পরিবেশবান্ধব যানবাহন ব্যবস্থা প্রবর্তনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: উপদেষ্টা আদিলুর
পরিবেশবান্ধব যানবাহন ব্যবস্থা প্রবর্তনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: উপদেষ্টা আদিলুর
Summary: শিল্প এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেছেন, বর্তমান সরকার গ্রিন মবিলিটি বা পরিবেশবান্ধব যানবাহন ব্যবস্থা প্রবর্তনে এবং আমাদের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আজ বুধবার টঙ্গীর এটলাস বাংলাদেশ লিমিটেডের কারখানা প্রাঙ্গণে ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল বাজারজাত কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এটলাস বাংলাদেশ লিমিটেড (এবিএল) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
উপদেষ্টা বলেন, এটলাস বাংলাদেশের মতো একটি বিশ্বস্ত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের ইলেকট্রিক ভেহিকেল সংক্রান্ত জাতীয় নীতি বাস্তবায়নে এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি কেবল আমাদের কার্বন নিঃসরণ হ্রাস ও জীবাশ্ম জ্বালানির পেছনে ব্যয় হওয়া মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করবে তাই নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত ও পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা পৌঁছে দেবে।
শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, এবিএল-এর মতো একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ‘এটলাস ইভি’ বাজারে আসায় ক্রেতাসাধারণের জন্য গুণগত মান, সাশ্রয়ী মূল্য এবং নির্ভরযোগ্য বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিত হলো। এই উদ্যোগটি দেশের অভ্যন্তরে উচ্চ প্রযুক্তির উৎপাদন শিল্পকে উৎসাহিত করার যে শিল্পনীতি আমাদের রয়েছে, তার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমরা ইলেকট্রিক যানবাহনের জন্য একটি শক্তিশালী ইকোসিস্টেম তৈরি করছি এবং এই খাতে এটলাস বাংলাদেশের নেতৃত্ব আরও উদ্ভাবন ও বিনিয়োগকে অনুপ্রাণিত করবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মু. আনোয়ারুল আলম (অতিরিক্ত সচিব), এটলাসের মার্কেটিং ও ব্র্যান্ড অ্যাডভাইজার এবং ঢাবির আইবিএ’র অধ্যাপক ড. মো. রিদওয়ানুল হক প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে এবিএল আনুষ্ঠানিকভাবে নিজস্ব ব্র্যান্ড ‘এটলাস ইভি’ নামে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল বাজারজাতকরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
এবিএলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চলতি বছরের মে মাসে চীনের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ঝেজিয়াং লুয়ান ইলেকট্রিক ভেহিকেল কোং লিমিটেড–এর সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী এবিএল এবার নিজস্ব ব্র্যান্ডে ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল আনল। প্রথম ধাপে চারটি মডেল (এস-১০০, এস-৯০, এস-৮০ ও এস এস-৭০) বাজারে এসেছে। প্রতিটি মডেলে লিকুইড-কুলিং মোটর রয়েছে, যা যানজটপূর্ণ পরিবেশেও মোটরের কার্যকারিতা বজায় রাখবে। গ্রাফিন ব্যাটারি প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে একবার পূর্ণ চার্জে বিদ্যুৎ খরচ হবে মাত্র প্রায় ১৫ টাকা, যা দিয়ে এস-১০০ মডেলে ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার চলা যাবে। প্রতিটি বাইকে ‘অ্যান্টি-থেফট সিস্টেম (এনএফসি)’ যুক্ত, যা চুরি প্রতিরোধে সহায়ক। রেডিয়াল অ্যান্টি-পাংচার টায়ার ও ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স সুবিধা থাকায় বর্ষাতেও চালানো নিরাপদ।
মিথ্যাকে বিতাড়িত করার জন্য সত্যই যথেষ্ট: সেনাবাহিনী
মিথ্যাকে বিতাড়িত করার জন্য সত্যই যথেষ্ট: সেনাবাহিনী
Summary: কিছু স্বার্থান্বেষী মহল সেনাবাহিনীর নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যা, বানোয়াট ও অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, আর্মি সদর দপ্তরের ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড (জিওসি আর্টডক) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাইনুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের নিশ্চিত করতে চাই, সেনাবাহিনী প্রধান এবং সেনাবাহিনীর সিনিয়র নেতৃত্বের প্রতি বাহিনীর প্রতিটি সদস্য অনুগত। আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় সেনাবাহিনী এখন আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ এবং আমাদের ভ্রাতৃত্ববোধ এখন আরও বেশি। আমার অনুরোধ থাকবে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে ধরনের প্রচারণা, এটা পরিহার করে ঐক্যব্ধভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাই। যে দায়িত্ব সেনাবাহিনীকে দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে যে দায়িত্ব দেওয়া হবে সেনাবাহিনী সেটা যথাযথভাবে পালন করবে। চিরদিন করেছে, সামনেও করবে। সোশ্যাল মিডিয়ার মিথ্যা প্রচারণার বিরুদ্ধে খুব বেশি কিছু করার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। আমাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট আছে, আমরা কী করেছি আমরা সেখানে উল্লেখ করি। তবে আসলে মিথ্যাকে বিতাড়িত করার জন্য সত্যই যথেষ্ট এবং সত্য দিয়েই সেটাকে প্রমাণ করতে চাই। আমরা কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চাই।’
বুধবার দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসের অফিসার্স ম্যাসে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, আর্মি সদর দপ্তরের ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড (জিওসি আর্টডক) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাইনুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন শান্তিকালীন সময়ে সেনাবাহিনীর দায়িত্ব হলো যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া। গত ১৫ মাস আমরা বাইরে রয়েছি। নির্বাচনের পর হয়তো আরও কিছুদিন থাকতে হবে। এ জন্য সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিঘ্নিত হচ্ছে। এর পাশাপাশি যে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সেনাবাহিনী দায়িত্বপালন করছে, এ ধরনের পরিস্থিতি বাংলাদেশ প্রতিদিন দেখেনি।’
লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাইনুর রহমান বলেন, ‘দেশের জনগণের মতো সেনাবাহিনীও চায় সরকারের রূপরেখা অনুযায়ী অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। সরকারের সেই রূপরেখার সময়সীমা উল্লেখ করা আছে। নির্বাচন হলে দেশের স্থিতিশীলতা আরও ভালো হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে। সেনাবাহিনী তখন সেনানিবাসে ফেরত যাবে। আমরা সেটার দিকে তাকিয়ে আছি।’
ভাতিজার জানাজায় চাচার মৃত্যু
ভাতিজার জানাজায় চাচার মৃত্যু
Summary: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় ভাতিজার জানাজায় রেজাউল করিম (৬২) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের মধ্যেধারী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গত রোববার সকালে ভবনের ছাদে কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত বৈদ্যুতিক তারে স্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্ত শেষে বাড়ি আনা হয় তার লাশ। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ৬টার দিকে জানাজার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন চাচা রেজাউল করিম। পরে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুই দিনের ব্যবধানে চাচা-ভাতিজার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
নাঈম ওই এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে। রেজাউল মৃত সিরাজুল হকের ছেলে ও মোহাম্মদ আলীর ভাই।
নাঈমের চাচাতো ভাই রাজু বলেন, ‘আমার চাচাতো ভাই নাঈমের মৃত্যুর ঘটনায় ছোটাছুটিতে অসুস্থ হয়ে পড়েন চাচা রেজাউল। নাঈমের মৃত্যুটি বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি চাচা। ফলে স্ট্রোক করে মারা যান তিনি। বুধবার সকাল ১০টার দিকে চাচার জানাজা শেষে চাচাতো ভাইয়ের পাশে কবরস্থ করা হয়।’
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, বিদ্যুতায়িত হয়ে নাঈম নামের এক রাজমিস্ত্রির মৃত্যু হয়। খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশিদের মন জয়ে মামদানির ‘ট্রাম্প কার্ড’ কী
বাংলাদেশিদের মন জয়ে মামদানির ‘ট্রাম্প কার্ড’ কী
Summary: একজন জনপ্রতিনিধির কাছে ভোটারেরা কী চায়? স্বভাবতই মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা। বিশেষ করে সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে জোহরান মামদানি (৩৪) এসব প্রত্যাশা পূরণের আশ্বাস দিয়ে স্থানীয় ভোটারদের আকৃষ্ট করেছেন। কিন্তু আটলান্টিকের ওপারের এক তরুণ বঙ্গোপসাগর পাড়ের বাংলাদেশিদের মন জিতলেন কী করে।
বুধবার সকালে মামদানির জয়ের খবর গণমাধ্যমে আসার পর থেকেই বাংলাদেশে বসবাসকারী অনেকে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এসব পোস্টের ক্যাপশনে একটি সাধারণ শব্দগুচ্ছ ছিল। সেটি হলো- ‘নিউ ইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র’।
প্রশ্ন হলো- কেবল মুসলিম বলেই কি মামদানি ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মানুষের মন জয় করেছেন? নাকি এর পেছনে আছে ‘আইডেন্টিটি পলিটিক্স’ (পরিচয়ের রাজনীতি) কিংবা ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ জানানো ব্যক্তির প্রতি মৌন সমর্থন?
আটলান্টিক-বঙ্গোপসাগর সংযোগ
জয় নিশ্চিতের পর যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন মামদানি। তাঁর ভাষণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মঞ্চে বেজে ওঠে ২০০৪ সালে মুক্তি পাওয়া হিন্দি সিনেমা ‘ধুম’ এর টাইটেল ট্র্যাক ‘ধুম মাচালে’।
এমন ঘটনা মামদানির নির্বাচনী প্রচারণার সময় থেকেই ঘটছে। নিউ ইয়র্কের মতো অভিজাত শহরে তাঁকে কখনো কখনো রাস্তায় প্ল্যাকার্ড হাতেও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। আন্তরিকতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ভারত, পাকিস্তানি কিংবা নিউ ইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সঙ্গে।
উগান্ডায় জন্ম ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত মামদানি নিজেকে পরিচয় দেন দক্ষিণ এশীয় মুসলিম বলে। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর প্রচারণা, গণপরিবহনে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ছবি এবং বাংলা শব্দযুক্ত বক্তব্যও ছড়িয়ে পড়ে। এই বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়ই গণমাধ্যম কিংবা সামাজিক মাধ্যমের বদৌলতে সংযোগ তৈরি করে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশি মানুষের সঙ্গে। যা এই অঞ্চলের মানুষের প্রবাসজীবনের সংগ্রাম, পরিচয় সংকট ও আত্মপ্রতিষ্ঠার গল্পের সঙ্গে গভীরভাবে মিশে আছে।
ফলে নিউ ইয়র্কের মতো বিশ্বনগরে দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত একজনের উত্থান অনেক বাংলাদেশির মাঝে ‘আমাদেরই কেউ’ মনোভাব তৈরি করে। প্রশ্ন হলো- এই প্রক্রিয়া ঘটে কীভাবে?
আইডেন্টিটি পলিটিক্স ও রেপ্রেজেন্টেশন থিওরি
মানুষ যখন নিজের জাতিগত বা ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কারও সঙ্গে সংযোগ অনুভব করে- সেটিকে বলে ‘আইডেন্টিটি পলিটিক্স’। অন্যদিকে ‘রেপ্রেজেন্টেশন থিওরি’ বলে, জনগণ তখনই কাউকে নিজের প্রতিনিধি ভাবে, যখন তাদের অভিজ্ঞতা ও আকাঙ্ক্ষা সেই নেতার কর্মকাণ্ডে প্রতিফলিত হয়। নির্বাচনী প্রচারণায় মামদানি বাসা ভাড়া, পরিবহন, শিশুর যত্ন, নিম্ন-আয়ের মানুষের জীবনসংগ্রাম নিয়ে কথা বলেছেন। যেগুলো বাংলাদেশের স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে অনেক বেশি আকাঙ্ক্ষিত বিষয়।
এ সংক্রান্ত একটি ব্যাখ্যা ১৯৭৯ সালেই দিয়ে রেখেছেন পোল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের সামাজিক মনোবিজ্ঞানী হেনরি তাজফেল ও জন সি টার্নার। সোশ্যাল আইডেন্টিটি থিওরিতে তারা বলেছেন, মানুষ নিজের মতো আরেক মানুষের প্রতি সহজাত সহানুভূতি তৈরি করে। মামদানির মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় পরিচয় সেই দলগত সংযোগকে জোরদার করেছে।
তবে এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। অর্থ্যাৎ, ক্ষমতা চর্চার বিভিন্ন পর্যায়ে থাকা মানুষেরা ধর্মীয় পরিচয়ের বাইরেও কাল্পনিক ঐক্য গঠন করে। সে সূত্র ধরে বলা যায়, মামদানির সঙ্গে বাংলাদেশিদের ঐক্য গঠন হয়েছে, অভিবাসন, বর্ণ, সামাজিক মর্যাদা ও বসবাসের নিরাপত্তা বিবেচনায়।
দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় যাওয়ার পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতিগ্রহণ করেছেন। শুল্ক আরোপ কিংবা ক্ষমতার চূড়ায় থেকে তাঁর আত্মকেন্দ্রিক প্রচার অন্য দেশের মানুষেরও বিরক্তির কারণ হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পর্কিত খবরের মন্তব্যগুলোর দিকে নজর রাখলেই তা বোঝা যায়। মামদানি শুরু থেকেই এসব নীতির বিরুদ্ধাচরণ করছেন। নিজেকে গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। অভিবাসী হিসেবে তুলে ধরতেও কুণ্ঠা বোধ করেননি। শেতাঙ্গদের প্রতি ট্রাম্পের পক্ষপাতেরও সমালোচনা করেছেন।
অর্থ্যাৎ, ধর্মীয় কিংবা ভাষার পরিচয়ের বাইরেও মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনের নীতি ও ক্ষমতার কাঠামো বিরোধী মানসিকতা- মামদানির সঙ্গে ভিন্ন অঞ্চলের মানুষের সংযোগ স্থাপন করেছে।
মামদানির ‘ট্রাম্প কার্ড’
নিউ ইয়র্কে বাড়িভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয় বর্তমানে বড় রাজনৈতিক ইস্যু। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামদানি তাঁর প্রচারণায় বলেছেন, নিউ ইয়র্ক শুধু ধনীদের নয়, শ্রমজীবী মানুষের শহর হতে হবে। তিনি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ, সাশ্রয়ী আবাসন ও বিনামূল্যে গণপরিবহনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন- যা নিম্নআয়ের ভোটারদের আকৃষ্ট করেছে।
ভোটের আগের জনমত জরিপে ১৮-৩৪ বছর বয়সী ভোটারদের মধ্যে মামদানির সমর্থন ছিল সর্বাধিক। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তরুণ ভোটাররা এমন রাজনীতিবিদ চান যিনি তাদের ভাষায় কথা বলেন। ডিজিটাল মাধ্যমে সংযোগ রাখেন এবং প্রতিশ্রুতিতেও স্বচ্ছ। মামদানি সেই প্রতিচ্ছবি হয়েছেন।
দ্য টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিজেকে গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী পরিচয় দিয়ে মামদানি প্রচারণার সময় বলেছেন, তাঁর প্রচারণা সম্পূর্ণ জনগণের দানে চলে, করপোরেট অনুদানে নয়। এই অবস্থান নিউ ইয়র্কের প্রগতিশীল ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের সততানির্ভর রাজনীতির প্রতীক হয়ে ওঠে।
এ ছাড়া, নিউ ইয়র্কের ভোটাররা নানা জাতি ও সম্প্রদায়ের। মামদানি প্রতিটি গোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি আলাপ করেছেন। লাতিনো কমিউনিটি থেকে ইহুদি সংগঠন, বাদ যাননি ভারতীয় কিংবা বাংলাদেশিরাও। বাংলা ভাষায় তাঁকে স্লোগান দিতেও দেখা গেছে।
এই বিষয়গুলোই ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতাসীন দল রিপাবলিকান পার্টির বিরুদ্ধে নির্বাচনে জয়ী হতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জোহরান মামদানির ‘ট্রাম্প কার্ড’ হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি তিনি এটিও প্রমাণ করেছেন, প্রতিনিধিত্বের রাজনীতি যখন আন্তরিক হয় তখন সেটি সীমান্ত মানে না। নিউ ইয়র্কের সাবওয়ে থেকে ঢাকার সোশ্যাল মিডিয়ার নিউজফিডেও আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার
শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার
Summary: হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় হিফজ বিভাগের ৮ বছর বয়সী এক শিশুসহ একাধিক শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে এক মাদরাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার কালেঙ্গা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চুনারুঘাট তাহসিনুল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার প্রিন্সিপাল ইমরান হোসাইনকে (৩২) গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে ওইদিন সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী শিশুর মা চুনারুঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২ নভেম্বর রাতে মাদরাসার হেফজ বিভাগের ওই ছাত্রকে ইমরান হোসাইন অফিস কক্ষে ডেকে নেন। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে শিশুটির ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন (বলাৎকার) করেন। পরদিন শিশুটি মাদরাসায় যেতে রাজি হচ্ছিল না। তখন পরিবারের সদস্যরা কারণ জানতে চাইলে ঘটনাটি প্রকাশ পায়।
শিশুর মা বলেন, ‘মাদরাসার হুজুর আমার ঘুমন্ত ছেলের পাশাপাশি আরও একাধিক শিশুকে বলাৎকার করেছেন ‘
চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুকে চিকিৎসা ও মেডিকেল পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
লুট হওয়া এসএমজি উদ্ধারে দেড় লাখ, এলএমজিতে ৫ লাখ টাকা পুরস্কার
লুট হওয়া এসএমজি উদ্ধারে দেড় লাখ, এলএমজিতে ৫ লাখ টাকা পুরস্কার
Summary: পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, পিস্তল ও শটগান উদ্ধারে ৫০ হাজার টাকা, চায়না রাইফেল উদ্ধারে ১ লাখ টাকা, এসএমজি উদ্ধারে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, এলএমজি উদ্ধারে ৫ লাখ টাকা এবং প্রতি রাউন্ড গুলি উদ্ধারে ৫০০ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।
ছাড়া তথ্য বা সন্ধান প্রদানকারী ব্যক্তির পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
পদত্যাগপত্র জমা না দিয়েই বাসায় ফিরলেন সালাউদ্দিন
পদত্যাগপত্র জমা না দিয়েই বাসায় ফিরলেন সালাউদ্দিন
Summary: বাংলাদেশ জাতীয় দলের সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের পদত্যাগের খবরে সকাল থেকেই উত্তাল ছিল ক্রিকেটাঙ্গন। কিন্তু মাঝ দুপুরে সেই নাটকের অবসান ঘটালেন সালাউদ্দিন নিজেই। পদত্যাগপত্র জমা দিতে আজ (বুধবার) সকালে বিসিবি ভবনে গেলেও শেষ পর্যন্ত তা জমা না দিয়েই বাসায় ফিরে গেছেন তিনি।
দিনের শুরুতে ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ‘ক্রিকবাজ’ এক প্রতিবেদনে জানায়, মোহাম্মদ সালাউদ্দিন তার বর্তমান ভূমিকায় সন্তুষ্ট না হওয়ায় বোর্ডকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদে চুক্তি থাকলেও, মাত্র এক বছরের মাথায় তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানানো হয়।
সালাউদ্দিনের এই পদত্যাগের সিদ্ধান্তের পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছিল আয়ারল্যান্ড সিরিজের জন্য মোহাম্মদ আশরাফুলকে নতুন ব্যাটিং পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়াকে। আশরাফুল আসায় সালাউদ্দিনের ভূমিকা খর্ব হয়েছে বলে তিনি মনে করছেন, এমনটাই গুঞ্জন ছিল।
এই গুঞ্জনের মধ্যেই সালাউদ্দিন আজ সকালে পদত্যাগপত্রটি সশরীরে জমা দিতে বিসিবিতে যান। কিন্তু বোর্ডে উপস্থিত হওয়ার পর তার সিদ্ধান্ত বদল হয়। তিনি শেষ পর্যন্ত পদত্যাগপত্র জমা দেননি। কি কারণে পদত্যাগ করতে এসেও সিদ্ধান্ত বদল করলেন সালাউদ্দিন, তা জানা যায়নি।
আগামী ৬ নভেম্বর আয়ারল্যান্ড দল বাংলাদেশ সফরে আসছে। ১১ নভেম্বর সিলেটে প্রথম টেস্ট দিয়ে সিরিজ শুরু হবে। এই সিরিজ দিয়েই সালাউদ্দিনের সঙ্গে কোচিং প্যানেলে যোগ দেবেন মোহাম্মদ আশরাফুল।
নির্বাচন হলে দেশের স্থিতিশীলতা আরও ভালো হবে: সেনাবাহিনী
নির্বাচন হলে দেশের স্থিতিশীলতা আরও ভালো হবে: সেনাবাহিনী
Summary: দেশের জনগণের মতো সেনাবাহিনীও চায় সরকারের রূপরেখা অনুযায়ী অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। সরকারের সেই রূপরেখার সময়সীমা উল্লেখ করা আছে। নির্বাচন হলে দেশের স্থিতিশীলতা আরও ভালো হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে। সেনাবাহিনী তখন সেনানিবাসে ফেরত যাবে। আমরা সেটার দিকে তাকিয়ে আছি।
বুধবার দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসের অফিসার্স ম্যাসে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, আর্মি সদর দপ্তরের ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড (জিওসি আর্টডক) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাইনুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন শান্তিকালীন সময়ে সেনাবাহিনীর দায়িত্ব হলো যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া। গত ১৫ মাস আমরা বাইরে রয়েছি। নির্বাচনের পর হয়তো আরও কিছুদিন থাকতে হবে। এ জন্য সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিঘ্নিত হচ্ছে। এর পাশাপাশি যে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সেনাবাহিনী দায়িত্বপালন করছে, এ ধরনের পরিস্থিতি বাংলাদেশ প্রতিদিন দেখেনি।’
লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাইনুর রহমান বলেন, ‘কিছু স্বার্থান্বেষী মহল সেনাবাহিনীর নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা, বানোয়াট ও অপপ্রচার চালাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। আমি আপনাদের নিশ্চিত করতে চাই, সেনাবাহিনী প্রধান এবং সেনাবাহিনীর সিনিয়র নেতৃত্বের প্রতি বাহিনীর প্রতিটি সদস্য অনুগত। আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় সেনাবাহিনী এখন আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ এবং আমাদের ভ্রাতৃত্ববোধ এখন আরও বেশি।’
তিনি বলেন, ‘আমার অনুরোধ থাকবে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে ধরনের প্রচারণা, এটা পরিহার করে ঐক্যব্ধভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাই। যে দায়িত্ব সেনাবাহিনীকে দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে যে দায়িত্ব দেওয়া হবে সেনাবাহিনী সেটা যথাযথভাবে পালন করবে। চিরদিন করেছে, সামনেও করবে। সোশ্যাল মিডিয়ার মিথ্যা প্রচারণার বিরুদ্ধে খুব বেশি কিছু করার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। আমাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট আছে, আমরা কী করেছি আমরা সেখানে উল্লেখ করি। তবে আসলে মিথ্যাকে বিতাড়িত করার জন্য সত্যই যথেষ্ট এবং সত্য দিয়েই সেটাকে প্রমাণ করতে চাই। আমরা কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চাই।’
পদত্যাগ করে নির্বাচন করবেন অ্যাটর্নি জেনারেল
পদত্যাগ করে নির্বাচন করবেন অ্যাটর্নি জেনারেল
Summary: পদত্যাগ করে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। ভোট করব।’
আজ বুধবার নিজ কার্যালয় সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
জানা গেছে, জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি থেকে ঝিনাইদহ-১ আসনে নির্বাচন করার কথা জানান অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফেরানোর আপিল শুনানি শেষে ওই সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি নমিনেশন চেয়েছি। আমি আশাবাদী নমিনেশন পাব।’
রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর গত বছর ৮ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের জ্যৈষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানকে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।
শুধু হিট নয়, সিনেমাটি হয়ে উঠেছিল সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি
শুধু হিট নয়, সিনেমাটি হয়ে উঠেছিল সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি
Summary: পঁচিশ বছর আগের কথা। সেই সময় মুক্তিপ্রাপ্ত হিন্দি সিনেমাগুলো ছিল নানা ঘরানার। পুরনো তারকা, পুরনো গল্প এবং পরিচিত ধারা। কিন্তু হঠাৎ সেই ধারা যেন পুরো চিত্রটাই পাল্টে দেয় একটি সিনেমা। নাম ‘কহো না পেয়ার হ্যায়’।
রাকেশ রোশনের পরিচালনায় তাঁর ছেলে হৃতিক রোশনকে নিয়ে নির্মিত রোমান্টিক সিনেমাটি শুধু হিটই হয়নি, হয়ে উঠেছিল এক সাংস্কৃতিক ঘটনা। এর মাধ্যমে তৈরি হয়েছিল এক নতুন ‘সুপারস্টার’। নাচে, গানে, প্রেমে ভরা এই সিনেমায় হৃতিক হয়ে উঠলেন নতুন প্রজন্মের এক জনপ্রিয় নায়ক। দুই দশক ধরে একই উজ্জ্বলতায় আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন এই তারকা।
হৃতিকই সেই একমাত্র ‘স্টার সন’, যিনি প্রথম সিনেমায় এমন সাড়া ফেলেছিলেন। তাঁর নাচের ভঙ্গি ছিল সম্পূর্ণ আধুনিক—মিঠুন বা গোবিন্দর প্রচলিত ব্রেকডান্সি ছন্দের বদলে এলো স্মার্ট, কুল, কালো নেট সিঙ্গলেট আর সানগ্লাসে মোড়া এক নতুন প্রজন্মের হিরো।
‘কহো না পেয়ার হ্যায়’ ছবিতে হৃতিকের বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন আমিশা পাটেল। অভিনয় করেন অনুপম খের, মোহনিশ বেহল, দালীপ তাহিল, আশিস বিদ্যার্থী, সতীস সাহাসহ আরও অনেকে।
হৃতিক রোশন ও আমিশা প্যাটেল। ছবি: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
এর আগে একটি সাক্ষাৎকারে হৃতিক নিজেই জানিয়েছেন, ‘কহো না পেয়ার হ্যায়’ সিনেমার মুক্তি পাওয়ার পর ৩০ হাজারের বেশি বিয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন তিনি।
‘কহো না পেয়ার হ্যায়’ সিনেমায় অনবদ্য অভিনয়ের কারণে সেরা অভিনেতা এবং সেরা নবাগত অভিনেতা হিসেবে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পেয়েছিলেন হৃতিক। এ ছাড়া ২০০৩ সালে লিমকা বুক অব রেকর্ডসে ঠাঁই পায় ‘কহো না পেয়ার হ্যায়’ ছবির নাম। সবচেয়ে বেশিসংখ্যক পুরস্কার ঝুলিতে ভরে রেকর্ড গড়েছিল হৃতিক অভিনীত সিনেমাটি। বিভিন্ন পুরস্কার প্রদান আসর থেকে সব মিলিয়ে ১০২টি পুরস্কার পেয়েছিল ‘কহো না পেয়ার হ্যায়’।
এছাড়া ‘কহো না প্যায়ার হ্যায়’ বিশাল সাফল্যের পর হৃতিক হয়ে উঠেছিলেন নব্বইয়ের দশকের তিন খান- শাহরুখ, সালমান ও আমিরের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী। যদিও পরবর্তীতে ‘কোই মিল গেয়া’ বা ‘কৃষ’ সিরিজের সাফল্য সত্ত্বেও তিনি আর সেই উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেননি।
২০২৫ সালে এসে দেখা যায় তিন খান এখনও বলিউডে রাজত্ব করছেন। হৃতিক যদিও জনপ্রিয়তার সেই সমান্তরাল পর্যায়ে আর নেই। সর্বশেষ তাঁকে দেখা গেছে দর্শকদের ‘ওয়ার ২’ দেখতে আহ্বান জানাতে-যে ছবিটি সিনেমা হলে ব্যর্থ হয়ে শেষমেশ নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে। বিদ্রূপের বিষয়, যিনি বড় পর্দার জন্য তৈরি এক নায়ক তিনিই এখন দর্শককে আহ্বান করছেন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তার ছবি দেখার জন্য! সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
এশিয়া কাপের ঘটনায় নিষিদ্ধ রউফ, শাস্তি সূর্য-বুমরাহরও
এশিয়া কাপের ঘটনায় নিষিদ্ধ রউফ, শাস্তি সূর্য-বুমরাহরও
Summary: এশিয়া কাপ শেষ হয়েছে এক মাসেরও বেশি সময় আগে। এত দিন পর পাকিস্তানি পেসার হারিস রউফের বিরুদ্ধে শাস্তি ঘোষণা করেছে আইসিসি। খেলার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার দায়ে পাকিস্তানের এই পেসারকে দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শাস্তির খড়্গ নেমে এসেছে ভারতীয় খেলোয়াড়দের ওপরও। রাজনৈতিক মন্তব্য করায় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ও অখেলোয়াড়সুলভ আচরণের জন্য জসপ্রিত বুমরাহও ডিমেরিট পয়েন্ট পেয়েছেন।
আইসিসির বিবৃতি অনুযায়ী, হারিস রউফ এশিয়া কাপে দুটি ভিন্ন ম্যাচে (২১ সেপ্টেম্বর সুপার ফোর ও ২৮ সেপ্টেম্বর ফাইনাল) আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। অভিযোগ অস্বীকার করায় শুনানির পর তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ২৪ মাসের মধ্যে মোট চারটি ডিমেরিট পয়েন্ট জমা হওয়ায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে দুই ম্যাচের এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলো।
অভিযোগ রয়েছে, রউফ ২১ সেপ্টেম্বর ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে দর্শকদের দিকে ‘৬-০’ ইশারা এবং বিমান ভূপাতিত করার মতো ভঙ্গি দেখান, যা ভারতীয় সামরিক বাহিনীকে কটাক্ষ করে করা বলে দাবি ওঠে।
শাস্তি পেয়েছেন ভারতীয় খেলোয়াড়েরাও। ১৪ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে এসে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব দলের জয়টি ‘ভারতের সামরিক বাহিনীকে’ উৎসর্গ করেন। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এটিকে রাজনৈতিক ইঙ্গিত হিসেবে অভিযোগ জানায়। তদন্ত শেষে সূর্যকুমারকে দুটি ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ফাইনালে একই ধরনের (বিমান ভূপাতিত) অঙ্গভঙ্গি করায় জাসপ্রিত বুমরাহ পেয়েছেন এক ডিমেরিট পয়েন্ট।
পাকিস্তানি ওপেনার সাহিবজাদা ফারহানকেও ব্যাট দিয়ে গুলি ছোড়ার ভঙ্গি করার জন্য একটি ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়া হয়েছে। তবে অশালীন ইঙ্গিতের অভিযোগ থেকে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন ভারতীয় পেসার আর্শদীপ সিং।
এবারের এশিয়া কাপে ভারত-পাকিস্তান তিনটি ম্যাচই ছিল প্রচণ্ড উত্তেজনাপূর্ণ। টুর্নামেন্টে তিনটি ম্যাচেই পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলাতে অস্বীকৃতি জানান ভারতের ক্রিকেটাররা। এমনকি ফাইনালে ভারত পিসিবি চেয়ারম্যান ও এসিসি সভাপতি মহসিন নাকভির হাত থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং সেই ট্রফি এখনো বুঝে পায়নি।
পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণ: আজ দায়িত্ব নিচ্ছেন প্রশাসকরা
পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণ: আজ দায়িত্ব নিচ্ছেন প্রশাসকরা
Summary: সমস্যাগ্রস্ত শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংক মিলে একটি বড় ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ চূড়ান্ত রূপ নিল। আজ বুধবার বিকেলে ব্যাংকগুলোর দায়িত্ব বুঝে নেবেন প্রশাসকরা। একইসঙ্গে এসব ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে যাচ্ছে। নিয়মিত এমডিরা বাদ পড়ছেন বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আজ সকালে ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, এখন থেকে এসব ব্যাংক চলবে ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশের আওতায়। সার্বিক বিষয় তুলে ধরতে আজ বিকেল ৪টায় সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। প্রশাসক হিসেবে কোন ব্যাংকে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে এবং তাদের কাজ কী হবে তা ঠিক করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রশাসকরা দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ধাপে প্রত্যেক আমানতকারীকে আমানত সুরক্ষা তহবিল থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ ব্যাংক মিলে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের মূলধন হবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে সরকার। আর আমানতকারীদের ১৫ হাজার কোটি টাকার শেয়ার দেওয়া হবে।
একীভূত হতে যাওয়া পাঁচ ব্যাংকে ৭৫ লাখ আমানতকারীর বর্তমান জমা আছে এক লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে ঋণ রয়েছে এক লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এক লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা বা ৭৬ শতাংশ এখন খেলাপি। সারাদেশে এসব ব্যাংকের ৭৬০টি শাখা, ৬৯৮টি উপশাখা, ৫১১টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং ৯৭৫টি এটিএম বুথ রয়েছে। ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ৯৮ শতাংশ ঋণ খেলাপি ইউনিয়ন ব্যাংকের। পর্যায়ক্রমে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামীর ৯৭ শতাংশ, গ্লোবাল ইসলামীর ৯৫ শতাংশ, সোশ্যাল ইসলামীর ৬২ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং এক্সিম ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৪৮ দশমিক ২০ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আমানতকারীর সুরক্ষা এসব ব্যাংক একীভূতকরণের মূল লক্ষ্য। প্রথম ধাপে আমানত সুরক্ষা তহবিল থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হবে। কারও দুই লাখ টাকা জমা থাকলে তিনি পুরো অর্থ তুলতে পারবেন। এর বেশি থাকলেও পুরো অর্থ পাবেন। তবে প্রথম ধাপে সুরক্ষা তহবিল থেকে দুই লাখ টাকা দেওয়া হবে। বাকি টাকা ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে পরিশোধ হবে। এ ক্ষেত্রে মূলধন হিসেবে সরকারের দেওয়া অর্থ, নতুন আমানত সংগ্রহ ও ঋণ আদায়ের মাধ্যমে তহবিল বাড়ানো হবে। মেয়াদী আমানতের ক্ষেত্রে আসল অঙ্কের সঙ্গে ৪ শতাংশ হারে মুনাফা দেওয়া হবে। আর সঞ্চয়ী বা চলতি হিসাবে আসল টাকা পুরোটা ফেরত পাবেন। বর্তমানে এসব ব্যাংক ঠিকমতো আমানত ফেরত দিতে পারছে না।
প্রশাসক হিসেবে কে কোন ব্যাংকে
প্রশাসকরা দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হবে। আর এমডির চুক্তি বাতিল হবে। প্রশাসক হিসেবে এক্সিম ব্যাংকের দায়িত্ব পাচ্ছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শওকাতুল আলম। সোশ্যাল ইসলামীতে নির্বাহী পরিচালক সালাহ উদ্দিন এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে দায়িত্ব পাচ্ছেন আরেক নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মদ বদিউজ্জামান দিদার। আর গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে পরিচালক মো. মোকসুদুজ্জামান এবং ইউনিয়ন ব্যাংকে আরেক পরিচালক মোহাম্মদ আবুল হাসেমকে।
প্রশাসকদের প্রথম কাজ হবে পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণে সব ধরনের তথ্য সরবরাহ। সেনাকল্যাণ ভবনে এসব ব্যাংক একীভূতকরণের জন্য স্থাপিত কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা সব তথ্য সমন্বয় করবেন।
হালান্ডকে আটকানোর চ্যালেঞ্জ
হালান্ডকে আটকানোর চ্যালেঞ্জ
Summary: মাত্র দুই দিন আগে আর্লিং হালান্ডকে লিওনেল মেসি-ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে তুলনা করেছেন ম্যানচেস্টার সিটি বস পেপ গার্দিওলা। আজ রাতে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে সেই হালান্ডের মুখোমুখি হবে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। সিটির এই নওরোজিয়ান গোলমেশিনকে থামাতে পারবে জার্মান জায়ান্টরা? আজ রাতে আসরের অন্যতম ফেভারিট বার্সেলোনাও মাঠে নামছে। বেলজিয়ামের ক্লাব ব্রুজের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচে নামছে কাতালান জায়ান্টরা। দুই তরুণ মিডফিল্ডার গাবি ও পেদ্রি চোটের কারণে মাঠের বাইরে। ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার রাফিনহাও নেই। তাই আজ লামিনে ইয়ামালকে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে।
গত রোববার রাতে বোর্নামাউথের বিপক্ষে জোড়া গোল করার পর হালান্ডকে দুই কিংবদন্তির সঙ্গে তুলনা করেন গার্দিওলা। চলতি মৌসুমে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন হালান্ড। প্রিমিয়ার লিগে ১০ ম্যাচে তাঁর গোল ১৩টি, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতার চেয়ে সাতটি বেশি। আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের তিন ম্যাচে ৪ গোল। চলতি মৌসুমে সিটির গোল করার ভার যেন পুরোপুরি হালান্ডের কাঁধে। সিটির ৩১ গোলের ১৭টিই করেছেন তিনি। ৩৬ দলের গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলে সপ্তম স্থানে সিটি। ডর্টমুন্ডের পয়েন্টও তাদের সমান ৭। তবে গোল পার্থক্যে এগিয়ে থাকায় ষষ্ঠ স্থান জার্মান ক্লাবটির।
ডর্টমুন্ডের অবস্থা বুন্দেসলিগায় খুব একটা ভালো না। শীর্ষে থাকা বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হেরে তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে তারা। তবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রীতিমতো গোল বন্যা বইয়ে দিয়েছে তারা। জুভেন্টাসের সঙ্গে ৪-৪ গোলে ড্র করার পর অ্যাথলেটিক বিলবাওকে ৪-১ ব্যবধানে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ডর্টমুন্ড। আরেক ম্যাচে ডেনমার্কে গিয়ে এফসি কোপেনহেগেনকে ৪-২ গোলে হারিয়ে এসেছে। তাদের এই গোল বন্যায় মূল ভূমিকা রেখেছেন ফেলিক্স এনমেচা, গুইরেসি ও জুব বেলিংহামের। বিশেষ করে জুড বেলিংহামের ছোট ভাই জুব।
গুরুত্বপূর্ণ এ ম্যাচে ব্যালন ডি’অর জয়ী মিডফিল্ডার রদ্রিকে পাচ্ছে না সিটি, এখনও পুরোপুরি ফিট নন তিনি। আরেক তারকা মিডফিল্ডার মাতেও কোভাসিচ অনেক দিন ধরে মাঠের বাইরে। এদিক থেকে ডর্টমুন্ডের জন্য সুখবরই বলতে হবে। চোট থেকে সেরে উঠেছেন তাদের রক্ষণভাগের দুই তারকা নিকো শ্লোটারবেক ও নিকলাস সুলে। ইতিহাস কিন্তু সিটির পক্ষে। দুই দলের সর্বশেষ পাঁচ লড়াইয়ে সিটির জয় তিনটি, ডর্টমুন্ড জিতেছে একটি ও একটি ম্যাচ ড্র। ইতিহাদ স্টেডিয়ামে জার্মান ক্লাবের বিপক্ষে সর্বশেষ ১১ ম্যাচের সবকটিতে জয় পেয়েছে সিটি। আর ডর্টমুন্ড তো কোনো দিন ইতিহাদে জয়ের দেখা পায়নি।
বগুড়ায় অটোরিকশাচালকের লাশ পড়ে ছিল বাগানের পাশে
বগুড়ায় অটোরিকশাচালকের লাশ পড়ে ছিল বাগানের পাশে
Summary: বগুড়ায় মোফাজ্জল হোসেন মোফা ( ৫২) নামের এক অটোরিকশাচালকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার সকালে শাজাহানপুর উপজেলার ফুলদীঘি এলাকার প্রথম বাইপাস মহাসড়ক সংলগ্ন তুঁত বাগানের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
সমকালকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাজাহানপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম শফিক।
নিহত মোফাজ্জল হোসেন বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার খলিশাকান্দি গ্রামের মোবারক আলীর ছেলে। তিনি অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন মোফাজ্জল। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। বুধবার সকালে মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে তার পরিচয় নিশ্চিত করেন স্বজনেরা। পরবর্তীতে পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
শাজাহানপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, মোফাজ্জলের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং গলার অংশ অর্ধ কাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে। অটোরিকশাটিরও সন্ধান মিলেনি। হত্যার কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে শুধু অটো ছিনতাই থেকে এই হত্যাকাণ্ড, এমনটা মনে হচ্ছে না। আমরা মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছি।
গাজীপুরে ঝুটের গুদামে আগুন
গাজীপুরে ঝুটের গুদামে আগুন
Summary: গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ির আমবাগ বাবুর্চির মোড় এলাকায় একটি ঝুটের গুদামে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানিয়েছেন গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুন।
ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে গুদামের ঝুটসহ মালামাল পুড়ে গেছে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, সকালে স্থানীয়রা গুদাম থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে প্রাথমিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়লে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে কোনাবাড়ি মডার্ন ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট এবং ভোগড়া ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তাদের প্রচেষ্টায় প্রায় এক ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
তবে, কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে নির্ধারণ করা হবে বলে জানান গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুন।
টরন্টোর বুকে সুউচ্চ দানব!
