বিরোধ হয়। ওই ঘটনায় রাসেলও আহত হন। বিষয়টি মীমাংসার জন্য সোমবার সকালে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে সালিশ বৈঠক বসে। বৈঠকে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে জহিরুল সেখান থেকে নিজের বাড়ির দিকে চলে যান। এর কিছুক্ষণ পর রাসেল ও তাঁর লোকজন জহিরুলের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে।
ইউপি সদস্য মো. ফারুক হোসেন বলেন, ‘রোববারের ঘটনা নিয়ে সোমবার সালিশ বৈঠক বসেছিল। সেখানে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছিল। কিন্তু ৬০০ টাকা পাওনা নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে রাসেল মৃধা ও তাঁর পরিবারের লোকজন জহিরুলের বাড়িতে গিয়ে হামলা করেন।’
ঘটনার পর রাসেল ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মুঠোফোনে যোগাযোগ বন্ধ থাকায় তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. মামুনুর রশিদ বলেন, আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন রয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
‘ফিরে আসার গল্প’-এ সুমাইয়া শিমুর বদলে দীপা খন্দকার
‘ফিরে আসার গল্প’-এ সুমাইয়া শিমুর বদলে দীপা খন্দকার
Summary: দীর্ঘ বিরতির পর মোস্তফা কামাল রাজের ‘ফিরে আসার গল্প’ দিয়ে ধারাবাহিক নাটকে ফেরার কথা ছিল অভিনেত্রী সুমাইয়া শিমুর। নাটকটি নিয়ে উচ্ছ্বসিত ছিলেন তিনি। হঠাৎ জানা গেল, ধারাবাহিকটিতে থাকছেন না সুমাইয়া শিমু। তার পরিবর্তে এই চরিত্রে অভিনয় করছেন দীপা খন্দকার।
ফিরে আসার গল্পে রুকাইয়া চরিত্রে অভিনয়ের কথা ছিল শিমুর। চরিত্রটি নিয়ে শিমু বলেছিলেন, ‘অভিনয়কে মিস করছিলেন, ক্যামেরার সামনে আবার ফিরতে পেরে অনেক খুশি। বিরতির পর ফেরার মতো গল্প ও চরিত্র। তবে পর্দায় আর রুকাইয়া হয়ে ওঠা হলো না তার।
তিনি জানান, চোখে ভাইরাস সংক্রমণের ব্যাপারটি টের পান। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনের পরদিন শুটিং করি। সেদিন তার চোখ ফুলে যায় ও ব্যথা বাড়ে। চোখের সমস্যার কারণে চিকিৎসকের পরামর্শে শুটিং থেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছে তাকে।
আগে থেকেই এই নাটকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন দীপা খন্দকার। তার অভিনয় করার কথা ছিল মরিয়ম চরিত্রে। সেই চরিত্রে সম্প্রতি যুক্ত হয়েছেন রোজী সিদ্দিকী।
ফিরে আসার গল্প ধারাবাহিকের অভিনয়শিল্পী পরিবর্তনের বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানাননি নির্মাতা ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিনেমাওয়ালা। তবে প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজ থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে সুমাইয়া শিমুর ফটোশুটের সব ছবি। নতুন করে মরিয়ম চরিত্রে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে রোজী সিদ্দিকীকে।
সুমাইয়া শিমু অভিনয় করতে না পারলেও ফিরে আসার গল্প দিয়ে দীর্ঘদিন পর ধারাবাহিক নাটকে ফিরেছেন জাহিদ হাসান ও তানজিম সাইয়ারা তটিনী। এতে আরও অভিনয় করছেন শহীদুজ্জামান সেলিম, খায়রুল বাসার, মনিরা মিঠু, ফয়জুল ইয়ামিন, মাহমুদুল ইসলাম মিঠু, মুকিত জাকারিয়া, এজাজুল ইসলাম, রাজু প্রমুখ।
আগামী ৭ অক্টোবর থেকে সিনেমাওয়ালা ইউটিউব চ্যানেলে প্রচার শুরু হবে ফিরে আসার গল্প ধারাবাহিকের। দেখা যাবে প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায়। এখন পুরোদমে চলছে শুটিং।
স্বল্পতম বহর ও সংক্ষিপ্ত সফরে জাতিসংঘের পথে প্রধানমন্ত্রী, বিশ্বমঞ্চে নতুন ইতিহাসের সূচনা: মাহদী আমিন
স্বল্পতম বহর ও সংক্ষিপ্ত সফরে জাতিসংঘের পথে প্রধানমন্ত্রী, বিশ্বমঞ্চে নতুন ইতিহাসের সূচনা: মাহদী আমিন
Summary: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফরকে আড়ম্বর অনুষ্ঠান নয়, মানুষের জন্য কাজ এবং ক্ষমতা প্রদর্শন নয়, বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘে সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে যেতে এক দিন, ফিরতে এক দিন। মাঝের মাত্র চার দিন। এক মুহূর্তও নষ্ট না করে, এই চার দিনেই একের পর এক দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বৈঠক, জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি এবং বাংলাদেশের স্বার্থে কূটনৈতিক ব্যস্ততা। সব মিলিয়ে মাত্র ছয় দিনের সফর। আনুষ্ঠানিক সফরসঙ্গী ৩৫ জন। এর মধ্যে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী ১৫ জন। রয়েছেন নিরাপত্তা, মিডিয়া ও ব্যক্তিগত দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত অত্যাবশ্যকীয় ব্যক্তিরা। আড়ম্বর অনুষ্ঠান নয়; মানুষের জন্য কাজ। ক্ষমতা প্রদর্শন নয়; বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা। এই সফর একই সঙ্গে পৃথিবীর ইতিহাসেও একটি বিশেষ মুহূর্ত।
সোমবার দুপুরে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে সোমবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন।
ফেসবুক পোস্টে মাহদী আমিন আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পর তাঁদের সন্তান, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দাঁড়াবেন জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে। একই পরিবারের তৃতীয় প্রতিনিধি হিসেবে তিনি বলবেন বাংলাদেশের মানুষের কথা, দেশের স্বার্থ, সরকারের নীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।
আরও একটি অনন্য দিক রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন, ঠিক সেই জাতিসংঘ অধিবেশনের সভাপতির আসনে থাকবেন তাঁরই সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ফেসবুক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘ দুই দশকের অনিঃশেষ ত্যাগ-সংগ্রাম ও আন্দোলন-গণঅভ্যুত্থান পেরিয়ে, গণতান্ত্রিক সরকার আজ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে। বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষের কণ্ঠ নিয়ে যাচ্ছেন বিশ্ব দরবারে।
এটি শুধু একটি বিদেশ সফর নয় উল্লেখ করে মাহদী আমিন আরও বলেন, এটি শুধু জাতিসংঘে দেশকে তুলে ধরা নয়। এটি জনগণের আকাঙ্ক্ষার আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিত্ব। এটি আবেগ, অনুভূতি ও আদর্শের ঐতিহ্য। এটি বাংলাদেশের স্বার্থ, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বমঞ্চে নতুন ইতিহাসের সূচনা।
বাঁশঝাড়ে কাঁদছিল নবজাতক, দেখে বাড়িতে নিয়ে এলেন কৃষক
বাঁশঝাড়ে কাঁদছিল নবজাতক, দেখে বাড়িতে নিয়ে এলেন কৃষক
Summary: বগুড়ার ধুনটে বাঁশঝাড় থেকে এক বেওয়ারিশ নবজাতক ছেলে শিশু উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার সকালে গোশাইবাড়ি ইউনিয়নের পূর্বগুয়াডহরী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নবজাতককে এক নজর দেখতে স্থানীয়দের ভিড় জমে যায়। পরে শিশুটিকে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
পূর্বগুয়াডহরী গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান জানান, সোমবার সকাল ৮টার দিকে ধুনট-গোশাইবাড়ি সড়কের মসজিদসংলগ্ন বাঁশঝাড়ে গোখাদ্যের জন্য বাঁশপাতা সংগ্রহ করতে যান তিনি। এ সময় বাঁশঝাড়ের ভেতর থেকে নবজাতকের কান্নার শব্দ শুনতে পান। পরে সেখানে গিয়ে একটি নবজাতক ছেলে শিশুকে পড়ে থাকতে দেখেন। তিনি শিশুটিকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
শিশুটিকে পেয়ে মিজানুর রহমানের স্ত্রী শেফালী খাতুন পরম মাতৃস্নেহে তাকে বুকে আগলে নেন। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে মিজান-শেফালী দম্পতির বাড়িতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়। এলাকাবাসীর ধারণা, কেউ হয়তো নবজাতকটিকে সেখানে রেখে গেছে।
পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় শেফালী খাতুন শিশুটিকে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তাঁর মাতৃস্নেহ ও পরিচর্যায় শিশুটি সুস্থ আছে এবং স্বাভাবিকভাবে খাবার গ্রহণ করছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
শেফালী খাতুন বলেন, ‘দাম্পত্য জীবনে আমার চার মেয়ে সন্তান রয়েছে। আমার ছেলে সন্তান নেই। তাই আল্লাহ আমাকে একটি ছেলে সন্তান দিয়েছেন। আমি সকাল থেকেই কুড়িয়ে পাওয়া নবজাতককে পরম মাতৃস্নেহে আদর-যত্ন করছি। আমি এই শিশুকে মাতৃস্নেহে লালন-পালন করতে চাই।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজ্জাদ কদির বলেন, ‘নবজাতক শিশুটি সুস্থ ও স্বাভাবিক আছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সদস্যসচিব ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবদুল্লাহেল কাফি বলেন, নবজাতক উদ্ধারের বিষয়টি জানার পর শিশু কল্যাণ বোর্ডের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। শেফালী খাতুন শিশুটিকে মাতৃস্নেহে পরিচর্যা করছেন। তিনি শিশুটিকে লালন-পালন করতে চাইলে নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, উদ্ধার হওয়া শিশুটির বাবা-মা পাওয়া যায়নি। কোনো ব্যক্তি শিশুটিকে লালন-পালন করতে চাইলে উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শেফালী খাতুন শিশুটির পরিচর্যা করছেন এবং তিনি নিতে চাইলে নিয়ম অনুযায়ী তাঁকেও বিবেচনা করা হবে।
চাইনিজ তাইপেকে হারিয়ে কাবাডিতে পদকের সম্ভাবনা বাংলাদেশের
চাইনিজ তাইপেকে হারিয়ে কাবাডিতে পদকের সম্ভাবনা বাংলাদেশের
Summary: এশিয়ান গেমসের কাবাডিতে দারুণ লড়াইয়ের পর চাইনিজ তাইপেকে ৪৮-৪৭ পয়েন্টে হারিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধে ২৪-২০ পয়েন্টে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ দ্বিতীয়ার্ধেও চাপ ধরে রেখে শেষ পর্যন্ত এক পয়েন্টের জয় তুলে নেয়।
দিনের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে ৩৯-৩৫ পয়েন্টে হারানোর পর চাইনিজ তাইপের বিপক্ষেও জয় পেল বাংলাদেশ। ফলে গ্রুপ ‘এ’-তে দুই ম্যাচে দুটি জয় নিয়ে সেমিফাইনালের পথে বাংলাদেশ।
১০ দলের পুরুষ কাবাডিতে দুই গ্রুপের শীর্ষ দুটি করে দল সেমিফাইনালে উঠবে। সেমিফাইনালে জয় পেলে পদক নিশ্চিত হবে, কারণ কাবাডিতে হেরে যাওয়া দুই সেমিফাইনালিস্টই ব্রোঞ্জ পাবে।
আইফোন কি জীবনের চেয়ে বড়?
Summary: শুক্রবার বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে মায়ের আইফোন নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল ১৩ বছরের অপ্রতিম। পরিবারের কেউ হয়তো ভাবেনি, এই বের হওয়াটাই তার জীবনের শেষ বের হওয়া হবে। পরদিন তার মরদেহ পাওয়া গেল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছের সানন্দা এলাকায়।
অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে ছিল তার মা-বাবার একমাত্র সন্তান। নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পুলিশ রাতভর আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে। পরে তার মরদেহ উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় ১৮ বছর বয়সী এক তরুণকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ এখনও হত্যার কারণ নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের প্রাথমিক ধারণায় মায়ের আইফোনটি হত্যার সম্ভাব্য মোটিভ হতে পারে বলে আলোচনা এসেছে। একটি ফোনের জন্য কি একটি শিশুর জীবন চলে যেতে পারে?
অপ্রতিমের ঘটনা আমাদের নাড়া দিয়েছে তার বয়সের কারণে। কিন্তু এই ঘটনা শুধু একজন শিশুর মৃত্যুর গল্প নয়। এটি আমাদের সামনে শিশু নিখোঁজ হওয়ার আরেকটি বড় বাস্তবতাও তুলে ধরেছে।
পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজার ৭১৭টি শিশু নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করে পরিবারে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে দুই হাজার ৩৮ জন এখনও নিখোঁজ। অর্থাৎ প্রায় ১৩ শতাংশ শিশুর সন্ধান পাওয়া যায়নি।
১৫ হাজার ৭১৭ সংখ্যাটি দেখলে হয়তো এর মানবিক দিকটি পুরোপুরি বোঝা যায় না। একে ১৫ হাজারের বেশি পরিবার হিসেবে ভাবুন। কতজন মা-বাবা সন্তানের অপেক্ষায় ছিলেন, কতজন রাত জেগেছেন, কতজন থানায় ছুটেছেন, কতজন পরিচিতদের ফোন করেছেন। যে দুই হাজার ৩৮টি পরিবার এখনও সন্তানের অপেক্ষায়, তাদের প্রতিটি দিনের উদ্বেগের কোনো পরিসংখ্যান হয় না।
অবশ্য প্রতিটি নিখোঁজের পেছনে অপরাধ থাকে না। শিশুদের বয়স, পারিবারিক পরিস্থিতি এবং নিখোঁজ হওয়ার কারণও ভিন্ন। কেউ পথ হারায়, কেউ পরিবারের সঙ্গে অভিমান করে বাড়ি থেকে বের হয়, কেউ বন্ধু বা অন্য কারও প্রভাবে বাড়ি ছাড়ে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপহরণ বা অন্য অপরাধের ঘটনাও থাকতে পারে।
তাই প্রতিটি নিখোঁজ শিশুকে অপরাধের শিকার ধরে নেওয়ার যেমন সুযোগ নেই, তেমনি কোনো ঘটনাকে হালকাভাবে নেওয়াও ঠিক হবে না।
শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার অনেক সময় মনে করে, সন্তান হয়তো একটু পরেই ফিরে আসবে। সেই অপেক্ষায় কিছু সময় চলে যায়। কিন্তু এই সময়টিই অনেক ক্ষেত্রে অনুসন্ধানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
নিখোঁজের অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশকে দ্রুত আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, শিশুটির মোবাইল ফোনের সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত, সম্ভাব্য যাতায়াতের পথ যাচাই এবং তার সঙ্গে যোগাযোগ করা ব্যক্তিদের বিষয়ে খোঁজ নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজন হলে একাধিক থানা ও জেলার পুলিশের মধ্যে সমন্বয় করতে হবে।
অপ্রতিমের ঘটনায় পুলিশ রাতভর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করেছে। এ ঘটনা দেখিয়ে দেয়, প্রযুক্তি এখন শুধু অপরাধ তদন্তের হাতিয়ার নয়, নিখোঁজ শিশু উদ্ধারের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম।
একই সঙ্গে আমাদের ভাবতে হবে শিশুদের দৈনন্দিন নিরাপত্তা নিয়েও। সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে যাচ্ছে, কখন ফিরবে– এসব বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকা দরকার। মোবাইল ফোন ও সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বয়স অনুযায়ী সতর্কতা প্রয়োজন।
তবে শিশুর নিরাপত্তার পুরো দায়িত্ব পরিবারের ওপর চাপিয়ে দিলে হবে না। শিশু বাড়ির বাইরে যাওয়ার পর তার নিরাপত্তা সমাজ ও রাষ্ট্রেরও দায়িত্ব। স্কুল, খেলার মাঠ, বাজার, গণপরিবহন, বিনোদন কেন্দ্র এবং জনসমাগমের জায়গাগুলোকে শিশুদের জন্য নিরাপদ করতে হবে।
নিখোঁজ শিশুর ছবি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে আমরা অনেক সময় মনে করি দায়িত্ব শেষ। কিন্তু এখানেই শেষ হওয়া উচিত নয়। শিশুটির পরিবার কিন্তু অপেক্ষা করা বন্ধ করে না।
তাই দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ শিশুদের তথ্য আলাদাভাবে সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ করা দরকার। কোন এলাকায় বেশি শিশু নিখোঁজ হচ্ছে, কোন বয়সের শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে, কতজনকে দ্রুত উদ্ধার করা যাচ্ছে, কতজন দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকছে– এসব তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা হলে সমস্যার ধরন বোঝা সহজ হবে।
অপরাধ ঘটার পর দ্রুত বিচার অবশ্যই প্রয়োজন। সাম্প্রতিক সময়ে শিশু হত্যা ও ধর্ষণের কয়েকটি মামলায় দ্রুত বিচারও হয়েছে। যেমন– পল্লবীর শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ২০২৬ সালের ৭ জুন দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল। মাগুরার শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ৩১ আগস্ট হাইকোর্ট হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। এসব বিচার গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অপরাধ ঘটে যাওয়ার পর শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপরাধটি যাতে ঘটতেই না পারে, সেই ব্যবস্থাও জরুরি।
অপ্রতিমের মৃত্যু তাই আমাদের সামনে নির্মম প্রশ্ন রেখে গেছে। তদন্তে যদি শেষ পর্যন্ত প্রমাণিত হয় যে একটি আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার জন্যই তাকে হত্যা করা হয়েছিল, তাহলে সেটি শুধু হত্যাকাণ্ডের ঘটনা হবে না। আমাদের সমাজে মানুষের জীবনের মূল্যবোধ নিয়েও প্রশ্ন তুলবে।
অপ্রতিমের পরিবার এখন যে শূন্যতার মধ্যে পড়েছে, কোনো বিচার সেই শূন্যতা পূরণ করতে পারবে না। কিন্তু রাষ্ট্র যদি একটি শিশুর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে শুরু থেকে গুরুত্ব দিয়ে দেখে, প্রযুক্তিকে কাজে লাগায়, দ্রুত অনুসন্ধান করে এবং পরিবারকে কার্যকর সহায়তা দেয়, তাহলে হয়তো অন্য কোনো পরিবারকে এমন শূন্যতার মুখোমুখি হতে হবে না।
আমাদের সন্তানরা স্কুলে যাবে, বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে যাবে, বিকেলে খেলতে বের হবে। প্রতিবার তাদের বের হওয়ার সময় মা-বাবার মনে এই ভয় থাকা উচিত নয় যে সন্তানটি নিরাপদে ফিরে আসবে তো?
এই নিরাপত্তা শুধু পরিবারের দায়িত্ব নয়। এটি সমাজের দায়িত্ব, রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
অপ্রতিমের মৃত্যু যেন আরেকটি সংবাদ হয়ে হারিয়ে না যায়। বরং এটি আমাদের মনে করিয়ে দিক, একটি শিশুকে নিরাপদে বাড়ি ফিরিয়ে আনা কোনো পরিবারের ব্যক্তিগত সৌভাগ্য নয়, এটি একটি নিরাপদ সমাজের স্বাভাবিক অধিকার।
হুমায়ুন আহমেদ বিলাস: যোগাযোগ পেশায় কর্মরত
আসামিদের বয়স নিয়ে ডিএনএ পরীক্ষার দাবি
আসামিদের বয়স নিয়ে ডিএনএ পরীক্ষার দাবি
Summary: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে স্কুলছাত্র অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার চার আসামির প্রকৃত বয়স নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহার শীলা। একই সঙ্গে অপ্রতিম হত্যার সঙ্গে কিশোর গ্যাং ও পূর্বের বিরোধের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আব্দুল কাইয়ুম চত্বরে অপ্রতিম হত্যায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব কথা বলেন ড. শীলা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি এ মানববন্ধনের আয়োজন করে।
ড. কামরুন নাহার শীলা বলেন, ‘আমি গতকাল রাত ১২টা পর্যন্ত ম্যাডামের (অপ্রতিমের মা) সঙ্গে ছিলাম। তিনি আমাকে কিছু কথা জানিয়েছেন। চারজন অভিযুক্তকে এই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন ফাহাদ। সে প্রায় ১০ দিন আগে ম্যাডামের স্বামীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিনা বেতনে চাকরি নিয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘ম্যাডাম যখন সহকারী প্রক্টর ছিলেন, তখন তিনি এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। ওই সময় তিনি কয়েকজন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন। তাদের মধ্যে দুজন নাকি তুহিনের কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ছিল।’
ড. শীলার ভাষ্য, অপ্রতিমের মা চান, পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখুক, ওই ঘটনার প্রতিশোধের জেরেই তাঁর ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে কি না। এ ছাড়া এসব ঘটনার সঙ্গে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে বের করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে যারা অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে দাবি করা হচ্ছে, তারা আদৌ অপ্রাপ্তবয়স্ক কি না, তা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাইয়ের দাবি জানান ড. শীলা। তিনি বলেন, প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে হলেও অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
মানববন্ধনে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত বেদনাবিধুর হৃদয়ে এখানে দাঁড়িয়েছি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সন্তান অপ্রতিম অত্যন্ত নির্মমভাবে খুন হয়েছে। প্রশাসনের তৎপরতায় খুনিরা দ্রুত ধরা পড়েছে, এজন্য ধন্যবাদ জানাই। আমরা চাই অপ্রতিম হত্যার দ্রুত বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।’
তিনি আরও বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা অপরাধ জোনে পরিণত হয়েছে। মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা দ্রুত দমন করতে হবে। আমরা চাই, আমাদের পরিবারের আর কোনো অপ্রতিমকে যেন হারাতে না হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় সবার জন্য নিরাপদ আবাসস্থল হয়।’
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, ‘অপ্রতিমকে যেভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা বর্বরতার সর্বোচ্চ সীমা ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।’
এর আগে রোববার দুপুরে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানান। তারা হলেন সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), ১৫ ও ১৬ বছরের দুই কিশোর এবং মো. সিয়াম (১৯)। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিয়াম ছাড়া অপর তিনজন রোববার রাতে কুমিল্লার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
গত শুক্রবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে অপ্রতিমের হাতে থাকা আইফোনের ক্ষুদে বার্তা ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রথমে তুহিন এবং পরে অন্যদের আটক করা হয়।
তেলের দাম বাড়ায় গণপরিবহনে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ
তেলের দাম বাড়ায় গণপরিবহনে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ
Summary: জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার অজুহাতে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন রুটে গণপরিবহনের ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন চালক ও হেলপাররা। কোনো কোনো রুটে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৩ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নগরের ১০ নম্বর রুটের বাসে ২ নম্বর গেইট থেকে আগ্রাবাদ পর্যন্ত আগে ১৫ টাকা ভাড়া নেওয়া হলেও সোমবার কোনো কোনো বাসে নেওয়া হয়েছে ২০ টাকা। একইভাবে মুরাদপুর থেকে আন্দরকিল্লা রুটে আগে ১৫ টাকা ভাড়া থাকলেও এখন ১৮ থেকে ২০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে পতেঙ্গা সি বিচ পর্যন্ত ১০ নম্বর রুটের নন-এসি বাসের ভাড়া ছিল ৬৮ টাকা। তবে আজ কোনো কোনো বাসে ৮০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, গ্যাসচালিত বাসে গ্যাসের সংকটের সময় ভাড়া বাড়ানো হলেও সংকট কাটার পরও তা কমেনি। সোমবার নগরের বিভিন্ন সড়কে গণপরিবহনে চলাচলকারী যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নগরের ১০ নম্বর রুটের একটি বাসে ২ নম্বর গেইট থেকে আগ্রাবাদ যাওয়ার সময় ২০ টাকা ভাড়া নেওয়া হয় বলে জানান শিক্ষিকা হাস্না হেনা। তিনি বলেন, ‘আগে এই দূরত্বের ভাড়া ১৫ টাকা দিয়েছি। আজ ২০ টাকা চাওয়া হয়েছে। পাঁচ টাকা বাড়তি নেওয়া হচ্ছে। কেন বাড়ানো হয়েছে জানতে চাইলে বলে তেলের দাম বেড়েছে।’
মুরাদপুর থেকে আন্দরকিল্লা যাতায়াতকারী বেসরকারি চাকরিজীবী আবুল বশর বলেন, ‘পেট্রলচালিত টেম্পুতে আগে ১৫ টাকা ভাড়া দিতাম। এখন ২০ টাকা নিচ্ছে।’
১০ নম্বর রুটের চালক শফিউল আলম বলেন, ‘কিছু কিছু বাসে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে, এটা ঠিক হয়নি। আমরা ২৪ ঘণ্টা পর বর্ধিত ভাড়া নেব।’
যাত্রীদের অভিযোগ, ভাড়া বাড়ানোর ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম মানা হচ্ছে না। অনেক বাসে নতুন ভাড়ার তালিকাও টানানো হয়নি। ফলে চালক বা হেলপার যে ভাড়া চাইছেন, সেটিই দিতে হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে অনেক সময় পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে যাত্রীদের তর্কে জড়াতে হচ্ছে।
পুলিশ পদক পাচ্ছেন ৯২ সদস্য
পুলিশ পদক পাচ্ছেন ৯২ সদস্য
Summary: সাহস ও বীরত্ব প্রদর্শন, সেবায় অনন্য নজির স্থাপন, গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত এবং উদ্ভাবনীমূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরসহ ৯২ পুলিশ সদস্যকে পুলিশ পদক দেওয়া হয়েছে।
সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে সই করেছেন উপসচিব নাসরিন সুলতানা।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১ মার্চ থেকে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে চারটি ক্যাটাগরিতে মোট ৯২ পুলিশ সদস্যকে পদক দেওয়া হয়েছে।
ক্যাটাগরিগুলো হলো—‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)’, ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা’, ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)’ এবং ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)-সেবা’।
প্রজ্ঞাপনে সাহস ও বীরত্ব প্রদর্শন, সেবায় অনন্য নজির স্থাপন, গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত এবং অন্যান্য উদ্ভাবনীমূলক কর্মকাণ্ডকে পদক দেওয়ার ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মেসির বিদায়ী ম্যাচে থাকবেন ডি মারিয়া
মেসির বিদায়ী ম্যাচে থাকবেন ডি মারিয়া
Summary: আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির শেষ ম্যাচের সাক্ষী হতে গ্যালারিতে থাকবেন তার দীর্ঘদিনের সতীর্থ আনহেল ডি মারিয়া। আগামী ৬ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে জাতীয় দলকে বিদায় বলবেন মেসি। বিষয়টি ইতোমধ্যে এএফএ ও ফিফাও নিশ্চিত করেছে।
রোসারিও সেন্ট্রালের হয়ে ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডি মারিয়া জানান, ৫ অক্টোবর রেসিং ক্লাবের বিপক্ষে ম্যাচের পর বুয়েনস এইরেসেই থেকে যাবেন তিনি। পরদিন মনুমেন্তালে গিয়ে মেসির বিদায়ী ম্যাচ দেখার পরিকল্পনা তার।
ডি মারিয়ার ভাষায়, ‘আমাকে তো স্টেডিয়ামে যেতেই হবে। ৫ তারিখে ব্যানফিল্ডের সঙ্গে খেলা রয়েছে, তাই হয়তো সেখানেই থেকে যাব। আমার পথেই পড়ে, আমি নিশ্চিতভাবেই যাব।’
মেসিকে ছাড়া আর্জেন্টিনার পথচলা কঠিন হবে বলেও মনে করেন ডি মারিয়া। তিনি বলেন, ‘কাজটা বেশ কঠিন হতে যাচ্ছে। এত বছর পর আর্জেন্টিনা, আর্জেন্টিনার মানুষ এবং পুরো বিশ্বকে তিনি যা দিয়েছেন, এরপর লিওকে ছাড়া একটা দল কল্পনা করা কঠিন। তবে শেষ দিনটা আমরা সবাই উপভোগ করব।’
তিন ম্যাচের সিরিজে কেবল বেনিনের বিপক্ষের প্রীতি ম্যাচটিতেই মাঠ মাতাবেন মেসি। রদ্রিগো ডি পল, নিকোলাস ওতামেন্দি ও জিওভানি লো সেলসোর মতো দীর্ঘদিনের সতীর্থরা এই বিশেষ দিনে মাঠে তার সঙ্গী হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপজয়ী দলের বাকি সদস্যদেরও পরিবারসহ গ্যালারিতে বসে ম্যাচটি উপভোগ করার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
ঘরের মাঠেই যে ফুটবল ঈশ্বর বিদায় নিচ্ছেন, তা নিশ্চিত করে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) সভাপতি বলেন, ‘২০২২ কাতার বিশ্বকাপে তার সঙ্গে খেলা সব বিশ্বজয়ীকে আমরা আমন্ত্রণ জানিয়েছি, যাতে পরিবার নিয়ে তারা এই অবিস্মরণীয় ক্ষণের অংশ হতে পারেন। প্রতিটি আর্জেন্টাইনের জন্য রাতটি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্তের দাবি বায়রা সদস্যদের
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্তের দাবি বায়রা সদস্যদের
Summary: রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর স্বার্থ বিবেচনা না করে দেশ ও কর্মীদের কর্মসংস্থানের স্বার্থে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সদস্যরা। তারা বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে দেশে-বিদেশে নানামুখী ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে সময়মতো শ্রমিক পাঠাতে না পারলে মালয়েশিয়া সরকার অন্যান্য সোর্স কান্ট্রি থেকে শ্রমিক নিয়ে তাদের চাহিদা পূরণ করবে। ফলে বাংলাদেশ এই সম্ভাবনাময় শ্রমবাজারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে।
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত, সঠিক তথ্য উপস্থাপন ও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বায়রা সদস্যদের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বায়রার সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল গফুর ভূঁইয়া।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে শ্রমিক পাঠানোর নানা উদ্যোগের ফলে মালয়েশিয়া থেকে প্রাপ্ত রেমিট্যান্সের পরিমাণ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। মালয়েশিয়ায় শ্রমিক অভিবাসন প্রক্রিয়ায় কর্মীদের কোনো অভিযোগ নেই। তারপরও যেসব রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশিয়া সরকার কর্তৃক তালিকাভুক্ত হয়নি, তারা মিটিং-মিছিল, সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে অভিবাসন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে।
তিনি আরও বলেন, দুই দেশের সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক ও বিধিবিধান অনুসরণ করার পরও প্রতিদ্বন্দ্বী রিক্রুটিং এজেন্সি মানবপাচার ও মানিলন্ডারিংয়ের মতো মামলা-মোকদ্দমা করে শ্রমবাজার উন্মুক্তের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। ২০২২-২৪ মেয়াদে তালিকাবহির্ভূত কিছু এজেন্সি, যাদের মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর অনুমোদন ছিল না, তারা ডামি ডিমান্ড লেটারের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত এজেন্সির নামে ব্যবসা করেছে। এসব এজেন্সি অন্যান্য মধ্যস্বত্বভোগীর সঙ্গে মিলে অভিবাসন ব্যয় বাড়িয়ে পুরো অভিবাসন প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এতে দেশের টিআইপি র্যাংকিংসহ জনশক্তি রপ্তানি খাতের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
লিখিত বক্তব্যে আরও জানানো হয়, মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশ থেকে অধিকসংখ্যক কর্মী নিয়োগের পাশাপাশি তাদের সবার ন্যূনতম মূল বেতন ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত নির্ধারণ করেছে। এতে একজন কর্মী মূল বেতন-ভাতা ও ওভারটাইমসহ মাসে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা আয় করছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো দেশের তুলনায় প্রকৃতপক্ষে দ্বিগুণেরও বেশি। এ কারণে বাংলাদেশের সাধারণ কর্মীরা মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য বেশি আগ্রহী।
মালয়েশিয়া সরকারের ইকোনমিক প্ল্যানিং ইউনিট নির্ধারিত ২৫ লাখ বিদেশি কর্মীর সিলিং অতিক্রম করায় দেশটির সরকার ২০২৪ সালের ১ জুন থেকে বাংলাদেশসহ সব সোর্স কান্ট্রি থেকে বিদেশি কর্মী নিয়োগ বন্ধ করে। পরে ২০২৫ সালের আগস্টে মালয়েশিয়া সরকার সোর্স কান্ট্রিগুলো থেকে পুনরায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের অনুমোদন দেয়।
বক্তব্যে বলা হয়, মালয়েশিয়া সরকারের এ সিদ্ধান্তের সুযোগ নিয়ে সোর্স কান্ট্রিগুলো এবং বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশ নেপাল ও মিয়ানমার উল্লেখযোগ্য হারে কর্মী পাঠানো শুরু করেছে। এ ক্ষেত্রে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সিদ্ধান্তহীনতা এবং রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে বাংলাদেশ এ সুযোগ গ্রহণ করতে পারেনি। একই সময়ে বাংলাদেশ কর্মী পাঠানো শুরু করতে পারলে এতদিনে অন্তত এক লাখ কর্মীর অভিবাসন সম্পন্ন হতো বলে দাবি করা হয়। পরবর্তীতে গত বছরের ২৭ অক্টোবর মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশ সরকারের কাছে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণকারী বাংলাদেশি বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির একটি তালিকা পাঠানোর অনুরোধ করে। এর ভিত্তিতে বাংলাদেশ সরকার ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির একটি তালিকা পাঠায়।
গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার বিন ইব্রাহিমের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার পর উভয় সরকার বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায়। এরই ধারাবাহিকতায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে দ্রুত কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার বিষয়ে দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়কে তাগিদ দেন। এরপর মালয়েশিয়া সরকার ক্রাইটেরিয়া পূরণ করা ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির মধ্য থেকে বোয়েসেলসহ ২৬টি মূল এজেন্সি এবং সহযোগী ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে অভিবাসন প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট করে। মালয়েশিয়া সরকার কর্মী নিয়োগের লক্ষ্যে এসব এজেন্সির মধ্যে কোটা বরাদ্দ শুরু করেছে। বরাদ্দ করা কোটার কর্মীদের জন্য অনলাইনে ই-এম্বাসি সফটওয়্যার মডিউলে কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের অ্যাটেস্টেশনসহ পরবর্তী কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, দুই দেশের সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক ও ফলপ্রসূ আলোচনার পর যখনই কর্মী নিয়োগের কাজ শুরু হয়েছে, ঠিক সেই সময়ে বায়রার কিছু সদস্য এজেন্সি ও মধ্যস্বত্বভোগী, যারা ইতিপূর্বে নামে-বেনামে ব্যবসা করেও অভিবাসন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছে, তারা গণমাধ্যম ও সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে ভুল তথ্য উপস্থাপন এবং আন্দোলন, মিটিং-মিছিল, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর কর্মসূচির মাধ্যমে সম্ভাবনাময় শ্রমবাজারটিকে আবারও বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে আল আকাবা অ্যাসোসিয়েটের স্বত্বাধিকারী আতিকুর রহমান বিশ্বাস, পূর্বী ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ মহিউদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ঠাকুরগাঁওয়ে মিড ডে মিল খেয়ে প্রায় ৩০ শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি
ঠাকুরগাঁওয়ে মিড ডে মিল খেয়ে প্রায় ৩০ শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি
Summary: ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে মিড ডে মিলের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৩০ শিক্ষার্থী। তাদের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছে।
সোমবার দুপুরে উপজেলার মধুপুর-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মিড ডে মিলে দেওয়া দুধ খাওয়ার পর তাদের পেটব্যথা শুরু হয়। একে একে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়লে শিক্ষক ও অভিভাবকেরা তাদের দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায় বলেন, অসুস্থ শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা চলছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের কয়েকজন জানায়, সোমবার মিড ডে মিলে দুধ ও পাউরুটি দেওয়া হয়। দুধ খাওয়ার পরই তাদের পেটব্যথা শুরু হয়।
জানা গেছে, ঠাকুরগাঁওয়ের সাত উপজেলার মধ্যে বালিয়াডাঙ্গীতে পাইলট প্রকল্প হিসেবে গত জানুয়ারি থেকে মিড ডে মিল কার্যক্রম চালু হয়েছে। উপজেলার ১৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সপ্তাহের পাঁচ দিন বিভিন্ন খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।
রোববার দেওয়া হয় ডিম ও পাউরুটি, সোমবার দুধ ও পাউরুটি, মঙ্গলবার কলা ও বিস্কুট এবং বুধবার ও বৃহস্পতিবার ডিম ও পাউরুটি দেওয়া হয়। ডিম, পাউরুটি ও কলা সরবরাহ করে স্থানীয় সংস্থা ইএসডিও। দুধ সরবরাহ করে আরডি নামে একটি সংস্থা এবং বিস্কিট সরবরাহ করে প্রাণ কোম্পানি।
ওবিইউর মাধ্যমে সাশ্রয়ী বাণিজ্য অর্থায়নে নতুন পদক্ষেপ
ওবিইউর মাধ্যমে সাশ্রয়ী বাণিজ্য অর্থায়নে নতুন পদক্ষেপ
Summary: বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ ও সাশ্রয়ী করতে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটগুলোকে (ওবিইউ) বৈদেশিক মুদ্রা সরাসরি ক্রয়-বিক্রয় এবং ক্রস-কারেন্সি সোয়াপ লেনদেনের সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে অনুমোদিত বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে প্রতিযোগিতামূলক ব্যয়ে বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থায়নের সুযোগ আরও বাড়বে।
সোমবার জারি করা এক সার্কুলারে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে- গ্রাহক লেনদেন সহজ, বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য ব্যবস্থাপনা জোরদার, সম্পদ-দায় ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ট্রেজারি কার্যক্রমের সঙ্গে দেশের অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রমকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতেই এ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। নতুন ব্যবস্থার আওতায় ওবিইউগুলো নিজ নিজ ডোমেস্টিক ব্যাংকিং ইউনিট, অন্যান্য অনুমোদিত ডিলার ও ওবিইউ এবং সংশ্লিষ্ট কাউন্টারপার্টির সঙ্গে সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় এবং ক্রস-কারেন্সি সোয়াপ লেনদেন করতে পারবে।
এর ফলে ওবিইউগুলো উপযুক্ত উৎস থেকে বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল সংগ্রহ, তহবিলের কাঠামো আরও কার্যকরভাবে সাজানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা করতে পারবে। বিশেষ করে অনুমোদিত বাণিজ্য অর্থায়নের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক ব্যয়ে অর্থায়ন দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী, এসব লেনদেন অনুমোদিত গ্রাহক লেনদেন, তহবিলের প্রয়োজন, নিষ্পত্তির দায়, বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য ব্যবস্থাপনা, সম্পদ-দায় ব্যবস্থাপনা অথবা বৈদেশিক মুদ্রার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ওবিইউগুলোকে বিচক্ষণ বৈদেশিক মুদ্রা তহবিল ব্যবস্থাপনা কৌশল গ্রহণে উৎসাহিত করেছে। প্রয়োজনে তুলনামূলক কম ব্যয়ের বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল সংগ্রহ এবং উপযুক্ত বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় বা ক্রস-কারেন্সি সোয়াপের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মুদ্রা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ এ পদক্ষেপের ফলে ওবিইউগুলোর বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য ও তহবিল ব্যয় ব্যবস্থাপনায় নমনীয়তা বাড়বে। একই সঙ্গে অনুমোদিত বাণিজ্য কার্যক্রমে আরও দক্ষ ও সাশ্রয়ী অর্থায়ন এবং উন্নত অফশোর ব্যাংকিং সেবা প্রদানের সুযোগ তৈরি হবে।
আত্মহত্যা করতে বাধা দেওয়ায় মা-ভাতিজিকে হত্যা: পুলিশ
আত্মহত্যা করতে বাধা দেওয়ায় মা-ভাতিজিকে হত্যা: পুলিশ
Summary: পায়ের দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা ও আত্মহত্যার চেষ্টায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার দেবিদ্বারে মা ও ছয় মাসের ভাতিজিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তার ভাবিও গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের বড়শালঘর গ্রামের দক্ষিণ পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন ওই গ্রামের মৃত ফরিদ মিয়ার স্ত্রী ও অভিযুক্ত ইমনের মা মোছা. ফিরোজা বেগম (৬২) এবং ইমনের ছয় মাস বয়সী ভাতিজি ইসরাত। আহত ইমনের ভাবি রাবেয়া বেগমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইমন প্রায় দুই বছর আগে ফুটবল খেলতে গিয়ে পায়ে গুরুতর আঘাত পান। এতে তার পায়ের লিগামেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকে তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারতেন না। চিকিৎসার পাশাপাশি তার পায়ে দুই দফা অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপরও পায়ের ব্যথা ও চলাফেরার সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সম্প্রতি পায়ের ব্যথা বেড়ে যাওয়ায় ইমন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। রোববার রাতে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করলে মোছা. ফিরোজা বেগম ও ভাবি রাবেয়া বেগম তাকে বাধা দেন।