টরন্টোর বুকে সুউচ্চ দানব!
Summary: বিমান যখন নামছে টরন্টো পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে, জানালার কাচঘেঁষে তাকিয়ে দেখি শহরের বুক চিরে দাঁড়িয়ে আছে এক সুউচ্চ দানব! রোদে ঝলমল করছে ধাতব দেহ, মাথায় মেঘের ছায়া। হঠাৎ মনে হলো, এই কি সেই বিখ্যাত সিএন টাওয়ার? যাকে বলা হয় কানাডার গর্ব, টরন্টোর প্রাণ। ছবিতে আগেই দেখেছি স্থাপনাটি। সে কারণে কিছুটা ধারণা করতে পারছিলাম এটিই সেই সিএন টাওয়ার।
টাওয়ারের প্রথম দেখা
সিএন টাওয়ারটি কেবল ইস্পাত, কাচ আর কংক্রিটের স্তম্ভ নয়–এটিকে বলা হয় টরন্টোর আত্মা। স্থানীয়রা বলে, ইফ ইউ হ্যাভন’ট সিএন টাওয়ার, ইউ হ্যাভন’ট সিএন টরেন্টো। প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক এখানে আসেন–কেউ পরিবারের সঙ্গে, কেউ প্রিয়জনের হাত ধরে, কেউবা নিঃসঙ্গ ভ্রমণকারী হয়ে নিজের মনের প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে। ফিরে যান একরাশ মুগ্ধতা নিয়ে। টরন্টোতে নেমে একদিন বিশ্রাম শেষে প্রথমেই পরিকল্পনায় ছিল সিএন টাওয়ার দেখার। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়া। লেক অন্টারিওর তীর ধরে হাঁটতে হাঁটতে দূর থেকে যখন টাওয়ারটি চোখে পড়ল, তখন মনে হলো, যেন আকাশ ছুঁয়ে থাকা কোনো জাহাজের মাস্তুলকে দেখছিলাম। কাছাকাছি আসতেই মাথা ঘুরে যায়–এত উঁচু! ৫৫৩ মিটার বা এক হাজার ৮১৫ ফুট। ওপরের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে ঘাড়-মাথা ব্যথা হওয়ার উপক্রম। তবে বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে থাকা শেষ হয় না।
১৯৭৬ সালে নির্মিত এই টাওয়ার একসময় ছিল বিশ্বের সর্বোচ্চ মানবনির্মিত স্থাপনা। যদিও এখন দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা সেই খেতাব ছিনিয়ে নিয়েছে। তবুও টরন্টোবাসীর গর্বে কোনো ঘাটতি নেই। বিশ্বের অন্যতম আধুনিক এ শহরটিতে পা রাখলেই কেউ আকাশের দিকে তাকিয়ে সিএন টাওয়ারের প্রশংসা করতে ভোলেন না; যেন শহরের হৃদয়ে গভীরভাবে খোদাই করা একটি গর্বিত প্রতীক এটি। স্কাইপড পর্যবেক্ষণ ডেক থেকে টরন্টোর বিশাল লেক অন্টারিও পর্যন্ত বিস্তৃত প্যানোরামিক দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ পাওয়া যায় এ টাওয়ারটি থেকে; যেখান থেকে জলের পৃষ্ঠটি একটি বিশাল আয়নার মতো লাগে।
ইতিহাসের আকাশছোঁয়া অধ্যায়
সত্তরের দশকের প্রথম দিকে কানাডিয়ান ন্যাশনাল রেলওয়ে কোম্পানি টাওয়ারটি নির্মাণ করে তাদের যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রতীক হিসেবে। নামের শুরুতে থাকা সিএন আসলে সেই কানাডিয়ান ন্যাশনালের সংক্ষিপ্ত রূপ। তারা চেয়েছিল এমন একটি টাওয়ার গড়ে তুলতে, যা শুধু টেলিযোগাযোগ নয়, কানাডার উদ্ভাবনী শক্তিরও প্রতীক হবে। ১৯৭৩ সালে শুরু হয়ে মাত্র ৪০ মাসে শেষ হয় এর নির্মাণকাজ। বিষয়টি আরেকটু মনোযোগ দিয়ে ভাবলে অবাক নয়–বিস্ময় জাগানিয়া প্রশ্ন উঠবে মনে। সেই সময়ের প্রযুক্তিতে কত সাহস আর পরিশ্রমের কাজ ছিল এটি; যা হয়তো অনেক দেশ কল্পনাও করতে পারত না। ফলে টাওয়ারটি আজ হয়ে আছে বিস্ময়ের প্রতীক হয়ে।
লিফটে চড়ে স্বপ্নের উচ্চতায়
টাওয়ারে প্রবেশ করতে মনে হলো যেন কোনো ভবিষ্যতের জগতে ঢুকে পড়েছি। ভেতরের কাচের লিফট যখন এক ঝটকায় ওপরে উঠতে শুরু করল, তখন বুকের ভেতরটা ধকধক করছে। ভয় জাপটে ধরছিল পুরো শরীরকে। সেই সঙ্গে রোমাঞ্চও। মাত্র ৫৮ সেকেন্ডে আমরা পৌঁছে গেলাম অবজারভেশন ডেকে। মানে প্রায় ৪৪৭ মিটার ওপরে! নিচে তাকাতেই মাথা ঘুরে গেল। বিশ্বাস হচ্ছিল না পৃথিবী থেকে এত উচ্চতায় আমি। পুরো শহরটা যেন একটা ছোট মানচিত্রের মতো লাগল। গাড়িগুলো পিঁপড়ের মতো ছুটছে, লেক অন্টারিও ধরা দিচ্ছে এক বিশাল আয়নার মতো হয়ে। টাওয়ারের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা ছিল গ্লাস ফ্লোর; যার মেঝে পুরোটা কাচের তৈরি। ওপর থেকে তাকালে প্রায় দেড় হাজার ফুট দূরে মাটি। প্রথমে পা রাখতে ভয় লাগছিল, মনে হচ্ছিল যে কোনো মুহূর্তে নিচে পড়ে যাব, গ্লাস ভেঙে নেহাত দুর্ঘটনার শিকার হবো। যখন বুঝলাম এটি ১৪ সেন্টিমিটার পুরু, ইস্পাতের চেয়েও শক্ত, তখন সাহস করে দাঁড়ালাম। সেই মুহূর্তে মনে হলো, আমি যেন আকাশে ভাসছি– একটা পাখি, যার নিচে শহর, লেক, নদী আর হাজার হাজার মানুষ।
এখানে হাঁটার দারুণ অভিজ্ঞতা ভুলতে চাইলেও হয়তো ভুলা সম্ভব নয়। এরপর গেলাম টাওয়ারের বিখ্যাত ৩৬০ রেস্তোরাঁয়। এখানে বসে খাবার খেতে খেতে পুরো শহরকে ধীরে ধীরে ঘুরে দেখা যায়। এক ঘণ্টায় পুরোটা একবার ঘুরে আসে। আমি বসেছিলাম জানালার পাশে। এক পাতে স্যালমন ফিশ আর এক কাপ কানাডিয়ান কফি, সামনে শহরের আলোছায়া, দূরে নীল লেক অন্টারিও; যেন হলিউডের কোনো চলচ্চিত্রের দৃশ্যের মধ্যেই যাপন করছিলাম সময়টা। রেস্তোরাঁর কর্মী হাসিমুখে বললেন, ইউ আর ডাইনিং ইন দ্য স্কাই! সত্যিই আকাশে বসে খাবার খাওয়ার মতো অনুভূতি হয় এখানে।
টাওয়ারের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর আকর্ষণ হলো এজ ওয়াক। এটি পৃথিবীর সর্বোচ্চ হ্যান্ডস-ফ্রি ওয়াকওয়ে। অর্থাৎ আপনি কোনো রেলিং না ধরে ৩৫৬ মিটার ওপরে টাওয়ারের কিনারায় হাঁটতে পারবেন। অবশ্যই সেফটি বেল্ট পরে। আমি শুধু নিচ থেকে দেখছিলাম মানুষগুলোকে–তারা যেন মৃত্যুর সঙ্গে হাসিমুখে খেলা করছে। কিন্তু টাওয়ারের এই কিনারা দিয়ে এভাবে হাঁটার সাহস হয়নি। আবার যদি কোনোদিন আসা হয় এই টাওয়ারের উচ্চতায় হয়তো সেদিন সাহস করে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেব। ভবিষ্যতের জন্য ইচ্ছেকে তুলে রাখলাম।
লেখক: সংবাদিক ও লেখক
আমরা এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি: নাহিদ ইসলাম
আমরা এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি: নাহিদ ইসলাম
Summary: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘সমঝোতা বা জোট, এটা একটি রাজনৈতিক ও আদর্শিক জায়গা থেকে হতে পারে। যেমন জুলাই সনদের বিষয়টি রয়েছে। এই সনদে আমাদের সংস্কারের দাবিগুলোর সঙ্গে যদি কোনো দল সংহতি প্রকাশ করে সেক্ষেত্রে হয়তো আমরা জোটের সিদ্ধান্ত নেব। এখন পর্যন্ত আমরা এককভাবেই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা এই মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে আমাদের প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করব এবং আমরা এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
আজ বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইলে শহীদ জুলাই যোদ্ধা গাজী সালাউদ্দিনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি, আমরা এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। ৩০০ আসনেই নির্বাচন করা আমাদের লক্ষ্য। তবে যারা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন, খালেদা জিয়ার কথা নাসিরুদ্দিন ভাই বলেছেন, তাদের সম্মানের জন্য আমরা সেসকল আসনে প্রার্থী দেব না। এছাড়া সকল আসনেই শাপলা কলির প্রার্থী দেব।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের কাছে আহ্বান জানিয়েছি, আমরা এবার বাংলাদেশের নির্বাচনের যে সংস্কৃতি, যাদের টাকা আছে, এলাকায় গডফাদারগিরি করে আমরা সেই সংস্কৃতিকে চ্যালেঞ্জ করতে চাই। এলাকার সাধারণ যে মানুষ, যাকে মানুষের প্রয়োজনে পাওয়া যায় যাদের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে তাদের আমরা সংসদে দেখতে চাই।’
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘আমরা গাজী সালাহউদ্দিন ভাইয়ের মৃত্যুতে গভীর ভাবে শোকাহত। জুলাই যোদ্ধাদের সুচিকিৎসার যে দায়িত্ব অন্তর্বর্তী সরকারের ছিল, তারা তা পালন করতে পারেনি বিধায় আজ লাশের সংখ্যা বাড়ছে, মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। আমাদের শহীদের সংখ্যা বাড়ছে। আমরা সরকারকে বলতে চাই, গণঅভ্যুত্থানের আহত যোদ্ধা যারা এখনও কাতরাচ্ছেন, এখনও যাদের শরীরে স্প্রিন্টার রয়েছে, যারা নানা ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের যেন চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। অনেকেরই দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা প্রয়োজন। এটা নিশ্চিত না হলে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকবে।’
নির্বাচনী ডামাডোলে জুলাই আহত ও শহীদদের কথা ভুলে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘পরবর্তী নির্বাচিত সরকার যেই আসুক না কেন আমাদের এই কমিটমেন্ট যেন থাকে। আমরা গাজী সালাহউদ্দিনের পরিবারের পাশে আছি। আমি আহ্বান জানাই, সরকার যেন তার দায়িত্ব নেয়। তিনি মারা যাওয়ার কয়েকদিন আগে একটি রাজনৈতিক দলের কর্মীদের দ্বারা হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন। শুনেছি, তারা স্থানীয় কয়েকজন বিএনপির কর্মী, এটি থানা পুলিশ পর্যন্ত গিয়েছে। এ ছাড়া শুনেছি, আওয়ামী লীগের সব সময় একটা থ্রেড থাকে। এরকম জুলাই যোদ্ধারা যারা সারাদেশে আছেন তাদের রাজনৈতিক নিরাপত্তার সংকটও রয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে আমরা তাদের পাশে আছি। সরকারকে এবং সকল রাজনৈতিক দলকে দায়িত্ব নিতে হবে, কারণ তাদের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা ফ্যাসিবাদকে বিতাড়িত করতে পেরেছি এবং নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। এই নতুন বাংলাদেশ কোনো ফ্যাসিবাদীর জায়গা হবে না।’
বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে ভোটাধিকার হরণের শঙ্কা
বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে ভোটাধিকার হরণের শঙ্কা
Summary: বিশ্বের সর্বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে পরিচিত ভারতের ১২টি রাজ্য ও অঞ্চলে মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ। তিন মাসব্যাপী ভোটার রেজিস্ট্রেশন সংশোধনের অভিযানের নাম স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ২০২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এরই মধ্যে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং এ প্রক্রিয়ার বিস্তৃতি নিয়ে কর্মীরা সতর্ক করেছেন যে, এটি লাখ লাখ নাগরিকের ভোটাধিকার হরণের কারণও হতে পারে।
ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, যে ১২ রাজ্য ও অঞ্চলে এসআইআর শুরু হয়েছে, এর মধ্যে কয়েকটিতে আগামী বছর স্থানীয় নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। ভারতের নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমার এই অভিযানের ঘোষণা করার সময় সাংবাদিকদের বলেন, এসআইআরে যুক্ত কর্মকর্তারা ভোটারকে গণনার ফরম পূরণ করতে, তা সংগ্রহ করতে এবং জমা দিতে সাহায্য করবেন।
এএফপিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের শুরুতে, ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) বিহার আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে একই রকম ভোটার তালিকা সংশোধন অভিযান চালিয়েছিল। দেখা যায়, এই প্রক্রিয়ার ফলে প্রায় ৬৫ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়ে। বিদেশি বা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করে এই ভোটারদের বাদ দেওয়া হয়। ফলে অন্যান্য রাজ্যেও যে এসআইআরে একই ফল ঘটবে না, তা বলা যাচ্ছে না।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপির সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, বাংলাদেশ থেকে আসা নথিবিহীন মুসলিম অভিবাসীরা নানা কৌশলে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হচ্ছে। ফলে গোটা দেশের ভোটার তালিকায় জরুরি সংশোধন প্রয়োজন। তবে সমালোচকদের যুক্তি, এসআইআরে কঠোর নথিভুক্তির প্রয়োজনীয়তা থাকার কারণে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় নাগরিক ভুলবশত তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন। কারণ এমনও দেখা গেছে, অনেক জীবিত ভোটারকে নতুন এসআইআরে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। আবার খসড়া তালিকা থেকে হয়তো বাদ দেওয়া হয়েছে পুরো পরিবারকে।
সর্বশেষ এসআইআর অভিযানে ভারতের সর্বাধিক জনবহুল রাজ্য উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু ও কেরালার নাম রয়েছে। সেখানে ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকা সংশোধন অভিযানের কারণে লাখ লাখ মানুষ তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন–এমন আশঙ্কায় বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন এবং রাজনৈতিক দল এর বিরুদ্ধে আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জ করেছে। গত সোমবার সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর নিয়ে তাদের আপত্তি জানিয়েছে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের দল। স্ট্যালিন এসআইআর প্রক্রিয়াকে আসল ভোটারদের নাম বাদ দিতে বিজেপি ও তার জোটের নিছক একটি কৌশল বলে আখ্যায়িত করেছেন।
রাফীর আন্ধারে চঞ্চল-সিয়ামদের সঙ্গে আছেন রেহানও
রাফীর আন্ধারে চঞ্চল-সিয়ামদের সঙ্গে আছেন রেহানও
Summary: ফেসবুকে ভাইরাল এক তরুণ মডেলের ভিডিও ও ছবি ঘুরে বেড়াচ্ছিল গত বছরের শুরুর দিকে। রীতিমতো তাকে নিয়ে হইচই পড়ে ইন্টারনেট দুনিয়ায়। বিড়ালচোখের এই তরুণের ছবিতে লাভ-লাইকের ছড়াছড়ি পড়েছিল। এরপর থেকে তাকে পেছনে তাকাতে হয়নি। এন্ট্রি নিয়েছেন অভিনয়ে। তিনি ফাররুখ আহমেদ রেহান।
অনেকেই দীর্ঘ সময় লড়ে লড়ে জায়গা করে নেন, কিন্তু ভাগ্যবানদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন এই রেহান। ক্যারিয়ারের শুরুতেই নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন তিনি। মডেল হিসেবে শুরু, এরপর পরিচালক ভিকি জাহেদের ওয়েব ফিল্ম ‘আরারাত’ (২০২৪)-এ জিন চরিত্রে অভিনয় করে আলোচনায় আসেন রেহান। পরে ‘নীল সুখ’ তাঁর জনপ্রিয়তাকে আরও দৃঢ় করেছে, প্রমাণ করেছে– এই তরুণ অভিনেতা থাকতে এসেছেন দীর্ঘ সময়ের জন্য।
এবার রেহানকে নিয়ে এলো চমক জাগানিয়া খবর। নাটক ও ওটিটির পর এবার তিনি যাত্রা করছেন সিনেমায়। নির্মাতা রায়হান রাফীর আলোচিত সিনেমা ‘আন্ধার’-এর হিমেল চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। সম্প্রতি অফিসিয়ালি ঘোষণায় তথ্যটি জানিয়েছেন সিনেমার টিম।
এতদিন সিনেমাটি নিয়ে নানা খবর প্রকাশিত হয়েছে, এবার অফিসিয়ালি সব জানিয়ে দেয় আন্ধার টিম। সেখানেই জানানো হয় এতে মুখ্য চরিত্রে থাকছেন চঞ্চল চৌধুরী, সিয়াম আহমেদ, আফসানা মিমি ও নাজিফা তুষি। তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে থাকছেন রেহান।
সিনেমাটিতে যুক্ত হওয়ায় দারুণ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন রেহান। তাঁর ভাষ্য, আন্ধার অসাধারণ গল্পের সিনেমা। এমন গল্পের সিনেমা খুব একটা বাংলাদেশে হয়নি। টিমও দুর্দান্ত। আছেন চঞ্চল ভাই, সিয়াম ভাই ও তুষি আপার মতো অভিনেতারা। তাদের সঙ্গে এই যুক্ত হওয়াটা আমার জন্য সত্যিই দারুণ কিছু।
রেহান আরও বলেন, ‘শোবিজে আমার পথচলা বেশি দিনের নয়। কিন্তু সবার ভালোবাসায় অল্প সময়েই দারুণ দারুণ প্রজেক্টে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছি। এটা আমার জন্য পরম সৌভাগ্যের। সিনেমাটিতে আমি হিমেল চরিত্রে অভিনয় করেছি। এর বেশি বলার অনুমতি নেই। তবে এটুকু নিশ্চয়তা দিতে পারি, সিনেমাটি দারুণ নির্মাণ। এতে হিমেল চরিত্রটিও দর্শকদের হৃদয়ে দাগ কাটবে।’
এই সিনেমাটির গল্প লিখেছেন অর্থহীন ব্যান্ডের সাইদুস সালেহীন সুমন এবং ক্রিপটিক ফেইট ব্যান্ডের শাকিব চৌধুরী। তারা দুজনই ভূতপ্রেমিক এবং বিভিন্ন ভৌতিক স্থান ঘুরে ভূতের অনেক গল্প সংগ্রহ করেছেন। তাদের সেই সব গল্প নিয়েই এই সিনেমাটি তৈরি হচ্ছে। সুমন এবং শাকিব চৌধুরীর সঙ্গে গল্পের সহ-লেখক হিসেবে আছেন আদনান আদিব খান।
সিনেমাটি প্রযোজনা করছে নতুন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘২২১ বি’, যার সঙ্গে যুক্ত আছেন সারাহ আলী খান, শাকিব চৌধুরী এবং আদনান আদিব। বিভিন্ন চরিত্রে সিনেমাটিতে আরও অভিনয় করেছেন গাজী রাকায়েত, ইভান মনোয়ারসহ অনেকেই।
নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে সুদানের পরিস্থিতি, যুদ্ধবিরতি নিয়ে বৈঠক
নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে সুদানের পরিস্থিতি, যুদ্ধবিরতি নিয়ে বৈঠক
Summary: ট্রাম্পের আফ্রিকাবিষয়ক দূত মাসাদ বুলোস রোববার মিসরে সুদানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সোমবার আরব লিগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তারা বলেন, মানবিক যুদ্ধবিরতি ও স্থায়ী শান্তি স্থাপনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আরএসএফ এল-ফাশের দখলের পর খবর আসে, সেখানে বড় ধরনের হত্যাযজ্ঞ, ধর্ষণ, লুটপাট, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও সাহায্যকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) জানান, এসব ঘটনা যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
কাতারে এক ফোরামে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘দুই পক্ষের উচিত এখনই আলোচনায় বসে এই সহিংসতার দুঃস্বপ্নের অবসান ঘটানো।’ এদিকে সুদানের উত্তর করদোফান রাজ্যে সাধারণ মানুষের ওপর ড্রোন হামলায় নারী-শিশুসহ ৪০ জন নিহত হয়েছে। গত সোমবার আরএসএফ রাজ্যটির আল-লুয়াইব গ্রামে এ হামলা চালায়।
মার্কিন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়ে বৈঠকে সেনা-সমর্থিত কাউন্সিল
সুদানে চলমান গৃহযুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়ে বৈঠকে বসছে সেনাবাহিনী-সমর্থিত প্রশাসন। মঙ্গলবার এ বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। জাতিসংঘ মহাসচিবও এই সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। এটিকে তিনি ‘সহিংসতার দুঃস্বপ্ন’ বলে অভিহিত করেছেন।
বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, গত দুই বছরে এ যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোয় সংঘাত এত ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এক সরকারি সূত্র জানায়, ‘নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কাউন্সিল আজ (মঙ্গলবার) যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়ে বৈঠকে বসবে।’ এদিকে সর্বশেষ পরিস্থিতিতে দেখা গেছে, আধা সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) দারফুর অঞ্চলের শেষ সেনা ঘাঁটি এল-ফাশের দখলে নেওয়ার পর করদোফান অঞ্চলে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
গাজার অধিকাংশ মানুষ ট্রমায়
গাজার অধিকাংশ মানুষ ট্রমায়
Summary: ফিলিস্তিনের গাজায় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। সর্বশেষ একটি স্কুলে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা হয়েছে। বাসিন্দরা এখনও নিশ্চিন্তে জীবনযাপন করতে পারছেন না। গত দুই বছরের যুদ্ধে গাজার সব বাসিন্দা এখন ট্রমায় আক্রান্ত। নারী-শিশুরা মাঝে মাঝেই নিজের অজান্তে আঁতকে ওঠে। বাসিন্দাদের হৃদয়ে শত আঘাতের আগ্নেয়গিরি। হাসপাতালে হাজারও রোগীর ভিড়। আহতদের পাশাপাশি পরিবারের অন্য সদস্যরাও মানসিক আঘাতে বিপর্যস্ত। ১০ হাজার মৃতদেহ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকা রয়েছে। স্বজনদের দাফন করে মানসিক প্রশান্তি পাওয়ার উপায়ও নেই।
মঙ্গলবার গাজা সিটি মানসিক স্বাস্থ্য হাসপাতালের চিকিৎসক দলের প্রধান আবদুল্লাহ আল-জামাল বলেন, গাজার বাসিন্দারা মানসিক আঘাত বয়ে বেড়াচ্ছেন। টানা দুই বছরের তীব্র বোমাবর্ষণ গাজার ২৩ লাখ বাসিন্দার সবাইকে প্রভাবিত করেছে। মানসিক স্বাস্থ্যসেবা জরুরি হয়ে পড়েছে। কিন্তু চিকিৎসাসেবা বলতে এখানে কিছু নেই।
আলজাজিরা জানায়, যুদ্ধবিরতির মধ্যেও হামলা-গ্রেপ্তার এখনও নিত্যদিনের সঙ্গী গাজাবাসীর। ইসরায়েলি বাহিনী গতকালও উত্তর গাজার জাবালিয়ায় একজন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। জেরিকো ও রামাল্লার কাছে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ভেঙে দিয়েছে। বুলডোজার দিয়ে খামারের গাছও উপড়ে ফেলা হচ্ছে।
গাজা শহরের পূর্ব তুফাহ পাড়ায় ড্রোন হামলায় একজন নিহত হয়েছে। উপকূল থেকে ইসরায়েলি বাহিনী পাঁচ জেলেকে গ্রেপ্তার করেছে। গাজার আকাশে ড্রোন উড়ছে। খান ইউনিসে তীব্র গোলাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। ভোর থেকে ড্রোন ও জেট বিমানের শব্দ পাচ্ছে গাজাবাসী। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পূর্বে বানি সুহেইলায় বিমান অভিযান চালিয়েছে দখলদার বাহিনী। জাবালিয়ায় ইসরায়েলি হামলায় এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। পশ্চিম তীরের কারাগারে অন্তত ৩৬০ শিশুকে আটকে রাখা হয়েছে। উত্তর গাজা শহরের শুজাইয়া পাড়ার একটি স্কুলকে লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে। স্কুলটিতে হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। এখানে গতকাল একটি বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল। হামলায় তিনজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে। গত দুই বছরে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৬৮ হাজার ৮৫৮ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গাজায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সংস্থাটির আশ্রয়কেন্দ্রে ৭৫ হাজার মানুষ নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা ছাড়াই জীবন কাটাচ্ছে।
মার্কিন সংবাদ ওয়েবসাইট অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ওয়াশিংটন কমপক্ষে দুই বছরের জন্য গাজায় একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী প্রতিষ্ঠার জন্য পরিষদের বেশ কয়েকজন সদস্যের কাছে একটি খসড়া প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, খসড়া নথিটি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে আলোচনার ভিত্তি হবে, যার লক্ষ্য আগামী সপ্তাহগুলোতে এটি প্রতিষ্ঠার জন্য ভোট দেওয়া এবং জানুয়ারির মধ্যে গাজায় প্রথম সেনা মোতায়েনের লক্ষ্য রয়েছে।
মুক্ত বন্দিদের সঙ্গে পুনর্মিলনে হৃদয়বিদারক দৃশ্য
ইসরায়েল কিছু বন্দিকে অপ্রত্যাশিতভাবে মুক্তি দিয়েছে। তাদের চিকিৎসার জন্য গতকাল আল-আকসা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। গতকাল পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের সময় হৃদয়গ্রাহী দৃশ্যের অবতারণা হয়। মিডলইস্ট আই জানায়, স্বজনের মরদেহ পাওয়ার আশায় শত শত পরিবার হাসপাতালে ঘুরছে। এক মা জানান, ‘আমি ছেলেকে জড়িয়ে ধরার স্বপ্ন দেখেছিলাম। এখন তাকেই কবর দিতে হবে।’
‘ক্যাফে দ্য ভলতে’ নাটকের উদ্বোধনী মঞ্চায়ন আজ
‘ক্যাফে দ্য ভলতে’ নাটকের উদ্বোধনী মঞ্চায়ন আজ
Summary: নতুন নাট্যদল ‘হান্ট থিয়েটার’। মঞ্চে আসছে তাদের নতুন নাটক ‘ক্যাফে দ্য ভলতে’। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে আজ সন্ধ্যা ৭টায় এর মঞ্চায়ন হবে। একই ভেন্যুতে আগামীকালও থাকছে এর প্রদর্শনী।
নাটকটিতে অভিনয় করেছেন– মো. শাহজাদা সম্রাট চৌধুরী, আব্দুল্লাহ আল জাদিদ, প্রিয়ম মজুমদার, ইয়াদ খোরশিদ ঈশান, মালিহা ফাইরুজ ফারিন মেলিসা, নূর এ জান্নাত ওরিশা, শাহিন সাঈদুর, সুপ্রিয় ঘোষ, প্রজ্ঞা চন্দ, ডায়ানা ম্যারিলিন ও শুভাশিস হালদার। ম্যাক্স ডি রোজারিও। এক কামেল শেইফ। বাঙালি ক্রিশ্চিয়ান। তাঁর রেস্টুরেন্ট– ক্যাফে দ্য ভলতে। সেটার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ম্যাক্স জিঞ্জিরা শহরের চার সুশীল নাগরিকের ভাগ্য নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়।
ম্যাক্স বদলা চায় না; চায় না ইনসাফ কায়েম করতে। তাহলে কেন নিরস্ত্র দিনক্ষণে এই সশস্ত্র ক্যু? সেসব উত্তর কে বা জানে! শুধু এইটা জানা আছে যে, ম্যাক্সের হৃদয় ক্রুসেডের জন্য হাহাকার করে ওঠে। এগিয়ে যায় কাহিনি।
নাটকটির মূল ভাবনা, গল্প ও নির্দেশনায় আছেন ডায়ানা ম্যারেলিন। চিত্রনাট্য আবিদ হাসান ও সংলাপ যোজনা তানভীর চৌধুরী। আলোক পরিকল্পনায় মো. মোখলেছুর রহমান, আবহ ও সংগীত ভাবনায় চার্লস চৌধুরী, ব্যবস্থাপনায় জেরোম মধু ও রূপসজ্জায় যোহানা সূচনা দাস। নিদের্শক বলেন, ‘অনেক মহড়া শেষে মঞ্চে আসছে নাটকটি। আশা করছি, নাটকটি দর্শকের ভালো লাগবে’।
রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন না হলে অতীত ফিরে আসবে
রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন না হলে অতীত ফিরে আসবে
Summary: দেশে রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন না হলে অতীত ফিরে আসবে। রাজনীতি কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নয়, এটি নাগরিক সেবা। বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। ভালো রাজনৈতিক সংস্কৃতি সব সময় এ দেশের সুযোগ বাড়িয়ে দেবে। তাই রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সুরাজনৈতিক সংস্কৃতির অন্বেষণ নিয়ে এক সেমিনারে এমনটিই বলেছেন বক্তারা। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে সুরাজনৈতিক সংস্কৃতির অন্বেষণ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকার নরওয়ে দূতাবাসের সহায়তায় এ সেমিনারের আয়োজন করে ঢাকা ট্রিবিউন।
এতে বিশেষ বক্তা ছিলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. রওনক জাহান এবং সূচনা বক্তব্য দেন ঢাকায় নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হিকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন। প্যানেল আলোচনায় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. জাহেদ উর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর সদস্য ব্যারিস্টার শিশির মনির, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. মির্জা এম হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আসিফ এম শাহান, দ্য ডেইলি স্টারের সাংবাদিক জাইমা ইসলাম এবং ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিক্সের (দায়রা) গবেষণা পরিচালক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বক্তব্য রাখেন। সেমিনারটি সঞ্চালনা করছেন ঢাকা ট্রিবিউন সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ। সমাজের বিভিন্ন পেশার মানুষ এতে অংশগ্রহণ করেন।
রওনক জাহান বলেন, আগামী নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যারা সংসদে আসছেন তাদের জবাবদিহিতা সুনিশ্চিতের জন্য প্রথম যে কাজটি করা দরকার সেটি হচ্ছে, বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করা। এ ছাড়া শুল্কমুক্ত সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা গাড়ি আগামীর সংসদ সদস্যরা ব্যবহার করবেন না– এর মাধ্যমে একটি উদাহরণ তৈরি করতে পারেন। পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটিতে, যেখানে স্বার্থের সংঘাত ঘটে, এমন কমিটিতে যোগ দেবেন না সংসদ সদস্যরা। এ ধরনের কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন শুরু হতে পারে।
হিকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন বলেন, নরওয়েতে নির্বাচনের সময় প্রতিযোগী প্রার্থীর প্রচারণার সময় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা হয়। কারণ রাজনীতি ব্যক্তিগত বিষয় নয়, এটি নাগরিক সেবা। বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক উত্তরণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ব্যাপক সংস্কারের কাজ হাতে নিয়েছে। কিছু সংস্কার কাজ ইতোমধ্যে করা হয়েছে। এসব সংস্কারের বাইরে আরেকটি বিষয়ে সংস্কারের কথা ভেবে দেখতে হবে সেটা হচ্ছে, রাজনৈতিক সংস্কৃতি। ভালো রাজনৈতিক সংস্কৃতি ছাড়া বিগত কর্তৃত্ববাদী শাসনের প্রবণতা, সাংঘর্ষিক রাজনীতি, রাজনৈতিক নিপীড়ন ও দুর্নীতির পুনরাবৃত্তি ঘটবে।
রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিয়ে শিশির মনির বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক শক্তিগুলো বড় জায়গা দখল করে আছে। যদি আমরা কাজ করতে চাই, তবে আমাদের আরও ভালো রাজনৈতিক অনুসরণ করার জন্য কাজ করার পরে দিনের পর দিন নিরলসভাবে কাজ করতে হবে। জুলাই সনদ একটি ভালো শুরু হতে পারে।
গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, আমি বিশ্বাস করি, আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো প্রচণ্ড সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আমরা গৃহযুদ্ধের মধ্যে পড়িনি। আমরা সংস্কারের কিছু আলোচনায় গুরুত্বসহকারে জড়িত রয়েছি।
বাংলাদেশের যত রাজনৈতিক আলোচনা হয়, তাতে শুধু অভিজাত শ্রেণি যুক্ত থাকে। সেখানে সাধারণ মানুষকে খুঁজে যাওয়া যায় না বলে সমালোচনা করেন মির্জা এম হাসান। রাজনীতিতে আদর্শের বিষয়ে তিনি বলেন, দুই ধরনের আদর্শ রয়েছে। একটি আইনের মধ্যে থেকে খারাপ আদর্শ। আরেকটি খারাপ আদর্শ। যেমন, সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি কেনা বা কালো টাকা সাদা করার সুযোগগুলো আইনের মধ্যে থেকে খারাপ আদর্শ। আর খারাপ আদর্শ হচ্ছে, ক্ষমতায় এসে পুলিশ, বিচার বিভাগ ও আমলাতন্ত্রকে দলীয়করণ। এসব আদর্শ ত্যাগ না করার বিষয়ে রাজনীতিবিদরা সব সময়ে এক কাতারে চলেছেন।
আসিফ এম শাহান বলেন, নিমেষেই সব রাজনৈতিক দল ভালো হয়ে যাবে না। এখানে প্রশ্ন এটা নয়, কে ক্ষমতায় আসবেন। প্রশ্ন হচ্ছে, যিনি ক্ষমতায় আসবেন, তাকে কতটুকু ক্ষমতা দেওয়া হবে। তার ক্ষমতা সীমিত থাকলে অতীতের মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে না। আর এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোকে গড়ে তোলার বিষয় রয়েছে।
রাষ্ট্রের আচরণ বরাবরই দমনমূলক জানিয়ে জাইমা ইসলাম বলেন, গত ৪ বছরের মধ্যে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা সবচেয়ে বেশি। বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংঘাতে প্রায় ৮৮ জন মারা গেছেন। ৩৪ জন মারা গেছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যকার সংঘাতে। ক্ষমতায় না থাকলেও আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণভাবে ১২ জন মারা গেছেন।
বিশ্বজুড়ে ডানপন্থি রাজনীতির উত্থান নিয়ে কথা বলেন মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। মুক্ত আলোচনায় এবি পার্টির ফারজানা সাত্তার নারীবিষয়ক সম্পাদক রাজনৈতিক ধারা পরিবর্তন এবং সমালোচনা গ্রহণ করতে পারার পক্ষে মত দেন।
বিএনপির তথ্য, প্রচার ও প্রকাশনাবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুবা হাবিবা বলেন, মানুষকে ভোটের সুযোগ দিন। একই সঙ্গে ডিজিটালি সরকার এবং রাজনৈতিক নেতাদের সচেতন হতে হবে। এই মাধ্যমে সহিংসতা যেন তৈরি না হয়, খেয়াল রাখতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে তিনটি স্থানীয় সরকার ও গণভোটে ট্রাম্পের দলের ভরাডুবি
যুক্তরাষ্ট্রে তিনটি স্থানীয় সরকার ও গণভোটে ট্রাম্পের দলের ভরাডুবি
Summary: যুক্তরাষ্ট্রে মঙ্গলবার একটি শহর ও তিনটি অঙ্গরাজ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে নিউ ইয়র্ক সিটিতে মেয়র পদে হেরেছেন রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়া। নিউ জার্সি ও ভার্জিনিয়ায় গভর্নর পদেও ট্রাম্পকে স্বস্তির খবর দিতে পারেননি তাঁর দল ও সমর্থিত প্রার্থীরা। ক্যালিফোর্নিয়ায় সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত গণভোটেও রিপাবলিকানদের প্রস্তাব ভোটারদের সমর্থন পায়নি।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, নিউ জার্সিতে জয়ী মিকি শেরিল ছিলেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী। রিপাবলিকান জ্যাক সিয়াতারেলির বিরুদ্ধে তাঁর জয়ের ব্যবধান বেশ বড়। পেয়েছেন ১৭ লাখ ৯২ হাজার ৭৬০ ভোট। বিপরীতে জ্যাকের প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ১৩ লাখ ৭৮ হাজার ৩৯১টি। ডোনাল্ড ট্রাম্প বিরোধী মনোভাবকে হাতিয়ার বানানোকে শেরিলের জয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
৫৩ বছর বয়সী মিকি শেরিল একসময় নৌবাহিনীর হেলিকপ্টারের পাইলট ও সরকারি কৌঁসুলী ছিলেন। নিউ জার্সির তিনি দ্বিতীয় নারী ও ৫৭তম গভর্নর হতে যাচ্ছেন।
এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভার্জিনিয়ায় প্রথমবারের মতো নারী গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাবিগেইল স্প্যানবার্গার (১৯ লাখ ৬৭ হাজার ৭১৯)। এ অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান প্রার্থী ছিলেন উইনসম আর্ল-সিয়ার্স (১৪ লাখ ৪৩ হাজার ৮৫৭)।
একই দিন ক্যালিফোর্নিয়ায় অনুষ্ঠিত হয় অঙ্গরাজ্যের সীমানা পুনির্ধারণে সংবিধান সংশোধনী অনুমোদন সংক্রান্ত গণভোট। যেখানে সীমানা পুনির্ধারণের পক্ষে ছিল ডেমোক্র্যাট আর বিপক্ষে ছিল রিপাবলিকান পার্টি। এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হয়েছে বলে জানিয়েছে এনবিসি নিউজ। গণভোটের এমন ফলাফলের কারণে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের অন্তত পাঁচটি আসন হারানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
রিপাবলিকানদের এমন হার নিয়ে সিএনএন এক প্রতিবেদনে বলেছে, গুরুত্বপূর্ণ চারটি অঙ্গরাজ্যে হওয়া এসব নির্বাচনে ভোটারেরা ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে এক ধরনের ঝড় তুলেছেন। দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার এক বছরের মাথায় ট্রাম্প তাঁর বিরোধী পক্ষের এমন জয় দেখলেন। যা তাঁর প্রতি ভোটারদের অসন্তুষ্টির বহিঃপ্রকাশ।
নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়াও দেখিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘ব্যালটে ট্রাম্প ছিলেন না। ফেডারেল সরকারেও শাটডাউন চলছে। এগুলোই হারের কারণ।’
সকাল না বিকেল? কোন সময় গায়ে রোদ লাগানো বেশি উপকারী?
সকাল না বিকেল? কোন সময় গায়ে রোদ লাগানো বেশি উপকারী?
Summary: সূর্যের আলো ভিটামিন ডি’য়ের অন্যতম সেরা উৎস এটা আজকাল কমবেশি সবারই জানা। সূর্যের আলোর সংস্পর্শে আসার পর ত্বক ভিটামিন ডি তৈরি করে। শরীরে ভিটামিনের ডি’য়ের ঘাটতি হলে নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এ কারণে ভিটামিন ডি’য়ের ঘাটতি পূরণে চিকিৎসকরা দিনের একটা সময় রোদে থাকার পরামর্শ দেন। তবে দিনের কোন সময় গায়ে সূর্যের আলো লাগানো উচিত তা নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় ভোগেন।
এ ব্যাপারে ভারতীয় অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞ কিরণ মুখোপাধ্যায় বলেন, শরীরে সবসময় রোদ লাগানো ভালো নয়। সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টার মধ্যে সূর্যালোক বা রোদ ভিটামিন ডির খুব ভালো উৎস। এ সময় গায়ে রোদ লাগাতে পারেন। তিনি আরও জানান, রোদে আমাদের শরীরে ভিটামিন -ডি যেটা শরীরে সংশ্লেষ হয়, সেটা সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সংশ্লেষ হয়।
ড. কিরণ মুখোপাধ্যায়ের মতে, একদিন রোদে দাঁড়িয়ে থাকলেই ভিটামিন ডিয়ের ঘাটতি দূর হবে না। টানা তিন দিন ৩০ মিনিট করে রোদে থাকতে থাকতে হবে। তিনি জানান, যাদের শরীরে মেলানিন যত কম, তাদের শরীরে অনেক কম সময়ে ভিটামিন ডি তৈরি হয়। কিন্তু উপমহাদেশের এই অঞ্চলের বেশিরভাগ ব্যক্তির ত্বকে মেলানিনের পরিমাণ অনেক বেশি। তাই আমাদের রোদে আর একটু বেশি সময় থাকলে ভালো। সেক্ষেত্রে শরীরের অন্তত ৩০ শতাংশ অংশে যেন ৩০ মিনিট করে তিনদিন রোদ লাগানো যায় সেটা খেয়াল রাখতে হবে।
বাংলাদেশকে ২৭৬ রানের চ্যালেঞ্জ আফগান যুবাদের
বাংলাদেশকে ২৭৬ রানের চ্যালেঞ্জ আফগান যুবাদের
Summary: সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সামনে ২৭৬ রানের বড় লক্ষ্য দিয়েছে আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দল। রাজশাহীর বিভাগীয় স্টেডিয়ামে আফগান যুবারা নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৭৫ রান সংগ্রহ করে।
বুধবার টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি সফরকারীদের। ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই মাত্র ১০ রানে প্রথম উইকেট হারায় তারা। তবে প্রাথমিক সেই ধাক্কা সামলে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন ওয়ান ডাউনে নামা ফয়সাল খান। ১০৫ বলে ১৪টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে ১০০ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলেন তিনি।
আজিজুল হাকিম তামিম সেঞ্চুরিয়ান ফয়সালকে ফেরালে বাংলাদেশ ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিল। ২১০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে আফগানরা কিছুটা চাপে পড়ে। কিন্তু শেষদিকে অধিনায়ক মাহবুব খান হাল ধরেন। তার ৭৮ বলে ৬৮ রানের অপরাজিত ইনিংসে ভর করে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ২৭৫ পর্যন্ত পৌঁছায়।
বাংলাদেশের পক্ষে বল হাতে আল ফাহাদ এবং আজিজুল হাকিম তামিম দুটি করে উইকেট নেন।
‘রৌমারীর যখন একটা অংশ ভাঙে, আমার অস্তিত্ব ভাঙে’
‘রৌমারীর যখন একটা অংশ ভাঙে, আমার অস্তিত্ব ভাঙে’
Summary: নদী গবেষক ও রিভারাইন পিপলের মহাসচিব শেখ রোকন বলেছেন, ‘আমরা রৌমারীর সন্তান, রৌমারীর যখন একটা অংশ ভাঙে, আমার অস্তিত্ব ভাঙে। রৌমারী মানুষ যখন গৃহহীন হয়, আমার ভাই গৃহহীন হয়, রৌমারীর মানুষ যখন বাস্তুচ্যুত হয়, তখন আমার চাচা বাস্তুচ্যুত হয়।’ মঙ্গলবার দুপুরে রৌমারী উপজেলা চরশৌলমারী ইউনিয়নের চর গেন্দার আলগা এলাকার ব্রহ্মপুত্রপারে এক গণজমায়েতে এসব কথা বলেন তিনি। ‘ব্রহ্মপুত্র নদের বাম তীরের ভাঙন রোধ ও টেকসই নদী ব্যবস্থাপনার’ দাবিতে এই গণজমায়েতে সভাপতিত্ব করেন নদী সংগঠক মহিউদ্দিন আহমেদ মহির।
শেখ রোকন বলেন, “আমরা কোনো রাজনৈতিক নই, যে আমরা ভাঙনের কথা বলে আপনাদের কাছে ভোট চাইতে আসব। আমরা কোনো ঠিকাদার নই, যে ভাঙনের কথা বলে প্রকল্প এনে আমরা ঠিকাদারি করব। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, যদি না পারি, আমাদের গালি দিয়েন না। দোয়া করেন, আমরা যেন এখন না করতে পারলেও পরে ভাঙন রোধ করতে পারি।”
গণজমায়েতে বক্তব্যকালে রিভারাইন পিপলের পরিচালক বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তুহিন ওয়াদুদ বলেন, তিন লাখ কোটি টাকার ৩০০ ভাগের এক ভাগ টাকা দিলে আমাদের ব্রহ্মপুত্রের বাম তীরের একটি বাড়ি ভাঙতো না। এই যে বাড়ি ভাঙে এটা কোনো প্রাকৃতিক কারণ নয়। এটি হচ্ছে রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা। ২০১১ সালে বাংলাদেশ ব্যুরো পরিসংখ্যান বিশ্ব ব্যাংক, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির একা দারিদ্র মানচিত্র তৈরি করা ছিল, সেখানে ৬৫ শতাংশ গরিব মানুষ বাস করেন কুড়িগ্রামে। আর তিন শতাংশ মানুষ বাস করেন কুষ্টিয়ায়। ৫ বছর পর আবার এটা জরিপ হয়েছে এই জরিপে দেখা গেল সব চেয়ে কম গরিব মানুষ বাস করেন নারায়নগঞ্জে দুই শতাংশ। সারাদেশে গরিবের সংখ্যা কমেছে সাত শতাংশ। আর কুড়িগ্রামে গরিব মানুষ বেড়েছে আট শতাংশ। এই এক ব্যর্থ রাষ্ট্র। সারাদেশে যখন গরিব মানুষ কমে এই কুড়িগ্রামে গরিব মানুষের সংখ্যা বাড়ে।
গণজমায়েতে আরও বক্তব্য দেন ভাসানী পরিষদের সদস্য সচিব আজাদ খান ভাসানী। উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও নদী তীরবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষ। গণজমায়েত সঞ্চালনা করেন আক্তারুজ্জামান আক্তার।
খালেদা জিয়ার খালাসের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
খালেদা জিয়ার খালাসের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
Summary: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার সাজা থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে খালাস দিয়ে আপিল বিভাগের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ চলতি বছর ১৫ জানুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে খালাস দিয়ে সংক্ষিপ্ত রায় দিয়েছিলেন। আজ মঙ্গলবার আপিল বিভাগের সেই রায়ের ৫৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
রায়ে আদালত বলেছেন, ‘এই (মামলার) আপিলগুলোর বিষয়বস্তু গঠনকারী কার্যধারাগুলো উদ্দেশ্যমূলকভাবে গঠন করায় তা আইনের স্পষ্ট অপব্যবহার বলে প্রতীয়মান হয়েছে, যা দুরভিসন্ধিমূলক মামলার সমতুল্য।’
রায়ে আদালত আরও বলেছেন, ‘এই রায় অন্যান্য দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে, যারা এ মামলায় আপিল করেননি।’
১৫ জানুয়ারি আপিল বিভাগের রায়ে বিচারিক আদালত ও হাইকোর্টের রায় বাতিল করা হয়। এ কারণে খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানসহ অন্য আসামি আপিল না করেও সাজা থেকে খালাস পান।
মামলায় খালেদা জিয়াসহ তিনজনের করা আপিল মঞ্জুর করে ১৫ জানুয়ারি এ রায় দেওয়া হয়। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগ সর্বসম্মতিতে এ রায় দেন।
এ মামলায় ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর ঢাকার বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপিল খারিজ করে সাজা ১০ বছর বাড়িয়ে হাইকোর্ট রায় দেন।
এ রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ১৪ মার্চ খালেদা জিয়া পৃথক দুটি লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন। গত বছরের ১১ নভেম্বর আপিল বিভাগ খালেদা জিয়ার লিভ টু আপিল মঞ্জুর এবং সাজার রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করে আদেশ দেন। এর ধারাবাহিকতায় সাজার রায়ের বিরুদ্ধে পৃথক আপিল করেন খালেদা জিয়া।
এ ছাড়া ১০ বছর কারাদণ্ড বহাল রেখে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ গত বছর পৃথক আপিল করেন।
এতিমদের সহায়তার উদ্দেশে বিদেশ থেকে পাঠানো ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করার অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই মামলাটি করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিশেষ জজ আদালত-৫ রায় দেন।
রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, সাবেক মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। পরে বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে হাইকোর্টে আপিল করেন খালেদা জিয়া। কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে কাজী সালিমুল হক ও শরফুদ্দিন আহমেদ পৃথক আপিল করেন। অন্যদিকে খালেদা জিয়ার সাজা বৃদ্ধি চেয়ে দুদকের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে একই বছরের ৩০ অক্টোবর হাইকোর্ট বেঞ্চ খালেদা জিয়ার সাজা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করেন।
আর পাঁচ বছরের দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে খালেদা জিয়া এবং ১০ বছরের দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে কাজী কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদের আপিল খারিজ করেন আদালত।
তিনটি আপিল ও রুলের ওপর শুনানি শেষে ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর হাইকোর্ট একসঙ্গে রায় দেন। রায়ে খালেদা জিয়ার আপিল খারিজ হয়। দুদকের রিভিশন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেওয়া রুল যথাযথ ঘোষণা করে খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন হাইকোর্ট। ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও কাজী সালিমুল হকের আপিল খারিজ করেন হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে গত বছর পৃথক আপিল করেন খালেদা জিয়া, শরফুদ্দিন আহমেদ ও কাজী সালিমুল হক। এরপর গত ৭ জানুয়ারি আপিল শুনানি শুরু হয়। গত ১৪ জানুয়ারি শুনানি শেষ হয়।
কমিউনিটি ক্লিনিকে অর্ধেকের বেশি রোগী ইনফ্লুয়েঞ্জা ও ত্বকের সমস্যায়: জরিপ
কমিউনিটি ক্লিনিকে অর্ধেকের বেশি রোগী ইনফ্লুয়েঞ্জা ও ত্বকের সমস্যায়: জরিপ
Summary: গ্রামীণ পর্যায়ের কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা অর্ধেকের বেশি রোগীই ইনফ্লুয়েঞ্জা ও ত্বকের সমস্যায় ভুগছেন। সম্প্রতি করা এক জরিপে উঠে এসেছে এমন তথ্য।
জরিপটি পরিচালনা করেছেন জাপানের কিউশু বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেটা-ড্রিভেন ইনোভেশন ইনিশিয়েটিভের সহযোগী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম মারুফ। দেশের ৪২টি কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইডারদের (CHCP) অংশগ্রহণে ২০২৫ সালের ১ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত এ জরিপ পরিচালিত হয়।
আজ বুধবার সকালে রাজধানীর বিএমআরসি ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন অধ্যাপক মারুফ। তিনি জানান, এই জরিপটি তিন ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপে ৪২ কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে—তাদের মধ্যে ৬০ শতাংশ পুরুষ ও ৪০ শতাংশ নারী। প্রায় অর্ধেকের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে।
গ্রামীণ পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি ত্বকের রোগ
জরিপে দেখা গেছে, গ্রামীণ এলাকায় সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ত্বকের রোগ (৩৬%), ইনফ্লুয়েঞ্জা (২১%) ও জ্বর (২১%)। এছাড়া উচ্চ রক্তচাপ (১৯%) ও ডায়াবেটিস (১৪%)–এর মতো অসংক্রামক রোগও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে আছে।
রোগীর চাপ ও সেবার ধরন
জরিপ অনুযায়ী, বেশিরভাগ স্বাস্থ্যকর্মী প্রতিদিন ৩১ থেকে ৪০ জন রোগী দেখেন। সপ্তাহের সবচেয়ে ব্যস্ত দিন রবিবার, আর রোগীদের ভিড় সবচেয়ে বেশি সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে।
মূলত মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, টিকাদান, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্যশিক্ষা এবং অসংক্রামক রোগ ব্যবস্থাপনাই এসব ক্লিনিকের প্রধান সেবা।
ওষুধ ও সরঞ্জামের সংকট
জরিপে অংশ নেওয়া স্বাস্থ্যকর্মীদের ৩৬ শতাংশ জানিয়েছেন, ওষুধের ঘাটতি একটি বড় সমস্যা। আর ২৪ শতাংশ জানিয়েছেন, চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবই এনসিডি (NCD) ব্যবস্থাপনায় প্রধান বাধা।
বেশিরভাগ ক্লিনিকে রক্তচাপ মাপার মেশিন, গ্লুকোমিটার, থার্মোমিটার ও স্টেথোস্কোপ থাকলেও অনেক যন্ত্রই ভাঙা বা অনুপস্থিত। স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় যন্ত্র হলো রক্তচাপ মাপার মেশিন।
পরামর্শ ও রেকর্ড সংরক্ষণ
অনেক স্বাস্থ্যকর্মী জানিয়েছেন, সময়ের অভাব, প্রশিক্ষণ উপকরণের সংকট এবং রোগীদের সীমিত বোঝাপড়া কার্যকর কাউন্সেলিংয়ে বাধা তৈরি করছে।
রেকর্ড সংরক্ষণ বিষয়ে ৬৪ শতাংশ বলেছেন বড় কোনো সমস্যা নেই, তবে ২৪ শতাংশের মতে কাগজপত্রের কাজ সময়সাপেক্ষ হয়ে ওঠে।
বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেটের সীমাবদ্ধতা
অধ্যাপক মারুফ জানান, টেলিমেডিসিন সম্পর্কে রোগীদের সচেতনতা ও গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। তবে বেশিরভাগ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সরবরাহ অনিয়মিত, ব্যাকআপ ব্যবস্থা সীমিত এবং ইন্টারনেট সংযোগ দুর্বল।
এর ফলে এখনও ইলেকট্রনিক রেকর্ড সিস্টেম চালু করা সম্ভব হয়নি। অনেক স্বাস্থ্যকর্মী ভবিষ্যতে ডিজিটাল রেকর্ড রাখতে আগ্রহী, তবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, দুর্বল নেটওয়ার্ক ও প্রশিক্ষণের অভাবকে বড় বাধা হিসেবে দেখছেন।
টেলিমেডিসিনে আশার আলো
জরিপে দেখা গেছে, স্বাস্থ্যকর্মী ও রোগী উভয়েই টেলিমেডিসিন সেবার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন।
৯৫ শতাংশ স্বাস্থ্যকর্মী জানিয়েছেন, সপ্তাহে ১০টি পর্যন্ত অনলাইন পরামর্শ পরিচালনাযোগ্য। রোগীদের মধ্যে ৮৩ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা প্রতি সেশন ৫০ টাকার কম দিতে রাজি। তবে কিছু স্বাস্থ্যকর্মী বাড়তি কাজের চাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
গবেষক দলের মতে, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে যথাযথ চিকিৎসা সরঞ্জাম, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি।
তাদের মতে, ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মূল স্বাস্থ্যচাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ভাত খেলে কি সত্যিই ওজন বাড়ে?