পুলিশ জানায়, এর জেরে সোমবার সকালে ইমন তার মা ও ভাবির সঙ্গে কথা-কাটাকাটিতে জড়ান। একপর্যায়ে ঘরে থাকা ধারালো দা দিয়ে মোছা. ফিরোজা বেগমকে কুপিয়ে আহত করেন। পরে মায়ের কাছে থাকা ছয় মাসের শিশু ইসরাতকে তুলে নিয়ে আছাড় দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের বাঁচাতে এগিয়ে এলে ভাবি রাবেয়া বেগমকেও মারধর করা হয়।
চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফিরোজা বেগম ও শিশু ইসরাতকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত রাবেয়া বেগমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার পর স্থানীয়রা ইমনকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমন জানিয়েছেন, পায়ের যন্ত্রণায় তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। এতে বাধা দেওয়ায় ক্ষোভ থেকে তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তার মানসিক অবস্থার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ওসি আরও জানান, নিহত দুজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ, চবি ছাত্রদল নেতাকে শোকজ
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ, চবি ছাত্রদল নেতাকে শোকজ
Summary: জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদ জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসাইন হৃদয়কে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সংসদ।
রোববার রাতে ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তাকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নয়াপল্টনে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, দায়িত্বশীল পদে থেকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সাজ্জাদ হোসাইনের বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের উপস্থিতিতে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির খবর প্রকাশের পর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট দেন সাজ্জাদ হোসাইন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘ছাত্ররাজনীতির শুরু থেকে বিএনপির যেসব কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি, তার অধিকাংশই ছিল তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে। আজ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। প্রতিবাদ জানালাম।’
পোস্ট দেওয়ার পরই তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
শোকজের বিষয়ে সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, সংগঠনের প্রতি আমার শতভাগ আনুগত্য রয়েছে। পোস্ট ঘিরে শোকজ করা হলে আমি নিয়ম অনুযায়ী সাংগঠনিক ফোরামে যথাযথ জবাব দেব। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে সরকার বাধ্য হয়ে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করেছে—মূলত বিষয়টি তুলে ধরতেই তিনি পোস্টটি দিয়েছিলেন।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ নতুন করে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। নতুন দর অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা ও পেট্রল ১৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম সোমবার থেকে কার্যকর হয়েছে।
বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তরুণীকে হেনস্তা, সেই অভিনেতা ১৪ দিনের রিমান্ডে
বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তরুণীকে হেনস্তা, সেই অভিনেতা ১৪ দিনের রিমান্ডে
Summary: বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক তরুণীর সঙ্গে প্রতারণা ও যৌন হেনস্তার অভিযোগে সাবেক কুস্তিগির ও অভিনেতা সৌরভ গুর্জরকে ১৪ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। রোববার মুম্বাই বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তারের পর তাকে হায়দরাবাদে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করা হলে আদালত ১৪ দিনের রিমান্ডের নির্দেশ দেন।
তবে সৌরভের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের তদন্ত চলছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, হায়দরাবাদের গাচিবাউলি থানায় ১৫ আগস্ট ২৯ বছর বয়সী এক নারী মামলা দায়ের করেন। অভিযোগকারী জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের পর ২০২১ সালে সৌরভের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে সেই সম্পর্ক ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই দেশেই চলতে থাকে।
‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২৫ ডিসেম্বর প্রথমবার সৌরভের সঙ্গে তার সরাসরি দেখা হয়। পরবর্তী সময়ে সৌরভ তাকে জানান, তিনি আগে থেকেই বিবাহিত। তবে এরপরও তার সঙ্গে ভবিষ্যতে সংসার করার প্রতিশ্রুতি দিতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।
অভিযোগপত্রে ওই নারী দাবি করেন, সৌরভ তাকে স্ত্রী হিসেবে মর্যাদা দেওয়ার এবং পরবর্তী সময়ে একসঙ্গে সংসার করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু বিয়ের প্রসঙ্গ উঠলেই তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দিতেন বলে অভিযোগ।
ওই নারীর আরও দাবি, সৌরভ তাকে ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্লক করে দিতেন এবং কোনো ধরনের পূর্বাভাস ছাড়াই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতেন। এতে তিনি মানসিক হয়রানি ও আবেগজনিত সমস্যার মধ্যে পড়েন বলে অভিযোগ করেন। এমনকি সৌরভের সঙ্গে থাকার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের চাকরি ছেড়ে দেওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়েছেন বলে দাবি তাঁর।
ওই নারী আরও জানান, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত সৌরভ তার সঙ্গে ছিলেন। এরপর যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে সৌরভ তাঁকে হায়দরাবাদে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করলেও সম্পর্কের জটিলতা ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে সমস্যার সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এরপরই পুলিশের দ্বারস্থ হন ওই নারী।
অভিযোগের ভিত্তিতে গাচিবাউলি পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৯ ধারায় মামলা করেছে। প্রতারণামূলক উপায়ে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়টি এই ধারার আওতাভুক্ত।
গাচিবাউলি থানার পরিদর্শক কে সাইদুল সৌরভের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সৌরভের বিরুদ্ধে লুকআউট সার্কুলারও (এলওসি) জারি করা হয়েছিল।
পুলিশের দাবি, ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মুম্বাই বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর অভিবাসন কর্মকর্তারা সৌরভকে আটক করেন। পরে গাচিবাউলি থানার একটি দল তাকে হায়দরাবাদে নিয়ে যায়। শনিবার তাকে ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করা হলে রোববার আদালত তাকে ১৪ দিনের বিচারিক হেফাজতে পাঠান।
সৌরভ গুর্জর ‘মহাভারত’ ধারাবাহিকে ভীম চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পান। পরে ‘ব্রহ্মাস্ত্র: পার্ট ওয়ান—শিবা’ সিনেমাতেও ‘জোর’ চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত চলছে। সূত্র: আউটলুক ইন্ডিয়া
সানস্ক্রিন মাখার পরেও সানট্যান হয়? যা করবেন
সানস্ক্রিন মাখার পরেও সানট্যান হয়? যা করবেন
Summary: সূর্যের ক্ষতিকর ইউভি রশ্মি থেকে ত্বককে বাঁচাতে অনেকেই নিয়ম করে সানস্ক্রিন মাখেন। তবু রোদে ত্বক পুড়ে যায়। ত্বকে কালচে ও ছোপ ছোপ দাগ দেখা যায়। কারো কারো ত্বল লালচে দেখায়। যদি সানস্ক্রিন ব্যবহারের পরেও ত্বকের এমন বেহাল অবস্থা হয়, তাহলে বুঝতে হবে এটি সঠিক নিয়মে ব্যবহার করা হচ্ছে না।
নিউজ১৮-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সানস্ক্রিন কেনার সময় তা এসপিএফ ৫০+ কিনা তা দেখা উচিত। ত্বকের ধরন বুঝে ভিন্ন-ভিন্ন সানস্ক্রিন বেছে নেওয়া উচিত। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য বেছে নিন জেল ভিত্তিক সানস্ক্রিন। শুষ্ক ত্বকের জন্য সেরা লোশন ফর্ম সানস্ক্রিন।
সানস্ক্রিন বেছে নেওয়ার সময়, এসপিএফ এবং পিএ রেটিং দেখে নিন। এসপিএফ মানে সান প্রোটেকশন ফ্যাক্টর, যা ইউভিবি রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে। এই রশ্মিই ত্বককে পুড়িয়ে দেয়। পিএ অর্থাৎ সুরক্ষা গ্রেড ত্বককে ইউভিএ রশ্মি থেকে রক্ষা করে। ইউভিএ রশ্মি ত্বককে দ্রুত বুড়িয়ে দেয়, ত্বকে উঁকি মারে বলিরেখা। একটি ভালো সানস্ক্রিনে কমপক্ষে এসপিএফ ৫০ এবং পিএ+++ থাকা উচিত।
সঠিক পরিমাণ
সানস্ক্রিন মাখলেই হলো না, কতটা মাখবেন, সেটাও জানা জরুরি। এক্ষেত্রে ২ বা ৩ আঙুলের নিয়ম মেনে চলতে হবে। শুধুমাত্র ২-৩ আঙুলের সমান সানস্ক্রিন লাগালেই ত্বককে ট্যানিং থেকে বাঁচানো যায়। পাশাপাশি, সানস্ক্রিন ঘাড় পর্যন্ত ভালো করে মাখুন। অনেকেই ময়েশ্চারাইজারের সঙ্গে সানস্ক্রিন মিশিয়ে মাখেন। এটা ভুল পদ্ধতি। এতে সানস্ক্রিনের কার্যকারিতা কমে যায়।
ব্যবহারের সঠিক সময়
অনেকেই বাড়ির বাইরে বের হওয়ার আগে সানস্ক্রিন মাখেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাড়িতে থাকলেও দিনে অন্তত তিনবার সানস্ক্রিন মাখতে হবে। সূর্যের রশ্মি ছাড়াও দূষণ ও ধুলোবালির কারণে ত্বক জেল্লা হারায়, সানট্যান দেখা দেয়। আর রোদে যাওয়ার ১৫ থেকে ৩০ মিনিট আগে ত্বকে সানস্ক্রিন মাখতে হবে। প্রতি ২ ঘণ্টা পর পর এটি ফের ব্যবহার করলে রোদে পোড়া দাগ থেকে বাঁচা যায়।
একই চা বারবার গরম করে খাওয়া কি ঠিক
একই চা বারবার গরম করে খাওয়া কি ঠিক
Summary: সকালে উঠে, কেউ বা নাশতার পর এক কাপ চা খেতে পছন্দ করেন। কেউ কেউ দিনে কয়েক কাপ পর্যন্ত চা খান। আড্ডা, কাজের ফাঁক, এক কাপ চা ছাড়া যেন চলেই না। অনেক সময় চা ঠান্ডা হয়ে গেলে তা আবার গরম করে খাওয়ার অভ্যাস আছে কারও কারও। কাজটিকে খুব সাধারণ মনে হলেও, বিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা।
খাদ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চা পাতায় প্রচুর পরিমাণে ক্যাটেচিন, পলিফেনল ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকে, যা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। কিন্তু একবার তৈরি চা ঠান্ডা হওয়ার পর আবার গরম করলে এর পুষ্টিগুণ একেবারেই নষ্ট হয়ে যায়। তখন সেই চা পান করা আর শুধু গরম পানি খাওয়ার মধ্যে কোনও পার্থক্য থাকে না।
চায়ে প্রাকৃতিকভাবে ট্যানিন নামক একটি উপাদান থাকে, যা পরিমিত মাত্রায় শরীরের জন্য ঠিক। তবে ঠান্ডা চা আবার ফোটালে এই ট্যানিন অতিরিক্ত মাত্রায় নির্গত হয় এবং চায়ের স্বাদকে তেতো করে তোলে। অতিরিক্ত ট্যানিন সরাসরি পাকস্থলীতে গিয়ে অ্যাসিডিটি, বুক জ্বালা ও বদহজম করতে পারে।
চা তৈরি করে দীর্ঘক্ষণ ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখলে খুব দ্রুত বিভিন্ন ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে শুরু করে। বিশেষ করে যদি সেই চায়ে দুধ ও চিনি মেশানো থাকে, তাহলে ব্যাকটেরিয়ার দ্রুত বিস্তার ঘটে। এই অবস্থায় চা গরম করলেও সব জীবাণু মরে না। সেই সঙ্গে পেটের মারাত্মক সংক্রমণ ঘটাতে পারে।
টিভি নাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চা আবার গরম করার সময় ব্যাকটেরিয়া যদি মরেও যায়, এদের তৈরি ক্ষতিকর টক্সিন থেকে যায়। এই বিষাক্ত উপাদানগুলো সরাসরি পরিপাকতন্ত্রে প্রবেশ করে লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ ফেলে। নিয়মিত এমন চা খেলে ডায়রিয়া, বমি ভাব বা খাদ্যে বিষক্রিয়া হওয়ার ঝুঁকি থোকে।
লিকার চায়ের তুলনায় দুধ চা বারবার গরম করে খাওয়া শরীরের জন্য সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক বলে মনে করেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। দুধের প্রোটিন এবং চায়ের রাসায়নিক উপাদান বারবার তাপে বিক্রিয়া করে শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর পদার্থ তৈরি করতে পারে। তাই দুধ চা একবার ঠান্ডা হয়ে গেলে তা কোনোভাবেই আর পান করা উচিত নয়।
চিকিৎসকদের মতে, চা বানানোর পর তা সর্বোচ্চ পনেরো থেকে বিশ মিনিটের মধ্যেই পান করে নেওয়া উচিত। চা ঠান্ডা হয়ে গেলে তা ফেলে দিয়ে নতুন করে তাজা চা বানিয়ে নেওয়াই সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর।
কিশোরগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই রাজমিস্ত্রির মৃত্যু
কিশোরগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই রাজমিস্ত্রির মৃত্যু
Summary: কিশোরগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই রাজমিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুরে জেলা শহরের পুরানথানা এলাকার সামাদ প্লাজার সামাদ আবাসিক হোটেলের তৃতীয় তলায় এসি বসানোর কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের জিনারাই গ্রামের গোলাপ মিয়ার ছেলে আফাজুল (৩৫) ও হোসেনপুর উপজেলার পুমদী ইউনিয়নের রামপুর এলাকার আব্দুল মজিদের ছেলে সাব্বির (৩০)।
জেলা ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন অফিসার মোমেন মুর্শেদ ও সদর মডেল থানার এসআই দুলাল জানান, দুই রাজমিস্ত্রি সামাদ আবাসিক হোটেলে এসি বসানোর কাজ করছিলেন। আনুমানিক দুপুর ১২টার দিকে একটি লোহার রড বিদ্যুতের খোলা তারের সংস্পর্শে এলে দুজনই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। তাদের শরীরের ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পুড়ে গেছে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
আফাজুলের ফুপু জাহেরা খাতুন বলেন, আফাজুলের স্ত্রী ও এক ছেলে, এক মেয়ে রয়েছে। রাজমিস্ত্রির কাজ করেই তিনি সংসার চালাতেন।
অন্যদিকে সাব্বিরের চাচাশ্বশুর জাকির হোসেন জানান, সাব্বিরের স্ত্রী ও এক মেয়ে রয়েছে। রাজমিস্ত্রির কাজ করেই তার সংসার চলত।
জেলা বিল্ডিং নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন বলেন, নির্মাণ শ্রমিকরা কাজ করার সময় প্রায়ই ভবনের মালিকরা প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেন না। ফলে ভবন থেকে পড়ে যাওয়া বা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার মতো দুর্ঘটনা ঘটছে। নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য সর্বত্র নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে নিহত দুই শ্রমিকের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং তাদের সন্তানদের দায়িত্ব মালিকপক্ষকে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
ভবনের অন্য ব্যবসায়ীরা জানান, রিপন মিয়াসহ সামাদ আবাসিক হোটেলের চারজন মালিক রয়েছেন। তবে দুর্ঘটনার পর মালিকপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি।
সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখর রঞ্জন পাল জানান, এখন পর্যন্ত মালিকপক্ষের কাউকে আটক করা হয়নি। তবে এ ঘটনায় যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
চার দিনের রিমান্ডে এমপি গাজী নজরুল, প্রথম স্ত্রীর একদিন
চার দিনের রিমান্ডে এমপি গাজী নজরুল, প্রথম স্ত্রীর একদিন
Summary: দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়াম খাতুনকে (১৯) আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একইসঙ্গে তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমেরও রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।
গাজী নজরুলের চার দিনের এবং মাকছুদার একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এহসানুল ইসলাম। আজ সোমবার শুনানি শেষে এই আদেশ দেন আদালত।
তাদের সাত দিন করে রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুজ্জোহা সরকার। দুপুর দুইটার পর পুলিশের একটি গাড়িতে করে আসামিদের আদালতের হাজতখানায় আনা হয়। পরে তাঁদের আদালত তোলা হয়।
এ ঘটনায় রোববার গভীর রাতে নিহত মরিয়ামের বাবা মাছুম বিল্লাহ বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম ও মরিয়ামের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। এর আগে রাতে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, ৫ নম্বর ভবনের দোতলায় ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে এমপি নজরুল ইসলাম সস্ত্রীক বসবাস করেন। রোববার সন্ধ্যায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কক্ষের জানালা দিয়ে মরিয়ামের লাশ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত দেখা যায়। ন্যাম ভবনের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বিষয়টি শেরেবাংলা নগর থানার ওসিকে জানান। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। আলামত সংগ্রহের জন্য পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিটকে ডাকা হয়। তারা আসার আগ পর্যন্ত ওই কক্ষে প্রবেশ করেনি থানা পুলিশ। রাত ১০টার দিকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।
শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, ন্যাম ভবনের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তার কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ সেখানে যায়। এরপর ঝুলন্ত অবস্থায় এমপির দ্বিতীয় স্ত্রীর লাশ পাওয়া গেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নজরুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। গত জুলাইয়ে মগবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে ধারণ করা তাঁর ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ১৯ বছরের তরুণী মরিয়ামকে তাঁর সঙ্গে দেখা যায়। পরে নজরুল ইসলাম জানান, মরিয়াম তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। এরপর ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। দলটির পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্পিকার, নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি দেওয়া হয়।
ইউরোপ কেন বিস্তৃত সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে?
ইউরোপ কেন বিস্তৃত সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে?
Summary: ইউরোপে আতঙ্ক বাড়ছে। সম্প্রতি বেলারুশ বড় ধরনের সামরিক মহড়া চালিয়েছে। দেশটি রাশিয়ার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র। মহড়াটি হয়েছে সুয়ালকি গ্যাপের কাছে। এটি বাল্টিক দেশগুলোকে ন্যাটোর বাকি অংশের সঙ্গে যুক্ত করা একটি সরু করিডর। দীর্ঘদিন ধরে করিডরটি ন্যাটোর অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ স্থান হিসেবে বিবেচিত।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ রাজনৈতিক নেতাদের ডেকে গোপন গোয়েন্দা ব্রিফিং সংক্রান্ত বৈঠক করেছেন। এরপর তিনি রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হাইব্রিড হামলা থেকে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় নতুন পদক্ষেপ ঘোষণা করেন। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কও সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাশিয়া ন্যাটোর দেশগুলোতে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে। পরে সেগুলোকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানো হবে।
যুক্তরাজ্য নাগরিকদেরকে সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে বলেছে। কৌটাজাত খাবার ও পানি মজুত করতে বলা হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান বলেছেন, কয়েক দশকের মধ্যে ব্রিটেন সবচেয়ে ‘বিপজ্জনক’ সময়ের মুখোমুখি হয়েছে। জার্মানি সম্ভাব্য রুশ হামলার জন্য হাসপাতালগুলো প্রস্তুত করছে। দেশটির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস এক সতর্কবার্তায় ‘মহাদেশের স্বাধীনতা ও শান্তি রক্ষা’ এবং ‘নির্ণায়ক মুহূর্ত’ শব্দগুলো ব্যবহার করেছেন।
এমনকি দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ দেশ সুইজারল্যান্ডও নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণ করেছে। এতে আরও বেশি প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তোলা এবং সশস্ত্র হামলা থেকে নিজেদের রক্ষায় সক্ষমতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
দুই সপ্তাহ আগে ন্যাটোভুক্ত এলাকাগুলোতে হামলা না করার সতর্কবার্তা দিতে মস্কোয় গিয়েছিলেন মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) পরিচালক জন র্যাটক্লিফ। এরপর ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ ঘোষণা দেন, পোল্যান্ডে তাদের একটি স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি স্থাপনে অগ্রগতি হয়েছে।
এসব কর্মকাণ্ড আটলান্টিকের দুই পাড়ের দেশগুলোর উদ্বেগ ফুটিয়ে তুলছে। তাদের আশঙ্কা, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শিগগিরই ইউক্রেনের বাইরে যুদ্ধ ছড়িয়ে দিতে পারেন।
রাশিয়ার বিস্তৃত যুদ্ধক্ষেত্র
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র হামলার বিস্তার নিয়ে একটি আভাস পেয়েছে। ফেডারেল প্রসিকিউটররা পাঁচজনের বিরুদ্ধে রুশ গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করার অভিযোগ এনেছেন। বলা হচ্ছে, এসব ব্যক্তিরা বিশ্বজুড়ে হামলা পরিকল্পনার একটি নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত। প্রসিকিউটররা আরও অভিযোগ করেছেন, এই নেটওয়ার্ক ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বেসামরিক ও সামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালানোরও নির্দেশ দিয়েছিল।
ইউরোপ বছরের পর বছর যেসব পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে, এই অভিযোগ সেগুলোর সঙ্গে মিলে যায়। এর মধ্যে আছে, সাইবার হামলা, কোনো ব্যবস্থার ক্ষতিসাধন, অগ্নিসংযোগ, ড্রোন এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করার মতো অবকাঠামোর ওপর হামলা। গত মাসে জার্মানি এমন একটি অভিযোগ তোলে। তারা লিপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেছে।
ন্যাটোর জন্য একটি কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে ‘গ্রে জোন’ অভিযান। যেমন- জোটের আকাশসীমায় ড্রোন ওড়ানো, বিমানবন্দর অচল করে দেওয়া, অবকাঠামোর ক্ষতিসাধান কিংবা অপরাধীদের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ড ঘটানো। এসব ঘটনার একাধিক অর্থ দাঁড় করিয়ে চাইলেই দায় অস্বীকার করা যায়। একইসঙ্গে এগুলো প্রচলিত উপায়ে যুদ্ধ বাঁধানোর কোনো সীমা অতিক্রম হিসেবেও গণ্য হয় না।
ভ্লাদিমির পুতিন বর্তমানে কোনো ঘটনার একাধিক অর্থ দাঁড় করানো ও অস্বীকারের সুযোগকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন। এর লক্ষ্য ন্যাটোর ঐক্য ও প্রতিক্রিয়া যাচাই করা। কারণ তিনি জানেন, হামলার জবাব দেওয়া উচিত নাকি অনুচিত তা নিয়ে ন্যাটোর মধ্যে বিভাজন আছে।
এখন প্রশ্ন হলো, পুতিন যদি এক্ষেত্রে আরও এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাহলে কী হবে?
‘দ্য গ্যাপ’
পুতিন আরও এগিয়ে গেলে কী হবে তার একটি উত্তর পাওয়া যায় সুয়ালকি গ্যাপে। এটি পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যকার প্রায় ৬৫ মাইল দীর্ঘ সীমান্ত। যা বাল্টিক দেশ লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া ও এস্তোনিয়াকে ন্যাটোভুক্ত বাকি অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
বেলারুশের সঙ্গে মিলে রাশিয়া যদি এই করিডরের একাংশে সেনা পাঠায় তা ন্যাটোভুক্ত কোনো রাষ্ট্রে সরাসরি অভিযান হিসেবে গণ্য হবে না। পুতিনও হয়তো এটিকে সীমিত অনুপ্রবেশ হিসেবে দাবি করবেন, অথবা খুব একটা পাত্তা দেবেন না। মস্কোও অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলগুলোর মাধ্যমে বোঝাতে পারে যে, ন্যাটো এই পদক্ষেপের জবাব দিলে পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হবে।
সম্ভাব্য এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য শুধু সুয়ালকি গ্যাপ দখল বা ন্যাটো থেকে বাল্টিক দেশগুলোকে বিচ্ছিন্ন করা নয়। বরং এর মাধ্যমে পুরো ন্যাটোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি দুর্বল করে দেওয়ার লক্ষ্যও থাকতে পারে।
এখন প্রশ্ন হলো, মাত্র ৬৫ মাইল দীর্ঘ এই ভূখণ্ড রক্ষার জন্য ন্যাটোর ৩২ দেশ মিলে কি রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সম্মত হবে? একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট কি লিথুয়ানিয়ার মতো দেশের জন্য পারমাণবিক শক্তি প্রয়োগের ঝুঁকি নেবেন? জার্মানি ও ফ্রান্সও কি তা করবে? এসব প্রশ্নের কোনো নিশ্চিত উত্তর নেই, আর এটিই পুতিনের কৌশলের পক্ষে কাজ করছে।
সুয়ালকি করিডরে রাশিয়ার সম্ভাব্য যুদ্ধ কৌশল নিয়ে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটেকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি বলেন, সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় ন্যাটো নিয়মিত মহড়া পরিচালনা করে। যেকোনো পদক্ষেপের জবাব হবে ভয়াবহ।
পুতিন কি মার্ক রুটের এমন হুঁশিয়ারিকে পাত্তা দেন? যুক্তরাষ্ট্র যখন কানাডাসহ ঘনিষ্ঠ মিত্রদের সঙ্গে মতবিরোধে আটকে আছে, তখন এমন হুঁশিয়ারিতে পুতিনের শঙ্কিত হওয়ার সম্ভাবনা কমই বলা চলে।
ইউক্রেন থেকে শিক্ষা
আধুনিক যুদ্ধে কী প্রয়োজন? এ নিয়ে ইউরোপীয়রা সম্ভবত ইউক্রেনের কাছে থেকে ভালো শিক্ষা পেয়েছে। যুদ্ধের জন্য শুধু সামরিক সরঞ্জাম থাকলেই চলে না। হামলা সহ্য করার মতো বিদ্যুৎ গ্রিড, ব্যাপক হতাহত সামাল দেওয়ার মতো হাসপাতাল, বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং চাপের মধ্যেও কাজ চালানোর সক্ষমতা সম্পন্ন সরকার দরকার হয়। একটি ঐক্যবদ্ধ সমাজব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। যারা যুদ্ধের খরচ বহন করতে পারে এবং অল্পতেই বিভক্ত হয়ে যায় না।
চলতি সপ্তাহে ন্যাটো জাতীয় পুনরুদ্ধার সক্ষমতা নিয়ে প্রকাশ্যে বার্তা দিয়েছে। জোটের কর্মকর্তারা দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইউক্রেন কীভাবে জরুরি পরিষেবা সচল রেখেছে তা পর্যালোচনা করছেন। যা বোঝায়, বর্তমানে ইউক্রেনই শুধু ন্যাটোর কাছে থেকে শিক্ষা নিচ্ছে না, বরং ন্যাটোও কিয়েভের কাছে থেকে শিখছে।
ওয়াশিংটনকে নিয়ে প্রশ্ন
ইউরোপের তৎপরতার পেছনে ‘আমেরিকান ফ্যাক্টরও’ আছে। যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সেনা মোতায়েন রাখলেও তারা বর্তমানে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ করছে। ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের প্রভাব দমিয়ে রাখতেও ওয়াশিংটন ব্যস্ত। তাদের অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার খবরও সামনে আসছে।
ন্যাটোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা শর্ত বাস্তবায়নে ডোনাল্ড ট্রাম্প কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তা নিয়েও সংশয় আছে। বিষয়টি মস্কো বেশ ভালো করেই জানে। তাই ন্যাটোকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পুতিনকে ইউক্রেনের মতো অভিযান চালাতে হবে না। তিনি ধাপে ধাপে উত্তেজনা বাড়ানোর পথে হাঁটতে পারেন। যা শুরু হতে পারে অবকাঠামোর ক্ষতি, সাইবার হামলা, হত্যার ষড়যন্ত্র, ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা দিয়ে। এসব বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপের পর ন্যাটোর ঐক্য পরীক্ষা করতে সীমিত পরিসরে সামরিক অভিযানও চালানো হতে পারে।
সম্ভাব্য এই পরিস্থিতিতে সুয়ালকি গ্যাপ নিয়ে তোলা প্রশ্নটি আবার ফিরে আসে। ছোট এই ভূখণ্ডের জন্য ট্রাম্প কি রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাবেন? মার্কিন নাগরিকরাও কি তা মেনে নেবেন? এসব প্রশ্নের উত্তর যদি নেতিবাচক হয়, তাহলে সেটি রাশিয়াকে দমিয়ে রাখার কৌশলকে দুর্বল করে দেবে।
ইউরোপে ভ্রান্ত ধারণার অবসান
স্নায়ু যুদ্ধের পর তিন দশক ধরে ইউরোপের জাতীয় প্রস্তুতি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে গেছে। তারা নিকট ভবিষ্যতে যুদ্ধের সম্ভাবনা নিয়ে খুব একটা উদ্বিগ্ন ছিল না। ফলে সামরিক বাহিনীতে ব্যয় ও নিয়োগ কমে যায়। তারা ধরেই নিয়েছিল, জরুরি পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র পাশে থাকবে। কিন্তু সেই যুগ শেষ।
ইউরোপ এখন যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশগুলোর নেতারা ক্রমেই একটি অস্বস্তিকর বাস্তবতা বুঝতে পারছেন। ইউক্রেন যুদ্ধ বিস্তৃত হলে যুক্তরাষ্ট্র কী করবে, সেটিও অনিশ্চিত। এমন সময় সুয়ালকি গ্যাপের কাছে বেলারুশের সামরিক মহড়া উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
যুদ্ধের বিস্তৃতি ঠেকানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হলো পুতিনের বিশ্বাস বদলে দেওয়া। তাঁর সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলো যে ব্যর্থ হতে পারে- তা নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু ইউরোপের রাজধানীগুলোতে যে জরুরি প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে, তাতে পুতিন হয়তো উল্টোটাই বুঝবেন। অর্থাৎ, সফল হওয়ার আশাই বেশি করবেন।
(প্রতিবেদনটি লিখেছেন সিএনএনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ব্রেট ম্যাকগার্ক। তিনি জর্জ ডব্লিউ বুশ, বারাক ওবামা, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেনের প্রশাসনে জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক বিভিন্ন পদে কাজ করেছেন।)
মিয়ানমারের সঙ্গে ড্রয়ে এশিয়ান গেমস শেষ বাংলাদেশের
মিয়ানমারের সঙ্গে ড্রয়ে এশিয়ান গেমস শেষ বাংলাদেশের
Summary: এশিয়ান গেমসে হারের বৃত্ত থেকে বের হয়ে অন্তত এক পয়েন্ট নিয়ে ফিরেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মিয়ানমারের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে তারা।
সোমবার জাপানের নাগাই স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল মিয়ানমার। তবে বাংলাদেশের রক্ষণ ও গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় বারবার সুযোগ নষ্ট হয় তাদের। বাংলাদেশও কয়েকটি আক্রমণ করলেও তা থেকে গোল আদায় করতে পারেনি।
দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে মিয়ানমার চাপ বাড়ালেও বাংলাদেশের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। ফলে শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় ম্যাচ।
গ্রুপের প্রথম ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ এবং পরের ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৬-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। তিন ম্যাচে ১৬ গোল হজম করে কোনো গোল করতে না পারলেও শেষ ম্যাচে অন্তত গোল না খেয়ে এক পয়েন্ট নিয়ে এশিয়ান গেমস শেষ করল মেয়েরা।
জয়পুরহাটে সাজেদা হত্যা মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন
জয়পুরহাটে সাজেদা হত্যা মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন
Summary: জয়পুরহাট শহরের জানিয়ার বাগান এলাকায় চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ সাজেদা ইসলাম সাজু হত্যা মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার দুপুরে জয়পুরহাট অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক হাসিবুল হক এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন জয়পুরহাট সদর উপজেলার খনজনপুর এলাকার জহুরুল ইসলামের ছেলে রাব্বী হোসেন ও একই এলাকার আনিছুর রহমানের ছেলে আবু সাঈদ।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ সূত্রে জানা গেছে, গৃহবধূ সাজেদা ইসলাম সাজু জয়পুরহাট শহরের জানিয়ার বাগান এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় ছোট মেয়েকে নিয়ে থাকতেন। তার স্বামী সিলেট শহরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। এ কারণে তিনি মেয়েকে নিয়ে ওই বাসায় একাই বসবাস করতেন।
মেয়ের স্থানীয় একটি স্কুলে পড়াশোনার সুবাদে ওই স্কুলের কম্পিউটার অপারেটর আবু সাঈদের সঙ্গে সাজেদার পরিচয় হয়। ২০২২ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তার মেয়ে এসএসসি পরীক্ষা দিতে কেন্দ্রে গেলে আসামিরা সাজেদার বাড়িতে এসে অনৈতিক প্রস্তাব দেন। এতে সাজেদা বাধা দিলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর মুখে কসটেপ লাগিয়ে, হাত বেঁধে এবং গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
পরীক্ষা শেষে মেয়ে বাসায় ফিরে মেঝেতে মায়ের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করতে থাকে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় নিহতের স্বামী হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে ২০২২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর জয়পুরহাট সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আজ এ রায় ঘোষণা করেন।
বেকারত্ব দূর করতে কারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষায় অধিক গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
বেকারত্ব দূর করতে কারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষায় অধিক গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
Summary: দেশের বেকারত্ব হ্রাসে কারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসারে অধিকতর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ সোমবার দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতির প্রেস উইংয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপতিতে এই তথ্য জানানো হয়।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান আরও উন্নত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বৈশ্বিক অগ্রযাত্রার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে শিক্ষার্থীদের একাধিক ভাষায় দক্ষতা অর্জন প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে তিনি তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আচার্য (চ্যান্সেলর) হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।
রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সংশ্লিষ্ট সচিবগণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও ট্রেজারার উপস্থিত ছিলেন।
এমপি গাজী নজরুল ও প্রথম স্ত্রীর ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন
এমপি গাজী নজরুল ও প্রথম স্ত্রীর ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন
Summary: দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়াম খাতুনের (১৯) মৃত্যুর ঘটনায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের সাত দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেছে পুলিশ।
সোমবার আদালতে আবেদনটি করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুজ্জোহা সরকার। আজ বেলা ২টা ২২ মিনিটে পুলিশের একটি গাড়িতে করে আসামিদের আদালতের হাজতখানায় আনা হয়।
এ ঘটনায় রোববার গভীর রাতে নিহত মরিয়ামের বাবা মাছুম বিল্লাহ বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম ও মরিয়ামের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।
এর আগে রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসংলগ্ন জাতীয় সংসদ সদস্যদের আবাসিক ভবন (ন্যাম ভবন) থেকে মরিয়ামের লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সন্ধ্যা ৭টার দিকে খবর পেয়ে তারা ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে যায়। রাত ১০টার দিকে একটি কক্ষের দরজা ভেঙে মরিয়ামের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।
ইবিতে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের মারামারি, আহত ৫
ইবিতে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের মারামারি, আহত ৫
Summary: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি এবং হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল মাঠে আন্তঃবিভাগ ফুটবল খেলার সময় এ ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
জানা গেছে, খেলায় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ এক গোলে এগিয়ে ছিল। খেলার শেষ মুহূর্তে বল থ্রো-ইনে গেলে বল আনতে যান হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মশিউর। এ সময় দর্শক সারিতে থাকা ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীরা বল দিতে সময়ক্ষেপণ করলে তাঁদের সঙ্গে মশিউরের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা ও চেয়ার নিয়ে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে।
এতে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হুমায়ুন কবির এবং হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মশিউর, আলিফ খান, আলিফ রাহাত ও তোফাজ্জল আহত হন। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আহত ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী হুমায়ুন কবির বলেন, বল নিয়ে কথা কাটাকাটির পর একজন তাকে পেছন থেকে ফেলে দেন। এরপর অন্যরা তাকে এলোপাতাড়ি পা দিয়ে মাথা ও মুখে লাথি মারতে থাকেন। এতে তার মুখ ও দাঁত ফেটে গেছে।
অন্যদিকে, আহত হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের শিক্ষার্থী আলিফ খানের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক বদিউজ্জামান বলেন, আহত অবস্থায় কয়েকজন শিক্ষার্থী মেডিকেলে আসেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। বাকি দুজনের একজনের মাথা ফেটে গেছে এবং অন্যজনের ঠোঁট কেটে যাওয়া ও দাঁতে আঘাত পাওয়ায় সেলাই দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, দুই বিভাগের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। খেলাটি স্থগিত রয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত রেফারি তার নিয়ম অনুযায়ী নেবেন।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক দলগুলোর
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক দলগুলোর
Summary: সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে লিটার প্রতি ২০ টাকা বৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো। অবিলম্বে বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন নেতারা। আজ সোমবার সমকালকে দেওয়া প্রতিক্রিয়া এবং পৃথক বিবৃতিতে দলগুলোর নেতারা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, জ্বালানির এই দাম বৃদ্ধির ফলে গাড়ি ভাড়া তথা পণ্য পরিবহন ও যাতায়াত খরচ বাড়বে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি জিনিসের দাম বাড়বে। ফলে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ, কৃষক, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণে বেড়ে গিয়ে তাদের দৈনন্দিন জীবন দুর্বিষহ করে তুলবে।
রোববার জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আজ সোমবার থেকে জ্বালানি তেলের নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। ডিজেলের দাম বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫, পেট্রোল ১৬০ ও অকটেন ১৬৫ টাকা লিটার করা হয়েছে। এটা দেশের ইতিহাসে জ্বালানি তেলের সর্বোচ্চ দাম। এর আগে ডিজেল ১১৫, কেরোসিন ১৩৫, পেট্রোল ১৪০ ও অকটেন ১৪৫ টাকা লিটারে বিক্রি হয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) দাবি, লোকসানের কারণে জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দর বাড়ায় আমদানি ব্যয়ও দ্রুত বেড়েছে। এতে লোকসানের কারণে এই দাম বাড়াতে হয়েছে। আর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর দাবি- তেলের দাম বাড়ানোর পরও সরকারকে প্রতি লিটারে ১৪ টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ সমকালকে বলেন, এমনিতেই গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত। দ্রব্যমূল্যে ঊর্ধ্বগতিতে জনসাধারণের নাভিশ্বাস উঠছে। সরকার এসব সমস্যার কোনো কার্যকর সমাধান করতে পারছে না। মুক্তবাজারের নিষ্ঠুর কষাঘাতে পিষ্ট সাধারণ মানুষের ওপর রাষ্ট্র আবারও চাপিয়ে দিল এক চরম জুলুমের বোঝা।
ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি এক লাফে ২০ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে কৃষি ও গণপরিবহনের চালিকাশক্তি ডিজেলের দাম ১৭.৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৫ টাকায়, যা সরাসরি সেচ ও উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে প্রান্তিক কৃষকদের খাদের কিনারায় ঠেলে দেবে। অন্যদিকে পেট্রোল ১৬০ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং গ্রামীণ মেহনতি মানুষের আলোর উৎস কেরোসিনের দাম ১৪.৮ শতাংশ বাড়িয়ে ১৫৫ টাকা করায় তাদের জীবনে তীব্র সংকট সৃষ্টি হবে।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, ‘যখন মূল্যস্ফীতির তীব্র চাপে মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে, তখন বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ না করে দাম বৃদ্ধি ও জনগণের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে সরকারের তথাকথিত লোকসান কমানোর এই নীতি সরাসরি আমজনতার পকেট কাটার সামিল। জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি- চাল, ডাল, সবজিসহ প্রতিটি মৌলিক পণ্যের দামের ওপর প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ প্রভাব ফেলবে যা সাধারণ শ্রমজীবী ও দরিদ্র মানুষের মুখের আহার কেড়ে নেবে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার পাঁচ মাসে তিনবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল যা সরকারের গণবিরোধী নীতির প্রকাশ। অবিলম্বে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার; গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির সংকট নিরসন এবং দ্রব্যমূল্য জনগণের ক্রয়সীমার মধ্যে রাখার দাবি জানান তিনি।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদুল হাসান মানিক ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুর আহমদ বকুল পৃথক বিবৃতিতে ফের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা বলেন, ‘বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকটময় পরিস্থিতিতে গৃহস্থালি, অফিস, কারখানা, কৃষি শিল্প, উৎপাদন পরিপূর্ণ হুমকির মধ্যে। ক্রমাগত মুদ্রাস্ফীতির কারণে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির লাগাম টানা যাচ্ছে না। সারাদেশে অস্থির পরিস্থিতি, মানুষ ক্রমাগত ক্রয়ক্ষমতা হারাচ্ছে। গরিবের সূচক মাত্রা বাড়ছে, এই পরিস্থিতিতে পুনরায় তেলের মূল্যবৃদ্ধি- বাজার থেকে উৎপাদন পর্যন্ত সর্বত্র নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’
এই নেতারা বলেন, ‘পরিবহন খরচ বেড়ে গেলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্যের দাম বেড়ে যাবে, সরবরাহ কমে যাবে। মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে। এ অসহনীয় পরিস্থিতি সাধারণ মানুষ সামাল দিতে পারবে না। সরকারের পক্ষে এখনও কোনো পরিপূর্ণ জ্বালানি নীতি ঘোষণা করা হয়নি। মার্কিন-বাংলাদেশ বাণিজ্যচুক্তির পর জ্বালানি ক্ষেত্রে একটা লুকোচুরি খেলা হচ্ছে। যখন যেমন তখন তেমন নীতিতে দেশপরিচালনার নীতি কখনও মঙ্গল বয়ে আনবে না। সরকারের উচিত হবে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি না করে অন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে বাজারসহ জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে সকল কিছু রাখা।’
বাসদের (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা বলেন, ‘বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটার প্রতি ২০ টাকা বাড়িয়ে মূল্যবৃদ্ধির চাপে পিষ্ট জনগণের কাঁধে আরও মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপালো। জ্বালানি তেলের বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধিতে সেচ খরচসহ কৃষকের উৎপাদন খরচ, শিল্পপণ্য, যাতায়াত, গৃহস্থালি খরচসহ সব পণ্যের দাম কয়েকগুণ বাড়বে।’
তিনি বলেন, ‘সরকার এমন সময় জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল, যখন কয়েক বছর ধরে লাভে আছে বিপিসি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সব খরচ ও কর বাদ দিয়ে বিপিসি প্রায় ৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে। বিপিসি গত ১১ বছরে প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা লাভ করেছে। বছরে গড়ে লাভ সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা। এ সময়ে সংস্থাটি সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে সোয়া লাখ কোটি টাকার ওপরে।’
মাসুদ রানার প্রশ্ন- তবে এমন লাভের সুফল জনগণকে কেন দেওয়া হবে না?। তিনি বলেন, এই উদ্বৃত্ত অর্থ দিয়ে আপদকালীন জ্বালানি তহবিল গঠন করা হলে, সেখান থেকে ভর্তুকি দিলে বা ডিজেল আমদানির সময় সরকারের আরোপিত ৩১.৮৫ শতাংশ ভ্যাট-ট্যাক্স কিছুটা কমালে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতো না।
তিনি বলেন, ‘আমরা দেখছি- বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের পরিকল্পনায় বিশাল বিশাল মেগাপ্রকল্প, নতুন পে-স্কেল ঘোষণা ইত্যাদিই গুরুত্ব পাচ্ছে, যার মাধ্যমে সরকারি ব্যয় বহুগুণ বাড়ছে অথচ জনগণকে মূল্যবৃদ্ধির কবল থেকে রক্ষার জন্য দীর্ঘমেয়াদি জনবান্ধব কোনো পরিকল্পনা দেখা যাচ্ছে না। জনগণের ওপর বিরাট মূল্যবৃদ্ধির বোঝা না চাপিয়ে সরকারি ব্যয় সমন্বয় করে স্বস্তি দেওয়া এ পরিস্থিতিতে সরকারের অন্যতম কর্তব্য হওয়া উচিত ছিল।’
মাসুদ রানার মতে, লাভে থাকার পরও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পরামর্শে সরকারি সেবা খাতে ভর্তুকি কমানোর নামে জ্বালানি তেলের এ মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত জনবিরোধী। অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের মতোই বর্তমান সরকার আইএমএফসহ সাম্রাজ্যবাদী সংস্থা, দেশি-বিদেশি পুঁজিপতিদের তোষণ করার নীতিতেই অর্থনীতি পরিচালনা করছে, যার সরাসরি ভুক্তভোগী হচ্ছে সীমিত আয়ের মানুষ। অবিলম্বে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাই। জনগণকে এই মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাই।
ক্রিকেট লিগের ছয় ফ্র্যাঞ্চাইজি চূড়ান্ত
ক্রিকেট লিগের ছয় ফ্র্যাঞ্চাইজি চূড়ান্ত
Summary: বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বাণিজ্যিক টুর্নামেন্ট ও লিগ চালাতে ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজি চূড়ান্ত করেছে বলে জানা গেছে। ব্লুস্টার, একমি, সেভেন রিং সিমেন্ট, সিটিজেন ব্যাংক, ফরচুন ও ওয়ালটন গ্রুপকে নিয়ে হতে পারে নতুন টুর্নামেন্ট। বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) নাম বাতিল করে ছয়টি দল নিয়ে প্যাকেজ ক্রিকেট লিগ করার উদ্যোগ নিয়েছে বোর্ড।
বিসিবি ও আইসিসির সাবেক সভাপতি আ হ ম মুস্তফা কামাল ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট লিগ চালু করেছিলেন ২০১২ সালে। ইসলামী ব্যাংক পূর্বাঞ্চল, প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চল আর ওয়ালটন মধ্যাঞ্চল আর বিসিবি উত্তরাঞ্চল নামে খেলা হয়েছে লিগে। কয়েক বছর আগে ফ্র্যাঞ্চাইজিরা নিজেদের প্রত্যাহার করে নেওয়ায় চারটি দলের খরচ বহন করতে হচ্ছিল বিসিবিকে।
ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে লভ্যাংশ দেওয়ার নিয়ম রেখে চুক্তি করা হতে পারে বলে জানিয়েছিলেন টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর। প্রথম আসর থেকে ৫০ লাখ টাকা করে লভ্যাংশ দেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তারা। যদিও বিসিবির এই বাণিজ্যিক ক্রিকেট লিগে ছয় ফ্র্যাঞ্চাইজির তিনটির মালিক তিনজন পরিচালক। গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান শানিয়ান তানিমের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ব্লুস্টার, ফাহিম সিনহাদের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান একমি লিমিটেড, আর বরিশাল বিভাগ থেকে নির্বাচিত পরিচালক মিজানুর রহমানের প্রতিষ্ঠান ফরচুন।
কেরানীগঞ্জ কারাগারের কয়েদি-হাজতির ঢামেকে মৃত্যু
কেরানীগঞ্জ কারাগারের কয়েদি-হাজতির ঢামেকে মৃত্যু
Summary: ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের এক কয়েদি ও এক হাজতি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। রোববার রাতে পৃথক সময়ে তাদের মৃত্যু হয়। ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মৃতরা হলেন কয়েদি সোহরাব হোসাইন (৫৫), কয়েদি নম্বর ৭১৮/এ এবং হাজতি মো. আজিম উদ্দিন (৩২), হাজতি নম্বর ৭৫৮/এ।
কারা সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর কারাগারের ভেতরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন সোহরাব হোসাইন। পরে কারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে মেডিসিন বিভাগের ৬০২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয় তাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার রাতে তার মৃত্যু হয়। তিনি নওগাঁর মান্দা থানার রাঙ্গামাটি গ্রামের বাসিন্দা।