ভাত খেলে কি সত্যিই ওজন বাড়ে?
Summary: অনেকেই ওজন কমাতে গিয়ে ভাত খাওয়া ছেড়ে দেন। কারণ ওজন বাড়লে ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা ধরনের রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এ কারণে কমবেশি সবারই চেষ্টা থাকে ওজন স্বাভাবিক রাখার। কিন্তু প্রশ্ন হল, ওজন স্বাভাবিক রাখতে ভাত খাওয়া কি একদমই ছেড়ে দেওয়া উচিত? এ ব্যাপারে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন ভারতীয় চিকিৎসক ডা. রুদ্রজিৎ পাল।
চিকিৎসক ডা. রুদ্রজিৎ বলেন, 'ভাত খাওয়ার সঙ্গে ওজন বাড়ার সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই। অনেকের ধারণা, ভাত খেলেই বুঝি ওজন বেড়ে যায়। তবে বিষয়টা একবারেই তেমন নয়। বরং নিয়ম মেনে ভাত খেলে কোনওভাবেই ওজন বাড়বে না।
একজন মানুষের দিনে কতটুকু ভাত খাওয়া উচিত তা নিয়ে ডা. রুদ্রজিৎ জানান, একজন সুস্থ মানুষ একবেলার হিসেবে ৫০ গ্রাম চালের ভাত খেতে পারেন। এই হিসেব মেনে চললে ওজন বাড়ার আশঙ্কা প্রায় থাকে না। বরং শরীর জরুরি এনার্জি পায়।
ভাতের পুষ্টিগুণ
প্রতি ১০০ গ্রাম ভাতে ১৩০ ক্যালরি, ২.৭ গ্রাম প্রোটিন ২৮.২ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট থাকে। পাশাপাশি থিয়ামিন, ভিটামিন বি৬ এবং ফোলেট, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম এবং ম্যাঙ্গানিজ রয়েছে। এ কারণে ডায়েট থেকে ভাত পুরোপুরি বাদ না দিয়ে হিসেব মেনে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার কিছু টিপস
মেদ ঝরাতে কিছু বিশেষ টিপস দিয়েছেন ডা. রুদ্রজিৎ । তা হলো-
১. ফাস্ট ফুড ও প্রসেসড ফুড এড়িয়ে চলুন
২. মিষ্টি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন
৩. খাদ্যতালিকায় শাকসবজির মতো ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার রাখুন
৪. রুটি, ওটস খেলেও ওজন কমাতে পারবেন
৫. নিয়মিত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করুন
প্রবাসীদের ভোটার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ
প্রবাসীদের ভোটার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ
Summary: প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য দাখিল করা আবেদনগুলো দ্রুত তদন্ত ও নিষ্পত্তি করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনু বিভাগ (এনআইডি)। গত ৩১ অক্টোবরের মধ্যে জমা পড়া সব আবেদনের তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে পরিচালক (নিবন্ধন ও প্রবাসী) খান আবি শাহানুর খান স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি থেকে এ তথ্য জানা যায়।
চিঠিতে জানানো হয়েছে, গত ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রবাসীদের দাখিল করা ভোটার রেজিস্ট্রেশন আবেদনগুলোর তদন্ত প্রতিবেদন আবশ্যিকভাবে আগামী ৬ নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। যেসব প্রবাসীর বায়োমেট্রিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে, তাদের আবেদন CMS পোর্টালের NRB মেনুতে পাওয়া যাবে। উপজেলা, থানা বা রেজিস্ট্রেশন কর্মকর্তারা আবেদন ফরম ও সংযুক্ত দলিলাদি প্রিন্ট করে সরেজমিনে তদন্ত করবেন। তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন শেষে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার মাধ্যমে সংযুক্ত ছক মোতাবেক এনআইডি মহাপরিচালক বরাবর প্রতিবেদন দিতে হবে।
এতে আরও বলা হয়, ১ সেপ্টেম্বর বা তার পরে দাখিল করা কোনো আবেদনের সঙ্গে যদি ডকুমেন্ট সংযুক্ত করা না থাকে, তবে সেসব আবেদন বাতিল না করে শুধু প্রতিবেদন ছকে ‘ডকুমেন্ট সংযুক্ত নেই’ মর্মে উল্লেখ করতে হবে। পরে ডকুমেন্ট সংযুক্ত হলে তদন্ত কার্যক্রম সম্পাদন করা হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, আগামী ৬ নভেম্বরের মধ্যে সরেজমিনে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে CMS পোর্টালে Investigation Report আপলোড করতে হবে। এরপর Action থেকে Approved/Reject করে সব আবেদন নিষ্পত্তি করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। বাতিল করা আবেদনের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কারণ/কারণগুলো লিপিবদ্ধ করতে হবে।
পাঁচ দলের বিপিএলের প্লেয়ার্স ড্রাফট ১৭ নভেম্বর
পাঁচ দলের বিপিএলের প্লেয়ার্স ড্রাফট ১৭ নভেম্বর
Summary: বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বাদশ আসর অনুষ্ঠিত হবে পাঁচটি ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে। গতকাল মঙ্গলবার বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সভায় দলগুলো চূড়ান্ত করা হয়েছে। গুলশানের নাভানা টাওয়ারে অনুষ্ঠিত সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠু জানান, চ্যাম্পিয়ন স্পোর্টসের ঢাকা ক্যাপিটাল, ট্রায়াঙ্গল সার্ভিস চট্টগ্রাম, টগি স্পোর্টস লিমিটেডের রংপুর রাইডার্স, নাবিল গ্রুপ অব ইন্ড্রস্ট্রিজের রাজশাহী ও জগলু অ্যান্ড ক্রিকেট উইদ সামিকে সিলেট ফ্র্যাঞ্চাইজি দেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকানা পেল প্রতিষ্ঠানগুলো।
বিপিএলে ফ্র্যাঞ্চাইজি হতে ১১টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছিল। প্রাথমিক বাছাইয়ে বাদ পড়ে তিনটি দল– এসকিউ স্পোর্টসের চিটাগং কিংস, বাংলা মার্কের নোয়াখালী, মাইন্ড ট্রি লিমিটেডের খুলনা টাইগার্স। এক্সপ্রেস অব ইন্টারেস্টের (ইওআই) শর্ত পূরণ না করায় প্রতিষ্ঠান তিনটিকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সহসভাপতি ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য শাখাওয়াত হোসেন।
চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই শেষে বাকি আট দলের মধ্য থেকে পাঁচটিকে ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। এতে করে আকাশ বাড়ি হলিডেজ ও রিসোর্টের বরিশাল, দেশ ট্রাভেলসকে রাজশাহী ও এসএস গ্রুপের কুমিল্লাকে ফ্র্যাঞ্চাইজি করা হয়নি। ফ্র্যাঞ্চাইজি মনোনয়নের ক্ষেত্রে তিনটি জিনিস দেখা হয়েছে বলে জানান শাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আর্থিক সক্ষমতা, ইন্টিগ্রিটি এবং উদ্দেশ্য-লক্ষ্যকে গুরুত্ব দিয়েছি। সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পাঁচটি দল বেছে নেওয়া হয়েছে। এই ফ্র্যাঞ্চাইজিদের একটি স্থায়ী নাম ঠিক করা হবে।’
বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল জানায়, নির্বাচিত ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিটিকে পাঁচ দিনের মধ্যে বিসিবিকে ১০ কোটি টাকার ব্যাংক জামানত দিতে হবে ছয় মাসের জন্য।
এই প্রথম পাঁচ দল নিয়ে হবে বিপিএল। সময় স্বল্পতার কারণে টুর্নামেন্টটি কলেবরে ছোট রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান বিসিবি কর্মকর্তারা। গত রাতের ব্রিফিংয়ে তারা জানান, ১৭ নভেম্বর প্লেয়ার্স ড্রাফ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিপিএল শুরুর সম্ভাব্য তারিখ ঠিক করা হয়েছে ১৯ ডিসেম্বর থেকে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত। এবার দল কমে যাওয়ায় ম্যাচের সংখ্যাও কম হবে। আগের ফরম্যাটে খেলা হলে লিগ পর্বে ২০টি ম্যাচ খেলা হবে। সুপার ফোরে চারটি ম্যাচ। মোট ২৪টি ম্যাচ দেখা যাবে দ্বাদশ বিপিএলে। ফলে টিকিট বিক্রি, টিভি রাইটস ও গ্রাউন্ডস রাইট থেকে লভ্যাংশের যে ৩০ শতাংশ ফ্র্যাঞ্চাইজিদের দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেটা খুবই কম হতে পারে।
একটি রাজনৈতিক রাজবংশকে উৎখাত করেছি: মামদানি
একটি রাজনৈতিক রাজবংশকে উৎখাত করেছি: মামদানি
Summary: যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম শহর নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি বিশেষ বার্তা দিয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী ৩৪ বছর বয়সী জোহরান মামদানি। নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম ভাষণে সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘বন্ধুরা, আমরা একটি রাজনৈতিক রাজবংশকে উৎখাত করেছি। নিউইয়র্ক শহরের নতুন জন্ম হয়েছে।’
এই বিজয় বিশ্ববাসীকে দেখিয়েছে কীভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হারাতে হয়- এ কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হওয়া এই জাতিকে এই শহর (নিউইয়র্ক) দেখিয়েছে কীভাবে তাকে হারাতে হয়।’ নিউইয়র্কের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে। সামর্থের মধ্যে থাকা একটি শহরের পক্ষে রায় দিয়েছে।’
নির্বাচনের আগ মুহূর্তে জোহরান মামদানির বিজয় ঠেকাতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি, মামদানি মেয়র নির্বাচিত হলে কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থ নিউইয়র্কে আসতে দিতে চাইবেন না বলেও হুঁশিয়ারি দেন। একই সাথে, নিজে রিপাবলিকান দলের হলেও ডেমোক্র্যাট পার্টির সদস্য যিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়েন, সেই অ্যান্ড্রু কুওমোকে সমর্থনের ঘোষণা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তারপরও মামদানির বিজয় আটকাতে পারলেন না ট্রাম্প।
ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আপনি ব্যক্তিগতভাবে অ্যান্ড্রু কুওমোকে পছন্দ করুন বা না করুন, আপনার আসলে কোনো বিকল্প নেই। আপনাকে অবশ্যই তাকে ভোট দিতে হবে এবং আশা করি তিনি দুর্দান্ত কাজ করবেন।’ সোমবার সন্ধ্যায় সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এমন একটি পোস্ট করেছেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘তিনি এটি করতে সক্ষম, মামদানি নন!’
এর আগে রোরবার একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা দিয়েছিলেন, মামদানি নির্বাচিত হলে তিনি তার শহর নিউইয়র্কে ফেডারেল তহবিল পাঠানো বন্ধ করবেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আপনার নিউইয়র্ক পরিচালনাকারী যদি একজন কমিউনিস্ট হয়, তাহলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার জন্য নিউইয়র্কে প্রচুর অর্থ দেওয়া কঠিন হবে, কারণ আপনি সেখানে পাঠানো অর্থ কেবল নষ্টই করছেন।’
আজ আমি যে মানুষ হয়েছি, তা তোমাদের জন্যই: মা-বাবার উদ্দেশে মামদানি
জোহরান মামদানি তার বিজয়ে ধন্যবাদ জানান স্ত্রী ও মা–বাবাকে। নির্বাচনে জয়ী ঘোষণার পর জোহরান মা-বাবার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আজ আমি যে মানুষ হয়েছি, তা তোমাদের জন্যই। তোমাদের সন্তান হতে পেরে আমি গর্বিত।’
স্ত্রী রামাকে উদ্দেশ করে জোহরান বলেন, ‘এই মুহূর্তে ও জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে তোমাকে পাশে পেতে চাই। এটাই আমার সবচেয়ে প্রিয় মুহূর্ত।’
আমিরাতে সিলেট ডিভিশনাল এফসি দুবাইয়ের জার্সি উন্মোচন
আমিরাতে সিলেট ডিভিশনাল এফসি দুবাইয়ের জার্সি উন্মোচন
Summary: সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনোদন ও খেলাধুলার সুযোগ করে দিতে আয়োজিত হতে যাচ্ছে ‘প্রবাসী বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ’। বাংলাদেশের আটটি বিভাগকে নিয়ে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী দল ‘সিলেট ডিভিশনাল এফসি দুবাই’-এর জার্সি উন্মোচন করা হয়েছে। মঙ্গলবার আজমানের মালায়িব স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ফুটবল গ্রাউন্ডে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দলটির জার্সি উন্মোচন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড়কেও অল্প বয়সে খেলাধুলা ছেড়ে প্রবাসে পাড়ি জমাতে হয়। প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে এই টুর্নামেন্ট বাংলাদেশিদের জন্য নির্মল বিনোদনের সুযোগ তৈরি করবে এবং প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে দেশের ফুটবলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে উৎসাহিত করবে।
সিলেট এফসি টিমের কর্ণধার ইকবাল হোসাইনের সভাপতিত্বে ও সাংবাদিক আমিনুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেট বিভাগের ক্রীড়া সংগঠক হাজী শফিকুল ইসলাম, রুজেল তরফদার, হাবিজ মিয়াসহ অনেকে। এ সময় দলের কোচ নাসিরুল হক, কর্মকর্তা এবং সকল খেলোয়াড়বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ইকবাল হোসাইন তার বক্তব্যে বলেন, সিলেট ডিভিশনাল এফসি হচ্ছে সিলেট বিভাগের প্রত্যেক প্রবাসীর টিম। এই টিমের সাফল্যের জন্য সিলেটের সকল প্রবাসীকে একসাথে মিলেমিশে কাজ করতে হবে। টিমের খেলায় মাঠে উপস্থিত হয়ে টিমকে অনুপ্রেরণা যোগাতে সবাইকে আহবান জানান।
উল্লেখ্য, আগামী ৯ই নভেম্বর টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সিলেট ডিভিশনাল এফসি রাজশাহী বিভাগের মুখোমুখি হবে। ১৫ই নভেম্বর তাদের দ্বিতীয় প্রতিপক্ষ ঢাকা বিভাগ।
চকরিয়ায় বাস-মাইক্রোবাস মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৫
চকরিয়ায় বাস-মাইক্রোবাস মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৫
Summary: কক্সবাজার জেলার চকরিয়ায় বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নারী ও এক শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা সবাই একই পরিবারের সদস্য এবং মাাইক্রোবাসের যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে।
আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী আর্মি ক্যাম্প এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি।
মালুমঘাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান সমকালকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী বেপরোয়া গতিতে চালানো মারসা বাসটি ফাঁসিয়াখালী আর্মি ক্যাম্প এলাকায় কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী একটি মাাইক্রোবাসকে চাপা দেয়। এসময় মাাইক্রোবাসে থাকা ৪ নারী ও ১ শিশু মারাত্মকভাবে আহত হয়। স্থানীয় লোকজন আহতদেরকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
মালুমঘাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছে। হাইওয়ে থানা পুলিশ গাড়ি দুটি জব্দ করেছে।
খসড়া টেলিযোগাযোগ অধ্যাদেশে ওটিটি ও সামাজিক মাধ্যম নিয়ন্ত্রণের বিধান
খসড়া টেলিযোগাযোগ অধ্যাদেশে ওটিটি ও সামাজিক মাধ্যম নিয়ন্ত্রণের বিধান
Summary: সরকার টেলিযোগাযোগ খাতের পুরোনো আইন সংস্কার করে নতুন ‘বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ অধ্যাদেশ, ২০২৫’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ সম্প্রতি আইনটির খসড়া প্রকাশ করেছে এবং অংশীজনের মতামত চেয়ে অনলাইনে উন্মুক্ত করেছে।
খসড়া অনুযায়ী, ইন্টারনেটভিত্তিক সেবা—যেমন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন মেসেজিং ও ভিডিও স্ট্রিমিং অ্যাপ—সবই সরকারের অনুমোদনের আওতায় আসবে। এসব সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানকে এখন থেকে বাংলাদেশে নিবন্ধন নিতে হবে এবং প্রয়োজনে নিরাপত্তা সংস্থাকে তথ্য সরবরাহ করতে হবে।
আইন অনুযায়ী, এই খাতে একটি স্বাধীন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কমিশন গঠন করা হবে, যা লাইসেন্স প্রদান, নীতি নির্ধারণ, স্পেকট্রাম বণ্টন ও প্রযুক্তিগত মান নিয়ন্ত্রণ করবে। কমিশন হবে পাঁচ সদস্যের, যার একজন চেয়ারম্যান ও একজন ভাইস চেয়ারম্যান থাকবেন।
খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, অনুমতিহীনভাবে টেলিযোগাযোগ সেবা পরিচালনা বা বিদেশি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করা হলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার স্বার্থে সরকার প্রয়োজনে কোনো প্ল্যাটফর্ম স্থগিত বা বন্ধ করতে পারবে।
১৮৮৫ সালের টেলিগ্রাফ আইন ও ১৯৩৩ সালের ওয়্যারলেস টেলিগ্রাফি আইন বাতিল করে এই নতুন অধ্যাদেশ কার্যকর হবে।
বুধবার ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রস্তাবিত এই অধ্যাদেশে ইন্টারনেট বন্ধের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ বিদ্যমান আইন ও নীতিতে বেশ কিছু মৌলিক ও যুগোপযোগী পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নাগরিক অধিকারের সুরক্ষা আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নির্বাচনে জোট না করলেও আমরা সমঝোতা করতে পারি: জামায়াত আমির
নির্বাচনে জোট না করলেও আমরা সমঝোতা করতে পারি: জামায়াত আমির
Summary: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী জোট গঠন করবে না বলে জানিয়েছেন সংগঠনের আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘জোট গঠন না করলেও আমরা সমঝোতা করতে পারি।’ বুধবার সকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রেস ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান।
ডা. শফিকুর রহমান তৃতীয়বারের মতো জামায়াতে ইসলামীর আমির নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম সিলেট যান আজ। ওসমানী বিমানবন্দরে নেতাকর্মীরা তাঁকে শুভেচ্ছা জানান।
পরে প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা সবাইকে নিয়ে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আদায় করে ছাড়বো। নির্বাচন না হলে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের থাকার সুযোগ নেই।’
সম্প্রতি নিজের বিদেশ সফর নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিদেশে প্রবাসীদের সাথে সাক্ষাৎ হয়েছে। তারা তাদের বুকের উষ্ণতা ও ভালোবাসা নিয়েই এগিয়ে এসেছেন। তাদের বুকভরা ভালোবাসায় আমি আপ্লুত।’
পিআর পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বিশ্বের ১৯৩ দেশে এ পদ্ধতির চর্চা হয়। এ পদ্ধতি ফ্যাসিজম রোধ করতে পারে। পদ্ধতির বিষয়ে দেশের মানুষ বুঝতে পারলে সেটা মঙ্গল হবে। আশা করি জনগণ সেটা বুঝবে এবং তাদের জন্যই আমরা রাজনীতি করি।’
আজ সিলেট নগরীতে জেলা ও মহানগর জামায়াত আয়োজিত সাংগঠনিক কর্মসূচিতে জামায়াতের আমির অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। বিমানবন্দরে বিপুল সংখ্যক নেতা কর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, মহানগরের আমির হাফিজ ফখরুল ইসলাম, জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান প্রমুখ।
রুবেলের খোঁচাকে পাত্তা না দিয়ে আশরাফুল বললেন, ‘সেই অধ্যায় শেষ’
রুবেলের খোঁচাকে পাত্তা না দিয়ে আশরাফুল বললেন, ‘সেই অধ্যায় শেষ’
Summary: বাংলাদেশ জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই মিশ্র প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। তাকে নিয়ে ‘রহস্যময়’ ফেসবুক পোস্ট দিয়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন পেসার রুবেল হোসেন। অবশেষে এই বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন আশরাফুল নিজেই।
আশরাফুলের নিয়োগের খবর প্রকাশের পরপরই রুবেল হোসেন ফেসবুকে লেখেন, ‘দায়মুক্ত হলো ক্রিকেট বোর্ড।’ পরে তিনি আরও যোগ করেন, ‘যে মাঠ একসময় বিশ্বাস হারিয়েছে, সেই মাঠেই আবার শিক্ষা দিতে আসা, জীবনটা আসলেই সিনেমা, সময় সত্যিই অদ্ভুত! যাদের এক সময় উদাহরণ হিসেবে বাদ দেওয়া হয়েছিল, আজ উদাহরণ দিতে এসেছে!’
রুবেল কারো নাম না নিলেও এটা যে আশরাফুলকে উদ্দেশ্য করেই লেখা সেটা পরিষ্কার। সমকালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবেলের এই মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আশরাফুল বলেন, ‘আমি ঠিক জানি না ও (রুবেল হোসেন) কারে মিন করেছে। একেক জনের ব্যক্তিগত মতামত থাকতেই পারে।’
নিজের অতীত অধ্যায় নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার জীবনে যা হয়েছে আমি প্রকাশ্যে শিকার করেছি। ওই পর্ব শেষ করে আমি এখানে।’
স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগে ২০১৩ সালে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন আশরাফুল। এরপর ক্রিকেটে ফিরলেও আর জাতীয় দলে ঢুকতে পারেননি তিনি। পরবর্তীতে আমিরাতের আবুধাবি থেকে লেভেল-৩ কোচিং কোর্স করেছেন তিনি। বিপিএলের দল রংপুর রাইডার্সের সহকারী কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। মূলত দলটির ব্যাটিং কোচের ভূমিকা পালন করতেন তিনি। এছাড়া এনসিএল টি-২০’তে বরিশালের হেড কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন সাবেক ডানহাতি এই ব্যাটার।
স্পট-ফিক্সিংয়ের দায়ে নিষিদ্ধ থাকা একজন ক্রিকেটারের জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমে ফেরা নিয়ে যে সমালোচনা হচ্ছে, সে বিষয়েও স্পষ্ট জবাব দেন আশরাফুল। তিনি বলেন, ‘আমার কোনো মতামত নেই। কারণ এটার জন্য যা যা হওয়ার হয়েই গেছে। এমন না যে দুনিয়াতে শুধু আমি একাই এসব করে শাস্তি পেয়েছি। এটা ঠিক দুনিয়াতে আমি প্রথম ব্যক্তি যে কিনা নিজে স্বীকার করেছি ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি। বিশ্বে আর কেউ স্বীকার করেনি।’
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন হোম সিরিজ দিয়েই জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমে নতুন ভূমিকায় যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের একসময়ের এই মহাতারকা।
টেলিযোগাযোগ অধ্যাদেশের নতুন খসড়া প্রকাশ, ইন্টারনেট বন্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব
টেলিযোগাযোগ অধ্যাদেশের নতুন খসড়া প্রকাশ, ইন্টারনেট বন্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব
Summary: ‘বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ অধ্যাদেশ ২০২৫’ এর খসড়া প্রকাশ করেছে সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। যেখানে ইন্টারনেট বন্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ টেলিযোগাযোগ খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নাগরিক অধিকারের সুরক্ষায় বেশকিছু মৌলিক ও যুগোপযোগী পরিবর্তনের প্রস্তাব আনা হয়েছে।
বুধবার সকালে এ খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও সাধারণ জনগণের অবগতি এবং মতামত গ্রহণের উদ্দেশ্যে খসড়াটি ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে টেলিযোগাযোগ খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নাগরিক অধিকারের সুরক্ষা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে একাধিক ধারা সংশোধন করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো– ইন্টারনেট বন্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব, যা ডিজিটাল যুগে তথ্যপ্রবাহ ও নাগরিক স্বাধীনতা রক্ষা।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, খসড়া অধ্যাদেশের ওপর মতামত পাঠানো যাবে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত। মতামত পাঠাতে হবে ই-মেইলে (secretary@ptd.gov.bd) বা ডাকযোগে সচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা ঠিকানায়।
যাত্রাপালা থেকে রূপালি পর্দা, রেকর্ড সৃষ্টির ‘রূপবান’ মুক্তির ৬০ বছর
যাত্রাপালা থেকে রূপালি পর্দা, রেকর্ড সৃষ্টির ‘রূপবান’ মুক্তির ৬০ বছর
Summary: এ দেশের প্রথম লোক কাহিনিনির্ভর সিনেমা ‘রূপবান’ মুক্তির ছয় দশক পা রাখছে আজ ৫ নভেম্বর। ১৯৬৫ সালের এই দিনে চলচ্চিত্রটি সারা বাংলায় মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন সালাহ্উদ্দিন। এতে অভিনয় করেন– সুজাতা, চন্দনা, আনোয়ার হোসেন, মনসুর, সুভাষ দত্ত প্রমুখ। সে সময়ে রূপবান চলচ্চিত্রটি সারা বাংলায় বেশ সাড়া জাগায়। উর্দু ভাষার চলচ্চিত্রের দাপটের কাছে এ চলচ্চিত্রটি বাংলা ভাষার একমাত্র চলচ্চিত্র হিসেবে রেকর্ড সৃষ্টি করে।
যাত্রাপালা থেকে রূপালি পর্দায়
পরিচালক সালাহউদ্দিন বাংলা চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেন ১৯৬১ সালে ‘যে নদী মরুপথে’ পরিচালনার মধ্য দিয়ে, যেখানে গল্প ও চিত্রনাট্য দুটোই ছিল তাঁর নিজের। এরপর আলাউদ্দিন আল আজাদের গল্প থেকে নির্মাণ করেন ‘সূর্যস্নান’। ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরুর পর তিনি নির্মাণ করেন আরেক চলচ্চিত্র ‘ধারাপাত’।
আমজাদ হোসেনের একটি মঞ্চনাটক অবলম্বনে তিনি ছবিটির চিত্রনাট্য, পরিচালনা এমনকি সংগীত পরিচালনাও করেন নিজ হাতে। সমালোচকদের প্রশংসা পেলেও বক্স অফিসে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁর কর্মজীবনে খানিকটা ভাটা পড়ে। জীবিকা টিকিয়ে রাখতে বাধ্য হয়ে তথ্যচিত্র নির্মাণে মন দেন তিনি। কিন্তু সীমাবদ্ধতার ভেতরে থেকেও বড় কিছু করার স্বপ্ন ভুলে যাননি সালাহউদ্দিন। সে সময় দেশে উর্দু ছবির প্রভাব ছিল প্রবল, ফলে বাংলা ভাষার দর্শক কমে যাচ্ছিল ক্রমশ। কীভাবে দর্শকদের হলে ফিরিয়ে আনা যায়, তা নিয়ে ভাবতে ভাবতেই একসময় তাঁর নজর পড়ে জনপ্রিয় যাত্রাপালা ‘রূপবান’-এর দিকে।
পূর্ব পাকিস্তানের প্রায় সব জেলার মাটিতে এই যাত্রা দারুণ সাড়া ফেলেছিল। সালাহউদ্দিন এক রাতে মফস্বলের একটি গ্রামে বসে পুরো যাত্রাপালা দেখেন। লোকজ গাথা, নাটকীয় ঘটনা প্রবাহ আর প্রাণবন্ত লোকসংগীত এই তিনের মিশ্রণই তাঁকে আকৃষ্ট করে। তিনি রূপবান নির্মাণের বছরখানেক আগে একই নামে রূপবান চলচ্চিত্রটির নির্মাণ শুরু করেছিলেন, চলচ্চিত্র সাংবাদিকতার পথিকৃৎ এ দেশের প্রথম চলচ্চিত্রবিষয়ক পত্রিকা ‘সিনেমা’র সম্পাদক ফজলুল হক।
চলচ্চিত্রটির একটি গান ও বেশ কিছু দৃশ্যের শুটিংও করেছিলেন বর্তমান রমনা পার্কে। সে সময়ে নানান সমস্যার কারণে চলচ্চিত্রটি নির্মাণে তিনি আর এগিয়ে যেতে পারেননি। ফজলুল হকের অনুমতিসাপেক্ষেই পরবর্তী সময়ে সালাউদ্দিন ‘রূপবান’ নির্মাণ করেন। তখনকার চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করেছিলেন, যাত্রাপালা সিনেমার বিষয় হতে পারে না। এমন তির্যক মন্তব্যও উঠেছিল ‘সূর্যস্নান’ কিংবা ‘ধারাপাত’-এর পরিচালক শেষে যাত্রা নিয়ে ছবি বানাতে নামলেন!