অপরদিকে, রোববার কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে আজিম উদ্দিনকে দ্রুত ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। পরে মেডিসিন বিভাগের ৬০১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হলে রাত সোয়া ১২টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর বাড়ি ঢাকার আশুলিয়ার শান্তিপাড়া এলাকায়। তাঁর বাবার নাম আব্দুল আহাদ।
পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ হাবিবুর রহমান জানান, ময়নাতদন্তের জন্য দুজনের মরদেহ ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে। এরপর আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
শুটিংয়ে সেরা ত্রিশে অর্নব, পিছিয়ে রবিউল-মুন্না
শুটিংয়ে সেরা ত্রিশে অর্নব, পিছিয়ে রবিউল-মুন্না
Summary: এশিয়ান গেমসের শুটিংয়ে ১০ মিটার এয়ার রাইফেলের বাছাইয়ে বাংলাদেশের তিন শুটারের মধ্যে একমাত্র অর্নব শারার সেরা ত্রিশে জায়গা করে নিয়েছেন। ৪৬ জনের মধ্যে ৬২৩.৯ স্কোর করে ২৫তম হয়েছেন তিনি।
৬২২.৩ স্কোর নিয়ে রবিউল ইসলাম হয়েছেন ৩১তম। আর ৬২১.৩ স্কোর করে রাব্বি হাসান মুন্নার অবস্থান ৩২তম।
বাছাইয়ে সর্বোচ্চ ৬৩৫.৪ স্কোর করেছেন চীনের শেং লিহাউ। সেরা সাতজনের সবাই ৬৩০ বা তার বেশি স্কোর করেছেন। অন্যান্য দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশ তখন যাচ্ছে পিছিয়ে।
ক্লাসে আর কোনোদিন ডাকা হবে না রোল নম্বর ২৯
ক্লাসে আর কোনোদিন ডাকা হবে না রোল নম্বর ২৯
Summary: কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ‘ক’ শাখার শিক্ষার্থী ছিল নিহত এশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় তার নাম লেখা রয়েছে ‘এশায়াত শাহরিয়ার’ নামে। তার শ্রেণি রোল নম্বর ২৯। আইডি নম্বর ২৫৬০০৭। শিক্ষকরা বলছেন, আর কোনোদিন এ রোল নম্বরটি ডাকা হবে না। সবার প্রিয় অপ্রতিম নেই, সে আর ফিরবে না—এমনটা ভেবে বিষণ্ন তার শিক্ষক ও সহপাঠীরা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, হাজিরা খাতার তথ্য বলছে, চলতি মাসের ১, ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর মোট তিনদিন অনুপস্থিত ছিল অপ্রতিম। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সে বিদ্যালয়ে এসেছিল। এরপর শুক্রবার নিখোঁজ হওয়ার পর আর স্কুলে ফেরা হয়নি তার। গতকাল রোববার বিদ্যালয় খোলার দিনে যথারীতি হাজিরা নেওয়া হলেও হাজিরা খাতায় তার নামের পাশে পড়েছে অনুপস্থিতির চিহ্ন। সহপাঠীদের ভিড়েও নেই পরিচিত মুখটি।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কোটবাড়ি গন্ধমতি ঈদগাহ মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অপ্রতিমের সহপাঠী সপ্তম শ্রেণির ছাত্র মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘শুক্রবার বিকেলে ফেসবুকে যখন দেখলাম আমাদের বন্ধু নিখোঁজ, তখন আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। সে হারিয়ে যাওয়ার মতো ছেলে না, নিশ্চয়ই ওকে কেউ কিছু করেছে।’
অপ্রতিমের সঙ্গে কাটানো শেষ সময়ের কথা মনে করে আরিফ বলেন, ‘হারিয়ে যাওয়ার আগের দিন বৃহস্পতিবার বিকেলে আমরা একসঙ্গে ফুটবল খেলেছি। তখন তো বুঝতেই পারিনি, এটাই ওর সঙ্গে আমাদের শেষ দেখা। স্কুলে কোনো অনুষ্ঠান হলে আমরা এক সঙ্গে খেলাধুলা করতাম, হাসাহাসি করতাম। সে আজ আর আমাদের মাঝে নেই, এই বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না।’
মো. সিয়াম নামে অপর এক সহপাঠী বলেন, অপ্রতিমকে শেষবারের মত বিদায় দিতে এসে বুক কেঁপে উঠছে। এত তাড়াতাড়ি তাকে বিদায় দেব এটা ভাবতেও পারিনি। ক্লাসে তার শূন্যতা কোনোদিনও পূরণ হবে না।
স্কুলের শ্রেণিশিক্ষক মহিবুল্লাহ জানান, বৃহস্পতিবারই সর্বশেষ বিদ্যালয়ে এসেছিল অপ্রতিম। শুক্রবার নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন শিক্ষক ও সহপাঠীরা। কিন্তু সেই অপেক্ষার অবসান হয়েছে মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে। আজ জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে, এমন বাস্তবতা মেনে নিতে পারছেন না তার শিক্ষক ও সহপাঠীরা।
মরদেহের সুরতহালকারী পুলিশের এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, অপ্রতিমের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এছাড়া তার শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাতের চিহ্ন ছিল।
এর আগে শুক্রবার বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হওয়ার পর অপ্রতিমের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরদিন শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী লালমাই সানান্দা পাহাড় এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার উদ্ধার করা হয়। অপ্রতিম কুবির সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে।
গতকাল রোববার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, অপ্রতিমের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতেই তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সরাসরি অংশ নেওয়া সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ও মো. কামরুল হাসানকে (১৭) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা রোববার রাতে কুমিল্লার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এ ছাড়াও সন্দেহভাজন হিসেবে সিয়াম নামে একজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ফেরদৌস ওয়াহিদ এবার ‘ডিজিটাল নবাব’
ফেরদৌস ওয়াহিদ এবার ‘ডিজিটাল নবাব’
Summary: ‘জাঁহাপনা, চারদিকে সাইবার যুদ্ধ চলছে আপনাকে নিয়ে...। সবাই চোখ-কান খোলা রাখবেন। বাংলার আকাশে আজ দুর্যোগের ঘনঘটা, চারদিকে শত্রু। এর মধ্যেই আমাদের মোকাবিলা করতে হবে।’
স্টুডিও থেকে ভেসে আসছিল এমন সংলাপ। ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে ভিন্ন এক দৃশ্য। সংগীতের মানুষদের গায়ে যাত্রাপালার পোশাক। কেউ সংলাপ দিচ্ছেন, কেউবা অভিনয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পুরো স্টুডিওজুড়েই যেন তৈরি হয়েছে অন্যরকম এক আবহ।
চ্যানেল আইয়ের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে নির্মিত হয়েছে ‘চেনা মুখ, সুখ দুঃখ’ অনুষ্ঠানের বিশেষ পর্ব ‘ডিজিটাল নবাব’। গত শনিবার চ্যানেলটির নিজস্ব স্টুডিওতে এর দৃশ্যধারণ হয়েছে। শুটিংয়ের ফাঁকে নবাব চরিত্রে রূপদানকারী নন্দিত সংগীতশিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদ বললেন, ‘অনুষ্ঠানটির আইডিয়া একেবারেই ভিন্ন। আমি চিন্তাই করতে পারিনি–চ্যানেল আই এ ধরনের বিনোদনমূলক একটি অনুষ্ঠানে আমাদের দায়িত্ব দেবে।
অনুষ্ঠানটি করতে গিয়ে বুঝেছি; যে অভিজ্ঞতা পাওয়ার কথা ছিল যৌবনে, তা পেলাম এই বয়সে এসে। অনুষ্ঠানের ৯০ ভাগই গানের শিল্পী। এটি দিয়ে চ্যানেল আইয়ের জন্মদিনের বিনোদন অনুষ্ঠান শুরু হবে। ভীষণ উপভোগ করছি। নতুন অভিজ্ঞতা, সত্যিই ভালো লাগছে। আশা করছি, অনুষ্ঠানটি দর্শকের ভালো লাগবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘চেনা মুখ, সুখ দুঃখ’ অনুষ্ঠানে দর্শক আমাকে দেখেছেন উপস্থাপক হিসেবে। চেনা মানুষরা ছিলেন আমার অতিথি। কিন্তু এই বিশেষ অনুষ্ঠানে আমাকে দেখবেন চেনা পরিচয়ের বাইরে। আমার অভিনীত নবাব গিয়াস চরিত্রটি দর্শককে আনন্দ দেবে। প্রযোজক পুনম প্রিয়া আয়োজনটির জন্য অনেক খেটেছেন। আমি আমার মতো করে কাজটি করেছি। কতটা পেরেছি, দর্শকই তা ভালো বলতে পারবেন।’
অনুষ্ঠানে জসিম পাগলা গেয়েছেন ‘চ্যানেল আইয়ের শুভেচ্ছা নিয়ে হাজির হলাম আমরা’ শিরোনামে ছয় মিনিটের একটি গান। এতে আরও অভিনয় করেছেন সংগীতশিল্পী পথিক নবী, নীলু বিল্লাহ, জুলি, হুমায়রা বশীর, পুনম প্রিয়া ও পলাশ। পাশাপাশি অভিনয়শিল্পী মনিরুজ্জামান ও লিয়াকতও থাকছেন এই আয়োজনে। অনুষ্ঠানটি প্রচার হবে ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে।
নতুন এই আয়োজন ছাড়াও ফেরদৌস ওয়াহিদ গান গাওয়ার পাশাপাশি পরিচালনাও করছেন। দীর্ঘ বিরতির পর এবার তিনি নির্মাণ করতে যাচ্ছেন একটি টিভি সিরিজ। গোয়েন্দা গল্পের এ সিরিজের নাম ‘সিক্রেট ফাইল–আমরা গোয়েন্দা’। এটি পরিচালনার পাশাপাশি মূল চরিত্রেও অভিনয় করবেন তিনি। এ ছাড়া নতুন কিছু অভিনয়শিল্পীকে দেখা যাবে তাঁর সিরিজে। এরই মধ্যে তিন পর্বের শুটিং শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই কণ্ঠশিল্পী। এটি আইস্ক্রিনের জন্য নির্মাণ করছেন তিনি।
বর্তমানে নতুন নতুন গান ও উপস্থাপনা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটছে ফেরদৌস ওয়াহিদের। ‘বৃষ্টি এলো’, ‘দুনিয়াটা মেলা’, ‘সন্ধ্যা মালা’, ‘মাধুরী’সহ কয়েকটি নতুন গানের কাজ শেষ করেছেন তিনি। গানগুলো পর্যায়ক্রমে প্রকাশ হবে বলে জানান এই গুণী শিল্পী। গান ছাড়াও শিগগিরই ‘ দ্য রিটার্ন অব ডেঞ্জারম্যান’ নামে একটি সিনেমা পরিচালনা করার কথা রয়েছে তাঁর। পরিচালনার পাশাপাশি এতে অভিনয়ও করবেন তিনি।
আশুলিয়ায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত কয়েকজনের পরিচয় শনাক্ত হয়নি
আশুলিয়ায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত কয়েকজনের পরিচয় শনাক্ত হয়নি
Summary: আশুলিয়ায় কাভার্ডভ্যান থেকে গ্যাস সিলিন্ডার নামানোর সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৭ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। এ ঘটনায় আহত তিনজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রোববার রাত পৌনে ৭টার দিকে সাভারের আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার প্রীতি গ্রুপের প্রীতি কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেডের চত্বরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে সর্বশেষ মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম নজরুল ইসলাম (৩০)। তিনি ওই কারখানার সামনের সড়কে কাঁচামাল বিক্রি করতেন। বিস্ফোরণের পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে স্থানীয় নারী ও শিশু হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান।
নজরুল ইসলামের ছেলে সামিউল ইসলাম জানান, তাদের বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার আবুডাঙ্গা গ্রামে। বর্তমানে তারা আশুলিয়ার শিমুলতলা এলাকায় থাকেন। তার বাবা প্রীতি গ্রুপের কারখানার সামনে পেঁয়াজ-রসুনসহ বিভিন্ন কাঁচামাল বিক্রি করতেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তিনি স্থানীয় হাসপাতালে গিয়ে বাবাকে দেখতে পান। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন কাঁচামাল বিক্রেতা সুজন মিয়া (২৫), তার বাবা মোখলেস মিয়া (৪৫) এবং কাভার্ডভ্যানের চালক নুর ইসলাম (৩০)।
আহত মোখলেস মিয়া জানান, তিনি ও তার ছেলে সুজন কারখানার সামনের সড়কে কাঁচামাল বিক্রি করেন। সন্ধ্যায় কারখানার ভেতর থেকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। বিস্ফোরণে লোহার বিভিন্ন সামগ্রী, ইটপাটকেল ও কাচ ছিটকে এসে সুজনের মাথায় লাগে। এতে সুজন আহত হন এবং মোখলেস মিয়ার হাতেও আঘাত লাগে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
আহত নুর ইসলাম গ্যাস পরিবহনকারী গাড়িটির চালক। তার ভাগিনা মো. মাসুদ জানান, নুর ইসলামের বাড়ি বাগেরহাটে। তিনি ভোলায় থাকতেন। বিস্ফোরণে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে গেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. হাবিবুর রহমান জানান, আশুলিয়ার ঘটনায় মোট চারজনকে ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে নজরুল ইসলাম মারা গেছেন। বাকি তিনজনের মধ্যে দুজন ক্যাজুয়ালটি বিভাগে এবং একজন বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন।
এর আগে ফায়ার সার্ভিস ঢাকা জোন-৪-এর উপসহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান জানান, একটি কাভার্ডভ্যান থেকে গ্যাস সিলিন্ডার আনলোড করার সময় বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলে ছয়জনের মৃত্যু হয়।
তিনি জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুনে পুড়ে যাওয়া যানবাহনগুলোতে তল্লাশি চালান। এ সময় একটি কাভার্ডভ্যানের ভেতর থেকে দগ্ধ পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাদের মুখমণ্ডলসহ পুরো শরীর এতটাই পুড়ে গেছে যে, এখনো পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এ ছাড়া নিহতদের মধ্যে স্বজনেরা সালমা আক্তার ও বুলবুল নামে দুজনকে শনাক্ত করার দাবি করেছেন। তাদের পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
বিস্ফোরণের কারণ এবং হতাহতদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় নিশ্চিত করতে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।
২০ দিনে ৬৯৭৫ কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন
২০ দিনে ৬৯৭৫ কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন
Summary: সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে ১ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন প্রয়োজনে মোট ৬ হাজার ৯৭৫ কোটি টাকা উত্তোলনের জন্য আবেদন করেছেন ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৮২ জন গ্রাহক। তাদের মধ্য থেকে ৯০ হাজার ৯৮ জন গ্রাহক মাত্র ৩ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন।
আজ সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটি জানিয়েছে- একই সময়ে নতুন আমানত এসেছে ২৭০০ কোটি টাকা। এছাড়া নতুন হিসাব খোলা হয়েছে ৩২ হাজার ৭৪টি, যার মাধমে নতুন আমানত এসেছে ৩৭৮ কোটি টাকা।
এ মাসের প্রথম সপ্তাহে টাকা ছাপিয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ধার দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। একীভূত পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহককে অর্থ ফেরত দিতে এ অর্থ দেওয়া হয়েছে। ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একীভূত পাঁচ ব্যাংকে প্রায় ৭৫ হাজার গ্রাহক মোট তিন হাজার ৯২৫ কোটি টাকা উত্তোলনের জন্য আবেদন করেন। এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদন নেয় ব্যাংক।
দুর্দশাগ্রস্ত পাঁচ ব্যাংক হলো– এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক। পরিচালকদের নানা জালিয়াতির কারণে দীর্ঘদিন ধরে আমানতকারীদের জমানো টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসব ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিগত আওয়ামী লীগের সময়ে এক্সিম ব্যাংক ছিল বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে। বাকি চার ব্যাংকের কর্তৃত্ব ছিল চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী সাইফুল আলম মাসুদের।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী- ব্যাংকগুলোকে এর আগে বিভিন্ন সময়ে ৪৭ হাজার ৮৪ কোটি টাকা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সুদসহ যা এখন প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকার পাওনা দাঁড়িয়েছে। আমানতকারীদের আস্থা ফেরাতে নতুন করে আরও পাঁচ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। মূল্যস্ফীতিতে এর যে প্রভাব পড়বে তা মেনেই ব্যাংক খাতের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা আনতে এটা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়ার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধ করা হবে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়া হবে। এর বাইরে আমানত বীমা তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা দিয়ে এসব ব্যাংকের আমানতকারীদের দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হচ্ছে। পুরো অর্থ পর্যায়ক্রমে ফেরতের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি স্কিম ঘোষণা করেছে। ওই স্কিমের বাইরে ব্যক্তি আমানতকারীদের থেকে আবেদন নিয়ে অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
২৫ আগস্ট সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের আমানতের ওপর কোনো ধরনের ‘হেয়ারকাট’ থাকছে না এমন ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি আমানতকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী আমানতের মূল অর্থ তুলতে পারবেন বলেও জানানো হয়। এরপর সম্মিলিত ইসলামী অর্থ ফেরতের বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। গ্রাহকদের সংশ্লিষ্ট শাখা বা উপশাখায় গিয়ে আবেদন করতে হয়েছে। আবেদন যাচাই করে পাওনা অর্থ পরিশোধ করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যক্তি আমানতকারীরা তাদের চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের টাকা ও মেয়াদি আমানতের মূল টাকা উত্তোলনের সুযোগ পাবেন। তবে এই সুবিধার আওতায় আমানতের বিপরীতে অর্জিত বা প্রাপ্য মুনাফা পাওয়া যাবে না। কোনো গ্রাহক মেয়াদি আমানতের মূল টাকা তুলে নিলে সংশ্লিষ্ট আমানতের ক্ষেত্রে সেটিকে পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে। হিসাব চালু রাখলে চুক্তি অনুযায়ী প্রযোজ্য হারে মুনাফা দেওয়া হবে।
আংটি দেখিয়ে টেইলর সুইফট বললেন, উনি আমার স্বামী
আংটি দেখিয়ে টেইলর সুইফট বললেন, উনি আমার স্বামী
Summary: স্বামী ট্রাভিস কেলসির টাচডাউনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে গিয়ে আবারও আলোচনায় মার্কিন পপ তারকা টেইলর সুইফট। কানসাস সিটি চিফসের ভিআইপি বক্স থেকে স্বামীর খেলা দেখছিলেন এই পপ তারকা। কেলস টাচডাউন করার পর টেইলর নিজের বিয়ের আংটির দিকে ইঙ্গিত করে বিশেষ বার্তা দিলেন টেইলর।
রোববার রাতে ‘সানডে নাইট ফুটবল’-এ কেলসির দুর্দান্ত মুহূর্তের সাক্ষী হন টেইলর। সেদিন চিফসের জার্সির আদলে তৈরি ট্যাংক টপ ও জিনস পরেছিলেন তিনি। কেলস টাচডাউন করার সঙ্গে সঙ্গে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন টেলর। তখনই ক্যামেরায় ধরা পড়ে তার বিয়ের আংটির দিকে ইঙ্গিত করার দৃশ্য।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, আংটির দিকে ইঙ্গিত করে টেলর বলছেন, ‘ওই তো আমার স্বামী।’
আরেকটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘সে আমার, সে আমার।’ এরপর ভিআইপি বক্সে থাকা অতিথিদের সঙ্গে আনন্দে যোগ দেন তিনি। টেলরকে অন্যদের জড়িয়ে ধরতেও দেখা যায়। পাশাপাশি উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলেন, ‘হ্যাঁ! টাচডাউন!’
ট্রাভিস কেলসির খেলা দেখতে টেলরকে নিয়মিতই গ্যালারিতে দেখা যায়। ২০২৩ সালে তাদের সম্পর্কের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকে কেলসির এনএফএল ম্যাচে টেলরের উপস্থিতি আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এবারও তার উচ্ছ্বাসের মুহূর্তটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এর কয়েক দিন আগেও চিফসের একটি ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন টেলর। সেবার তার পাশে ছিলেন অভিনেতা টম ক্রুজ। কেলসির অতিথি হিসেবে ম্যাচ দেখতে গিয়েছিলেন ক্রুজ। এর আগে ‘নিউ হাইটস’ পডকাস্টেও উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি।
‘দ্য টুনাইট শো স্টারিং জিমি ফ্যালন’-এ হাজির হয়ে সেই ম্যাচে টেইলরের সঙ্গে তার কথোপকথনের কথাও জানিয়েছিলেন ক্রুজ। টেইলর তাকে ফুটবল সম্পর্কে অনেক কিছু শেখাচ্ছিলেন বলে জানান তিনি।
২০২৩ সালে টেলর সুইফট ও ট্রাভিস কেলসির সম্পর্কের খবর প্রকাশ্যে আসে। এরপর দ্রুতই তাদের প্রেমের সম্পর্ক পপ সংস্কৃতির আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়। ২০২৫ সালের আগস্টে তারা বাগদানের খবর জানান।
বিয়ের পরও কেলসির ম্যাচে টেলরের উপস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। গ্যালারিতে তার উচ্ছ্বাস, স্বামীকে উৎসাহ দেওয়া এবং দুজনকে ঘিরে নানা মুহূর্ত প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এবার টাচডাউনের পর বিয়ের আংটি দেখিয়ে টেলরের ‘ও তো আমার স্বামী’ বলার দৃশ্যও সেই তালিকায় যোগ হলো। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
এমপি গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী আদালতে, রিমান্ডে চাইবে পুলিশ
এমপি গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী আদালতে, রিমান্ডে চাইবে পুলিশ
Summary: দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়াম খাতুনের (১৯) মৃত্যুর ঘটনায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় সাতক্ষীরার এমপি ও তার প্রথম স্ত্রীকে রিমান্ডে চাইবে পুলিশ।
সোমবার তেজগাঁও বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান বলেন, গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে দুপুর ১টার দিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আমরা তাদেরকে রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আবেদন করবো।
এ ঘটনায় রোববার গভীর রাতে নিহত মরিয়ামের বাবা মাছুম বিল্লাহ বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম ও মরিয়ামের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় গাজী নজরুল ও মাকছুদাকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।
এর আগে রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসংলগ্ন জাতীয় সংসদ সদস্যদের আবাসিক ভবন (ন্যাম ভবন) থেকে মরিয়ামের লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সন্ধ্যা ৭টার দিকে খবর পেয়ে তারা ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে যায়। রাত ১০টার দিকে একটি কক্ষের দরজা ভেঙে মরিয়ামের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।
তথ্য গোপন করায় সিয়ামকে গ্রেপ্তার দেখাল পুলিশ
তথ্য গোপন করায় সিয়ামকে গ্রেপ্তার দেখাল পুলিশ
Summary: কুমিল্লায় ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের তথ্য জানার পরও তা গোপন রাখার অভিযোগে মো. সিয়াম (১৯) নামের আটক তরুণকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। তিনি সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেননি বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ নিয়ে মামলায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারজনে।
রোববার বিকেলে সিয়ামকে কুমিল্লা আদালতে পাঠানো হয়। পরে রাতে অন্য আসামিদের সঙ্গে তাকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জেলা পুলিশের ভাষ্য, হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন অপ্রতিমকে হত্যার পর সিয়ামের সঙ্গে দীর্ঘ সময় আড্ডা দেন এবং তাকে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত জানান। বিষয়টি জানার পরও সিয়াম তা পুলিশকে জানাননি।
রোববার রাত দিকে কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত দুই কিশোরকে আদালতের আদেশ অনুযায়ী গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার এসআই মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, চার আসামিকে কুমিল্লা কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই কিশোরকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর জন্য আদালত অনুমতি দিয়েছেন। অপর দুজন কুমিল্লা কারাগারে থাকবেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিয়ামের বাড়ি কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানার সূধন্যপুর (নোয়াবাড়ি) এলাকায়। শুক্রবার অপ্রতিমকে হত্যার পর ওই দিন রাত ৯টার দিকে প্রায় দেড় ঘণ্টা সিয়ামের সঙ্গে আড্ডা দেন তুহিন। তাঁরা বন্ধু। এ সময় তুহিন সিয়ামকে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত জানান বলে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এরপরও সিয়াম বিষয়টি গোপন রাখায় তাঁকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। পরে তাঁকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এদিকে মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই কিশোর আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তাদের বয়স ১৫ ও ১৬ বছর। আদালতের আদেশে তাদের গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে। মামলার প্রধান আসামি ১৯ বছর বয়সী সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন বর্তমানে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।
গত শুক্রবার কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন শনিবার দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
তেরো বছরের চীনা জলপরী জিদি
তেরো বছরের চীনা জলপরী জিদি
Summary: চীন বরাবরই স্পোর্টসের ফ্যাক্টরি। কিন্তু ১৩ বছর বয়সে বাটারফ্লাইয়ের মতো সাঁতারের কঠিন ইভেন্টে এমন নিখুঁত টেকনিক আর অবিশ্বাস্য মানসিক জোর সচরাচর দেখা যায় না। চীনের বিস্ময় বালিকা ইউ জিদি সেই টেকনিক আর মনের জোরেই স্বর্ণ জিতে নিল এশিয়ান গেমসে। শুধু পদকই নয়; মাত্র ২ মিনিট ০৫.০৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে এশিয়ান গেমসে নতুন রেকর্ড গড়ে চীনের এই জলপরী, যা তিন বছর আগে হাংঝৌয়ে তাঁর স্বদেশি ঝাং ইউফেইয়ের গড়া রেকর্ডের চেয়ে প্রায় আধা সেকেন্ড দ্রুত। গেমসে ইউ জিদির তিনটি একক ইভেন্টে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে, যার প্রথমটিতেই এলো এই সাফল্য।
জিদির এই সোনা জয় কোনো ফ্লুক নয়; এটি আসলে বিশ্বসাঁতারে এক নতুন সাম্রাজ্যের সূচনা। ২০২৮ অলিম্পিকের মঞ্চ এখনও কিছুটা দূরে। কিন্তু গতকাল টোকিওর অ্যাকুয়াস্টিক সেন্টারে পুলে যে স্ফুলিঙ্গ দেখা গেল, তা যদি ধরে রাখা যায়, তবে ডন ফ্রেজার বা ক্রিস্টিনা এগারসেগির উত্তরসূরি খুঁজে পেতে বিশ্বসাঁতারের আর বেশি দেরি লাগবে না। একেই বোধ হয় বলে তারুণ্যের রূপকথা! সাঁতারের দুনিয়ায় জিদির রূপকথা শুরু স্রেফ একটা সাধারণ ওয়াটার পার্কের চিলড্রেন পুল থেকে। ২০১৮ সালের এক গনগনে গ্রীষ্মের দুপুরে ছয় বছরের মেয়েকে নিয়ে তাঁর মধ্যবিত্ত বাবা গিয়েছিলেন গরমের হাত থেকে একটু রেহাই পেতে। কে জানত, সেই জলকেলি দেখতে দেখতেই দূর থেকে এক জহুরির চোখ চিনে নেবে আগামী দিনের বিশ্বজয়ী হীরাটিকে!
স্থানীয় সাঁতার কোচ লি চাও সেদিন অবাক হয়ে দেখেছিলেন, পুলে আর পাঁচটা বাচ্চার মতো জল ছিটিয়ে দুষ্টুমি নয়; মেয়েটি জলের বুক চিরে যেন ডলফিনের মতো খেলছে। কোচ এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘আরও জোরে সাঁতার কাটতে চাও?’ ব্যস, ওই একটা লাইনেই বদলে গেল হেবেই প্রদেশের বাওদিং শহরের এক সাধারণ মিডল স্কুলপড়ুয়ার জীবন। মাত্র ৯ বছর বয়সে, যখন আমাদের ঘরের ছেলেমেয়েরা মায়ের আঁচল ধরে বায়না করে, তখন এই ছোট্ট মেয়েটা ব্যাগ গুছিয়ে মা-বাবাকে ছেড়ে চলে গেল অন্য শহরের এক হাড়ভাঙা আবাসিক ক্যাম্পে। দিনে সাত-আট ঘণ্টার অমানুষিক খাটুনি, স্কুলের পড়ালেখার চাপ আর একাকিত্বে গত বছর তো সাঁতারটাই ছেড়ে দিতে চেয়েছিল কিশোরী জিদি। কিন্তু লড়াকু রক্ত কি এত সহজে হার মানে? মা-বাবা আর কোচের ভালোবাসায় আবার পুলে ফেরা, আর আজ মাথায় সেই প্রিয় কুকুরের কার্টুন আঁকা চেনা সুইমিং ক্যাপটা পরেই ওলটপালট করে দেওয়া এশিয়ান গেমসের রেকর্ডবুক।
সাঁতার শেষে যখন সে পুল থেকে উঠল, মুখে সেই চেনা চিলতে হাসি। অথচ এই মেয়েটাই কয়েক মিনিট আগে পুলে রাজত্ব করে এলো! সংবাদ সম্মেলনে যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয় এই সাফল্যের রহস্য কী? শান্ত গলায় জিদির সরলতা, ‘টাইমিং তেমন অসাধারণ কিছু হয়নি। আমি আশা করি, আরও দ্রুত সাঁতরাতে পারব। এখানে আমি সময় ০.৯ সেকেন্ড কমিয়েছি। বিশ্বাস করি, সামনে আরও ভালো পারফর্ম করব। আমার কৌশলে এখনও কিছু ঘাটতি আছে। মাথা দ্রুত নিচে নামানো, হাত আরও সামনে নেওয়া এবং পায়ের ব্যবহার বাড়ানো দরকার।’ গত বছর ১২ বছর বয়সে ৪x২০০ মিটার ফ্রিস্টাইল রিলেতে ব্রোঞ্জ জিতে সাঁতার বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে কনিষ্ঠতম পদকজয়ী হয়েছিলেন জিদি। বিশ্বসাঁতারে তার আগমনীটা তিনি দিয়ে রাখল টোকিওতে; জানিয়ে রাখল লক্ষ্য তার লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের দিকে।
রাবি শিক্ষার্থীকে মারধর ও স্টেশন ভাঙচুর, তদন্ত কমিটি গঠন
রাবি শিক্ষার্থীকে মারধর ও স্টেশন ভাঙচুর, তদন্ত কমিটি গঠন
Summary: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ এবং এর জেরে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনায় সার্বিক বিষয় তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক আহম্মদ হোসেন মাসুম।
তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মোসাম্মাৎ হাসিনা খাতুন, বিভাগীয় চিকিৎসা কর্মকর্তা ড. মো. শাকিল আহমেদ, আরএনবি কমান্ড্যান্ট রেজওয়ানুর রহমান এবং বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী আহমেদ ইশতিয়াজ জহুর তানিম।
রেল সূত্র জানায়, রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী আইয়ুবকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এর জেরে তার সহপাঠী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা রাতভর রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন ঘেরাও করে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর চালান। শিক্ষার্থীদের অবরোধের মুখে আন্তঃনগর ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনের নির্ধারিত যাত্রা বাতিল করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। সকাল থেকে রাজশাহী থেকে সব রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। সূচি অনুযায়ী যথাসময়ে ট্রেন ছেড়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। এর আগে রোববার রাতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
ঘটনার বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক আহম্মদ হোসেন মাসুম সমকালকে বলেন, রেলওয়ের পক্ষ থেকে সার্বিক বিষয় তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বিভাগীয় কমিশনারকেও আলাদা একটি কমিটি গঠনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এমন দূরত্ব ভালো কিছু বয়ে আনবে না। এই ঘটনার পরে আমি ব্যক্তিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমি প্রতিমাসে অন্তত একবার শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের সঙ্গে বসব। তাদের সমস্যাগুলো জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।
হিটেই শেষ সামর্থ্যের দৌড়!
হিটেই শেষ সামর্থ্যের দৌড়!
Summary: জাপানের সন্ধ্যা নামার দৃশ্যটা খুবই সুন্দর। সূর্য ডুবে অন্ধকারে নিমজ্জিত হলেও আইচি নাগোয়া শহরের ব্যস্ততা কমে না। এখানকার বাস-ট্রেন স্টেশনগুলোতে থাকে প্রচুর ভিড়। শিল্পের নগরীতে যে এশিয়ান গেমসের মতো বড় আসর হচ্ছে, তাতে যেন খুব একটা মন নেই জাপানিদের। তাদের মতো বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের মধ্যেও গেমস নিয়ে যেন কোনো সিরিয়াসনেস নেই!
এশিয়াডের এই মঞ্চটাকে শিক্ষা সফর বানিয়ে ফেলেছেন তারা। বিশেষ করে গেমসে পদকের লড়াইয়ের গতকাল রোববার প্রথম দিনে যে কয়টি ইভেন্টে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা খেলেছেন, সবকটিতেই বাজে পারফরম্যান্স করেছেন। সাঁতারে ২৪ জনের মধ্যে ২৩তম হওয়া মুক্তি খাতুন দেখিয়েছেন তাঁর সামর্থ্য এতটুকুই। শুটিং, হকি, টেবিল টেনিসের খেলোয়াড়দের ব্যর্থতায় তাদের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাই বলে খেলোয়াড়দের মান এত নিচু? এমন প্রশ্নের উত্তরে বিস্মিত না হয়ে বরং আসল সামর্থ্যটাই খেলোয়াড়রা দেখিয়েছেন বলে গতকাল সমকালকে জানান সাবেক শুটার শারমীন আক্তার রত্না।
বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় ইভেন্টের মধ্যে সাঁতার অন্যতম। কিন্তু টোকিও অ্যাকুয়াটিকস সেন্টারের পুলে নেমে রীতিমতো হতাশ করেছেন মুক্তি। মেয়েদের ৫০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে ৩৬ দশমিক ৬১ সেকেন্ড সময় নিয়ে সাঁতার শেষ করেন তিনি। নিজের হিটে সপ্তম হওয়া মুক্তি সব হিট মিলিয়ে ২৪ প্রতিযোগীর মধ্যে হয়েছেন ২৩তম। শুটিংয়ে প্রথম দিনের গল্পটা শুধুই ব্যর্থতার। ১০ মিটার এয়ার রাইফেলের এককে বাংলাদেশের তিন শুটারই ছিটকে গেছেন বাছাই থেকে। বাছাইয়ে অংশ নেওয়া ৫৫ প্রতিযোগীর মধ্যে সাফা বিন সাহিদ ৬২১ স্কোর নিয়ে ৩৮তম, সাজিদা হক ৬২০ দশমিক ৬ স্কোর নিয়ে ৪০তম এবং মেহনাজ শারমিন ৬১৯ দশমিক ১ স্কোর নিয়ে ৪৬তম হয়েছেন।
শুটিংয়ে এমন বাজে স্কোরিং হওয়াটা অনুমেয়ই বলছেন রত্না, ‘আমি হতাশার কথা বলব না। যারা খেলেছেন, তারা অনুশীলনে এ রকমই করেন। অর্থাৎ তাদের মান এমনই। এর বেশি স্কোর করার সামর্থ্য এখন পর্যন্ত তাদের হয়নি।’
টেবিল টেনিসে চায়নিজ তাইপের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। সোনম সুলতানা সোমা ১১-৪, ১১-৩, ১১-২ ব্যবধানে ইয়েহ ই-তিয়ানের কাছে, নওরিন মাহি ১১-২, ১১-৪, ১১-১ গেমে চেং ই-চিংয়ের বিপক্ষে এবং তুশি সামান্তা ১১-৪, ১১-২, ১১-৭ ব্যবধানে পেং ইউ-হানের কাছে হেরেছেন।
টেবিল টেনিসের পুরুষ দলগত বিভাগে কাজাখস্তানের বিপক্ষে পাত্তা পায়নি বাংলাদেশ। হেরেছে ৩-০ সেটে। দলের হয়ে খেলা হৃদয় মুহতাসিন ১১-৫, ১১-৪, ১১-৪, ইমরুল ইমন ১১-৪, ১১-৭, ১১-৯ এবং রাম হিম লিয়ান বম ১১-৮, ১১-৫, ১৩-১১ ব্যবধানে হেরেছেন। নারী হকিতে চীনের কাছে ১৩-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। খুব বেশিদিন হয়নি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খেলছে নারী হকি দল। তবে চীনের কাছে এই হারটি তাদের জন্য শিক্ষা হয়েই থাকবে। মেয়েরা আসল বাস্তবতা বুঝেছেন। কারাতে পুরুষ ব্যক্তিগত কুমিত ৬০ কেজিতে মালয়েশিয়ার হারি সংকরের কাছে ৫-০ ব্যবধানে হেরেছেন বাংলাদেশের সিয়াম হোসেন।
বগুড়ায় বাসের ধাক্কায় সিএনজির দুই যাত্রী নিহত, আহত ৩
বগুড়ায় বাসের ধাক্কায় সিএনজির দুই যাত্রী নিহত, আহত ৩
Summary: বগুড়ায় অজ্ঞাতনামা বাসের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন। সোমবার সকাল ৭টার দিকে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের বগুড়া সদরের ঠেঙ্গামারা এলাকায় টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন কাহালু উপজেলার রামপুর এলাকার শফিকুল ইসলাম (৪৫) ও আরাফাত (১৬)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে পাঁচ যাত্রী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। পথে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের ঠেঙ্গামারা এলাকায় হাসপাতালের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অজ্ঞাতনামা বাস অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়।
বাসের ধাক্কায় অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই শফিকুল ইসলাম ও আরাফাত নিহত হন। অটোরিকশার আরও তিন যাত্রী আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। পরে পুলিশও ঘটনাস্থলে যায়।
কুন্দারহাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রইচ উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনায় আহত তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত দুজনের মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে পরিবারের সদস্যরা নিয়ে গেছেন।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর বাসটি ঘটনাস্থল থেকে চলে গেছে। বাসটি শনাক্ত ও চালককে আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কাবাডিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারাল বাংলাদেশ
কাবাডিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারাল বাংলাদেশ
Summary: জাপানের আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে অবশেষে জয়ের দেখা পেল বাংলাদেশ। ছেলেদের কাবাডিতে গ্রুপ ‘এ’র প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে ৩৯-৩৫ পয়েন্টে হারিয়েছে লাল-সবুজের দল।
তোখাই সিটিজেন জিমনেসিয়ামে শুরু থেকেই ছিল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। প্রথমার্ধে ১৭-১৬ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। বিরতির পর ব্যবধান বাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ৩৯-৩৫ পয়েন্টে জয় নিশ্চিত করে তারা।
বাংলাদেশের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে দুটি ‘অলআউট’। এতে চার পয়েন্ট পেয়েছে বাংলাদেশ। বিপরীতে একবার বাংলাদেশকে অলআউট করে দক্ষিণ কোরিয়া পেয়েছে দুই পয়েন্ট। দুই দলই একটি করে ‘সুপার ট্যাকল’ করে পেয়েছে দুই পয়েন্ট। ম্যাচে বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা দুটি গ্রিন কার্ড দেখেছেন। তবে কোনো হলুদ বা লাল কার্ড পাননি তারা।
আজই গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে চায়নিজ তাইপের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টায়।
সরকারের আয় ও আয়ের উৎসের সঙ্গে ব্যয় সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়: সেলিম রায়হান
সরকারের আয় ও আয়ের উৎসের সঙ্গে ব্যয় সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়: সেলিম রায়হান
Summary: দেশের অর্থনীতি নিয়ে তিনটি সতর্কবার্তা দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান। সরকারি ব্যয় ও ঋণের চাপ বৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে মূল্যস্ফীতির নতুন চাপ এবং বিনিয়োগ স্থবিরতার কারণে প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
সোমবার নিজের ফেসবুক পোস্টে সেলিম রায়হান এসব বিষয় তুলে ধরেন।
সরকারি ব্যয় ও ঋণের চাপের বিষয়ে তিনি বলেন, সামাজিক সুরক্ষা ও বেতন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের ব্যয় যেভাবে বাড়ছে, তা সরকারের আয় বৃদ্ধি ও আয়ের উৎসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে রাজস্ব ঘাটতি বাড়তে পারে এবং তা মেটাতে সরকারের ঋণনির্ভরতা আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা দৃশ্যমান নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতিতে নতুন চাপ তৈরি করবে বলে সতর্ক করেছেন সেলিম রায়হান। তার মতে, তেলের দাম বাড়লে পরিবহন, উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহের খরচ বাড়বে। এতে মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। তবে এই চাপ কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে, সে বিষয়ে সরকারের কৌশল এখনো স্পষ্ট নয়। পাশাপাশি জ্বালানি খাতের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও এ খাতে অতিরিক্ত করভার নিয়েও আলোচনা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন সানেমের নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক ও বহুমুখী অনর্থনৈতিক কারণে দেশে বেসরকারি বিনিয়োগে বড় ধরনের স্থবিরতা রয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, মব কালচার, সরকার ও নীতির ধারাবাহিকতা নিয়ে অনিশ্চয়তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, প্রশাসনিক জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিক বাধার পাশাপাশি সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা এবং সামাজিক ও শ্রম পরিস্থিতিও বিনিয়োগের ওপর প্রভাব ফেলছে।
সেলিম রায়হানের মতে, বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ার পরিস্থিতির উন্নতির লক্ষণ এখনো দৃশ্যমান নয়। ফলে আগামী দিনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।
‘মৌচাক’খ্যাত অভিনেত্রী মিঠু মারা গেছেন
‘মৌচাক’খ্যাত অভিনেত্রী মিঠু মারা গেছেন
Summary: টালিউডের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মিঠু মুখোপাধ্যায় মারা গেছেন। রোববার রাতে মুম্বাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। গত এক বছর ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন এই অভিনেত্রী। মুম্বাইয়ে চলছিল তার চিকিৎসা। তবে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানলেন তিনি।
ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মুম্বাইয়ে বসবাস করছিলেন মিঠু। দক্ষিণ কলকাতার নিজের বাড়িও বিক্রি করে দিয়েছিলেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স কত হয়েছিল, তা জানা যায়নি।
একসময় বাংলা সিনেমার পর্দায় মিঠুর উপস্থিতি ছিল আলাদা আকর্ষণ। মিষ্টি মুখ, সাবলীল অভিনয় এবং চরিত্র অনুযায়ী নিজেকে বদলে নেওয়ার দক্ষতায় তুলনামূলক স্বল্প অভিনয়জীবনেই একাধিক স্মরণীয় চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। বাংলা সিনেমার পাশাপাশি হিন্দি ও ওড়িয়া সিনেমাতেও কাজ করেছেন এই অভিনেত্রী। ১৯৭০-এর দশকের শুরু থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল তার অভিনয়জীবন।
১৯৭১ সালে চিত্ত বসুর ‘শেষ পর্ব’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় মিঠুর। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করেন সমিত ভঞ্জ। তবে প্রথম সিনেমার পরই বড় সাফল্য পাননি তিনি। ১৯৭৩ সালে দীনেন গুপ্তের ‘মর্জিনা আবদুল্লা’ সিনেমায় মর্জিনা চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের নজরে আসেন। এতে তার বিপরীতে ছিলেন দেবরাজ রায়। সিনেমাটির সাফল্যের পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি মিঠুকে।
এরপর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের ‘নিশিকন্যা’ সিনেমায় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি। ১৯৭৪ সালে অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়ের ‘মৌচাক’ তাকে আরও জনপ্রিয় করে তোলে। এই সিনেমায় নীপা চরিত্রে মিঠু এবং সিতেশ চরিত্রে রঞ্জিত মল্লিকের জুটি দর্শকের মনে জায়গা করে নেয়।
‘মৌচাক’-এর পর রঞ্জিত মল্লিকের সঙ্গে ‘স্বয়ংসিদ্ধা’ সিনেমায় জুটি বাঁধেন মিঠু। ১৯৭৫ সালের এই সিনেমাটিও তার ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য কাজ। এর আগে ‘কবি’ সিনেমায় দেবরাজ রায়ের সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন তিনি। পরের বছর ‘চাঁদের কাছাকাছি’ ও ‘হোটেল স্নো ফক্স’-এর মতো সিনেমায় দেখা যায় তাকে।
বাংলা সিনেমার পাশাপাশি এ সময় হিন্দি সিনেমাতেও কাজ শুরু করেন মিঠু। ১৯৭৬ সালে দুলাল গুহর ‘খান দোস্ত’ সিনেমার মাধ্যমে হিন্দি সিনেমায় অভিষেক হয় তার। এতে শত্রুঘ্ন সিনহার বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি। সিনেমাটিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে ছিলেন রাজ কাপুরও। এরপর বাসু চট্টোপাধ্যায়ের ‘সফেদ ঝুট’, ‘দিল্লাগি’ ও ‘দো লড়কে দোনো কড়কে’ সিনেমায় অভিনয় করেন মিঠু। ‘দিল্লাগি’তে আবারও শত্রুঘ্ন সিনহার বিপরীতে দেখা যায় তাঁকে।
১৯৭৭ সালে ‘প্রতিমা’ সিনেমায় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেন মিঠু। সিনেমাতে দ্বিতীয় স্ত্রীর ভূমিকায় ছিলেন সুমিত্রা মুখোপাধ্যায়। সিনেমাটিও বক্স অফিসে সাফল্য পেয়েছিল।
বিভিন্ন ভাষার সিনেমায় অভিনয় করলেও মিঠুর অভিনয়জীবন ছিল তুলনামূলকভাবে স্বল্পস্থায়ী। এই সময়ের মধ্যে তিনি কাজ করেছেন উত্তমকুমার, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, রঞ্জিত মল্লিক, দেবরাজ রায়, শত্রুঘ্ন সিনহা, রাজ কাপুর, বিনোদ মেহরা, নবীন নিশ্চল, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, রবি ঘোষ, অনুপকুমার ও মহুয়া রায়চৌধুরীর মতো শিল্পীদের সঙ্গে।
অনেক আগেই অভিনয় থেকে সরে গিয়েছিলেন মিঠু মুখোপাধ্যায়। তবে ‘মৌচাক’-এর নীপা, ‘মর্জিনা আবদুল্লা’র মর্জিনা কিংবা ‘আশ্রিতা’র মতো চরিত্রের মধ্য দিয়ে দর্শকের স্মৃতিতে আজও অমলিন হয়ে আছেন এই অভিনেত্রী।
৭৫তম ফ্রি-কিক গোলে মেসির নতুন কীর্তি
৭৫তম ফ্রি-কিক গোলে মেসির নতুন কীর্তি
Summary: লিওনেল মেসির দুর্দান্ত ফ্রি-কিক গোলেও জয় পেল না ইন্টার মায়ামি। এমএলএসে সান দিয়েগো এফসির সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে মায়ামি। তবে গোলের মাধ্যমে ক্যারিয়ারে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন আর্জেন্টাইন তারকা। এটি ছিল ফ্রি-কিক থেকে তার ৭৫তম গোল। যা মেসিকে তুলে দিয়েছে সর্বকালের তালিকার দ্বিতীয় স্থানে।
ম্যাচের ১২ মিনিটে আন্দের্স ড্রেইয়ারের গোলে পিছিয়ে পড়ে মায়ামি। ২৪ মিনিটে বক্সের ডান প্রান্তের কাছ থেকে নেওয়া বাঁকানো ফ্রি-কিকে দলকে সমতায় ফেরান মেসি। এটি মায়ামির জার্সিতে তার ১০১তম গোল এবং পেশাদার ক্যারিয়ারে মোট ৯৩০তম গোল।
৭৫টি ফ্রি-কিক গোলে মেসি ছাড়িয়ে গেছেন আর্জেন্টিনার সাবেক তারকা হাইর রোসা পিন্টোকে। তার সামনে এখন শুধু ব্রাজিলের মার্সেলিনহো কারিওকা, যার ফ্রি-কিক গোল ৭৮টি। অর্থাৎ শীর্ষে উঠতে মেসির প্রয়োজন আর চারটি গোল।
মেসির ৭৫টি ফ্রি-কিক গোলের মধ্যে বার্সেলোনার হয়ে করেছেন ৫০টি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার ফ্রি-কিক গোল ১২টি, ইন্টার মায়ামির হয়ে ১১টি এবং পিএসজির হয়ে ২টি।
চলতি মৌসুমেও দুর্দান্ত ছন্দে আছেন মেসি। এমএলএসে তার গোলসংখ্যা এখন ২০, সঙ্গে রয়েছে ১৩টি অ্যাসিস্ট। ৩৩টি গোলে সরাসরি অবদান রয়েছে তার।
মেসির গোলের পর ৭৪ মিনিটে রদ্রিগো দি পলের পাস থেকে গোল করে মায়ামিকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন লুইস সুয়ারেজ। তবে লিড ধরে রাখতে পারেনি মায়ামি। ৮০ মিনিটের দিকে টোভার্সকভের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে সান দিয়েগোকে সমতায় ফেরান ড্রেইয়ার। ইনজুরি সময়ে জয়ের সুযোগ পেয়েছিল সান দিয়েগো। তবে কিয়ারান সার্জেন্টের শট ঠেকিয়ে মায়ামিকে হার থেকে বাঁচান গোলরক্ষক ডেন সেন্ট ক্লেয়ার।
এই ড্রয়ে এমএলএসে শেষ নয় ম্যাচে মাত্র একটিতে জিতেছে মায়ামি। নিয়মিত মৌসুমে আর আট ম্যাচ বাকি থাকতে শীর্ষে থাকা ন্যাশভিলের চেয়ে ১১ পয়েন্ট পিছিয়ে আছে তারা। চলতি মৌসুমে ২০ গোলের পাশাপাশি ১৩টি অ্যাসিস্ট করেছেন মেসি।
ফ্রি-কিক গোলের তালিকায় মেসির সামনে এখন মার্সেলিনহো কারিওকা। ব্রাজিলিয়ান তারকার ৭৮ গোলের রেকর্ড ছুঁতে মেসির প্রয়োজন আর তিনটি গোল।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের প্রভাব ভূমিকম্পের মতো: কাতারের প্রধানমন্ত্রী
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের প্রভাব ভূমিকম্পের মতো: কাতারের প্রধানমন্ত্রী
Summary: ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতিকে ‘ভূমিকম্প’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান বিন জাসিম আল থানি। মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তার পূর্বশর্ত হিসেবে রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি সংঘাতের ‘ক্রমবর্ধমান চক্র’ বা ‘এসক্যালেশনের চক্র’ নিয়ে সতর্ক করেছেন।
রোববার নিউইয়র্কে কাতার ইকোনমিক ফোরামের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শেখ মোহাম্মদ। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের জন্য এমন একটি ‘কাঠামো’ প্রয়োজন, যেখানে সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানো হবে এবং কোনো রাষ্ট্রই অন্য কোনো রাষ্ট্রের জন্য ‘হুমকি’ হয়ে দাঁড়াবে না।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে শেখ মোহাম্মদ বলেন, এটি একটি ‘ভূমিকম্প’-এর মতো। এর ‘কম্পন-তরঙ্গ’ মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে বহুদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে এবং ‘নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিষয়ক প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে’।
তিনি বলেন, সংকট চলাকালীন প্রায় প্রতিটি আলোচনার শুরুতেই নিরাপত্তা ও উত্তেজনা প্রশমনের বিষয়টি উঠে আসত; এরপর আলোচনা গড়াত জ্বালানি সরবরাহ, নৌ-চলাচলের পথ এবং আমাদের বিনিয়োগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার দিকে। আসলে এসবই ছিল একই মূল প্রশ্নের ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ—যখন সবকিছুতেই এমন ওলটপালট অবস্থা, তখন শেষ পর্যন্ত কিসের ওপর ভরসা করা যায়?