সব আপত্তি, পরিহাস আর ঝুঁকি সত্ত্বেও সালাহউদ্দিন পিছপা হননি। তিনি সিদ্ধান্ত নেন চলচ্চিত্রে ‘রূপবান’কে নতুন করে জীবন্ত করে তুলবেন। অবশেষে দীর্ঘ পরিশ্রমের পর এ ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৬৫ সালের শেষ ভাগে, আর তারপরের ইতিহাস সুপরিচিত রূপবান হয়ে ওঠে বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সাফল্যের নাম।
‘রূপবান’ সিনেমার নায়িকা সুজাতা: ছবি: সংগৃহীত
রূপবান কন্যার কথা
৬০ দশকের অন্যতম জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নায়িকা সুজাতা। তাঁর ক্যারিয়ারে রয়েছে অসংখ্য সুপারহিট সিনেমা। কেবল ‘রূপবান’ সিনেমা দিয়েই তিনি বহু বছর আলোচনায় ছিলেন। তাঁকে বলা হতো ‘রূপবান কন্যা’।
প্রায় ছয় দশক বছর ধরে অভিনয় করছেন, একজীবনে বড় প্রাপ্তি কোনটি? এমন প্রশ্নে তাঁর ভাষ্য, ‘১৯৬০ এর দশকে সিনেমায় অভিনয় শুরু করি। দেশের মানুষ এক নামে আমাকে চেনেন। এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি কী আর হতে পারে? ‘রূপবান’ সিনেমায় নাম ভূমিকায় আমি অভিনয় করেছিলাম। এখনও মানুষ আমাকে ‘রূপবান’ নামে ডাকেন। মানুষের ভালোবাসাই আমার জীবনের বড় প্রাপ্তি।
সিনেমায় যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রয়াত নির্মাতা ফজলুল হক সাহেব ‘রূপবান’ সিনেমাটি নির্মাণের উদ্যোগ নেন। ঢাকার রমনা পার্কে দুইদিন শুটিংও করেছি। পরে তিনি আর কাজটি করেননি। কাজটি বন্ধ হওয়ার পর ‘রূপবান’ সিনেমা বানানোর উদ্যোগ নেন নির্মাতা সালহ্উদ্দিন। তিনি আমাকে ওই সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব দেন। আমি তাকে বলি, কাজটি যেহেতু ফজলুল হক শুরু করেছিলেন তাই তার থেকে অনুমতি পেলেআমি আপনার কাজটি করবো। পরে ফজলুল হকের অনুমতি সাপেক্ষ অভিনয়ের জন্য রাজি হই।”
কিছু আক্ষেপ
রূপবান নিয়ে কিছু আক্ষেপও আছে সুজাতার মনে। তিনি বলেন, ‘এ দেশে চলচ্চিত্রে ‘রূপবান’ সিনেমার সঠিক মূল্যায়ন হয়নি। অথচ ‘রূপবান’ এ দেশ থেকে উর্দু সিনেমাকে তাড়িয়ে দিয়েছিল। ‘রূপবান’ হিট হওয়ার পর এ দেশে বাংলা সিনেমা নির্মাণের হিড়িক পড়ে যায়। উর্দু সিনেমায় ভাটা পড়ে। সালাহউদ্দিন সাহেব অনেক যত্ন নিয়ে সিনেমাটি বানিয়েছিলেন। চলচ্চিত্রটি নির্মাণের আগে পরিচালক আমাদের নিয়ে বসে বলেছিলেন– এমন সিনেমা করতে চাই, যার জন্য মানুষ হলে যাবে এবং উর্দু সিনেমা থেকে দূরে সরে আসবে। ফোক সিনেমা হিসেবে ‘রূপবান’ হিট হয়ে গেল। বছরের পর বছর ধরে দেশের নানা সিনেমা হলে ‘রূপবান’ চলেছে। কিন্তু, ‘রূপবান’র সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি।
রূপবান নিয়ে আয়োজন
‘রূপবান’ চলচ্চিত্রের ষাট বছর পূর্তিতে চ্যানেল আইয়ের গান দিয়ে সকালের শুরুতে থাকছে রূপবান চলচ্চিত্রের গান, তারকা কথন অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে আলোচনা এবং চ্যানেল আই সংবাদে বিশেষ প্রতিবেদন।
স্কোয়াড ঘোষণা ছাড়াই চলছে নেপাল ম্যাচের ক্যাম্প
স্কোয়াড ঘোষণা ছাড়াই চলছে নেপাল ম্যাচের ক্যাম্প
Summary: কদিন আগে যমজ সন্তানের বাবা হয়েছেন। স্ত্রীর পাশে থাকায় জাতীয় দলের ক্যাম্পের শুরুতে ছিলেন না বাংলাদেশ কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা। মঙ্গলবার ঢাকায় এসে বিকেলে দলের অনুশীলনে যোগ দেন এ স্প্যানিয়ার্ড। অনুশীলন শুরুর আগে নেপাল ও ভারত ম্যাচ নিয়ে নিজের লক্ষ্যের কথা জানান ক্যাবরেরা। একই সঙ্গে তাঁকে শুনতে হয়েছে ক্যাম্প শুরু হলেও কেন বাংলাদেশ স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়নি প্রশ্নটি। এমন প্রশ্ন শুনে ক্যাবরেরা পুরো দায় চাপিয়ে দিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের ওপর, ‘আমার মনে হয় এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমি যথারীতি ক্যাম্পের আগে তালিকা দিই। খেলোয়াড় তালিকা গণমাধ্যমে না দেওয়ার বিষয়টি বাফুফের সিদ্ধান্ত।’
১৮ নভেম্বর এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ দল। আর ১৩ নভেম্বর নেপালের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবেন হামজা চৌধুরী-শমিত সোমরা। আজ থেকে নেপাল ম্যাচের টিকিট বিক্রি শুরু করছে বাফুফে।
এই দুটি ম্যাচের প্রস্তুতি গত বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে। তালিকা গোপন করেই চলছে জাতীয় দলের ক্যাম্প। সহকারী কোচ, ম্যানেজার এমনকি দলের খেলোয়াড়রাও জানেন না কারা ডাক পেয়েছেন।
ক্যাবরেরা একাই তালিকা চূড়ান্ত করেন। এবারই প্রথম নয়, অতীতেও ক্যাম্প শুরুর আগে স্কোয়াডের তালিকা দেওয়া হয়নি। এটা কি কোচের সিদ্ধান্তে? প্রশ্নটি শুনে বড় গলায় ক্যাবরেরার উত্তর, ‘না, না। এটা কোচদের নির্দেশ নয়। আমি সবসময় ক্যাম্পের আগে তালিকা দিয়ে থাকি।’ তবে বাফুফের মিডিয়া ম্যানেজার সাদমান সাকিব বলেছেন অন্য কথা, ‘এখন পর্যন্ত মিডিয়া ডিপার্টমেন্টের হাতে জাতীয় দলের তালিকা আসেনি। তাই দেওয়া হয়নি।’
ক্যাম্পে এখনও বসুন্ধরা কিংসের সাত ফুটবলার যোগ দেননি। ১০ নভেম্বর ইংল্যান্ড থেকে হামজা ঢাকায় ফিরবেন। শমিতের কিছুটা বিলম্ব হবে। তবে নেপালের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে এই দুই ফুটবলারকে খেলাতে চান ক্যাবরেরা, ‘হামজা সম্ভবত ১০ তারিখের মধ্যে চলে আসবে। সবকিছু যদি ঠিকঠাক চলে এবং সে (হামজা) ভালো বোধ করে, তাহলে কেন নয়? সে অবশ্যই খেলবে। আর শমিত সম্ভবত একটু পরে আসছে। নেপাল ম্যাচে তার অন্তত কিছু মিনিট যেন খেলার সুযোগ হয়, আমরা সে চেষ্টা করব।’
সামনে প্রতিপক্ষ নেপাল হলেও বাংলাদেশের মূল ফোকাস ভারতের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ম্যাচ। ক্যাবরেরা ভারতের বিপক্ষে জয়ের আশা করছেন, ‘এটাই লক্ষ্য, অবশ্যই দুটি ম্যাচ জেতা। এর আগে নেপালের বিপক্ষে জয়ের জন্য ভালো প্রস্তুতি নেওয়া। পাশাপাশি প্রধান উদ্দেশ্য ভারতের বিপক্ষে জয়।’
‘ব্যাটিং অভিজ্ঞতা কাজে লাগাব’
‘ব্যাটিং অভিজ্ঞতা কাজে লাগাব’
Summary: জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচের নিয়োগ পেয়ে খুশি মোহাম্মদ আশরাফুল। যদিও তাঁর অতীত নিয়ে নানা মহলে সমালোচনা হচ্ছে। আশরাফুল সেগুলো দেখেও ইতিবাচক। গতকাল মঙ্গলবার সমকালকে একান্ত সাক্ষাৎকারে জাতীয় দলের সাবেক এ অধিনায়ক বলেন, ‘আমি ভুলের শাস্তি ভোগ করে ফেলেছি।’ কোচ হিসেবে এখন কিছু দিতে চান তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সেকান্দার আলী।
সমকাল: ব্যাটাররা এখন ভালো করতে পারছেন না। কিছুটা ‘ডাউন’ আছেন তারা। এই মুহূর্তে তাদের চাঙ্গা করবেন কীভাবে?
আশরাফুল: গত কয়েক বছর ইংল্যান্ডে খেলে যে অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে, সেই অভিজ্ঞতা মেলে ধরব। ইংল্যান্ডে গত দুই বছর ধারাবাহিক ছিলাম, ৭৬ গড়ে রান করেছি। এটা কীভাবে হয়েছে, আমি বুঝতে পেরেছি। নির্দিষ্ট দিনের পিচে কত রান সেভ, কত রান হলে জেতা যাবে, উইকেট দেখে তা বুঝতে পারলে এবং সে লক্ষ্যে ব্যাটিং করা গেলে ধারাবাহিক রান করা সম্ভব। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে সৌম্য সরকার ৩০ ওভার পর্যন্ত খেলে ৪৬ রান করেছে। দলের রান ৩০ ওভারে ৯০ বা ১০০ হয়েছিল। ওই ক্যালকুলেশন ঠিক মতো করা সম্ভব হলে ভালো হবে। সৌম্য আরও ১৫ ওভার খেলতে পারলে ৩০ রান যোগ করা সম্ভব ছিল। শেষের পাঁচ ওভার মেরে খেলতে পারলে ১০০ হতো রান। জাতীয় লিগে ওর সঙ্গে এভাবে আলাপও করেছিলাম। ও বলছিল, ভাই আমি শতক মিস করেছি। এভাবে চিন্তা করা সম্ভব হলে ব্যাটাররা ধারাবাহিক হতে পারবে।
সমকাল: আপনিও তো ২০ বা ২৫ করে আউট হয়ে বলতেন শুরুটা ভালো ছিল, দুঃখজনক আউট হয়ে গেছি।
আশরাফুল: আমি ২০ রান বা ২৫ রান করে আউট হতাম। ওই সময় আমি হয়তো চিন্তা করতাম– অতি আত্মবিশ্বাস ছিল নয়তো আগে থেকে শট নির্ধারণ করে খেলতাম। বলের মেধা অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করিনি। ইংরেজিতে যেটাকে বলে ‘প্রি ডিটারমাইন শট সিলেকশন’। এ কারণেই আমাদের বেশির ভাগ খেলোয়াড় ২০ বা ২৫ রান করে আউট হয়ে যায়। এগুলো নিয়েই খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলাপ করব। খেলোয়াড়রা বিষয়টি অনুধাবন করলে রান পাবে।
সমকাল: জাতীয় দলে সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির হওয়ার সুযোগ দেখেন?
আশরাফুল: কোনো সুযোগ নেই। সালাউদ্দিন ভাই দেশসেরা কোচ। আমি অধিনায়ক থাকার সময় তিনি কোচ ছিলেন। সালাউদ্দিন ভাইয়ের সঙ্গে যখনই দেখা হয়, আমরা বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে কথা বলি। আমার কারও সঙ্গে ঝামেলা নেই।
সমকাল: আপনার সাবেক সতীর্থ রুবেল হোসেনের দুটি স্ট্যাটাস দেখেছেন, যেখানে প্রথমে লেখা হয়েছে বিসিবি দায়মুক্ত হলো। পরে লিখেছেন– ‘যে মাঠ একসময় বিশ্বাস হারিয়েছে, সেই মাঠেই আবার শিক্ষা দিতে আসা, জীবনটা আসলেই সিনেমা, সময় সত্যিই অদ্ভুত! যাদের এক সময় উদাহরণ হিসেবে বাদ দেওয়া হয়েছিল, আজ উদাহরণ দিতে এসেছে!’ এই মন্তব্য নিয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া জানতে চাই।
আশরাফুল: আমি ঠিক জানি না ও (রুবেল হোসেন) কারে মিন করেছে। একেক জনের ব্যক্তিগত মতামত থাকতেই পারে। আমার জীবনে যা হয়েছে আমি প্রকাশ্যে শিকার করেছি। ওই পর্ব শেষ করে আমি এখানে।
সমকাল: বিভিন্ন জায়গায় লেখা হয়েছে– ফিক্সিংয়ের অপরাধে পাঁচ বছর নিষেধাজ্ঞায় থাকা ক্রিকেটার এখন জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমে থাকবেন। এ ব্যাপারে আপনার মতামত কী?
আশরাফুল: আমার কোনো মতামত নেই। কারণ এটার জন্য যা যা হওয়ার হয়েই গেছে। এমন না যে দুনিয়াতে শুধু আমি একাই এসব করে শাস্তি পেয়েছি। এটা ঠিক দুনিয়াতে আমি প্রথম ব্যক্তি যে কিনা নিজে স্বীকার করেছি ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি। বিশ্বে আর কেউ স্বীকার করেনি।
সমকাল: আপনার কোচিং অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আপনারই একজন সাবেক সহখেলোয়াড়।
আশরাফুল: আপনি বিশ্বব্যাপী দেখবেন খেলা ছাড়ার পর পর অনেকে জাতীয় দলের প্রধান কোচ হয়। সাউদি এখনও খেলে, কিন্তু কোচিং করায়। ইংল্যান্ড দলের বোলিং নিয়ে কাজ করছে সে। বিশ্বে এ রকম অনেক নজির আছে। আমি তো লেভেলে থ্রি কোচিং কোর্স তিন বছর আগে করেছি। গ্লোবাল টি২০ টুর্নামেন্টে দুবার কোচ ছিলাম। একবার চ্যাম্পিয়ন ও একবার রানার্সআপ হওয়া দলের কোচ ছিলাম। যারা ভাবে অভিজ্ঞতা নেই, তারা ভাবতেই পারে। আমি এই খেলায় শুরু থেকে, আমার মনে হয় না কোনো জায়গায় অভিজ্ঞতার কমতি আছে।
সমকাল: বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সঙ্গে আপনার গভীর সম্পর্ক আছে আগে থেকেই। এটা কি আপনার বড় সাপোর্ট?
আশরাফুল: এটা তো অবশ্যই। বুলবুল ভাই আমার রোল মডেল। আমার লেভেল থ্রি কোচিং কোর্স করার পেছনে ওনার অবদান আছে। ওই সময়ে আবুধাবিতে কোর্সে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। কোনো সন্দেহ নেই এটা আমার জন্য আর্শীবাদ।
কলি থেকে শাপলা ফুটতে বেশিদিন লাগবে না: সারজিস আলম
কলি থেকে শাপলা ফুটতে বেশিদিন লাগবে না: সারজিস আলম
Summary: ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের খুন-গুমের কথা বলে স্থানীয় ভাষায় জুলাই সনদে ‘হ্যাঁ’ ভোট চেয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এসসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি বলেন, ‘এটি আপনাদের সেই সন্তানদের দল, যারা এমন একজনের পতন ঘটিয়ে, এমন একজনকে ভারত পালাতে বাধ্য করেছে, সকল রাজনৈতিক দল মিলে যার পতন ঘটাতে পারেনি। একটু আস্থা রাখেন। ইন-শা-আল্লাহ আস্থার প্রতিদান আমরা দেবো। আমরা যেই দলের হই না কেন, গণভোটের দিন আমরা যেন জুলাই সনদের পক্ষে হ্যাঁ ভোট দেই।’
মঙ্গলবার রাতে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার তেঁতুলতলায় ইউনিয়ন কমিটি ঘোষণার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় এনসিপি ও যুব শক্তির নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।
সারজিস আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনা যাকে তার সমস্যা মনে করেছে তাকে উঠিয়ে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। একজন অফিসারই ১ হাজার ২০ জনকে গুলি করে হত্যা করেছে। এই রকম পেশাদার খুনি ছিলো শেখ হাসিনার। যারা ১৬ বছরে অসংখ্য মানুষকে গুম খুন করেছে।’
সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা শাপলা মার্কা চেয়েছিলাম। শাপলা না দিয়ে দিয়েছে শাপলার কলি। আমরা বলি স্বেচ্ছাচারিতা করছেন করেন, সমস্যা নেই। কিন্তু শাপলা কলি থেকে শাপলা ফুটতে বেশিদিন লাগবে না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, আগামী নির্বাচনে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে হলে আমাদের সাংগঠনিক ভিত্তিকে আগে শক্তিশালী করতে হবে। সেই লক্ষ্যে আমরা ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি করা শুরু করেছি। কারও সঙ্গে জোট হবে কি হবে না, সেটা পরের বিষয়। আমরা বাংলাদেশে পরনির্ভরশীলতা রাজনীতি করতে আসিনি। আমরা আগে নিজেদের ভিত্তিটা শক্ত করতে চাই। এর পরে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বার্থে জনগণের স্বার্থে যদি ইলেক্টরাল এলায়েন্স হয় হবে, না হলে এককভাবে আগামী নির্বাচনে ৩০০ আসনে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো।’
সারজিস বলেন, ‘পৃথিবীর ইতিহাসে অনেক রাজনৈতিক দল আছে যারা সংসদে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেছে। কিন্তু প্রথমবার তারা একটি সিটও পায়নি। আমরা সিটের রাজনীতির খেলায় যেতে চাই না। আমরা জনগণের জন্য রাজনীতি করতে চাই। আমরা জনগণের জন্য সংসদে যেতে চাই।’
ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব ছাড়ছেন সালাউদ্দিন
ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব ছাড়ছেন সালাউদ্দিন
Summary: আয়ারল্যান্ড সিরিজের পরই বাংলাদেশ জাতীয় দলের সহকারী কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদে চুক্তি থাকলেও, মাত্র এক বছরের মাথায় তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেন। ক্রিকবাজ জানিয়েছে, সালাউদ্দিন তার বর্তমান ভূমিকায় অসন্তুষ্ট হওয়ায় ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে বোর্ডকে এরই মধ্যে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
ক্রিকবাজকে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সালাউদ্দীন বলেছেন, ‘হ্যাঁ, আমি পদত্যাগ করছি।’ তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পদত্যাগপত্রে সালাউদ্দীন লিখেছেন, এখন আর নিজের ভূমিকায় কাজ করে আনন্দ পাচ্ছেন না।
সালাউদ্দিনের এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন আয়ারল্যান্ড সিরিজের জন্যই মোহাম্মদ আশরাফুলকে নতুন ব্যাটিং কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বিসিবি।
আগামী ৬ নভেম্বর আয়ারল্যান্ড দল বাংলাদেশ সফরে আসছে। এই সফরে দুটি টেস্ট এবং তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে দুই দল। ১১ নভেম্বর সিলেটে প্রথম টেস্ট দিয়ে সিরিজ শুরু হবে।
নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র মামদানি, ভাঙলেন শতাব্দীর সর্বকনিষ্ঠের রেকর্ড
নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র মামদানি, ভাঙলেন শতাব্দীর সর্বকনিষ্ঠের রেকর্ড
Summary: যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম শহর নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী ৩৪ বছর বয়সী জোহরান মামদানি। এ জয়ের মধ্য দিয়ে তিনি শহরটির ইতিহাসে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম এবং নিউইয়র্ক সিটির ১১১তম মেয়র নির্বাচিত হলেন। পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকটি ইতিহাস গড়েছেন। গত একশত বছরেও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে শহরটির মেয়রের চেয়ারে বসছেন মামদানি।এতদিন নিউইয়র্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ মেয়রের খেতাব ছিল হিউ জে গ্রান্টের, যিনি ১৮৮৯ সালে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। এছাড়া প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত এবং আফ্রিকায় জন্মগ্রহণকারী হিসেবেও নিউইয়র্কের প্রথম মেয়র নির্বাচিত হওয়ার রেকর্ড গড়েন মামদানি।
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সাবেক গভর্নর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুমো ও রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়াকে পরাজিত করে এ ইতিহাস গড়লেন নিজেকে ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট পরিচয় দেওয়া মামদানি। একই সঙ্গে অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট পার্টির সামনের সারির নেতৃত্বে পা রাখলেন।
নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটের প্রাথমিক ফলাফলে জোহরান মামদানি ১০ লাখ ৩৫ হাজার ৬৪৬ ভোট (৫১ শতাংশ), অ্যান্ড্রু কুওমো ৮ লাখ ৫৪ হাজার ৭৮৩ ভোট (৩৯ শতাংশ) এবং কার্টিস স্লিওয়া ১৪ হাজার ৬২৬ (৭.১ শতাংশ) ভোট পেয়েছেন। নিউইয়র্ক সিটি বোর্ড অফ ইলেকশনস জানিয়েছে- পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এবার ভোটার উপস্থিতি ছিল সর্বোচ্চ।
জোহরান মামদানি মামদানি এখনও সমর্থকদের উদ্দেশ্যে সরাসরি ভাষণ না দিলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি সাবওয়ে ট্রেনের দরজা খোলা হচ্ছে যেখানে বলা হচ্ছে; তার পরবর্তী গন্তব্য সিটি হল।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে শুরু হয়ে ভোট চলে রাত ৯টা পর্যন্ত মেয়র নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শেষ মুহূর্তে নির্বাচনে আসে নাটকীয় মোড়। ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থিতার দৌড়ে জোহরান মামদানির কাছে হেরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া অ্যান্ড্রু কুওমোকে সমর্থন জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টি কার্টিস স্লিওয়াকে প্রার্থী করেছে। ট্রাম্পের সমর্থনের কারণে রিপাবলিকান ভোটাররা কুওমোর দিকে ঝুঁকতে পারেন, যা নতুন এক সমীকরণ দাঁড় করাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল।
নিউইয়র্কের নির্বাচন শেষ পর্যন্ত মামদানি বনাম ডোনাল্ড ট্রাম্পের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। এদিন সকালেই কুইন্সের অ্যাস্টেরিয়ার আর্টস হাই স্কুল কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন মামদানি। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী রামা দুয়াজি। ভোট দিয়েছেন কুওমো এবং স্লিওয়াও। তিন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণী এ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। এর আগে আগাম ভোট দেন নিউইয়র্কের সাত লাখ ৩৫ হাজার বাসিন্দা, যা গত রোববার শেষ হয়। এ ভোটের হার ২০২১ সালের নির্বাচনের চেয়ে চার গুণেরও বেশি।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, সবকিছু ছাপিয়ে শেষ দিনের প্রচারণার ছিল নানা নাটকীয়তা। মেয়র থাকাকালে বিদ্রোহী ডেমোক্র্যাট অ্যান্ড্রু কুওমোর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্ক বেশ খারাপ ছিল। কিন্তু ভোটের মাঠে আকস্মিক তাঁকেই সমর্থন করে বসেন ট্রাম্প। মেয়র হওয়ার দৌড়ে নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির কার্টিস স্লিওয়াও আছেন। কিন্তু তাঁকে উপেক্ষা করে কুওমোকে সমর্থন মামদানিকে ঠেকাতে ট্রাম্পের মরিয়া চেষ্টার ইঙ্গিত দেয়।
কুওমো নিউইয়র্কের সাবেক মেয়র। তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার নানা অভিযোগ রয়েছে। তিনি শহরটির মেয়র থাকাকালে সেখানকার আদালতে ট্রাম্পের মামলা চলে। এ নিয়ে ট্রাম্প বিভিন্ন সময় সরাসরি কুওমোর সমালোচনা করেছেন। কিন্তু অনেকটা ইউটার্ন নিয়ে শেষ মুহূর্তে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ‘আপনি ব্যক্তিগতভাবে অ্যান্ড্রু কুওমোকে পছন্দ করেন বা না করেন, আপনার সামনে আর কোনো পছন্দ নেই। আপনাকে অবশ্যই তাঁকে ভোট দিতে হবে। আশা করি, তিনি চমৎকার কাজ করবেন। আর তিনি এটা করার সামর্থ্য রাখেন, মামদানি নয়।’
বিবিসি জানায়, ট্রাম্পের সমর্থনের কড়া জবাব দিয়েছেন মামদানি। তিনি বলেন, কুওমোকে সমর্থন করেছেন ট্রাম্প ও তাঁর দলের লোকজন। তিনি নিউইয়র্ক সিটি বা নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের সেরা মেয়র হবে না, তিনি হবেন ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের সেরা মেয়র।
জোহরান মামদানি জিতলে কেন্দ্রীয় তহবিল বন্ধ করে দেবেন বলেও ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এর আগে গত রোববার এক সাক্ষাৎকারে তিনি তহবিল বন্ধের হুমকি দেন। তখন তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিউইয়র্ককে অধিক অর্থ দেওয়া আমার পক্ষে কঠিন হতে যাচ্ছে।’ এ প্রসঙ্গে মামদানি বলেন, এটা কোনো নিয়ম নয়, হুমকি।
গত সোমবার দুই প্রতিদ্বন্দ্বী জোহরান মামদানি ও অ্যান্ড্রু কুওমো শেষ সভা-সমাবেশ করেন। মামদানিকে নিউইয়র্কের অভিবাসীদের পাশাপাশি স্বল্প আয়ের মানুষ সমর্থন জানাচ্ছেন। মঙ্গলবার ভোটকেন্দ্রে এর প্রতিফলন দেখা গেছে। ৪৬ বছর বয়সী শিল্পী অধ্যাপক ম্যাট মার্কেল হেস তাঁর ১১ বছরের ছেলেকে নিয়ে কেন্দ্রে এসে মামদানিকে ভোট দেন। তিনি জানান, ছোট ব্যবসা, ছোট ছোট উদ্যোগের প্রতি মামদানির সমর্থন ও বিনামূল্যে শিশুসেবা দেওয়ার আশ্বাস তিনি খুব পছন্দ করেছেন।
কার্যত মামদানি নিউইয়র্কে স্বল্প আয়ের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি নিজে অভিবাসী এবং অভিবাসী বাবা-মায়ের সন্তান। তাই নিউইয়র্কের অভিবাসীরা তাঁকে সমর্থন করছেন। মামদানিও তাদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, শহরটির তথাকথিত অভিজাত শ্রেণি কুওমোর পক্ষে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এটা প্রথম বড় কোনো নির্বাচন। নিউইয়র্ক ছাড়াও ভার্জিনিয়া ও নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন হচ্ছে। এসব নির্বাচন তাঁর দলের জনপ্রিয়তার জন্য এক পরীক্ষা। এমন একসময় এ ভোট হচ্ছে, যখন মার্কিন সরকারের অচলাবস্থা বা শাটডাউন ৩৫তম দিনে পৌঁছেছে। এতে ভুগছেন হাজার হাজার ফেডারেল কর্মী।
চ্যাম্পিয়ন পিএসজিকে হারিয়ে শীর্ষে বায়ার্ন
চ্যাম্পিয়ন পিএসজিকে হারিয়ে শীর্ষে বায়ার্ন
Summary: চ্যাম্পিয়ন্স লিগের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন পিএসজিকে তাদেরই ঘরের মাঠে হারিয়ে দিল বায়ার্ন মিউনিখ। মঙ্গলবার রাতে পার্ক দে প্রিন্সেসে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে লুইস এনরিকের দলকে ২-১ গোলে হারায় জার্মান জায়ান্টরা। লুইস দিয়াজ জোড়া গোল করে দলের জয়ের নায়ক বনে গেলেও, প্রথমার্ধেই লাল কার্ড দেখে তাকে মাঠ ছাড়তে হয়। ১০ জন নিয়ে খেলেও এই জয়ে বায়ার্ন সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১৬তম জয় তুলে নিল। দারুণ জয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠল বায়ার্ন মিউনিখ।
ম্যাচের শুরুতেই পিএসজিকে স্তব্ধ করে দেয় বায়ার্ন। মাত্র চার মিনিটের মাথায় মাইকেল ওলিসের শট গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেন লুইস দিয়াজ। ২১ মিনিটে দেম্বেলে গোল করে সমতা ফেরালেও সেটি অফসাইডের কারণে বাতিল হয়।
৩১ মিনিটে পিএসজির রক্ষণের ভুলে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে বায়ার্নের লিড দ্বিগুণ করেন কলম্বিয়ান উইঙ্গার দিয়াজ। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আশরাফ হাকিমিকে ট্যাকল করায় লাল কার্ড দেখেন দিয়াজ। এতে ১০ জনের দলে পরিণত হয় বায়ার্ন।
দ্বিতীয়ার্ধে একজন খেলোয়াড় বেশি থাকার সুবিধা নিয়ে পিএসজি আক্রমণের পর আক্রমণ চালাতে থাকে। ম্যাচে ৭১ শতাংশ বল দখলে রেখে ২৫টি শট নেয় তারা। কিন্তু ৭৪ মিনিটে হোয়াও নেভেসের লক্ষ্যভেদ ছাড়া আর কোনো গোল পায়নি পিএসজি। পর্তুগিজ এই মিডফিল্ডার বাইসাইকেল কিকে গোলটি করেন। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় চ্যাম্পিয়নদের। এই হারে পিএসজি গ্রুপের তৃতীয় স্থানে নেমে গেল।
কোর্তোয়ার ‘দেয়াল’ ভেঙ্গে স্বস্তির জয় লিভারপুলের
কোর্তোয়ার ‘দেয়াল’ ভেঙ্গে স্বস্তির জয় লিভারপুলের
Summary: অ্যানফিল্ডে মঙ্গলবার রাতটি যেন ছিল ‘লিভারপুলের আক্রমণ বনাম থিবো কোর্তোয়া’র লড়াই। রিয়াল মাদ্রিদের বেলজিয়ান গোলরক্ষক একাই দুর্গ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, ফিরিয়ে দিচ্ছিলেন লিভারপুলের একের পর এক আক্রমণ। তবে তার সেই অবিশ্বাস্য প্রতিরোধ শেষ পর্যন্ত ভাঙল ম্যাচের ৬১ মিনিটে। আর্জেন্টাইন তারকা অ্যালেক্সিস ম্যাক-অ্যালিস্টারের একমাত্র গোলে ১-০ গোলের জয় এনে দেয় স্বাগতিকদের।
ম্যাচের শুরু থেকেই রিয়ালের ওপর আক্রমণের ঝড় তোলে লিভারপুল। কিন্তু প্রতিবারই তাদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ান কোর্তোয়া। ম্যাচের ৫০ মিনিট পার হওয়ার আগেই তিনি ছয়টি সেভ করেন, যার মধ্যে চারটিই ছিল প্রথমার্ধে। ডমিনিক সোবোসলাইয়ের একাধিক দূরপাল্লার শট তিনি অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন।
ম্যাচের শেষদিকে ৮৬ মিনিটে কোর্তোয়া আরও একবার রিয়ালকে বাঁচান। কোডি গাকপোর খুব কাছ থেকে নেওয়া শট প্রথমে ঠেকানোর পর ফিরতি বলে সালাহর শট ডিফেন্ডার এদের মিলিতাও ক্লিয়ার করেন।
রিয়ালের এই প্রতিরোধ ভাঙে মূলত জুড বেলিংহামের এক ভুলে। ৬১ মিনিটে তিনি গ্রাভেনবার্চকে ফাউল করলে বক্সের ঠিক বাইরে ডান প্রান্তে ফ্রি-কিক পায় লিভারপুল। সোবোসলাইয়ের মাপা ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে বল জালে জড়ান আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার ম্যাক-অ্যালিস্টার।
রিয়াল মাদ্রিদ পুরো ম্যাচে সেভাবে সুযোগই তৈরি করতে পারেনি। যদিও ৬১ শতাংশ বল ছিল তাদের দখলে। এর মধ্যে ৮টি শট নিয়ে রিয়াল পোস্টে রাখতে পেরেছে মাত্র ২টি। লিভারপুল ১৭টি শট নিয়ে রাখতে পেরেছে ৯টি শট। মৌসুমে এই প্রথমবারের মতো ম্যাচে গোল করতে পারল না রিয়াল।
চার ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ লিগ পর্বের টেবিলে পাঁচে রিয়াল। সমান ম্যাচে সমান পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে লিভারপুল। গোল ব্যবধানে ইংলিশ ক্লাবটির চেয়ে এগিয়ে আলোনসোর দল।
৫ উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে মেলে না ওষুধপথ্য ও চিকিৎসাসেবা
৫ উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে মেলে না ওষুধপথ্য ও চিকিৎসাসেবা
Summary: নান্দাইল উপজেলায় ৫টি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মিলছে না ওষুধপথ্য ও চিকিৎসাসেবা। এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে লোকবলের সংকট রয়েছে। কর্মরতরাও নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, নান্দাইল উপজেলার জনসংখ্যা ৪ লাখের ওপরে। তাদের চিকিৎসাসেবার জন্য সদরে রয়েছে একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টিতে রয়েছে ৫টি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র। ৭টি ইউনিয়নে রয়েছে একটি করে পরিবার কল্যাণ ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। প্রতিটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন করে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো), ফার্মাসিস্ট, মিডওয়াইফ, আয়া এবং এমএলএসএস মিলে ৫টি পদ রয়েছে। এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্র সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা রেখে রোগীদের পরামর্শ এবং বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়ার কথা। এই নিয়ম মানছেন না কর্মরতরা। অভিযোগ রয়েছে, কেউ কেউ ইচ্ছেমতো এক দিন পরপর উপস্থিত থাকেন। কোনো কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মিডওয়াইফকে রোগীদের চিকিৎসা দিতে দেখা যায়। গত এক সপ্তাহে ৫টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ঘুরে এর সত্যতা পাওয়া গেছে।
গত ২৮ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে গাঙ্গাইল উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান ফটকে তালা দেওয়া। তাঁর সামনে বসে চিকিৎসকের জন্য অপেক্ষা করছেন কয়েকজন নারী-পুরুষ। এ সময় পাছদরিল্লা গ্রামের বেদেনা আক্তার জানান, তিনি সকাল ১০টা থেকে এখানে চিকিৎসকের জন্য অপেক্ষা করছেন।
জ্বরের ওষুধ নিতে এসেছেন গয়েসপুর গ্রামের মকবুল হোসেন। ময়না বেগম এসেছেন তাঁর অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে চিকিৎসক দেখাতে। দুপুর ১২টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে কাউকে তালা খুলতে দেখা যায়নি। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে ফোন করলে জানান, ওখানে কর্মরত স্যাকমো গত রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডিউটি করেছেন, এখন তিনি ঘুমাচ্ছেন। ফার্মাসিস্ট অসুস্থ, অন্যদের অনুপস্থিতির কারণ জানেন না তিনি।
রোগী মকবুল হোসেন বলেন, ‘এইহানে আইয়া আমরা নিয়মিত ডাক্তার কেউরেই পাই না। যদি কপাল গুনে কোনোদিন পাই, ওষুধ নিতারিনা (নিতে পারি না)। ট্যাহা-পইসার অভাবে অন্য ডাক্তারের কাছেও যাইতারিনা (যেতে পারি না)।’
রাজগাতি ইউপির দরিল্লা উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, একটি কক্ষে ফার্মাসিস্ট পলাশ শিবনাথ স্থানীয় দুজনের সঙ্গে বসে গল্প-গুজব করছেন। তিনি জানান, এখানে এক মাস ধরে স্যাকমো নেই। মিডওয়াইফ কাজ করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, আয়া নেই, পিয়ন অসুস্থ, ওষুধের ঘাটতি আছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া বলেন, এখানে এমদাদুল মাগফুর নামে একজন এমবিবিএস চিকিৎসককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ৩ বছর আগে তিনি বদলি হয়ে গেছেন।
মোয়াজ্জেমপুর উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চারপাশের ডোবা-পুকুর কচুরিপানায় ঘেরা। কর্দমাক্ত পথ দিয়ে ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, মিডওয়াইফ ফাহমিদা দুই রোগীকে ওষুধ দিচ্ছেন। ফাহমিদা জানান, এখানে কর্মরত স্যাকমো লিনা আক্তার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাজ করেন। ফার্মাসিস্ট আতিকুর রহমান পরীক্ষার হলে ডিউটিতে গেছেন। এমএলএসএস পদটি চার বছর ধরে খালি, আয়াও অবসরে গেছেন। স্থানীয় মোহাম্মদ আলী বলেন, ফার্মাসিস্ট ও স্যাকমো পালাক্রমে একদিন পরপর আসেন। রোগী এলেও প্রায় দিনই ফেরত যান, ওষুধ তো পাওয়াই যায় না।
গত ২৯ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খারুয়া ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে দরজায় তালা দেওয়া দেখা গেছে। মাঠে গরু চড়াতে আসা পাশের একটি বিদ্যালয়ের দপ্তরি জালাল উদ্দিন জানান, পরিবার পরিকল্পনার একজন নারী এসেছিলেন আধা ঘণ্টা আগে, চলে গেছেন। সজীব মিয়া নামে একজন জানান, এখানে কর্মরতরা পালাক্রমে একজন করে একদিন পরপর ঘণ্টাখানেকের জন্য আসেন। রোগী এলেও প্যারাসিটামল ও গ্যাসের ওষুধ ছাড়া কিছুই নিতে পারেন না। তাঁর দাবি, স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চাবিটি রাখা থাকে, যিনিই আসেন সেখান থেকে চাবি নিয়ে ভেতরে ঢোকেন।
পাঁচরুখী উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে সেটিও বন্ধ পাওয়া গেছে। সেখানে কর্মরত ডেমিয়েন ফাউন্ডেশনের জুনাইদ সিদ্দিকী জানান, ফার্মাসিস্ট মিজানুর রহমান এসেছিলেন, বাসায় চলে গেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৩ বছর ধরে স্যাকমো নেই। আয়া ও এমএলএসএস পদেও
কেউ নেই। রোগীরা কোনো ওষুধ পান না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শামীমা সুলতানার ভাষ্য, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অভাব থাকায় স্যাকমোদের এনে কাজ করাতে হয়। তাই তাদের অনেকের পক্ষে উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে দায়িত্ব পালন সম্ভব হয়ে ওঠে না। অন্যদের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ময়মনসিংহের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ফয়সল আহমেদ বলেন, ‘লোকবল নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রায় শেষের পথে। তাছাড়া নানা প্রক্রিয়া শেষে সারাদেশের ওষুধ একসঙ্গে কেনা হয়। এসব কারণে কখনও কখনও ওষুধ সরবরাহে একটু সমস্যা হয়ে যায়, তবে সহসাই এসব সমস্যা মিটে যাবে।’
স্কুল মিল্ক ফিডিং কর্মসূচিতে অনিয়ম
স্কুল মিল্ক ফিডিং কর্মসূচিতে অনিয়ম
Summary: জয়পুরহাটের কালাইয়ের তেলিহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল মিল্ক ফিডিং কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অতিরিক্ত শিক্ষার্থী দেখিয়ে বরাদ্দ দুধ প্রধান শিক্ষকসহ অন্যরা ভাগবাটোয়ারা করে বাড়ি নিয়ে যান। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন অনিয়মে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
সরকার ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে সারাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিতে ‘দুধ পান কর্মসূচি’ চালু করেছে। প্রথম পর্যায়ে ৩০০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই প্রকল্প চালু হয়। সপ্তাহে পাঁচ দিন শিক্ষার্থীপ্রতি বরাদ্দ দেওয়া হয় ২০০ মিলি করে তরল দুধ। কর্মসূচির লক্ষ্য বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার বৃদ্ধি ও শিশুদের অপুষ্টিজনিত সমস্যার সমাধান। তেলিহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এই কর্মসূচিতে স্থান পায়।
অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের ভর্তি রেজিস্টার অনুযায়ী ৮২ জন শিক্ষার্থীকে সপ্তাহে পাঁচ দিন ২০০ মিলি করে তরল দুধ সরবরাহের কথা। প্রধান শিক্ষক অতিরিক্ত আরও ৩৮ জনের নাম যুক্ত করে প্রতিদিন ১২০ জনের নামে দুধ তুলছেন। তিনি প্রতি সপ্তাহে দুধ সংগ্রহের জন্য উপস্থিত শিক্ষার্থীদের থেকে একটি শিটে স্বাক্ষর নেন। সেই শিট উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে জমা দিয়ে ডিলারের কাছ থেকে দুধ বুঝে নেওয়া হয়। গত ৬ সেপ্টেম্বর ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে স্কুল বন্ধ ছিল। ওই দিনও শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষর নিয়ে দুধ তোলা হয়েছে। এভাবেই তারা খুদে শিক্ষার্থীদের খাবার আত্মসাৎ করে আসছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক বলেন, প্রতিদিন গড়ে ৬৪ থেকে ৬৫ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকে। প্রধান শিক্ষক ১২০ জনের রিপোর্ট পাঠান। রেজিস্টারে নতুন শিক্ষার্থীর নাম যুক্ত করা হয়েছে। তারা স্থানীয় নয়, এমনকি কখনও বিদ্যালয়ে আসে না। তাদের নামে বরাদ্দ দুধ প্রধান শিক্ষকের পছন্দের শিক্ষকরা বাড়িতে নিয়ে যান।
অভিভাবক রমজান আলী বলেন, গত রোববার ৫৩ জন ছেলে-মেয়ে স্কুলে উপস্থিত ছিল। দুধ আনা হয়েছে ১১০ জনের নামে। বাকি দুধ শিক্ষকরা ব্যাগে করে বাড়িতে নিয়ে গেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক অভিভাবক বলেন, শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিতের জন্য সরকারের মানবিক উদ্যোগকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। শিক্ষক নামে এক শ্রেণির হীন মানসিকতার লোক এ ধরনের কাজ করছেন। তারা ছোট শিশুদের প্রাপ্য পুষ্টি থেকে বঞ্চিত করে অপরাধ করছেন।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উদয় চন্দ্র পাল বলেন, প্রতিদিন গড়ে ৯০-৯৫ জনের জন্য দুধ আসে। উপস্থিতি অনুযায়ীই বিতরণ করা হয়। গড়ে ৬০-৬৫ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকে। বাকি দুধ কী করেন, জানতে চাইলে কোনো জবাব দেননি। বন্ধের দিনও দুধ বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, এসব অপপ্রচার।
প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রাশেদুল আলম বলেন, স্কুল মিল্ক ফিডিং কর্মসূচিতে আমাদের সংশ্লিষ্টতা নেই। তারপরও খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মনিরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি তদন্ত করা হবে। এ ছাড়া প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তদারকি কমিটি গঠন করা হবে।
জলবায়ু প্রকল্পে দুর্নীতিতে নষ্ট ২১১০ কোটি টাকা
জলবায়ু প্রকল্পে দুর্নীতিতে নষ্ট ২১১০ কোটি টাকা
Summary: পতিত আওয়ামী লীগের বিগত ১৫ বছরে জলবায়ু অর্থায়নের অর্ধেকের বেশি অর্থ দুর্নীতিতে নষ্ট হয়েছে বলে দাবি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি)। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটি জানায়, ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড (বিসিসিটিএফ) থেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোয় বরাদ্দ দেওয়া হয় ৪৫৮ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর থেকে প্রায় ২৪৮ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার (২ হাজার ১১০ কোটি ৬০ লাখ টাকা) দুর্নীতিতে অপচয় হয়েছে। অর্থাৎ আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জলবায়ু প্রকল্পে বরাদ্দের প্রায় ৫৪ শতাংশ অর্থ প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে দুর্নীতিতে নষ্ট হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ‘বাংলাদেশে জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিসিসিটিএফের অনুমোদিত প্রকল্পে রাজনৈতিক বিবেচনা, যোগসাজশ ও স্বজনপ্রীতির প্রবণতা স্পষ্ট ছিল। অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ছিল না। তহবিল ব্যবস্থাপনা ও নজরদারির দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টও (বিসিসিটি) অনিয়ম প্রতিরোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
গবেষণায় ২০০৩ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত দেশে বাস্তবায়িত ১২টি জলবায়ু তহবিলের আওতায় ৯৪২ প্রকল্পের তথ্য বিশ্লেষণ করেছে টিআইবি। এর মধ্যে বিসিসিটিএফের প্রকল্পগুলো আলাদা করে যাচাই করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সাল পর্যন্ত শেষ হওয়া ৫৮৫ প্রকল্পের মধ্যে মাত্র ৯০টির (১৫ দশমিক ৪ শতাংশ) সংক্ষিপ্ত মূল্যায়ন হয়েছে। বাকি ৪৯৫টির (৮৪ দশমিক ৬ শতাংশ) কোনো প্রভাব মূল্যায়ন করাই হয়নি।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের প্রতিবছর জলবায়ু ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার জন্য ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। ২০০৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আমরা পেয়েছি মাত্র ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার, যা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য। সেই স্বল্প অর্থেরও বড় অংশ নষ্ট হয়েছে দুর্নীতিতে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে জলবায়ু তহবিলের প্রকল্পগুলো রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবের মাধ্যমে বণ্টন করা হয়েছে। এতে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠী বঞ্চিত হয়েছে। ক্ষমতা সম্পর্কিত ব্যক্তি ও গোষ্ঠী সুবিধা পেয়েছে।
টিআইবি বলেছে, জলবায়ু অভিঘাত মোকাবিলায় দেশে প্রতি বছর প্রায় ১২ হাজার ৫০০ মিলিয়ন ডলার দরকার। ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে গড়ে ৮৬ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার (দশমিক ৭০ শতাংশ) বরাদ্দ এসেছে।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর থেকেই জলবায়ু তহবিল পরিচালনায় অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ ওঠে। টানা ক্ষমতার সময়ে দলীয় প্রভাব ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের সুযোগে বহু প্রকল্প রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, সেই সময়ের নানা অনিয়ম, অপচয় ও দুর্নীতির চিত্র প্রকাশ্যে আসছে। ইতোমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া একাধিক প্রকল্প বাতিল করেছে।
টিআইবি মনে করে, জলবায়ু অর্থায়নে প্রকৃত সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে জাতীয় পর্যায়ে স্বচ্ছ তহবিল ব্যবস্থাপনা, জবাবদিহিমূলক মূল্যায়ন ব্যবস্থা এবং নাগরিক অংশগ্রহণ অপরিহার্য। এর ব্যত্যয় হলে আন্তর্জাতিক সহযোগীরা বাংলাদেশের প্রতি আস্থা হারাতে পারে, যা ভবিষ্যতের জলবায়ু অর্থায়ন আরও কঠিন করে তুলবে।
হেমন্তে ঝরা হিমঝুরি
Summary: হেমন্ত আসে ছাতিমের গন্ধে ও শোভায়। ছাতিম এ দেশে সুলভ উদ্ভিদ। গ্রামে তো বটেই, শহরেরও অনেক জায়গায় ছাতিম গাছ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। সন্ধ্যা হতেই এর তীব্র ঘ্রাণ ছড়াতে শুরু করে। হেমন্তে আর একটি সুগন্ধি ফুল ফোটে, নাম তার হিমঝুরি। এটি দুর্লভ উদ্ভিদ।
হিমঝুরি ফুল ফুটল কিনা, তা দেখার জন্য গত ৩০ অক্টোবর ভোরে যাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান গ্রন্থাগারের কাছে। সেখানে পথের পাশে দাঁড়ানো লম্বা গাছটির তলায় গিয়ে দাঁড়াই। যেভাবে ফুল দেখব বলে আশা করেছিলাম, সেভাবে ফোটেনি। একেবারে মগডালের আগায় সাদা সাদা কয়েকটা ফুল দেখতে পেলাম। আসলেই হিমঝুরি ফুটেছে কিনা, তা যাচাই করতে গাছটার তলায় তাকালাম। গার্ডরুমের পাশে ঘসের ওপর, রাস্তার পাশে ফুটপাতের ওপর পড়ে আছে হিমঝুরি ফুল। গাছে ফুল দেখতে হলে আসতে হতো রাতের বেলায়। কী আর করা, তবু পুষ্পদর্শন তো হলো। এটুকু অন্তত বুঝলাম, হেমন্তে হিমঝুরি ফুটতে শুরু করেছে। কয়েকটা ফুল কুড়িয়ে হালকা মিষ্টি একটা ঘ্রাণ পেলাম।
হিমঝুরি ফুলের লম্বা সরু নল, আর সেই নলের মাথায় ছড়িয়ে থাকে পাঁচটি পাপড়ি। তিনটি পাপড়ি আলাদা। পাপড়িগুলোর মাঝখানে সরু সাদা সুতোর মতো পরাগদণ্ডের মাথায় রত্নের মতো চিকচিক করে হালকা বাদামি রঙের পরাগধানী। পুষ্পনল ও পাপড়িসহ ফুলের দৈর্ঘ্য মেপে পেলাম ৯ সেন্টিমিটার, পূর্ণ প্রস্ফুটিত ফুলের পাপড়ির বিস্তার এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত পর্যন্ত আড়াই সেন্টিমিটার। ফুলটি যে এত বড় হতে পারে, মাপার আগে ডালে থাকা ফুলগুলোকে দেখে তা মনে হয়নি। বই পড়ে ফুলগুলোকে খুব ছোট ভাবতাম।
নিসর্গী দ্বিজেন শর্মা একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় আগরতলা থেকে কলকাতায় ট্রেনে যাওয়ার সময় এক অখ্যাত স্টেশনে এ ফুলের দেখা পেয়েছিলেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমি বসলাম একটি বেঞ্চে। হঠাৎ দেখি আমার গায়ে পাশের আকাশছোঁয়া একটি গাছ থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি ফুল ঝরছে। মুহূর্তেই হিমঝুরি নাম মনে পড়ল, রবীন্দ্রনাথের দেওয়া। আকাশনিম আমার চেনা গাছ।’
হিমঝুরির আরেক নাম পেলাম আকাশনিম বা আকাশমল্লি। নিমগাছের মতো পাতার গড়ন, আকাশের দিকে মুখ তুলে তার ফুল দেখতে হয়, এ জন্যই কি এর নাম হয়েছে আকাশনিম? কবি বিষ্ণু দে লিখেছিলেন– ‘শিরীষে আকাশনিমে নানা বনস্পতি মহীরুহে/ স্বদেশ আত্মার মূর্তি।’
হিমঝুরি বা আকাশনিম গাছ এ দেশে এসেছে মিয়ানমার ও ভারত থেকে। নিসর্গী বিপ্রদাশ বড়ুয়া তাঁর ‘নগরে নিসর্গ’ বইয়ে লিখেছেন– ‘বিজ্ঞানাচার্য সত্যেন বসু এ গাছের চারাটি কলকাতার শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন থেকে এনেছিলেন। তখন এখানে তাঁর বাসা ছিল।’
রমনা পার্কে সম্প্রতি এর চারা লাগানো হয়েছে। ধানমন্ডিতে ছায়ানটের গেটের পাশে একটি হিমঝুরি গাছ আছে। সেটির চারা শান্তিনিকেতন থেকে আনা হয়েছিল। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণেও ২০২৩ সালে একটি গাছ লাগানো হয়েছিল। নারিন্দার প্রাচীন খ্রিষ্টান কবরস্থানের মধ্যে থাকা গাছটি ঝড়ে ভেঙে মরে গেছে। এ ছাড়া আর তেমন দেখা যায় না এই গাছ।
হিমঝুরির ইংরেজি নাম ইন্ডিয়ান কর্ক ট্রি বা ট্রি জেসমিন। উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম Millingtonia hortensis ও গোত্র বিগ্নোনিয়াসি। গাছ বহুবর্ষজীবী চিরসবুজ বৃহৎ বৃক্ষ প্রকৃতির। ডালপালার আগা নোয়ানো বা দোলানো। ডালপালায় প্রচুর পাতা, পাতাগুলো যৌগিক, পত্রক কিনারা খাঁজকাটা, অগ্রভাগ তীক্ষ্ণ। ফুল ফোটে নভেম্বর-ডিসেম্বরে, রাতের বেলায়। ফল সরু, লম্বা, আগা ও গোড়া সূচালো, সরু সরু ডানাযুক্ত বীজে ভরা। ফল ফেটে বীজ দূরে ছড়িয়ে পড়ে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গাছটির তলায় দেখলাম কয়েকটা চারা গজিয়েছে। সেগুলো তুলে বা বীজ থেকে চারা তৈরি করে বিভিন্ন উদ্যানে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লাগিয়ে হিমঝুরিকে সুলভ করা যেতে পারে। তবে রাস্তার ধারে না লাগানো ভালো। কেননা, এ গাছের কাঠ ও ডালপালা নরম, সহজে ঝড়-বাতাসে ভেঙে যায়।
লেখক : কৃষিবিদ ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ
বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে যুবক প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে খুন
বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে যুবক প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে খুন
Summary: গাজীপুর নগরীর কুনিয়া তারগাছ এলাকা। গত সোমবার রাত ৮টার দিকে দেশি অস্ত্র হাতে একটি দোকানের সামনে আড্ডা দিচ্ছিল স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের নেতা রবিউল ইসলাম ওরফে সিগমা রবি। সঙ্গে ছিল সাব্বির হোসেন, সাগর, রনিসহ আরও কয়েক সহযোগী। এ সময় ওই দোকানে কেনাকাটা করতে যান জামিল হাসান (২৪) নামে এক যুবক। এ সময় রবি ও তার সহযোগীরা বিরূপ মন্তব্য করলে জামিলের সঙ্গে তাদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। বাগ্বিতণ্ডা থামাতে এগিয়ে যান জামিলের বন্ধু মারুফ আহমেদ (২২)। এক পর্যায়ে রবি ও তার সহযোগীরা জামিল ও মারুফ দুজনের ওপরেই চড়াও হয়। রবি ও তার সহযোগীরা দুই বন্ধুকে মারধর ও এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান মারুফ। গুরুতর আহত অবস্থায় জামিলকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় ওই রাতেই মামলার পর গতকাল মঙ্গলবার রবিউল ওরফে সিগমা রবি ও তার সহযোগী সাব্বির হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার জাহিদুল হাসান জানান, মারুফ হত্যার ঘটনায় সোমবার রাতে নিহতের বাবা গাছা থানায় রবিসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রধান আসামি সিগমা রবিকে গতকাল মঙ্গলবার সকালে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানা এলাকা থেকে এবং সাব্বিরকে গাছা থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর দুই আসামি সাগর ও রনি এখনও পলাতক।
নিহত মারুফ কুনিয়া তারগাছ এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। আহত জামিল একই এলাকার আতাউল্লাহর ছেলে। তারা দুজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং সিগারেট কোম্পানিতে চাকরি করেন।
এদিকে বগুড়ায় ফোনে বাড়ি ডেকে নিয়ে জহুরুল ইসলাম (৪২) নামে এক বেকারি ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল সকালে জেলা সদরের নুনগোলা ইউনিয়নের হাজরাদীঘি এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত জহুরুল ইসলাম জেলার কাহালু উপজেলার পাইকড় এলাকার মোখলেছুর রহমানের ছেলে। তিনি হাজরাদীঘি তালুকদারপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন।
নিহতের পরিবার জানায়, সোমবার রাত ১১টার দিকে একটি ফোন কল পেয়ে বাড়ি থেকে বের হন জহুরুল। এরপর রাতে আর ফেরেননি। পরদিন ভোরে স্থানীয়রা ধানক্ষেতে জহুরুলের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়।
ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ জাতিসংঘে জানিয়েছে সরকার
ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ জাতিসংঘে জানিয়েছে সরকার
Summary: দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ আগামী বছর স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হলে সংকট তৈরি হবে। এমন উদ্বেগ জানিয়ে এলডিসি থেকে উত্তরণ ২০২৬ সাল থেকে পিছিয়ে ২০৩২ সালে নির্ধারণের দাবি করে সরকারের কাছে সম্প্রতি চিঠি দেয় শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্য সংগঠনগুলো। ব্যবসায়ীদের এ উদ্বেগ জাতিসংঘকে জানিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে জাতিসংঘকে বিষয়টি নিয়ে স্বাধীন মূল্যায়নের অনুরোধ করা হয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এলডিসি থেকে উত্তরণ পিছিয়ে দিতে জাতিসংঘকে অনুরোধ জানানো হয়নি।
সরকারের এ অনুরোধে সাড়া দিয়ে পর্যালোচনা করতে জাতিসংঘের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে আসছে। অর্থ এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও হাই রিপ্রেজেনটেটিভ এবং পঞ্চম এলডিসি সম্মেলনের সেক্রেটারি জেনারেল রাবাব ফাতিমার কাছে সরকারের পক্ষ থেকে সম্প্রতি চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের পরিস্থিতির ওপর স্বাধীন পর্যালোচনা করতে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য জাতিসংঘের হাই রিপ্রেজেনটেটিভের কার্যালয়ের পরিচালক রোনাল্ড মোলেরুসের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের আগামী ১০ থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে ঢাকা সফর করার কথা রয়েছে। প্রতিনিধি দলটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বেসরকারি খাত, নাগরিক সমাজ ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা করবে। আলোচনার ভিত্তিতে প্রতিনিধি দল একটি স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও পরামর্শভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরি করবে।
গত ২৪ আগস্ট ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, আইসিসি বাংলাদেশসহ ১৬ ব্যবসায়ী সংগঠন একযোগে সংবাদ সম্মেলন করে এলডিসি থেকে উত্তরণ পিছিয়ে দেওয়ার দাবি করে। পরে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে সরকারের জরুরি উদ্যোগ চায় এসব সংগঠন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই সরকার জাতিসংঘকে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে।
২০১৮ সালে মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ, জলবায়ু ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা– এই তিন সূচকে উত্তীর্ণ হয়ে জাতিসংঘের মানদণ্ডে এলডিসি থেকে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করে বাংলাদেশ। এরপর ২০২১ সালে আরেকবার পর্যালোচনা করা হয়। ২০২৬ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশকে এলডিসি থেকে উত্তরণের সুপারিশ করে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি।
বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান সমকালকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ যেসব সমস্যায় পড়বে তা উল্লেখ করে ইতোমধ্যে একটি প্রতিবেদন জাতিসংঘে পাঠানো হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করবে। তারা বেসরকারি খাতসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করবে। তারপর বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা জানাবে। সচিব আরও বলেন, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এর আগে ভূটানের উত্তরণ জাতিসংঘ নিজেই পিছিয়ে দেয়। বাংলাদেশের বিষয়টিও তাদের ওপর নির্ভর করছে।
ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারকরা মনে করছেন, এলডিসি থেকে বের হলে সবচেয়ে সমস্যায় পড়তে হবে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার আওতায় শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। ওষুধ শিল্পের ওপর মেধাস্বত্ব বিধিবিধান আরও কড়াকড়ি হবে। উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্যসহ বড় বড় বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ১২ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ হতে পারে। ফলে রপ্তানি ৬ থেকে ১৪ শতাংশ কমে যেতে পারে।
তৈরি পোশাক শিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান (বাবু) সমকালকে বলেন, ‘এলডিসি উত্তরণ সফল ও টেকসই করতে প্রস্তুতির জন্য বাড়তি সময় প্রয়োজন। আমরা চাই ২০২৯ সালে উত্তরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। পরবর্তী তিন বছর হোক রূপান্তরের সময়। সব মিলিয়ে আমরা ছয় বছর পেছানোর কথা বলছি।’
বিজিএমইএ সভাপতি জাতিসংঘের স্বাধীন মূল্যায়নের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি খুবই ইতিবাচক দিক। কারণ এলডিসি থেকে উত্তরণের মতো বড় সিদ্ধান্ত সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই নেওয়া যৌক্তিক। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা আলোচনায় বসলে তারা তাদের উদ্বেগের দিকগুলো তুলে ধরবেন।
বার্ষিক প্রতিবেদন পাঠাতে দেরি
গত ৩১ অক্টোবরের মধ্যে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি বিষয়ে বাংলাদেশের কাছে বার্ষিক প্রতিবেদন চেয়েছিল জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি)। তবে এ প্রতিবেদন প্রস্তুতিতে কিছুটা দেরি হওয়ায় তা পাঠাতে আরও সময় চেয়েছে বাংলাদেশ। প্রতিবেদন প্রস্তুতের সঙ্গে সম্পৃক্ত এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি উত্তরণের পর আর্থসামাজিকভাবে বাংলাদেশ কোন কোন সমস্যায় পড়বে, সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করে প্রতিবেদন প্রস্তুতের কাজ চলছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্য সমস্যা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে নীতির ধারাবাহিকতা না থাকায় বাংলাদেশের প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত ঘটার বিষয় প্রতিবেদনে থাকবে। শিগগির প্রতিবেদনটি পাঠানো হবে।
রাজনৈতিক বিরোধ না মিটিয়ে আরপিও সংশোধনের গেজেট
রাজনৈতিক বিরোধ না মিটিয়ে আরপিও সংশোধনের গেজেট
Summary: জোটবদ্ধ হয়ে এক দলের প্রতীকে অন্য দলের প্রার্থীর নির্বাচনের সুযোগ বন্ধ হয়ে গেল। এ নিয়ে রাজনৈতিক মতবিরোধ না মিটলেও উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদনের পর নির্বাচন-সংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (সংশোধন) অধ্যাদেশের গেজেট জারি করা হয়েছে। ফলে আগামী সংসদ নির্বাচনে নিজ দলের প্রতীকেই নির্বাচন করতে হবে সব প্রার্থীকে।
এ ছাড়া গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন করে নির্বাচনী আইনে আরও কিছু পরিবর্তন আনা হয়। একজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিলের সাত দিন আগে থেকে এবং নির্বাচিত হয়ে পুরো পাঁচ বছরের মধ্যে ঋণখেলাপি হলে তাঁর আসন শূন্য হয়ে যাবে। পাশাপাশি পলাতক (ফেরারি) আসামিকে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য এবং অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞা পরিবর্তন করে সশস্ত্র বাহিনীকে যুক্ত করা হয়েছে, আংশিক ফিরছে ‘না’ ভোট। শুধু একক প্রার্থী থাকলেই ‘না’ ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়া যাবে। জামানতের পরিমাণ বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা পুনর্নির্ধারণ, দল আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ দেড় লাখ টাকা জরিমানা, আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং পদ্ধতি চালু করা, অনিয়মের কারণে পুরো আসনের ভোট বাতিলের বিধান, এআইয়ের অপব্যবহারকে নির্বাচনী অপরাধ হিসেবে গণ্য করা এবং হলফনামায় অসত্য তথ্য (ভোটে অযোগ্য এমন) দিলে নির্বাচিত হওয়ার পরও ইসি ব্যবস্থা নিতে পারবে বলে সংশোধিত আরপিওতে বলা হয়েছে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বা সদস্য থাকলেও প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হবেন– এমন প্রস্তাব বাদ দেওয়া হয়েছে।
সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী শিগগিরই দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা চূড়ান্ত করবে ইসি। আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। এ লক্ষ্যে আগামী ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তপশিল ঘোষণা করতে পারে ইসি। এর আগে নির্বাচন-সংক্রান্ত আইনে বড় রকমের পরিবর্তন আনল সরকার।
এ প্রসঙ্গে সমকালের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার আরপিওর সংশোধিত অধ্যাদেশ নিয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, কমিশনের সুপারিশ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত। রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের শর্তে দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্রায়ন, আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন ও বিদেশি শাখা বিলুপ্তির প্রস্তাব আমলে নেওয়া হয়নি। প্রার্থী হওয়ার ছয় মাস আগেই ঋণখেলাপিমুক্ত হতে হবে– এমন প্রস্তাবও বাদ দেওয়া হয়েছে। দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে তৃণমূলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্যানেল বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও রাখা হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গত ২৩ অক্টোবর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আরপিও সংশোধন অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন হয়। এর পরই বিএনপির পক্ষ থেকে একই প্রতীকে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনের সুযোগ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তে আপত্তি ওঠে। অন্তত দুই দফা উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এক পর্যায়ে বিএনপির আপত্তি আমলে নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত বদলের খবর প্রকাশ পায় গণমাধ্যমে। তবে তীব্র বিরোধিতায় নামে জামায়াত ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি।
এর আগ থেকেই অবশ্য জুলাই সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দেয়। আরপিও সংস্কার নিয়ে রাজনীতির ময়দানে চলমান মতবিরোধ বাড়তি উত্তাপ ছড়ায়। এমন পরিস্থিতিতে সোমবার মধ্যরাতে আরপিও সংশোধনের গেজেট প্রকাশ করে সরকার।
তবে গতকাল মঙ্গলবারও বিএনপির জোট শরিক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি প্রধান নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে এ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। দলটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, এ পরিবর্তনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নেওয়ার প্রয়োজন ছিল।
গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রাশেদ খান সমকালকে বলেন, দলগুলো নির্বাচনী জোট করে জেতার জন্য। একটা জোটে একাধিক দল থাকে। জোট করার পর আলাদা আলাদা প্রতীকে নির্বাচন করলে প্রচার করা কঠিন।
নতুন অধ্যাদেশে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকেও যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের মতো ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। তিন বাহিনীকে নির্বাচনী দায়িত্ব দিতে আলাদা কোনো আদেশের প্রয়োজন হবে না। এ ছাড়া পলাতক আসামিদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না রাখা, প্রার্থীদের দেশে-বিদেশে থাকা সম্পদের বিবরণী দেওয়া বাধ্যতামূলক করা, কোনো আসনে একক প্রার্থী থাকলে ‘না’ ভোটের ব্যবস্থা রাখা, ভোট বন্ধে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা বাড়ানো, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার সম্পর্কিত বিধান বিলুপ্ত, ৫০ হাজার টাকার বেশি চাঁদা বা অনুদান ব্যাংকে লেনদেনের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
নতুন আরপিও অনুযায়ী, সমভোট পেলে হবে পুনঃভোট, আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং পদ্ধতি চালু করা, অনিয়মের কারণে পুরো আসনের ভোট বাতিলের বিধান, এআইয়ের অপব্যবহারকে নির্বাচনী অপরাধ হিসেবে গণ্য করা এবং হলফনামায় অসত্য তথ্য (ভোটে অযোগ্য এমন) দিলে নির্বাচিত হওয়ার পরও ইসি ব্যবস্থা নিতে পারবে বলে আরপিওতে বলা হয়েছে।
আচরণবিধি লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ ছয় মাসের দণ্ডের পাশাপাশি সর্বোচ্চ দেড় লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। দলের ক্ষেত্রেও জরিমানার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের সময় গণভোট প্রশ্নে জাতীয় ঐকমত্য ও সরকারি সিদ্ধান্ত এলে ইসির কর্মপরিকল্পনায়ও পরিবর্তন আসতে পারে বলে জানান নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা।