শেখ মোহাম্মদ বলেন, কাতার তার অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ‘ভিত্তি’র ওপর আসা সেই কঠিন পরীক্ষার মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, অঞ্চলে চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়ছে।
তিনি বলেন, এমন কোনো ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থায়ী নিরাপত্তা গড়ে তোলা সম্ভব নয়, যা কোনো রাষ্ট্রকে স্থায়ীভাবে নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে ফেলে রাখে। আমাদের অবশ্যই উত্তেজনার মূল কারণগুলো মোকাবিলা করতে হবে এবং পারস্পরিক আস্থা গড়ে তুলতে হবে।
নিউইয়র্ক থেকে আল-জাজিরার সাংবাদিক ক্রিস্টেন সালুমি জানান, মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে উপসাগরীয় অঞ্চলের নেতারা যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন, তখন শেখ মোহাম্মদের এই বার্তা আবারও উঠে আসতে পারে।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী দেশটির বিনিয়োগ কৌশলে অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের রূপরেখাও তুলে ধরেছেন। এর আওতায় আগামী পাঁচ বছরে কাতারের অবকাঠামো খাতে ৩৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
সালুমি বলেন, এর লক্ষ্য হলো বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা এবং কাতারের ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা বা দৃঢ়তার বার্তা দেওয়া। তবে একই সঙ্গে শেখ মোহাম্মদ স্বীকার করেছেন, চলমান সংঘাত ‘অঞ্চলে প্রভাব ফেলছে’।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন সোমবার শুরু হয়ে শুক্রবার শেষ হবে। বিভিন্ন ভাষণ ও কূটনৈতিক আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং এর বৈশ্বিক প্রভাব গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে রোববার নিউইয়র্কে মার্কিন গণমাধ্যমের কাছে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের অবসান ঘটাতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরুর লক্ষ্যে কাতারের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সেরা সিনেমা ‘লা বোলা নেগ্রা’, ইতিহাস গড়ল ‘অ্যাং’
সেরা সিনেমা ‘লা বোলা নেগ্রা’, ইতিহাস গড়ল ‘অ্যাং’
Summary: ১১ দিনের চলচ্চিত্রযাত্রার পর পর্দা নামল কানাডার মর্যাদাপূর্ণ টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (টিআইএফএফ) ৫১তম আসরের। শেষ দিনে উৎসবজুড়ে দর্শক ও জুরিদের পছন্দে উঠে এসেছে একের পর এক চলচ্চিত্র। এ বছরের সর্বোচ্চ দর্শকভোটের স্বীকৃতি পিপলস চয়েস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে জাভিয়ের কালভো ও জাভিয়ের আমব্রোসি পরিচালিত স্প্যানিশ চলচ্চিত্র ‘লা বোলা নেগ্রা’। আর আন্তর্জাতিক বিভাগে পিপলস চয়েস অ্যাওয়ার্ড গেছে সাইমন স্টোনের ‘এলসিনোর’-এর ঝুলিতে।
টিআইএফএফ লাইটবক্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এবারের পুরস্কারজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। সব মিলিয়ে এবারের উৎসবে ১২টি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ছিল পিপলস চয়েসের চার বিভাগ, প্ল্যাটফর্ম প্রাইজ, কানাডিয়ান চলচ্চিত্রের দুটি পুরস্কার, শর্ট কাটস, ফিপ্রেসি ও নেটপ্যাক অ্যাওয়ার্ড।
উৎসবের সবচেয়ে আলোচিত পুরস্কারগুলোর একটি পিপলস চয়েস অ্যাওয়ার্ড। ১৯৭৮ সালে চালু হওয়া এ পুরস্কারটি টিআইএফএফের দর্শকদের ভোটে নির্বাচিত হয়। এবার মূল বিভাগে ‘লা বোলা নেগ্রা’র পর প্রথম রানারআপ হয়েছে পিটার ফ্যারেলির ‘আই প্লে রকি’, দ্বিতীয় রানারআপ সিয়ান হেডারের ‘বিইং হিউম্যান’।
আন্তর্জাতিক বিভাগে ‘এলসিনোর’-এর পর প্রথম রানারআপ হয়েছে লি চ্যাং-ডংয়ের ‘পসিবল লাভ’ এবং দ্বিতীয় রানারআপ হুর জিন-হোর ‘দ্য অ্যাসাসিন(স)’।
তথ্যচিত্র বিভাগেও দর্শকের পছন্দ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ব্যারি অ্যাভরিচ পরিচালিত ‘ডার্লিন লাভ: আই নো হোয়্যার আই’ভ বিন’ পেয়েছে পিপলস চয়েস ডকুমেন্টারি অ্যাওয়ার্ড। এ বিভাগে প্রথম রানারআপ ‘ব্ল্যাক সানফ্লাওয়ার্স’, দ্বিতীয় রানারআপ ‘দ্য আল্ট্রা রানার’।
আর টিআইএফএফের আলোচিত মিডনাইট ম্যাডনেস বিভাগে দর্শকের পছন্দের শীর্ষে উঠে এসেছে ম্যাথিউ র্যাঙ্কিন পরিচালিত ‘লেডিস অ্যান্ড জেন্টলমেন, ব্রায়ান মুলরোনি’। এ বিভাগে প্রথম রানারআপ ‘দ্য স্পাইরাল’, দ্বিতীয় রানারআপ ‘অ্যারেস্টেড মেমোরি’।
তবে এবারের আসরের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে প্ল্যাটফর্ম প্রাইজে। ২০১৫ সালে চালু হওয়া এ পুরস্কার দেওয়া হয় শক্তিশালী নির্মাণদৃষ্টি ও স্বতন্ত্র গল্প বলার জন্য। এবার পুরস্কারটি পেয়েছে ভারতের নির্মাতা থেজা রিওর ‘অ্যাং’। পাঁচ সদস্যের আন্তর্জাতিক জুরি নির্বাচিত এ চলচ্চিত্রের নির্মাতা পেয়েছেন ২০ হাজার কানাডিয়ান ডলার পুরস্কার।
প্ল্যাটফর্ম জুরি তাদের বক্তব্যে ছবিটির সতেজ দৃষ্টিভঙ্গি, শক্তিশালী নির্মাণ এবং একটি বিশ্বের গভীর অনুরণিত চিত্র তুলে ধরার প্রশংসা করেছে। তাদের ভাষায়, নির্মাতার দৃষ্টিভঙ্গি, সাহসিকতা ও নির্ভীকতা ছবিটিকে আলাদা করে তুলেছে।
প্ল্যাটফর্ম বিভাগে বিশেষ জুরি পুরস্কার পেয়েছে আমান্ডা কার্নেলের ‘ব্রেস ইওর হার্ট (গ্যারাট ডু ভাইমু)’। সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্ক, আইসল্যান্ড ও বুলগেরিয়ার যৌথ প্রযোজনার এ চলচ্চিত্রটি তার আপাত সরলতার আড়ালে আজকের বিশ্বের জটিল বাস্তবতা তুলে ধরেছে বলে মনে করেছে জুরি।
এবারের প্ল্যাটফর্ম প্রাইজের গুরুত্ব আরও বেড়েছে একটি নতুন নিয়মের কারণে। টিআইএফএফের প্ল্যাটফর্ম প্রাইজ জয়ী কোনো অ-ইংরেজি ভাষার চলচ্চিত্র এখন সরাসরি অস্কারের সেরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র বিভাগে যোগ্যতার পথ পাবে। বিশ্বের মাত্র ছয়টি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের পুরস্কারের এমন সরাসরি পথ রয়েছে।
স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের বিভাগ শর্ট কাটসেও ছিল বৈচিত্র্যের ছাপ। সেরা আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেয়েছে গ্রিস ও নেদারল্যান্ডসের যৌথ প্রযোজনার ‘মাম্মালিয়া’, পরিচালক এলিয়া কালোজিয়ানি। সেরা কানাডিয়ান স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হয়েছে মাইকেল ডেল মন্টের ‘ফাইট কিড’। আর সেরা অ্যানিমেটেড স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পুরস্কার গেছে যুক্তরাজ্যের বরুণ রমন ও টম হ্যানককের ‘ইনটু দ্য বেটাভার্স’-এর হাতে।
শর্ট কাটস বিভাগে সম্মানজনক উল্লেখ পেয়েছে যথাক্রমে ‘দ্য স্পেকটাকুলার ডেথ অব প্রিসকা’, ‘অলমোস্ট পিংক’ এবং ‘টার্মিনাল’।
এদিকে উদীয়মান নির্মাতাদের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের জন্য দেওয়া ফিপ্রেসি প্রাইজ পেয়েছে আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের যৌথ প্রযোজনা ‘অ্যানসেস্টরস’। ডেভিড টারপিন পরিচালিত ছবিটি হারিয়ে যাওয়া মানুষদের পরস্পরকে খুঁজে পাওয়ার গল্পে স্মৃতি, ভালোবাসা, অস্থিরতা ও আশার এক আবেগঘন জগৎ তৈরি করেছে বলে মনে করেছে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সমালোচকদের সংগঠন ফিপ্রেসির জুরি।
এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের চলচ্চিত্রকে স্বীকৃতি দেওয়া নেটপ্যাক অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে ফিলিস্তিনের নির্মাতা হোসাম আবু দানের ‘থার্টিন ইন গাজা’। চলমান যুদ্ধ ও গণহত্যার বাস্তবতায় মানুষের দুর্ভোগকে নিছক প্রদর্শনীতে পরিণত না করে জীবনের জটিলতাকে অন্তরঙ্গভাবে তুলে ধরার জন্য ছবিটিকে পুরস্কৃত করেছে জুরি।
কানাডার নতুন প্রজন্মের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্যও এবারের উৎসব ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বেস্ট কানাডিয়ান ডিসকভারি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে কোডি লাইটনিং পরিচালিত ‘স্মাজ দ্য ব্লেডস’। পুরস্কার হিসেবে নির্মাতা পেয়েছেন ১০ হাজার কানাডিয়ান ডলার।
আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবন, ঔপনিবেশিকতার অভিঘাত, পরিবার, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও সম্প্রদায়ের শক্তিকে কেন্দ্র করে নির্মিত ছবিটির প্রশংসা করেছে জুরি। তাদের মতে, আনন্দ ও ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তিকে ভিত্তি করে নির্মিত এ চলচ্চিত্র পরিচিত ঘরানাকে নতুনভাবে চ্যালেঞ্জ করেছে এবং গল্পের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে আদিবাসী মানুষের কণ্ঠ।
এ বিভাগে সম্মানজনক উল্লেখ পেয়েছে ইউলা বেনিভলস্কির ‘দ্য ব্ল্যাক বক্স ইজ অরেঞ্জ’। ব্যক্তিগত স্মৃতি ও আর্কাইভাল ছবির মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনি ইতিহাস মুছে ফেলার প্রক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সঙ্গে রাজনৈতিক বাস্তবতার সম্পর্ক তুলে ধরেছে ছবিটি।
আর বেস্ট কানাডিয়ান ফিচার ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে সার্ভিল পব্লেতের ‘সানবার্ন’। প্রাণবন্ত, হাস্যরসাত্মক ও মানবিক এ ছবির নির্মাণশৈলী, অভিনয় এবং টরন্টোকে নতুন এক শক্তিতে তুলে ধরার প্রশংসা করেছে জুরি। পুরস্কার হিসেবে নির্মাতা পেয়েছেন ১০ হাজার কানাডিয়ান ডলার।
এ বিভাগে সম্মানজনক উল্লেখ পেয়েছে অ্যাড্রিয়ান বুইটেনহুইসের ‘ম্যান ইন মোশন: দ্য রিক হ্যানসেন স্টোরি’। রিক হ্যানসেনের অসাধারণ যাত্রাকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরার পাশাপাশি আড়ালে থাকা মানুষদের কথাও মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য ছবিটির প্রশংসা করেছে জুরি।
এবারের টিআইএফএফে ১১ দিনে ৭২টি দেশের ২৯৪টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়েছে। ৯৮টি রেড কার্পেটে অংশ নিয়েছেন আট শতাধিক তারকা ও চলচ্চিত্রকর্মী। উৎসবে উপস্থিত ছিলেন প্রায় দুই হাজার স্বীকৃত গণমাধ্যমকর্মী, টিআইএফএফ: দ্য মার্কেটের প্রায় সাত হাজার প্রতিনিধি এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ২৭৯ জন পরিচালক।
চলচ্চিত্রের এই বিশাল আয়োজনের মধ্য দিয়ে আজ পর্দা নামল টিআইএফএফের ৫১তম আসরের। আগামী বছর ৯ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে উৎসবটির ৫২তম আসর।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের যুক্ত হওয়ার আহ্বান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর
ডেঙ্গু প্রতিরোধে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের যুক্ত হওয়ার আহ্বান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর
Summary: এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশব্যাপী তিন মাসের বিশেষ ‘ডিজিটাল সচেতনতা ক্যাম্পেইন’ শুরু হয়েছে। ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচালিত এ কর্মসূচিতে সাধারণ নাগরিক, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ইনফ্লুয়েন্সারদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
সোমবার এক বার্তায় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ কিংবা কীটনাশক ছিটিয়ে ডেঙ্গু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এ জন্য মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক সচেতনতা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে ড. মুহিত বলেন, জনগণের অংশগ্রহণের পাশাপাশি সময়োপযোগী ও সঠিক তথ্যের প্রচার ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বিশেষ করে তরুণ সমাজ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ইনফ্লুয়েন্সারদের এ উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কনটেন্ট, রিলস ও স্টোরি তৈরি এবং তথ্য শেয়ারের মাধ্যমে ক্যাম্পেইনে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি অনুরোধ করেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ডেঙ্গু সচেতনতা কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
ড. মুহিত বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয়, জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখা এবং ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কনটেন্ট ক্রিয়েটররা তাঁদের সৃজনশীল ভিডিও, ইনফোগ্রাফিক ও পোস্টের মাধ্যমে সহজে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন। সচেতনতামূলক কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে যে কেউ এ ধরনের উদ্যোগে ভূমিকা রাখতে পারেন।
আগামী তিন মাসের এই ডিজিটাল ক্যাম্পেইনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, ডেঙ্গুর লক্ষণ, প্রাথমিক করণীয় ও চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য ব্যাপকভাবে প্রচার করা হবে।
ক্যাম্পেইনের আওতায় নাগরিকদের নিজ নিজ বাড়ি, আঙিনা ও কর্মক্ষেত্র পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধের সচেতনতামূলক বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ দনিয়ায় পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০ ককটেল উদ্ধার
যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ দনিয়ায় পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০ ককটেল উদ্ধার
Summary: রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন দক্ষিণ দনিয়া এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০টি ককটেল উদ্ধার করেছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ। রোববার সন্ধ্যায় দনিয়া কাঁচাবাজার এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের নিচের গলি থেকে এসব ককটেল উদ্ধার করা হয়।
সোমবার সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোববার বিকেল আনুমানিক ৬টার দিকে দক্ষিণ দনিয়া কাঁচাবাজার এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের নিচের গলির মাথায় পুরোনো প্লাস্টিকের বাজারের ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে তারা পুলিশকে খবর দেন।
বিষয়টি জানতে পেরে ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়। পরে ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে ব্যাগটি তল্লাশি করেন। এ সময় ব্যাগের ভেতর থেকে ১০টি ককটেল উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে রাত ১০টা ২৫ মিনিটে যাত্রাবাড়ী থানাধীন গোলাপবাগ মাঠে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা ও নিয়ম-নীতি অনুসরণ করে ককটেলগুলো নিষ্ক্রিয় করেন।
এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ প্রয়োজনীয় তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।
লোকসানের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, দাবি বিপিসির
লোকসানের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, দাবি বিপিসির
Summary: আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম। ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেন– চার ধরনের তেলের দামই লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। রোববার জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আজ সোমবার থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। ডিজেলের দাম বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫, পেট্রোল ১৬০ এবং অকটেন ১৬৫ টাকা লিটার হলো। এটা দেশের ইতিহাসে জ্বালানি তেলের সর্বোচ্চ দাম। এর আগে ডিজেল ১১৫, কেরোসিন ১৩৫, পেট্রোল ১৪০ এবং অকটেন ১৪৫ টাকা লিটারে বিক্রি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দর বাড়ায় আমদানি ব্যয়ও দ্রুত বেড়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) দাবি, ২০২৫ সালের এপ্রিলের চার হাজার ১৯৫ কোটি টাকার আমদানি ব্যয় চলতি বছরের এপ্রিলে বেড়ে আট হাজার ১৩৫ কোটি টাকা হয়। মে মাসের খরচ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চার হাজার ১৮২ কোটি থেকে বেড়ে ১৩ হাজার ৪৮৫ কোটি এবং আগস্টে দুই হাজার ৭৪০ কোটি ৬২ লাখ থেকে সাত হাজার ৬০৩ কোটি টাকা হয়েছে।
মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিপিসির নিজস্ব তহবিলের লোকসান হয়েছে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে এপ্রিলে লোকসান সাত হাজার ৮৬৬ কোটি এবং জুনে ছয় হাজার ১৯৮ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরে লোকসান পাঁচ হাজার কোটি টাকা ছাড়াতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে গত ৮ সেপ্টেম্বর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবকে চিঠি দেয় বিপিসি। এতে মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত লোকসানের অর্থ সরকারি সহায়তা হিসেবে দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত শুল্ককর কমানো বা প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এরপর বিপিসির অর্থ সংকট নিয়ে গত সপ্তাহে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে বৈঠক হয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বিপিসির হাতে জ্বালানি আমদানির জন্য মাত্র ১৫ দিনের অর্থ থাকার বিষয়টি উঠে আসে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিপিসিকে চার থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকা সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে তা এখনও দেওয়া হয়নি। বিপিসি জানিয়েছে, তারা আমদানি ব্যয় মেটাতে চলতি বছর ব্যাংক থেকে প্রায় ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা তুলেছে। বর্তমানে ব্যাংক হিসাবে রয়েছে প্রায় ১২ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা। অথচ দুই মাসের আমদানি ব্যয়ের জন্য প্রয়োজন প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা।
গতকালের প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদরে ডিজেলে প্রতি লিটারে বিপিসির লোকসান প্রায় ৮৯ টাকা। এতে দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকা। শুধু ডিজেলেই বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হতে পারে। লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়ানো হলে বছরে বিপিসির লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হত্যা মামলা নিতে দুই থানার টালবাহানা
হত্যা মামলা নিতে দুই থানার টালবাহানা
Summary: ময়মনসিংহের ভালুকায় চুরির অপবাদে সুজন মিয়াকে পিটিয়ে হত্যার ১৩ দিন পার হলেও কোনো মামলা হয়নি। আইনি সীমানা নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে দুই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একে অপরের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। ফলে বিচার পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে নিহত যুবকের পরিবার।
নিহত সুজন মিয়া শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার ভেলুয়া গ্রামের আমিনুল হক কালুর ছেলে। তিনি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি এলাকার আবদার পাড়ায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
জানা গেছে, গত ৭ সেপ্টেম্বর ভালুকা উপজেলার জামিরদিয়া মাস্টারবাড়ি এলাকায় এক ইলেকট্রনিকস পণ্যের দোকানে চুরির সন্দেহে সুজনকে মারধর করা হয়। এতে তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে মৃত ভেবে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার জৈনা বাজার এলাকায় একটি ময়লার স্তূপে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।
চেতনা ফেরার পর মৃত্যুর ঠিক আগে সুজন স্থানীয়দের জানান, ভালুকার মাস্টারবাড়ি এলাকায় তাঁকে মারধর করা হয়েছে। এরপর সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে এখানে এনে ফেলে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ফুটওভার ব্রিজের নিচ থেকে সুজনের মরদেহ উদ্ধার করে। গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ৮ সেপ্টেম্বর রাতে নিজ গ্রামে লাশটি দাফন করা হয়। নিহত সুজনের দুই সন্তান নানা বাড়িতে থাকে এবং তাঁর স্ত্রী জর্ডান প্রবাসী।
ঘটনার পর ১৩ দিন পার হলেও কোনো থানাতেই মামলা হয়নি। শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীনূর আলম বলেন, মারধরের মূল ঘটনাটি ঘটেছে ভালুকা থানা এলাকায়। ময়নাতদন্তের সব তথ্য ও নথিপত্র ভালুকা থানায় পাঠানো হয়েছে। আইনগতভাবে মামলা ভালুকা থানাতেই হতে হবে, এখানে আমাদের কিছু করার নেই।
ভালুকা থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম দাবি করেন, মারধরের ঘটনা ভালুকায় হলেও ভুক্তভোগীর মৃত্যু হয়েছে শ্রীপুর থানা এলাকায়। তাই তাদের এখানে সরাসরি মামলা নেওয়ার সুযোগ নেই। শ্রীপুর থানা মামলা নেওয়ার পর তদন্তের প্রয়োজনে সহায়তা চাইলে তা করবেন তারা।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ঘটনা যদি ভালুকায় হয়ে থাকে, তবে শ্রীপুর থানা পুলিশ তাদের আইনের অধীনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে নিহত যুবকের পরিবারের পক্ষ থেকে ভালুকা থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত আমার জানা ছিল না। আমি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।’
নির্বিচারে জাল টানায় হুমকির মুখে বড়বিলার জীববৈচিত্র্য
নির্বিচারে জাল টানায় হুমকির মুখে বড়বিলার জীববৈচিত্র্য
Summary: ময়মনসিংহের বৃহৎ জলমহাল ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের বড়বিলা। যা স্থানীয়দের কাছে ‘পদ্ম বিল’ নামে পরিচিত। একসময় বিস্তীর্ণ বিলে ফুটে থাকা পদ্ম, শাপলা। পাখির আনাগোনায় মুখর থাকত বিলটি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে এখনও দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা। তবে সেই সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য নানা কারণে হুমকির মুখে পড়েছে। বিল জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পদক্ষেপ নিতে সম্প্রতি বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ইকবাল হোসেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ– নির্বিচারে মাছ শিকার, বেড়জাল টানার সময় পদ্ম-শাপলা ও অন্যান্য জলজ উদ্ভিদ উপড়ে ফেলা, বিভিন্ন ধরনের সূক্ষ্ম জাল ব্যবহার এবং বিল-সংলগ্ন খামারের বর্জ্য পানিতে ফেলার কারণে বড়বিলের স্বাভাবিক পরিবেশ ক্রমেই নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের চলাচলের জন্য সরকারি অর্থায়নে নির্মিত সড়কের একটি অংশ ফিশারির কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
জালের টানে উঠে আসে জলজ উদ্ভিদ
মাছ ধরার জন্য বিলের পানিতে বেড়জাল টানার সময় মাছের সঙ্গে অসংখ্য পদ্ম, শাপলা ও অন্যান্য জলজ উদ্ভিদ উঠে আসে। এতে বিলের সৌন্দর্য ও জলজ পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন অভিযোগ করেন, দিনের বেলায় জাল টানায় বাধা দেওয়া হলে কখনও কখনও রাতে একই কাজ চালানো হয়। ফলে নিয়মিত নজরদারি না থাকায় বিলের জলজ উদ্ভিদ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সূক্ষ্ম জালে পোনা নিধন
বিলে মাছ শিকারে বিভিন্ন ধরনের সূক্ষ্ম জাল ব্যবহারের অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। সম্প্রতি জেলা প্রশাসক বরাবর দেওয়া এক অভিযোগে চায়না ভাইড়, মেজিক ভাইড় ও জম ভাইড়সহ বিভিন্ন মাছ ধরার উপকরণ ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, এসব জালে বড় মাছের পাশাপাশি ছোট মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীও আটকা পড়ছে। এতে দেশীয় মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ও বংশবিস্তারে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ এখনও পাননি তিনি। তবে বড়বিলে কী ধরনের জাল ও মাছ ধরার সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে, তা সরেজমিন যাচাই করা হবে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফিশারির কাজে সরকারি সড়ক
বড়বিলের পশ্চিম পাড়ের হাতিলেইট অংশে দর্শনার্থীদের চলাচলের জন্য সরকারি অর্থায়নে নির্মিত একটি সড়কের অংশ ফিশারির পাড় হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের শঙ্কা, দর্শনার্থীদের চলাচলের জন্য নির্মিত সড়ক এভাবে মাছের ঘের বা ফিশারির কাজে ব্যবহার করলে সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
খামারের বর্জ্যে দূষণের শঙ্কা
বড়বিলের চারপাশে গড়ে ওঠা লেয়ার মুরগি ও গরুর খামারের বর্জ্য নিয়েও রয়েছে স্থানীয়দের উদ্বেগ। তাদের অভিযোগ, কয়েকটি খামারের বিষ্ঠা ও অন্যান্য বর্জ্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরাসরি বিলের পানিতে গিয়ে পড়ছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, এসব বর্জ্যের কারণে পানির গুণগত মান পরিবর্তিত হলে মাছ, জলজ উদ্ভিদ ও অন্যান্য জলজ প্রাণির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
বিলের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের দাবি
স্থানীয়রা জানান, মাছ আহরণ পুরোপুরি বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। তবে নিয়ম মেনে মাছ ধরা, নিষিদ্ধ বা ক্ষতিকর জাল ব্যবহার বন্ধ, পদ্ম-শাপলা ও অন্যান্য জলজ উদ্ভিদ সংরক্ষণ, খামারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি সড়ক রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এ জন্য উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। ফুলবাড়িয়ার ইউএনও শহিদুল ইসলাম সোহগ বলেন, একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সোমবার (আজ) সকালে বড়বিলার পাড়ে স্থানীয়দের নিয়ে আলোচনাসহ মাছের পোনা অবমুক্ত করবেন তারা।
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা যুক্তরাষ্ট্রের
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা যুক্তরাষ্ট্রের
Summary: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মাত্রা ও ভৌগোলিক পরিধি আরও বিস্তৃত হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষভাগে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের নতুন ফ্রন্ট হিসেবে যুক্ত হয়েছে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতি বাহিনীর সংঘাত।
গত শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানসমর্থিত হুতিরা। এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। খবর রয়টার্সের।
হুতিদের হামলার পর রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দর এলাকা এবং পার্শ্ববর্তী আরামকোর জ্বালানি ডিপো থেকে বিশাল কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী ও আগুনের শিখা উঠতে দেখা গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অবস্থানরত নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
শনিবার ভোরে বিকট বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ। আগের রাতে রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলীয় আল-খার্জ এলাকার অধিবাসীদের মোবাইলে আকাশপথে হামলার ঝুঁকি জানিয়ে জরুরি বার্তা পাঠায় স্থানীয় সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ।
রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সামরিক-বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে একযোগে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ছোড়ে হুতিরা। হামলার পর বিমানবন্দরটিতে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক মাধ্যমে জানান, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা রিয়াদের দিকে ধেয়ে আসা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়। এ ছাড়া অন্যান্য হামলাও প্রতিহত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, হুতির সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া আল-সারিয়া এক টেলিগ্রাম বার্তায় জানান, ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি জোটের সম্প্রতি চালানো প্রায় ৩০০টি বিমান হামলার প্রতিশোধ নিতেই তারা রিয়াদ ও ইয়ানবুতে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর তেল স্থাপনায় এই যৌথ অভিযান চালায়।
মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণ সতর্কতা যুক্তরাষ্ট্রের
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্যাম্প ডেভিডের নির্ধারিত সফর সংক্ষিপ্ত করে জরুরি ভিত্তিতে হোয়াইট হাউসে ফিরেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত ৯টি দেশের মার্কিন দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে। এতে বলা হয়, ইরান ও হুতিদের কেন্দ্র করে চলা সংঘাত আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা ফ্লাইট বাতিল ও আকাশপথ বন্ধের ঝুঁকি তৈরি করছে।
ইয়েমেন ফ্রন্টে রক্তক্ষয়ী সংঘাত
সৌদি ভূখণ্ডে হামলা বাড়ানোর পাশাপাশি ইয়েমেনের ভেতরেও হুতি ও সৌদিসমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক সংঘাত চলছে। দেশটির তেলসমৃদ্ধ মারিব, তাইজ, লাহজ, আল-জাউফ ও আল-বায়দা প্রদেশে দুপক্ষের মধ্যে মুখোমুখি লড়াই চলছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে এএফপি জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় এই সংঘাতে অন্তত ৪৮ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩১ জন হুতি এবং ১৭ জন সরকারি সেনাসদস্য।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, জুলাইয়ে নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাতের কারণে ইয়েমেনে এ পর্যন্ত এক লাখ চার হাজার ৭৯৬ জনেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
সংঘাতের গতিপথ
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের গতিপথ এখন অতিমাত্রায় জটিল আকার ধারণ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি আলজাজিরাকে জানান, রিয়াদ ও আরামকোর স্থাপনায় এই হামলা মূলত হুতিদের পক্ষ থেকে একটি শক্তিশালী সতর্কবার্তা। তারা এটি স্পষ্ট করতে চায়, সৌদির পুরো তেলশিল্প অচল করে দেওয়ার সক্ষমতা তাদের রয়েছে।
তবে এলমাসরি মনে করেন, সৌদি তুরস্ক, পাকিস্তান, মিসর কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের মতো মিত্রদের কাছ থেকে লজিস্টিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতা পাচ্ছে। তবে সৌদি আরব বা এসব মিত্রদের কেউ সরাসরি হুতিদের বিরুদ্ধে সংঘাতে জড়াবে না।
সানা সেন্টার থিঙ্ক ট্যাঙ্কের নির্বাহী পরিচালক ইয়াসমিন আল-এরিয়ানি মনে করেন, ইয়েমেনের দুর্গম ভূখণ্ডের কারণে হুতিদের সামরিকভাবে পুরোপুরি পরাস্ত করা প্রায় অসম্ভব। বরং তাদের নিয়ন্ত্রণ করাই একমাত্র বাস্তবসম্মত বিকল্প।
প্রথম পরীক্ষার মুখে মক্কা চুক্তি
রিয়াদে হামলার পর আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোটে বড় ধরনের নড়াচড়া দেখা দিয়েছে। গত আগস্টে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি এখন প্রথম বড় পরীক্ষার মুখে পড়েছে। এই চুক্তির মূল কথা হলো, তিন দেশের যে কোনো একটির ওপর হামলা বাকি সব কটি দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা মারাত্মক হুমকির মুখে। চুক্তি অনুযায়ী, সৌদির কারিগরি বা সামরিক প্রয়োজন মেটাতে আঙ্কারা পুরোপুরি প্রস্তুত। এর আগে পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী জানান, সৌদির নিরাপত্তায় পাকিস্তান যে কোনো সীমা পর্যন্ত যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
নতুন ধারণার ই-কমার্স
Summary: বাংলাদেশের সোশ্যাল কমার্স ইকোসিস্টেমের পরিধি বাড়ছে দ্রুতগতিতে। এই সময়ে দুই লাখের বেশি মার্চেন্ট এ ব্যবসায় জড়িত। এটি দেশের ডিজিটাল কমার্সের ৮০ শতাংশের বেশি। এই ব্যবসায় এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি অর্ডার, ক্রেতা, বিপণন ও অপারেশনাল টুলস ম্যানেজ করতে হয়।
বাংলাদেশে ই-কমার্স ব্যবসা এখন শুধু অনলাইনে পণ্য বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্রথম ধাপে অর্ডার নিশ্চিত হলে পণ্য সংগ্রহ, প্যাকেজিং, কুরিয়ার, ডেলিভারি, ক্যাশ অন ডেলিভারি, রিটার্ন ও শেষে বিক্রেতার কাছে অর্থ পৌঁছে দেওয়া– এই পুরো প্রক্রিয়া সমন্বিত ব্যবস্থার অংশ।
এই প্রক্রিয়ায় অর্ডার ও অর্থের হিসাব দ্রুত ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করার বিষয়টি ক্রমে জরুরি হয়ে উঠছে। এই অংশে জায়গায় ডি-ক্লেয়ার বা ডিজিটাল ক্লিয়ারিং ধারণার গুরুত্ব বেড়েছে।
ব্যবসায় প্রবৃদ্ধি
পণ্য অর্ডার থেকে ডেলিভারি হয়ে অর্থ প্রাপ্তি– এই পুরো হিসাবকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে মিলিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাকে বলে ডি-ক্লেয়ার। বলা যায়, বিশেষ অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ২৪ ঘণ্টায় ৫০০ অর্ডার পাওয়া গেছে; যার মধ্যে ৪০০টি ডেলিভারি হলো, ৫০টি ফেরত গেল। ঝুলে আছে ৩০টির পেমেন্ট। অবশিষ্ট ২০টির মূল্য বা চার্জের সমন্বয় হয়েছে।
কার্যকর ডিজিটাল ক্লিয়ারিং ব্যবস্থা অর্ডার আইডি ধরে সবকটি লেনদেনকে আলাদা করে শনাক্ত করতে পারে। কোন পণ্য কত টাকায় বিক্রি হয়েছে, কত টাকা পাওয়া গেছে, কয়টি কুরিয়ার হয়েছে, রিটার্নের জন্য কত সমন্বয় হয়েছে ও শেষাংশে বিক্রেতার হিসাবে কত টাকা যাওয়ার কথা– এসব তথ্য এক জায়গায় পাওয়া গেলে জটিল হিসাব অনেক সহজ হয়। এর অর্থ ডি-ক্লেয়ার শুধু টাকা পাঠানো নয়; বরং টাকার হিসাব ঠিকঠাক মিলিয়ে নেওয়া। নির্দিষ্ট ক্রেতা এই প্রক্রিয়ায় প্রথমে অনলাইনে পণ্য অর্ডার করলেন। বিক্রেতা অর্ডারটি গ্রহণ করে কুরিয়ারের হাতে পণ্য পৌঁছে দিলেন। পণ্য ক্রেতার কাছে পৌঁছাল ও সিওডি হলে কুরিয়ার ক্রেতার কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করল। কিন্তু লেনদেন এখানেই শেষ নয়; প্রাপ্ত অর্থ থেকে কুরিয়ার চার্জ, রিটার্ন বা অন্যসব সমন্বয় বাদ দিয়ে বিক্রেতার প্রাপ্য অর্থ নির্ধারিত হয়। তারপর সেই অর্থ বিক্রেতার ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাবে পাঠানো হয়।
হিসাবনিকাশ ও অর্থ প্রাপ্তির এই পুরো প্রক্রিয়াকে সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করার তাগিদ থেকেই ডিজিটাল ক্লিয়ারিং ব্যবস্থা জরুরি হয়ে সামনে আসছে।
বাংলাদেশের ই-কমার্সে সিওডি এখন পরীক্ষিত ও বহুল ব্যবহৃত পেমেন্ট পদ্ধতি। ফলে অনলাইন ব্যবসায়ীর জন্য শুধু বিক্রি বাড়ানো নয়; বিক্রি হওয়া পণ্যের অর্থ কখন ও কীভাবে সবার কাছে পৌঁছাবে– এটিও ব্যবসা পরিচালনার বড় বিষয়। নির্দিষ্ট অর্ডার ডেলিভারি হলে যদি অর্থ প্রাপ্তিতে অনেক সময় ব্যয় হয়, তাহলে ছোট ব্যবসায়ীর নগদ অর্থপ্রবাহে বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।
ডি-ক্লেয়ার পদ্ধতির ডিজিটাল ব্যবস্থায় পণ্য সংরক্ষণে তেমন ঝামেলা থাকে না। এ পদ্ধতিতে অর্ডারের তথ্য, ডেলিভারি স্ট্যাটাস, প্রাপ্ত অর্থ, কুরিয়ার চার্জ ও বিক্রেতার পাওনা– এসব একই ব্যবস্থায় হিসাব করা গেলে ভুলের সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যায়। অন্যদিকে ব্যবসায়ী জানতে পারেন, কোন অর্ডার ডেলিভারি হয়েছে, রিটার্ন হয়েছে কোনটি ও কোন অর্ডারের টাকা এখনও অপেক্ষায় রয়েছে। আরেকটি জরুরি শর্ত হলো স্বচ্ছতা। প্রচলিত ব্যবস্থায় বিক্রেতাকে অনেক সময় অর্ডার, ডেলিভারি ও পেমেন্টের তথ্য আলাদা করে মেলানোর ঝামেলা পোহাতে হয়। ডিজিটাল ক্লিয়ারিং ব্যবস্থা থাকলে অর্ডারের শুরু থেকে অর্থ প্রাপ্তি– এই পুরো লেনদেনের রেকর্ড রাখা সম্ভব। এতে হিসাব ব্যবস্থাপনা সহজ হওয়ার সঙ্গে বিরোধ বা ভুল হিসাব শনাক্ত করা অনেক সহজ হয়।
সফলতার জন্য এই পদ্ধতিতে শুধু প্রযুক্তি যথেষ্ট নয়; কুরিয়ার সংস্থা, ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম, মার্চেন্ট, পেমেন্ট পরিষেবা ও ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তথ্যবিনিময় ও সমন্বয় প্রয়োজন। এ ছাড়া গ্রাহকের তথ্যের নিরাপত্তা, অর্থ লেনদেনে সুরক্ষা ও রিটার্নের ক্ষেত্রে সঠিক হিসাব নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশের ই-কমার্স যত বড় হচ্ছে, ততই অর্ডার ব্যবস্থাপনার সঙ্গে অর্ডার-টু-পেমেন্ট ক্লিয়ারিং পদ্ধতির গুরুত্ব বেড়েছে। দ্রুত ডেলিভারি ছাড়াও তাৎক্ষণিক ও স্বচ্ছ পেমেন্ট নিষ্পত্তি এখন অনলাইন ব্যবসা প্রতিযোগিতার সবচেয়ে জরুরি অংশ।
ই-কমার্সের সাফল্য শুধু কত পণ্য বিক্রি হলো, তার ওপর নির্ভর করে না; বরং অর্ডার থেকে ডেলিভারি ও ডেলিভারি থেকে অর্থ প্রাপ্তি– এই পুরো চক্র কতটা দ্রুত, নির্ভুল ও স্বচ্ছভাবে শেষ হয়, এর গুরুত্ব অনেক।
ই-কমার্স এখন ইকোসিস্টেমের অংশ
সহজে ও দক্ষতার সঙ্গে মার্চেন্টরা যেন বিজনেস পরিচালনা ও পরিধি বাড়াতে পারেন, সে জন্য সুপরিচিত ডিজিটাল কমার্স প্ল্যাটফর্ম পাঠাও এবার কমার্স প্ল্যাটফর্মে যাত্রা করেছে। একে বলে
অল-ইন-ওয়ান প্ল্যাটফর্ম। এখানে স্টোরফ্রন্ট, সেলস চ্যানেল, অর্ডার, ইনভেন্টরি, পেমেন্ট, ডেলিভারি ও কাস্টমার কমিউনিকেশন– সবকিছু এক জায়গায় পাওয়া যাবে। পাঠাও পরিষেবার সিইও ফাহিম আহমেদ বলেন, অনেক বছর ধরে মার্চেন্টরা ডেলিভারির ঝামেলা কমাতে ও নিরাপদে পণ্য প্রাপকের কাছে পৌঁছে দিতে আমাদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছেন। ই-কমার্সের মাধ্যমে সেই কমিটমেন্টের পরিধি ডেলিভারির বাইরে নিয়ে যাচ্ছি। আমরা মার্চেন্টদের সিঙ্গেল প্ল্যাটফর্ম দিচ্ছি, যেখানে তারা স্টোরফ্রন্ট ও অর্ডার থেকে শুরু করে ইনভেন্টরি, সেলস, পেমেন্ট, ডেলিভারি ও ক্রেতা সংযোগ– এসব কিছু একসঙ্গে সামলে নিতে পারবেন। অন্যদিকে নিজস্ব ব্যবসাকে ব্র্যান্ড হিসেবে তৈরি করা ও নতুন ধারার সুযোগকে বড় ব্যবসায় রূপান্তর করতে পারেন।