আচরণবিধি লঙ্ঘনে নির্বাহী ও বিচারিক হাকিমের পাশাপাশি ইসির ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও ব্যবস্থা নিতে পারবেন– এমন বিধান রাখা হয়েছে। এ অনুচ্ছেদে হলফনামায় অসত্য তথ্য যাচাই ও ভোটের পরেও ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ইসিকে।
আরপিও সংশোধন অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে নির্বাচনী আইনের সব ধরনের সংস্কার কাজ শেষ হলো। ইতোমধ্যে ভোটার তালিকা আইন সংশোধন, নির্বাচন কর্মকর্তা বিশেষ বিধান আইন সংশোধন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন সংশোধন, ভোটকেন্দ্র নীতিমালা, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষণ নীতিমালা, সাংবাদিক নীতিমালাসহ সব ধরনের আইন-বিধি সংস্কার করেছে ইসি।
আরপিও সংশোধন হওয়ায় এর আলোকে দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা শিগগির জারি করবে ইসি।
ইতিবাচক হিসেবে দেখছে এনসিপি
নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচনের বিধান করে আরপিও সংশোধনের বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে দেখছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, এই সিদ্ধান্ত ইতিবাচক। কেননা, অনেক দল মাঠে না থেকেও বড় কোনো দলের সঙ্গে জোট করে সেই দলের প্রতীকে নির্বাচন করে। এতে যারা প্রকৃতপক্ষে রাজনীতি করতে চান, তাদের জন্য রাজনীতি করা কঠিন হয়ে পড়ে। নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচনের বিধান থাকলে এই ধরনের সমঝোতা কমবে।
মনোনয়নে বিক্ষোভ, চ্যালেঞ্জে বিএনপি
মনোনয়নে বিক্ষোভ, চ্যালেঞ্জে বিএনপি
Summary: বিএনপি ২৩৭ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণার পর বিভিন্ন আসনে বিক্ষোভ করছেন বাদ পড়া নেতাদের অনুসারীরা। বাকি ৬৩ আসনের অন্তত ২০টি আসন ফাঁকা রাখা হয়েছে যুগপৎ আন্দোলনের মিত্র দলের জন্য। বাকি ৪৩টিতে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র দ্বন্দ্বের কারণে। এর আটটিতে জ্যেষ্ঠ নেতাদের পরিবারের সদস্যরা মনোনয়নপ্রত্যাশী হওয়ায় বিরোধ আরও বেড়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে দ্বন্দ্ব নিরসনের চ্যালেঞ্জে পড়েছে বিএনপি। দলটি জানিয়েছে, বাদ পড়াদের দায়িত্ব ও সম্মান দিয়ে মূল্যায়ন করা হবে। আর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বিক্ষোভ ও ভাঙচুরকারীদের বিরুদ্ধে।
এদিকে সোমবার মাদারীপুর-১ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে কামাল জামান মোল্লার নাম ঘোষিত হলেও এক দিন পর গতকাল মঙ্গলবার তা স্থগিত করা হয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কামাল জামান ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছেন– এমন ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সমালোচনার কারণে তাঁকে বাদ দেয় বিএনপি।
অন্যদিকে মনোনয়ন পাওয়া বিএনপি নেতারা উল্লাস করলেও বাদ পড়াদের অনুসারীরা গত সোমবার রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করছেন। ভাঙচুর, সংঘর্ষ, সড়ক-রেলপথ অবরোধের মতো ঘটনা ঘটেছে।
মাদারীপুরে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর মহাসড়ক ও ময়মনসিংহের গৌরীপুরে রেলপথ অবরোধ করেন মনোনয়নবঞ্চিতদের অনুসারীরা। এতে যান চলাচল বন্ধ থাকে। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সড়ক অবরোধ করে ভাঙচুরের কারণে মনোনয়নবঞ্চিত আসলাম চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত চার নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।
বিক্ষোভ হয়েছে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল, নাটোরের লালপুরে। মেহেরপুরের গাংনীত দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। মুন্সীগঞ্জের বালিগাঁওয়ে মনোনয়নপ্রাপ্ত মিজানুর রহমান সিনহা এবং মনোনয়নবঞ্চিত আব্দুস সালাম আজাদের অনুসারীদের সংঘর্ষে দুজন আহত হয়েছেন। সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ-আশাশুনিতে আধাবেলা হরতাল হয়েছে। যদিও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ হলেও মাত্রা ছাড়ায়নি।
বিএনপির অধিকাংশ মনোনয়নবঞ্চিত নেতা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও নোয়াখালী-১ ও ৫, চট্টগ্রাম-১৬ আসনসহ অন্তত ২০টিতে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি উঠেছে। গত সোমবার প্রার্থীদের নাম ঘোষণার পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছিলেন, সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা পরিবর্তনযোগ্য। গতকাল নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘যারা মনোনয়ন পাননি; বিশ্বাস রাখুন, ইনশাআল্লাহ দল আপনাদের যথাযথ দায়িত্ব ও সম্মান দেবে।’
বাদ পড়া ‘ত্যাগীদের’ ক্ষোভ
আওয়ামী লীগ শাসনামলে মামলা, কারাগার ও গুমের শিকার অনেক নেতাই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাদ পড়ে। মনোনয়ন প্রত্যাশা করেও পাননি স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য সেলিমা রহমান। চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ এবং আন্তর্জাতিক-বিষয়ক সহসম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার নাম নেই প্রার্থী তালিকায়।
মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে মনোনয়ন না পাওয়া আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি। কিন্তু নির্বাচনী এলাকার লোকজন নারাজ। তাদের দাবি, মাঠ পর্যায়ে নিরপেক্ষ জরিপের মাধ্যমে মনোনয়ন দেওয়া হোক।
নোয়াখালী-১ আসনে মনোনয়ন না পাওয়া ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুন বলেন, তারেক রহমানের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। তবে এলাকার মানুষ বিষয়টি মানতে পারছেন না। আশা করি, নীতিনির্ধারকরা বিষয়টি উপলব্ধি করবেন।
নেত্রকোনা-৩ আসনে মনোনয়ন না পাওয়া একাধিক নেতা জানান, দলের উচিত আরও মাঠ পর্যায়ে জরিপ করে প্রার্থী চূড়ান্ত করা। তা না হলে দল ও দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
চট্টগ্রাম-১২ আসনে মনোনয়ন চেয়ে পাননি একাধিকবার গুমের শিকার ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান আশিক। তিনিসহ মনোনয়ন না পাওয়া অন্য নেতা সমকালকে বলেন, মনোনয়ন পাওয়া এনামুল হক পাপ্পা আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী। নৌকার সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির তাঁর চাচাশ্বশুর।
দ্বন্দ্ব নিরসনের চ্যালেঞ্জ
সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণার ফলে কিছু আসনে দলীয় কোন্দল আরও প্রকাশ্যে এসেছে। যেসব আসনে একাধিক শক্তিশালী মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন, সেখানে দ্বন্দ্ব মেটানো চ্যালেঞ্জ হতে পারে। যেমন: খুলনা-২, খুলনা-৬, চট্টগ্রাম-১৬ ও ভোলা-৪।
ভোলা-৪ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন। এ আসনের সাবেক এমপি নাজিমউদ্দিন আলমও মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর নুরুল ইসলাম নয়ন গিয়েছিলেন নাজিম উদ্দিন আলমের বাসায়। দরজা না খোলায় তিনি ফেরত আসছেন।
একাধিক প্রার্থীর দ্বন্দ্বে ময়মনসিংহ-৪ ও ময়মনসিংহ-১০ আসনে কারও নাম ঘোষণা করতে পারেনি বিএনপি। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় ময়মনসিংহ-৪ আসনে ২০১৮ সালের প্রার্থী আবু ওয়াহাব আকন্দের নাম ছিল। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা না করে স্থগিত রাখা হয়। দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রোকনুজ্জামান সরকার এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী। দুইজনের বিরোধে প্রার্থী ঘোষণা আটকে রয়েছে।
ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছয়জন। এ কারণে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। এ ছাড়া ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-৫, নীলফামারী-১, নীলফামারী-৩, লালমনিরহাট-২, নওগাঁ-৫, নাটোর-৩, পাবনা-১, ঝিনাইদহ-৪, বাগেরহাট জেলার তিনটি আসন, পটুয়াখালী-২, কিশোরগঞ্জ-১, মানিকগঞ্জ-১, মুন্সীগঞ্জ-১, ঢাকা-২০, গাজীপুর-১, ফরিদপুর-১, মাদারীপুর-২. সুনামগঞ্জ-২, সিলেট-৪, চট্টগ্রাম-৩, চট্টগ্রাম-৬, চট্টগ্রাম-৯সহ ৪৩টি আসনের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি দ্বন্দ্বের কারণে।
ঢাকা-১৮ আসনেও প্রার্থী ঘোষণা করেনি বিএনপি। জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের যমজ ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ গতকাল বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। ২৭ বছর বয়সী তরুণকে বিএনপি এ আসনে প্রার্থী করতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
জোটের জন্য ফাঁকা
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বগুড়া-২, গণসংহতির প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫, জাতীয় জোটের নেতা সৈয়দ এহসানুল হুদা কিশোরগঞ্জ-৫, এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদের ছেলে অধ্যাপক ওমর ফারুক চট্টগ্রাম-১৪, দলটির মহাসচিব রেদওয়ান আহমেদ কুমিল্লা-৭, জাতীয় পার্টি (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার পিরোজপুর-১, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রবের স্ত্রী তানিয়া রব লক্ষ্মীপুর-৪, বাংলাদেশ এলডিপির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম লক্ষ্মীপুর-১, বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ ঢাকা-১৭, এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ ঢাকা-১৩, গণঅধিকার সভাপতি নুরুল হক নুর পটুয়াখালী-৩, দলটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান ঝিনাইদহ-২, এনপিপি চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ নড়াইল-২, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান ঝালকাঠি-১ আসন থেকে নির্বাচন করতে চান। বিএনপি এসব আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেনি।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম নারায়ণগঞ্জ-৪, যশোর-৫, সুনামগঞ্জ-৪ ও সিলেট-৫ আসন চায়। হেফাজতে ইসলাম এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের একটি অংশের নেতা জুনায়েদ আল হাবিব ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে নির্বাচন করতে চান। এসব আসনেও প্রার্থী ঘোষণা করেনি বিএনপি। গণফোরাম, গণঅধিকারের রাজনীতির পর এখন কোনো দলে না থাকা রেজা কিবরিয়া হবিগঞ্জ-১ আসনে প্রার্থী হতে পারেন। এ আসনেও কারও নাম ঘোষণা করেনি বিএনপি।
এনসিপির সঙ্গে বিএনপির জোটের কথা শোনা যাচ্ছে। তবে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের ঢাকা-১১, সদস্য সচিব আখতার হোসেনের রংপুর-৪, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের পঞ্চগড়-১, হাসনাত আবদুল্লাহর কুমিল্লা-৪ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। অন্তর্বর্তী সরকারে থাকা ছাত্র উপদেষ্টা মাহফুজ আলম লক্ষ্মীপুর-১ ও আসিফ মাহমুদ ঢাকা-১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী হতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে ঢাকা বাদে অন্যান্য আসনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা জোট শরিকদের আসন ছাড়তে রাজি নয় বলে আগেই ঘোষণা দিয়েছে।
শীর্ষ নেতার পরিবারের জন্য আটকা কিছু আসন
যে ৪৩ আসনে দ্বন্দ্ব রয়েছে, এর আটটিতে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের পরিবারের সদস্যদের কারণে প্রার্থী চূড়ান্ত করা যাচ্ছে না। এক পরিবারে একজনের বেশি মনোনয়ন পাবেন না– নীতি নিয়েছে বিএনপি। তবে দলটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের সন্তান, ভাই, স্ত্রী মনোনয়নপ্রত্যাশী হওয়ায় কিছু আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। ঠাকুরগাঁও-২ আসনে মনোনয়ন চান মির্জা ফখরুলের ভাই। স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর স্ত্রী মনোনয়নপ্রত্যাশী সিরাজগঞ্জ-১ আসনে। টাঙ্গাইল-৫ আসনে মনোনয়ন চান টাঙ্গাইল-২ আসনে মনোনয়ন পাওয়া আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু।
ঢাকা-৯ আসনে মনোনয়ন চান স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের স্ত্রী। কুমিল্লা-২ আসনে মনোনয়ন চান স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মোশাররফ হোসেনের ছেলে। চট্টগ্রাম-১১ আসনে মনোনয়ন চান স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ছেলে। কক্সবাজার-২ আসনে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের পরিবারের কেউ নির্বাচন করতে পারেন। এ কারণে এসব আসনে কারও নাম ঘোষণা করা হয়নি।
এসব আসনে অন্য নেতারাও সক্রিয় মনোনয়নের দৌড়ে। এতে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে তৃণমূলে।
তালিকায় থাকাদের উল্লাস
যশোর-৬ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ সমকালকে বলেন, তরুণদের প্রতিনিধি হিসেবে দল আস্থা রাখায় আমি কৃতজ্ঞ। তারেক রহমান ও গণতন্ত্রের মা খালেদা জিয়ার হাতকে শক্তিশালী করতে কাজ করে যাব। এত বড় একটা দল; কিন্তু প্রার্থিতা নিয়ে উল্লেখ করার মতো অপ্রীতিকর কিছুই ঘটেনি। এতে প্রমাণিত হয়– তারেক রহমানের নেতৃত্বে সবাই ঐক্যবদ্ধ।
নরসিংদী-৫ আসনের প্রার্থী আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, দল তাঁর ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখে মনোনয়ন দিয়েছে, এর প্রতিদান সবাইকে সঙ্গে নিয়েই দিতে চান।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ফেনী-১, বগুড়া-৭ ও দিনাজপুর-৩ আসনে প্রার্থী হবেন। তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী। এসব এলাকার নেতাকর্মীরা উল্লাস করেছেন।
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানিয়েছে, জেলার ১৬টি আসনের ১০টিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। চট্টগ্রাম-৩, চট্টগ্রাম-৬, চট্টগ্রাম-৯, চট্টগ্রাম-১১, চট্টগ্রাম-১৪ এবং চট্টগ্রাম-১৫ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীর ছড়াছড়ি হলেও প্রার্থী দেওয়া হয়নি এখনও।
দলটির সূত্র জানিয়েছে, কয়েকটি আসনে দ্বন্দ্বের কারণে প্রার্থী ঘোষণা করা যায়নি। কয়েকটি ফাঁকা রাখা হয়েছে মিত্র দলের জন্য। চট্টগ্রাম-১৪ আসনে কর্নেল অলির ছেলে নির্বাচন করবেন। চট্টগ্রাম-১৫ আসনটিও এলডিপি চায়। এ আসনে বিএনপিতে বিভক্তি থাকলেও নির্বাচন সামনে রেখে সম্প্রতি সব পক্ষ এক হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি বলছে, আসনটিতে দল থেকেই প্রার্থী দেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপির মূল মনোনয়নপ্রত্যাশী দুইজন। তারা হলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার এবং পদ স্থগিত থাকা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। দুজনের দ্বন্দ্বে ৫ আগস্টের পর সেখানে ১৭টি খুন হয়েছে।
চট্টগ্রাম-৯ আসনে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ানকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও পরে স্থগিত করা হয়। এখানে বিএনপির প্রয়াত নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমানের সম্ভাবনা রয়েছে।
দলগুলোর মধ্যে আলোচনার লক্ষণ নেই
দলগুলোর মধ্যে আলোচনার লক্ষণ নেই
Summary: জুলাই সনদের বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং গণভোটের সময় নিয়ে সমঝোতা করতে অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক দলগুলোকে আহ্বান জানালেও গত দুদিনে আলোচনার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। সরকারি মধ্যস্থতা ছাড়া আলোচনা সম্ভব কিনা– তাও নিশ্চিত নয়।
বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে সমঝোতায় এর আগে প্রচেষ্টা চালানো দলগুলোর নেতারা সমকালকে বলেছেন, সরকার দায়িত্ব এড়িয়ে বল ঠেলে দিয়েছে। ঐকমত্য কমিশনের আট মাসের চেষ্টায় কিছু সংস্কারে সমঝোতা হয়নি। আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক আলোচনায়ও দলগুলোকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সরানো যায়নি। উপদেষ্টাদের দূতিয়ালিতেও কাজ হয়নি। এ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলো নিজ উদ্যোগে আলোচনা করে সমঝোতা করতে পারবে– এ আশা দুরাশা। হয় সরকারকে আলোচনায় মধ্যস্থতা করতে হবে, নয়তো নিজের সিদ্ধান্ত জানাতে হবে।
সরকারি মধ্যস্থতা ছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্যোগে সমঝোতা হবে– এমন সম্ভাবনা দেখেন না বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, এটি সময়ক্ষেপণ। সরকারেরই উচিত সমাধান করা। বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট– কোনোভাবেই নির্বাচনের আগে গণভোট মানবে না। এ বিষয়ে মীমাংসা করা উচিত ছিল।
গত রোববার সংবাদ সম্মেলন থেকে আলোচনার জন্য বিএনপিকে আহ্বান জানিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। সোমবার উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠক শেষে জানানো হয়, দলগুলোকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমঝোতায় আসতে হবে। ওই দিনই জামায়াতসহ আট দল সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রধান উপদেষ্টাকে আলোচনায় রেফারির দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানায়। এনসিপি বলেছে, সরকার সাপ-লুডু খেলছে। বিএনপি এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জুলাই সনদের বাস্তবায়নের পথে যে বাধা তৈরি করা হয়েছে, তা নিরসনে আলোচনার বিকল্প নেই। জামায়াত আলোচনার পক্ষে। কিন্তু একই আগ্রহ বিএনপির থাকতে হবে। জামায়াতের অবস্থান স্পষ্ট– গণভোট হতে হবে নির্বাচনের আগে।
বিএনপি ও জামায়াতের অনড় অবস্থানের কারণেই আলোচনায় সুরাহার আশা দেখছেন না এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। তিনি বলেন, দলগুলোর নিজেদের মধ্যে আলোচনার জন্য গত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে দুই দফায় প্রায় এক মাস সময় দিয়েছিল ঐকমত্য কমিশন। সে সময় এনসিপিসহ কয়েকটি দল সমঝোতার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বিএনপি ও জামায়াত ছাড় না দেওয়ায় তা সফল হয়নি। পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠন পদ্ধতি বিএনপি মেনে নিলে সমঝোতা হয়ে যেত। জামায়াতসহ কয়েকটি দল নিম্নকক্ষে পিআরের দাবি তোলায় সমঝোতার আলোচনা এগোয়নি। দুটি দল নিজ নিজ অবস্থানে কিছুটা ছাড় দিলে গণভোটের সময় নিয়েও সমঝোতা সম্ভব।
বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করা দলগুলোর মধ্যে এবি পার্টিও ছিল। দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সরকার এভাবে মাঠে বল ছেড়ে দিলে খেলা হবে না। হয় সরকারকে মধ্যস্থতা করতে হবে, নয়তো সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
রাজনৈতিক সূত্রগুলোর খবর, সরকার জুলাই সনদের বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং গণভোটের সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর কোনো দল যেন সরকারকে দায়ী করতে না পারে, সে জন্যই আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে।
সদ্য বিলুপ্ত ঐকমত্য কমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, সরকার যে সিদ্ধান্ত দিতে পারে, তা বিএনপির দাবির কাছাকাছি। গণভোট ও নির্বাচন একই দিনে হতে পারে। গণভোটে নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) না থাকলেও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দায়িত্ব আগামী সংসদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের ওপর ছেড়ে দেওয়া যায়। পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল নিজেদের মতো সংস্কার করতে পারবে– এমন বিধান থাকতে পারে।
এ বিষয়ে সরকারের কোনো বক্তব্য জানতে পারেনি সমকাল। তবে সরকারি সূত্র জানিয়েছে, আইন মন্ত্রণালয় ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ প্রণয়নে কাজ শুরু করেছে। সপ্তাহখানেকের মধ্যে তা সম্পন্ন হতে পারে। সরকার বলেছিল, দলগুলো সমঝোতায় না এলে এক সপ্তাহ পর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে সরকার।
হোসাফ পাওয়ারের ৪৮৪ কোটি টাকার ঋণ গোপন
হোসাফ পাওয়ারের ৪৮৪ কোটি টাকার ঋণ গোপন
Summary: বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানি হোসাফ পাওয়ার। তার ৪৮৪ কোটি টাকা ঋণের তথ্য আড়াল করে পুরো দায় নিয়মিত দেখিয়েছে ইসলামী ব্যাংক। তবে নতুন করে ৯৬ কোটি টাকার এলসি সুবিধা নিতে গেলে বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরে আসে। ইসলামী ব্যাংকে হোসাফ পাওয়ারের চলতি মূলধন ঋণ এক হাজার ১৬৩ কোটি টাকা। কিন্তু ব্যাংক গত বছর থেকে দেখিয়ে আসছিল ৬৭৯ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংক এই অনিয়মের বিষয়ে ইসলামী ব্যাংকের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে। একই সঙ্গে এসব ঋণ খেলাপি হিসেবে দেখানোর নির্দেশ দিয়েছে। এই অনিয়ম ঘটেছে ইসলামী ব্যাংকের মৌচাক শাখায়। শাখাটি হোসাফ গ্রুপের মালিকানাধীন ভবনে অবস্থিত।
চলতি মূলধনের বাইরে ইসলামী ব্যাংকের নেতৃত্বে হোসাফ পাওয়ারকে চার ব্যাংকের দেওয়া ৬৭১ কোটি টাকার প্রকল্প ঋণেও অনিয়ম পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সব মিলিয়ে এই কোম্পানির ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা। চলতি মূলধন ও প্রকল্প ঋণ মিলে ইসলামী ব্যাংকে এককভাবে হোসাফের ঋণ এক হাজার ৫৩১ কোটি টাকা। এটি একক গ্রাহকের ঋণসীমার লঙ্ঘন। একটি ব্যাংক কোনো একক গ্রাহককে তার মোট মূলধনের সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ সরাসরি (ফান্ডেড) ঋণ দিতে পারে। বিগত সরকারের সময়ে বড় অঙ্কের জালিয়াতির কারণে ইসলামী ব্যাংক এখন মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ইসলামী ব্যাংকে হোসাফ গ্রুপের মালিকানাধীন হোসাফ পাওয়ারের চলতি মূলধনের সীমা ৮০০ কোটি টাকা। সিন্ডিকেশন ফাইন্যান্সিংয়ের আওতায় ইসলামী ব্যাংকের নেতৃত্বে চারটি ব্যাংক ২০১৯ সালে হোসাফ পাওয়ারকে প্রকল্প ঋণ নেয়। এই ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬৭১ কোটি টাকা, যা আগেই খেলাপি হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬৮ কোটি টাকা পাবে ইসলামী ব্যাংক। অন্য তিন ব্যাংকের মধ্যে সোশ্যাল ইসলামী ১৩৫ কোটি, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ১১০ কোটি ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ৫৭ কোটি টাকা পাবে।
সিন্ডিকেশন ঋণ খেলাপি হওয়ার বিষয়ে গত ২২ এপ্রিল মতিঝিলে চার ব্যাংক ও হোসাফ পাওয়ারের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি বৈঠক হয়। সেখানে হোসাফ পাওয়ারের পক্ষ থেকে বলা হয়, ডলারের দর অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার কারণে বিনিময় হারে লোকসান, পিডিবি থেকে বকেয়া আদায় না হওয়া, কভিড ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দর বৃদ্ধিসহ নানা কারণে ঋণটি খেলাপি হয়ে পড়েছে। পুনঃতপশিল করলে প্রকল্পটি ভালো করে চালানো সম্ভব। বৈঠকে ১০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট (এককালীন জমা) দিয়ে ছয় বছরের জন্য পুনঃতপশিলে সম্মত হয় ব্যাংকগুলো। তবে হোসাফ পাওয়ার এখনও ডাউন পেমেন্টের টাকা জমা দেয়নি। সূত্র জানায়, যে প্রক্রিয়ায় এই ঋণ দেওয়া হয়েছে, তাতে এটি খেলাপি হওয়ার কথা নয়।
হোসাফ গ্রুপের পরিচালক মাবরুর হোসেন সমকালকে বলেন, সরকারের কাছ থেকে সময়মতো বিল না পাওয়ায় ঋণ পরিশোধে সমস্যা হয়েছে। তারা আশা করছেন, চলতি মাসের মধ্যেই একটি বিল পাওয়া যাবে। বিল পাওয়ার পর এসব ঋণ নিয়মিত হয়ে যাবে।
সিন্ডিকেশন ঋণের চুক্তি অনুযায়ী, সরকারের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রির টাকা জমা হয় ইসলামী ব্যাংকের মৌচাক শাখায় খোলা একটি ‘এসক্রো’ হিসাবে। এ ধরনের ব্যাংক হিসাবে কাউকে পরিশোধের জন্য অর্থ জমা রাখা হয়। সেখান থেকে সব ব্যাংকের ঋণের কিস্তি সমন্বয় হওয়ার কথা। এরপর অতিরিক্ত অর্থ থাকলে তা গ্রাহক বা ঋণগ্রহীতা পাবেন। তবে ইসলামী ব্যাংক এই শর্ত ভঙ্গ করে হোসাফ পাওয়ারকে সরকার থেকে পাওয়া বিদ্যুৎ বিক্রির বিলের অর্থ নগদে তুলে নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে। ফলে সিন্ডিকেশন ঋণ সমন্বয় না হয়ে তা খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।
২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে হোসাফ পাওয়ার জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছে। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনীতে অবস্থিত প্রকল্প থেকে ১৫ বছর ধরে বিদ্যুৎ কিনতে চুক্তিবদ্ধ হয় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)।
জানতে চাইলে ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খান সমকালকে বলেন, হোসাফ পাওয়ারের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাখ্যা চাওয়ার বিষয়টি তিনি অবগত। তবে পুরো অবস্থা জেনে তিনি পরে মন্তব্য করতে পারবেন।
বিষয়টি যেভাবে সামনে এলো
ইসলামী ব্যাংকে হোসাফ পাওয়ারের খেলাপি ঋণ ও সীমাতিরিক্ত বিনিয়োগ অনেক দিন আড়ালে ছিল। চলতি বছরের ১৫ মে প্রতিষ্ঠানটির ৭৯ লাখ ডলারের নতুন একটি এলসি খোলার অনাপত্তির জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনলাইন ইমপোর্ট মনিটরিং সিস্টেমে তথ্য আপলোড করে ব্যাংক। ব্যাংকের দেওয়া কাগজপত্র যাচাই করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক খুঁজে পায়, আগে খোলা কয়েকটি এলসির বিপরীতে ৪৮৪ কোটি টাকা পরিশোধ করেনি হোসাফ পাওয়ার। অথচ ব্যাংক এক বছর আগে হোসাফের বিদেশি সরবরাহকারীকে অর্থ পরিশোধ করে দিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংক এলসির দায় পরিশোধের পর ৪৮৪ কোটি টাকা হোসাফ পাওয়ারের নামে ‘ফোর্সড লোন’ হওয়ার কথা। তা না করে ইসলামী ব্যাংক তা ‘ইন্টার ব্যাংক ডেবিট অ্যাডভাইস (আইবিডিএ)’ হিসেবে কৌশলে আলাদা করে রেখেছে। ফলে ব্যাংকের ঋণ হিসেবে সিআইবিতে তা প্রতিফলিত হয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে এ বিষয়ে বলা হয়েছে, ইসলামী ব্যাংকে হোসাফ পাওয়ারের অনুমোদিত ঋণসীমা ৮০০ কোটি টাকা। তথ্য গোপন না করলে চলতি মূলধনসহ গ্রাহকের ঋণস্থিতি দাঁড়াত এক হাজার ১৬৩ কোটি টাকা। নির্ধারিত সীমার চেয়ে যা ৩৬৩ কোটি টাকা বেশি। সীমাতিরিক্ত ঋণ সমন্বয় না করে আগের দায় নবায়নের সুযোগ ছিল না। আবার গোপন করা অংশ সিআইবিতে ‘আপলোড’ করলে এলসি বা অন্য কোনো সুবিধা দেওয়া সম্ভব হতো না। তথ্য গোপনের মাধ্যমে এই ঋণ খেলাপি না করে গ্রাহককে অনৈতিক সুবিধা দিয়েছে ইসলামী ব্যাংক। এভাবে প্রতিষ্ঠানটির ঋণস্থিতি দেখানো হচ্ছে ৬৭৯ কোটি টাকা, যাতে অঙ্কটি নির্ধারিত সীমার নিচে থাকে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গোপন করা ঋণের পুরোটাই বেশ আগে খেলাপি হয়ে গেছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি খোলা ১০টি এলসির বিপরীতে ১১৯ কোটি টাকা এবং একই বছরের ৩০ এপ্রিল খোলা অপর তিনটি এলসির বিপরীতে ৫১ কোটি টাকা এখন মন্দ মানের খেলাপি। আর গত বছরের ২৩ অক্টোবর ১২টি এলসির বিপরীতে পরিশোধ করা ১০৫ কোটি টাকা ‘সন্দেহজনক’ মানের খেলাপি। বাকি ২০৯ কোটি টাকা সাধারণ খেলাপি ধরা যায়।
জানতে চাইলে ইসলামী ব্যাংকের মৌচাক শাখার ব্যবস্থাপক মো. আশরাফ আলী সমকালকে বলেন, ঋণের তথ্য গোপন করে হোসাফ পাওয়ারকে সীমাতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া হয়নি। আগের দায় পরিশোধ না করা পর্যন্ত নতুন করে সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাখ্যার জবাব দেওয়া হয়েছে।
ঋণ সমন্বয় না করে টাকা তুলে নেওয়ার সুযোগ
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিডিবি থেকে পাওয়া বিদ্যুৎ বিক্রির টাকায় সব ব্যাংকের কিস্তি পরিশোধ হওয়ার কথা। কিন্তু হোসাফ পাওয়ারকে সিন্ডিকেশন অর্থায়নের আওতায় দেওয়া ঋণের শর্ত ভঙ্গ করে টাকা তুলে নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে ইসলামী ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, ইসলামী ব্যাংক অর্থ উত্তোলনের সুযোগ না দিলে গ্রাহকের পক্ষে কোনোভাবে তা তুলে নেওয়া সম্ভব ছিল না। এ অনিয়মের বিষয়ে খতিয়ে দেখে ইসলামী ব্যাংকের মৌচাক শাখা এবং প্রধান কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়দায়িত্ব চিহ্নিত করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা পরিদর্শন বিভাগকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকের মৌচাক শাখার ব্যবস্থাপক বলেন, ঋণ সমন্বয় না করে সরকারি বিলের টাকা তুলে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি ঠিক নয়। সরকারকে শুল্ক পরিশোধের জন্য গ্রাহককে কিছু অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, সরকারের কাছে হোসাফ পাওয়ার ৪০০ কোটি টাকার বেশি পাবে। সরকার এই অর্থ দিলে সিন্ডিকেশনে যারা আছে, তাদের কিস্তি পরিশোধ হয়ে যাবে। আবার ইসলামী ব্যাংকের ‘আইবিডিএ’ দায়ও অনেকাংশে সমন্বয় হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সমকালকে বলেন, ইসলামী ব্যাংকের ব্যাখ্যা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনের আলোকে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারের কাছে পাওনা সামান্য
হোসাফ পাওয়ার বলছে, সরকারের কাছ থেকে বিদ্যুৎ বিক্রির টাকা পেলে তারা ঋণ পরিশোধ করবে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ব্যাংকগুলোর এক হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে সরকারের কাছে হোসাফের পাওনা খুব বেশি নয়। তারা এ মুহূর্তে সরকারের কাছে পাবে ২৪০ কোটি টাকা। এর বাইরে বৈদেশিক মুদ্রার দর ওঠানামাজনিত লোকসানের কারণে আরও প্রায় ২২৪ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করেছে তারা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ডলারের দর ওঠানামাজনিত লোকসানের বিপরীতে সরকার ক্ষতিপূরণ দেবে না। তবে এ ধরনের ঋণ পরিশোধে বাড়তি সময় দিতে গত বছরের ২৭ নভেম্বর একটি সার্কুলার জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাতে বলা হয়, বিনিময় হারজনিত কারণে ক্ষতির মুখে পড়া গ্রাহকদের ঋণ পরিশোধে এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ আট বছর পর্যন্ত সময় দেওয়া যাবে। তবে এই সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে একক গ্রাহকের ঋণসীমা অতিক্রম করা যাবে না। আবার কোনো ঋণখেলাপি গ্রাহককে এ সুবিধা দেওয়া যাবে না। ফলে হোসাফ পাওয়ারের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ নেই।
শ্রম সংস্কারে সুপারিশ ২৫ বাস্তবায়ন ৩
শ্রম সংস্কারে সুপারিশ ২৫ বাস্তবায়ন ৩
Summary: শ্রম খাত উন্নয়নে সংস্কার কমিশনের দেওয়া ২৫ সুপারিশের মধ্যে বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র তিনটি। তবে শ্রমিকদের জাতীয় ন্যূনতম মজুরি কাঠামো নির্ধারণসহ মৌলিক সংস্কারের সুপারিশে এখনও নজর দেওয়া হয়নি। শ্রম আইনে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় এসব সংস্কার সুপারিশ বাস্তবায়নের সম্ভাবনা কম।
গত ১৭ নভেম্বর গঠন করা হয়েছিল ১০ সদস্যের শ্রম সংস্কার কমিশন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমদ কমিশনের নেতৃত্ব দেন। গত ২১ এপ্রিল কমিশন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে ৪৬০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেয়। শ্রম খাত-সংশ্লিষ্ট শ্রমিক-কৃষক, পেশাজীবী সংগঠন, উদ্যোক্তা, মানবাধিকার সংগঠন, দেশি-বিদেশি সংস্থাসহ পঞ্চাশের মতো অংশীজনের মতামত, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইন-নীতি, গবেষণা এবং পরামর্শের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়।
গত সপ্তাহে উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদিত সংশোধিত শ্রম আইনে কমিশনের সুপারিশের আলোকে তিনটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। এগুলো হলো– ট্রেড ইউনিয়ন গঠন প্রক্রিয়া সহজ করা, শ্রমিকের সংজ্ঞায় পরিবর্তন এবং শ্রমিকের বিরুদ্ধে করা ৪৭ হাজার ৭২৮টি মামলা প্রত্যাহার। এ ছাড়া শ্রম আইনে সংশোধনের বাইরে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আউট সোর্সিং শ্রমিকের জন্য জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন করেছে সরকার।
ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের প্রক্রিয়াটি শ্রম খাতের মৌলিক ইস্যুর অন্যতম। দীর্ঘদিন ট্রেড ইউনিয়ন গঠন এবং কার্যক্রম নিয়ে মালিক, শ্রমিক ও সরকার– এই তিন পক্ষের মধ্যে আস্থার সংকট চলছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক মহল থেকে ট্রেড ইউনিয়ন চর্চা অবারিত নয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব বিবেচনায় শ্রমিকের সংগঠিত হওয়া এবং সম্মিলিত দরকষাকষির ক্ষেত্রে অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন চর্চা সহজ করার বিষয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে সুপারিশ ছিল। এ জন্য ত্রিপক্ষীয় পরামর্শক পর্ষদ (টিসিসি) গঠনের সুপারিশ করেছিল কমিশন।
কমিশনের এই সুপারিশের আলোকে শ্রম আইন সংশোধনে টিসিসি গঠন করে সরকার। টিসিসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ট্রেড ইউনিয়ন প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। সংশোধিত শ্রম আইন অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানে ২০ জন এক হলেই ট্রেড ইউনিয়ন করা যাবে। তবে এ রকম ক্ষেত্রে নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে না। নিবন্ধনের জন্য প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক সংখ্যা ২০ থেকে ৩০০ জন পর্যন্ত হলে ২০ জনকে একত্রিত হতে হবে। ৩০১ থেকে ৫০০ জন পর্যন্ত ৪০ জন, ৫০১ জন থেকে এক হাজার ৫০০ জন পর্যন্ত ১০০ জন, এক হাজার ৫০১ জন থেকে তিন হাজার জন পর্যন্ত ৩০০ জন ও তিন হাজার একজনের যত বেশিই হোক, সে ক্ষেত্রে ৪০০ শ্রমিক এক হলেই ট্রেড ইউনিয়নের নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা যাবে।
তবে এ নিয়ে শিল্পকারখানা মালিকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, টিসিসির সর্বশেষ বৈঠকের সিদ্ধান্ত বদলে ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনে শ্রমিকের অনুপাত নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ২৮ অক্টোবর তৈরি পোশাক খাতের প্রধান সংগঠন বিজিএমইএর নেতৃত্বে সাতটি বাণিজ্য সংগঠনের যৌথ সংবাদ সম্মেলন থেকে সংশোধিত শ্রম আইনকে বাস্তবতাবিবর্জিত বলে আইনটি পুনর্বিবেচনার দাবি করেছে। শিল্প, বাণিজ্য, ব্যাংক, বীমাসহ বিভিন্ন খাতের নিয়োগ কর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন (বিইএফ) আরও সংক্ষুব্ধ।
ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান সমকালকে বলেন, এ ধরনের আইন করা অজ্ঞতাপ্রসূত। অভিজ্ঞতার অভাবের কারণেই এ ধরনের আইন করার কথা মাথায় আসতে পারে। সংশোধিত শ্রম আইনের কারণে শিল্পকারখানায় শ্রম অসন্তোষ বাড়বে। তারা এখন বিধিমালা প্রণয়ন পর্যন্ত অপেক্ষায় আছেন। বিধিমালায় ট্রেড ইউনিয়ন চর্চা এবং অন্য বিষয়গুলো সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে আদালতের আশ্রয় নেওয়া হবে। শ্রম আইন সংশোধনের প্রক্রিয়ায় ন্যূনতম ১০০ শ্রমিক এক হলেই শুধু ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন দেওয়ার শর্ত রাখতে শ্রম মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন দিয়েছিল বিইএফ।
কমিশনের সুপারিশের আলোকে সংশোধিত শ্রম আইনে শিল্পকারখানায় শ্রমিকের সংজ্ঞায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ বিষয়েও আপত্তি আছে নিয়োগ কর্তাদের। এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি এ বিষয়ে সমকালকে বলেন, শ্রমিকের সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এক করে ফেলার কারণে অধিকার ভোগের বিষয়টিতে জটিলতা তৈরি হবে।
কমিশনের সুপারিশের আলোকে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে করা ৪৭ হাজার ৭২৮টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে গত আগস্টে। পর্যালোচনার মাধ্যমে এসব মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ ছিল কমিশনের। অবশ্য, গত বছর আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর শ্রমিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মামলাগুলো প্রত্যাহারের কার্যক্রম শুরু করে শ্রম মন্ত্রণালয়।
শ্রম আইনে এই তিন সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত ছাড়া কমিশনের অন্য সুপারিশের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আউট সোর্সিং শ্রমিকের সুযোগ-সুবিধা ও প্রণোদনা অন্তর্ভুক্ত করে একটি নীতিমালা করা হয়েছে, যা এখনও বাস্তবায়ন শুরু হয়নি।
শ্রম মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমকালকে বলেন, কমিশনের সব সুপারিশ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে সংশোধিত শ্রম আইনে কিছু বিষয় এরই মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিশন প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ছয় মাসের মধ্যেই সব সুপারিশ বাস্তবায়নযোগ্য করা সম্ভব নয়। সুপারিশের আলোকে করণীয় নির্ধারণে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমদ সমকালকে বলেন, কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটা মিশ্র অবস্থা দেখছি। ইতোমধ্যে কিছু সুপারিশ বাস্তবায়ন করেছে সরকার। সিলেটে চা শ্রমিক ভূমি অধিকারের বিষয়ে সিলেট জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে শ্রমিক ও তাঁর পরিবারের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন উপযোগী মজুরির অধিকার নিশ্চিতে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি কাঠামো নির্ধারণ, মজুরি নির্ধারণে কাঠামোগত সংস্কারে স্থায়ী মজুরি কমিশন গঠনের মতো মৌলিক সংস্কারে কোনো অগ্রগতি হয়নি। সরকার যাতে কমিশনের সব সুপারিশ আমলে নেয়, সে বিষয়ে শ্রমিক এবং নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে চাপ অব্যাহত রাখতে হবে।
বিএনপির প্রার্থী তালিকায় কয়েকজন ঋণখেলাপি
বিএনপির প্রার্থী তালিকায় কয়েকজন ঋণখেলাপি
Summary: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ঋণখেলাপি, কারও কারও বিরুদ্ধে অর্থঋণ আদালতে মামলা চলছে। ঋণ নিয়মিত করতে এরই মধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন তারা। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার অন্তত সাত দিন আগে ঋণ নিয়মিত না হলে তারা নির্বাচনে অযোগ্য হবেন।
গত সোমবার বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ২৩৭ আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ তালিকার অন্তত চারজনের ঋণখেলাপির তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। অবশ্য গত কয়েকটি নির্বাচনের আগে অনেকেই তথ্য গোপন কিংবা উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে ঋণ নিয়মিত দেখান। তবে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি জানিয়েছেন, এবার কেউ আদালতের স্থগিতাদেশ নিলেও ঋণ তথ্য ব্যুরোতে (সিআইবি) তাঁকে খেলাপি দেখানো হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর ১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সিআইবিতে ঋণখেলাপি
হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তি জাতীয় সংসদের সদস্য হওয়ার যোগ্য হন না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সমকালকে বলেন, বিধি অনুযায়ী ঋণখেলাপি, কর বা বিলখেলাপি ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অযোগ্য বিবেচিত হবেন। ফলে নির্বাচনে আগ্রহী কারও খেলাপি ঋণ থাকলে অবশ্যই তা নিয়মিত করতে হবে। তিনি বলেন, সাধারণভাবে নির্বাচনের আগে আগ্রহী প্রার্থীরা ঋণ নিয়মিত করার চেষ্টা করেন। এবারও তেমন হবে বলে আশা করা যায়।
নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, প্রার্থী হওয়ার সাত দিন আগে কারও ঋণ নিয়মিত থাকলে চলবে। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি কাউকে খেলাপি বলে, তাঁর প্রার্থিতা বাতিল হবে। তিনি জানান, গতকাল সংশোধিত যে আদেশ জারি হয়েছে তাতে বলা আছে, নির্বাচিত হওয়ার পরও যদি কারও ঋণখেলাপি বা অন্য কোনো মিথ্যা তথ্য দেওয়ার প্রমাণ মেলে, তার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হবে।
ঋণখেলাপির তালিকায় যাদের নাম
কয়েকটি ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া কয়েকজনের ঋণখেলাপির তথ্য মিলেছে। যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার তালহা শাহরিয়ার আইয়ুব (টি এস আইয়ুব)। তিনি কৃষক দলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। বিএনপির সম্ভাব্য এই প্রার্থী সরকারি-বেসরকারি খাতের অন্তত চার ব্যাংকে ১৩৮ কোটি টাকার ঋণখেলাপি।
জানা গেছে, ঢাকা ব্যাংকের ধানমন্ডি মডেল শাখা থেকে সাইমেক্স লেদার প্রোডাক্টের নামে ২০১৭ সালে ১৪টি ভুয়া এলসির বিপরীতে ২১ কোটি ২৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। ২০১৯ সালে এ বিষয়ে মামলা করে ব্যাংক। সুদসহ বর্তমানে তাঁর কাছে ব্যাংকটির পাওনা দাঁড়িয়েছে ৪৫ কোটি টাকা। সর্বশেষ গত বছরের এপ্রিলে টি এস আইয়ুব ও তাঁর স্ত্রী তানিয়া রহমানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত। সরকার পতনের পর তিনি কারামুক্ত হন। এরই মধ্যে তাঁকে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করে বাংলাদেশ ব্যাংকে রিপোর্ট করেছে ঢাকা ব্যাংক।
টি এস আইয়ুবের সাইমেক্স লেদার প্রোডাক্টের স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ধানমন্ডি শাখায় ৭০ কোটি টাকার খেলাপি। ঋণটি পুনঃতপশিল করতে তাঁকে এক কোটি ৪০ লাখ টাকা ডাউন পেমেন্ট জমার শর্ত দিয়েছে ব্যাংক। তিনি মাত্র ৬৫ লাখ টাকা জমা দেওয়ায় তা নিয়মিত হয়নি। এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় মালিকানার জনতা ব্যাংকে ১১ কোটি টাকার ঋণখেলাপি তিনি। এর বাইরে তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট আরেক প্রতিষ্ঠান অগ্রণী ব্যাংকে ১২ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ আছে।
এ ব্যাপারে বক্তব্যের জন্য ইঞ্জিনিয়ার টি এস আইয়ুবকে ফোন করা হলে তাঁর নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। ঢাকা ব্যাংকের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, ইচ্ছাকৃত খেলাপি চিহ্নিত করার শেষ ধাপ হিসেবে গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকে ত্রিপক্ষীয় শুনানি হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখনও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।
গাজীপুর-৪ আসনের জন্য বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নান। তিনি বিএনপির প্রয়াত নেতা আ স ম হান্নান শাহর ছেলে; বর্তমানে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক। বিদেশি মালিকানার ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানে তাঁর তিন কোটি ২৪ লাখ টাকার খেলাপি। এই ঋণের বিপরীতে ঢাকার অর্থঋণ আদালতে মামলা করেছে ব্যাংকটি। গত সোমবার এই মামলার শুনানি হয়। ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে ঋণ পরিশোধের জন্য আদালত ১৫ দিন সময় দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘোষিত প্রার্থীর মধ্যে ঋণখেলাপির তালিকায় আছেন ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের খন্দকার আবু আশফাক। স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে তাঁর মালিকানাধীন খন্দকার কনস্ট্রাকশন ১৬ কোটি টাকার ঋণখেলাপি। আবু আশফাক ঢাকা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক। অন্য কোনো ব্যাংকে তাঁর খেলাপি ঋণ আছে কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জানা গেছে, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের এ ঋণ নিয়মিত করার জন্য তিনি এরই মধ্যে ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় আছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সরওয়ার আলমগীর। তাঁর মালিকানাধীন এনএফজেড টেরি টেক্সটাইল স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখায় ২০১ কোটি টাকার ঋণখেলাপি। অন্য ব্যাংকের খেলাপি আছেন কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র জানিয়েছে, খেলাপি ঋণের বিপরীতে তিনি উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়েছেন।
জানতে চাইলে সরওয়ার আলমগীর সমকালকে বলেন, ‘আমি খেলাপি না বলেই নির্বাচন করার চ্যালেঞ্জ নিয়েছি। খেলাপি হলে তো ব্যবসা করতে পারার কথা নয়।’ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে ঋণ নিয়মিত দেখাচ্ছেন কিনা– জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনি আরেক প্যাঁচালে ফেলছেন। আমি খেলাপি না। আমার মতো করে ব্যবসা-বাণিজ্য করছি।’
ভোট পরীক্ষায় মামদানি
Summary: যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম শহর নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে শুরু হয়ে ভোট চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। শেষ মুহূর্তে নির্বাচনে এসেছে নাটকীয় মোড়। ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থিতার দৌড়ে জোহরান মামদানির কাছে হেরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া অ্যান্ড্রু কুওমোকে সমর্থন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টি কার্টিস স্লিওয়াকে প্রার্থী করেছে। ট্রাম্পের সমর্থনের কারণে রিপাবলিকান ভোটাররা কুওমোর দিকে ঝুঁকতে পারেন, যা নতুন এক সমীকরণ দাঁড় করাবে।
নিউইয়র্কের নির্বাচন শেষ পর্যন্ত মামদানি বনাম ডোনাল্ড ট্রাম্পের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। এদিন সকালেই কুইন্সের অ্যাস্টেরিয়ার আর্টস হাই স্কুল কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন মামদানি। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী রামা দুয়াজি। ভোট দিয়েছেন কুওমো এবং স্লিওয়াও। তিন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণী এ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। এর আগে আগাম ভোট দেন নিউইয়র্কের সাত লাখ ৩৫ হাজার বাসিন্দা, যা গত রোববার শেষ হয়। এ ভোটের হার ২০২১ সালের নির্বাচনের চেয়ে চার গুণেরও বেশি।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, সবকিছু ছাপিয়ে শেষ দিনের প্রচারণার ছিল নানা নাটকীয়তা। মেয়র থাকাকালে বিদ্রোহী ডেমোক্র্যাট অ্যান্ড্রু কুওমোর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্ক বেশ খারাপ ছিল। কিন্তু ভোটের মাঠে আকস্মিক তাঁকেই সমর্থন করে বসেন ট্রাম্প। মেয়র হওয়ার দৌড়ে নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির কার্টিস স্লিওয়াও আছেন। কিন্তু তাঁকে উপেক্ষা করে কুওমোকে সমর্থন মামদানিকে ঠেকাতে ট্রাম্পের মরিয়া চেষ্টার ইঙ্গিত দেয়। দেখার বিষয়, এটা কুওমোকে উদ্ধার করে, নাকি আরও ডুবিয়ে দেয়।
কুওমো নিউইয়র্কের সাবেক মেয়র। তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার নানা অভিযোগ রয়েছে। তিনি শহরটির মেয়র থাকাকালে সেখানকার আদালতে ট্রাম্পের মামলা চলে। এ নিয়ে ট্রাম্প বিভিন্ন সময় সরাসরি কুওমোর সমালোচনা করেছেন। কিন্তু অনেকটা ইউটার্ন নিয়ে শেষ মুহূর্তে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ‘আপনি ব্যক্তিগতভাবে অ্যান্ড্রু কুওমোকে পছন্দ করেন বা না করেন, আপনার সামনে আর কোনো পছন্দ নেই। আপনাকে অবশ্যই তাঁকে ভোট দিতে হবে। আশা করি, তিনি চমৎকার কাজ করবেন। আর তিনি এটা করার সামর্থ্য রাখেন, মামদানি নয়।’
বিবিসি জানায়, ট্রাম্পের সমর্থনের কড়া জবাব দিয়েছেন মামদানি। তিনি বলেন, কুওমোকে সমর্থন করেছেন ট্রাম্প ও তাঁর দলের লোকজন। তিনি নিউইয়র্ক সিটি বা নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের সেরা মেয়র হবে না, তিনি হবেন ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের সেরা মেয়র।
জোহরান মামদানি জিতলে কেন্দ্রীয় তহবিল বন্ধ করে দেবেন বলে আবারও ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। এর আগে গত রোববার এক সাক্ষাৎকারে তিনি তহবিল বন্ধের হুমকি দেন। তখন তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিউইয়র্ককে অধিক অর্থ দেওয়া আমার পক্ষে কঠিন হতে যাচ্ছে।’ এ প্রসঙ্গে মামদানি বলেন, এটা কোনো নিয়ম নয়, হুমকি।
গত সোমবার দুই প্রতিদ্বন্দ্বী জোহরান মামদানি ও অ্যান্ড্রু কুওমো শেষ সভা-সমাবেশ করেন। মামদানিকে নিউইয়র্কের অভিবাসীদের পাশাপাশি স্বল্প আয়ের মানুষ সমর্থন জানাচ্ছেন। গতকাল ভোটকেন্দ্রে এর প্রতিফলন দেখা গেছে। ৪৬ বছর বয়সী শিল্পী অধ্যাপক ম্যাট মার্কেল হেস তাঁর ১১ বছরের ছেলেকে নিয়ে কেন্দ্রে এসে মামদানিকে ভোট দেন। তিনি জানান, ছোট ব্যবসা, ছোট ছোট উদ্যোগের প্রতি মামদানির সমর্থন ও বিনামূল্যে শিশুসেবা দেওয়ার আশ্বাস তিনি খুব পছন্দ করেছেন।
কার্যত মামদানি নিউইয়র্কে স্বল্প আয়ের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি নিজে অভিবাসী এবং অভিবাসী বাবা-মায়ের সন্তান। তাই নিউইয়র্কের অভিবাসীরা তাঁকে সমর্থন করছেন। মামদানিও তাদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, শহরটির তথাকথিত অভিজাত শ্রেণি কুওমোর পক্ষে। নির্বাচিত হলে মামদানি হবেন শহরটির প্রথম মুসলিম মেয়র।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এটা প্রথম বড় কোনো নির্বাচন। নিউইয়র্ক ছাড়াও ভার্জিনিয়া ও নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন হচ্ছে। এসব নির্বাচন তাঁর দলের জনপ্রিয়তার জন্য এক পরীক্ষা। এমন একসময় এ ভোট হচ্ছে, যখন মার্কিন সরকারের অচলাবস্থা বা শাটডাউন ৩৫তম দিনে পৌঁছেছে। এতে ভুগছেন হাজার হাজার ফেডারেল কর্মী।
যেভাবে নতুন সমীকরণ দাঁড় করিয়েছে
কুওমোকে ট্রাম্পের সমর্থন নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে কার্যত নতুন সমীকরণ দাঁড় করিয়েছে। ভোটের জয়-পরাজয় নিয়ে সর্বশেষ জরিপটি চালায় রিয়েল ক্লিয়ার পলিটিক্স। সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মামদানি প্রতিপক্ষ কুওমোর চেয়ে ১৪ দশকিম ৩ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন। ৪৬ দশমিক ১ শতাংশ নিউইয়র্কার মামদানিকে সমর্থন করলেও কুওমির সমর্থন ৩১ দশমিক ৮ শতাংশ। ১৬ দশমিক ৩ শতাংশের সমর্থন পেয়েছেন স্লিওয়া। এবার ট্রাম্পের সমর্থনের কারণে স্লিওয়ার ভোটাররা, অর্থাৎ রিপাবলিকানরা যদি কুওমোকে সমর্থন করেন, তাহলে ভোটের ফল ভিন্ন হতে পারে। তবে এমনটা হওয়ার শঙ্কা কম।
সব বিভাগে হবে পুলিশের জবাবদিহিতা শাখা
সব বিভাগে হবে পুলিশের জবাবদিহিতা শাখা
Summary: পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর প্রস্তাবিত খসড়া চূড়ান্ত করেছে আইন মন্ত্রণালয়। এতে নতুন বেশ কিছু বিষয় যুক্ত হয়েছে। বিভাগীয় পর্যায়ে পুলিশ কমিশনের একটি কাঠামো রাখা হয়েছে। এর নাম থাকবে ‘জবাবদিহিতা ইউনিট’। এই ইউনিটের সদস্য থাকবেন তিনজন। জেলা জজ হবেন চেয়ারপারসন। চতুর্থ গ্রেডের একজন সরকারি কর্মকর্তা ও ন্যূনতম ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মানবাধিকারকর্মী এই ইউনিটের সদস্য থাকবেন।
সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, পুলিশের জবাবদিহিতা তৃণমূল পর্যায়ে নিতে বিভাগীয় পর্যায়ে নতুন ইউনিট যুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া থানায় কোনো ভুক্তভোগী সেবা না পেলে এসপি ও তাঁর চেয়ে ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তার কাছে যাতে প্রতিকার চাইতে পারেন, তার একটি ব্যবস্থা রাখার কথা অধ্যাদেশের খসড়ায় রাখা হয়েছে।
সূত্র বলছে, প্রস্তাবিত খসড়ায় জবাবদিহিতা ইউনিটের কাছে সাধারণ নাগরিকের যে কোনো অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য ৬০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। আগে অভিযোগ নিষ্পত্তির সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ছিল না।
প্রস্তাবিত খসড়ায় কমিশনকে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ প্রদানের ক্ষমতা দেওয়া হয়। ধারা ১৪, ১৫ ও ১৬-এর অধীন অনুসন্ধান বা তদন্তের স্বার্থে পুলিশ জবাবদিহিতা ইউনিট যে কোনো অভিযোগকারীকে সুরক্ষা দেওয়ার আদেশ দিতে পারবে। কোনো অভিযোগকারীকে ভয় ও হুমকি প্রদান করলে তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের যে কোনো ব্যাপারে আদেশ দেওয়ার এখতিয়ার থাকবে এই ইউনিটের।
সূত্র বলছে, এক সপ্তাহের মধ্যে অধ্যাদেশের খসড়াটি সচিব কমিটির মাধ্যমে উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদনের জন্য যাবে। প্রস্তাবিত খসড়ায় বলা হয়, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজপি) নিয়োগের সুপারিশ করবে কমিশন। কমিশনের সুপারিশ অনুসারে মহাপুলিশ পরিদর্শক পদে নিয়োগ প্রদান করবেন রাষ্ট্রপতি। সততা, মেধা, দক্ষতা, জ্যেষ্ঠতা ও সন্তোষজনক দায়িত্ব পালনের ভিত্তিতে পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শকের নিম্নপদস্থ নন– এমন তিনজন কর্মকর্তার নাম অন্তর্ভুক্ত করে একটি প্যানেল রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ আকারে পাঠানো হবে। কমিশনের পাঠানো তালিকা থেকে একজন আইজপি পদে নিয়োগ পাবেন। নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তার স্বাভাবিক অবসরের নির্ধারিত তারিখ যেটা হোক না কেন, মহাপুলিশ পরিদর্শক পদে তাঁর কর্মকাল নিয়োগের তারিখ থেকে দুই বছর হবে।
পুলিশ কমিশনের খসড়ায় আরও বলা হয়, পুলিশ পরিদর্শকের মেয়াদ শেষ হওয়ার দুই মাস আগে কমিশন পরবর্তী পুলিশপ্রধান বাছাইয়ের কাজ শুরু করবেন। এক মাস আগে রাষ্ট্রপতির কাছে পরবর্তী সম্ভাব্য তিনজনের নাম পাঠাবেন। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে কোনো পুলিশ মহাপরিদর্শক বরখাস্ত, পদত্যাগ বা অন্য কোনো কারণে পদ শূন্য হলে কমিশন পরবর্তী এক মাসের মধ্যে প্যানেল প্রস্তুত করে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবে।
প্রস্তাবিত খসড়ায় বলা হয়েছে, সাত সদস্যের একটি কমিটি কমিশনের সদস্য বাছাইয়ের জন্য নাম সুপারিশ করবে। আগের খসড়ায় বাছাই কমিটি ছিল পাঁচ সদস্যের। বর্তমানে যে সাতজন বাছাই কমিটিতে থাকবেন তারা হলেন– প্রধান বিচারপতির মনোনীত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান, জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির মনোনীত একজন সরকারদলীয় ও একজন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান এবং রাষ্ট্রপতি মনোনীত মানবাধিকার রক্ষণ বা সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন নাগরিক প্রতিনিধি। ন্যূনতম জন সদস্যের উপস্থিতিতে বাছাই কমিটির কোরাম হবে।
খসড়ায় আরও বলা হয়, যদি সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থায় থাকে, সে ক্ষেত্রে চারজন সদস্যের উপস্থিতিতে বাছাই কমিটির কোরাম গঠিত হবে। পুলিশ কমিশনের প্রধান হবেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বা হাইকোর্ট বিভাগের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। সাত সদস্যের কমিশনে আরও থাকবেন একজন অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ, জাতীয় বেতন স্কেলের গ্রেড-২ পদমর্যাদার নিচে নন এমন একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। এ ছাড়া অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক পদমর্যাদার নিচে নন, এমন একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া পুলিশ একাডেমির একজন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অথবা পুলিশ স্টাফ কলেজের একজন অবসরপ্রাপ্ত রেক্টর কমিশনের সদস্য থাকবেন। আইন, অপরাধবিজ্ঞান বা পুলিশবিজ্ঞান বিষয়ের একজন কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক এবং মানবাধিকার উন্নয়ন বা বাস্তবায়নে কিংবা সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে কমপক্ষে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন মানবাধিকারকর্মী থাকবেন।
প্রস্তাবিত খসড়ায় বলা হয়, কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট থাকবে। কমিশনের সদস্যদের মধ্যে কমপক্ষে দুইজন নারী থাকবেন। কমিশনের চেয়ারপারসনের পদ শূন্য হলে বা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা এমনকি অন্য কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে, শূন্য পদে নবনিযুক্ত কেউ না আসা পর্যন্ত বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
তবে দেউলিয়া বা ঋণখেলাপি ঘোষিত হলে কমিশনের সদস্য হওয়া যাবে না। এ ছাড়া বাংলাদেশের নাগরিক নন বা অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন এমন কেউ কমিশনের সদস্য হিসেবে যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না। সংবিধিবদ্ধ সংস্থায় বা সরকারি মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থায়, এমনকি সরকারের নিয়ন্ত্রণমূলক অংশ বা স্বার্থ আছে এমন কোনো সংস্থায় চাকরিরত কেউ কমিশনের সদস্য হতে পারবেন না।
দুর্নীতি বা অন্য কোনো অসদাচরণের কারণে সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত, অপসারিত বা বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্ত হলে কমিশনের সদস্য হওয়ার সুযোগ থাকবে না। ফৌজদারি অপরাধে কারাদণ্ড ভোগ করলে বা কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হলে কমিশনের সদস্য বলে বিবেচনায় আসবে না।
কমিশনের কার্যক্রমের মধ্যে থাকবে পুলিশি কার্যক্রমে দক্ষতা ও উৎকর্ষ আনয়ন, শৃঙ্খলা, দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা। নিয়মিত পরিবীক্ষণের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের সততা, শৃঙ্খলা, দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। নাগরিকদের মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার এবং মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যবোধ সুরক্ষায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুসারে পুলিশি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ। পুলিশ বাহিনীতে আধুনিক প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, ট্রাফিক ও সড়ক নিরাপত্তা, ফরেনসিক ও ডেটা ব্যবস্থাপনা সংযুক্তীকরণে পরিবীক্ষণ ও প্রয়োজনীয় নীতিনির্দেশনা বা সুপারিশ প্রদান। সমাজে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় অপরাধ তদন্ত ও প্রসিকিউশন কার্যক্রমে বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও উত্তরণে প্রয়োজনীয় নীতিনির্দেশনা বা সুপারিশ করা।
আটক, জিজ্ঞাসাবাদ ও বলপ্রয়োগ-সংক্রান্ত কাজে মানবাধিকার রক্ষায় প্রশিক্ষণ প্রদান, যুক্তির ব্যবহারে দিকনির্দেশনা প্রদান ও এ-সংক্রান্ত বিষয়ে পুলিশি কার্যক্রমের নিয়মিত নিরীক্ষা। পুলিশের আইনানুগ কার্যক্রমে কোনো ব্যক্তি বা সত্তা বিধিবহির্ভূত বা অযাচিত প্রভাব বিস্তার করলে, তদন্তপূর্বক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশ বা সুপারিশ করা। জনগণ ও পুলিশের পারস্পরিক আস্থা বাড়ানোর নিমিত্ত গণশুনানি, পরামর্শ সভা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম আয়োজন।
পুলিশ সদস্যদের সংক্ষোভ নিরসনে একটি কমিটি থাকবে। বিধিবহির্ভূত প্রভাব, পদোন্নতি, পদায়ন, বিভাগীয় শাস্তি প্রদানে বৈষম্য ও অনিয়ম, অবৈধ নির্দেশনা বাস্তবায়নে বাধ্যকরণ, হয়রানি, বঞ্চনা বা অন্যায্য আচরণ-সংক্রান্ত সংক্ষোভ নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেবে কমিশন। পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। সংক্ষোভ নিরসন-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পর্যালোচনা করে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা বা সুপারিশ প্রদান করবে। নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন-সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন ও পরামর্শ দেবে কমিশন।
সরকারের ভুল পদক্ষেপে দলগুলোর ঐক্যে ফাটল
সরকারের ভুল পদক্ষেপে দলগুলোর ঐক্যে ফাটল
Summary: সরকারের ভুল পদক্ষেপ এবং নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার মানসিকতা রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যে ফাটল ধরিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে গণতন্ত্র মঞ্চ। তারা বলছে, ভিন্নমত থাকা সত্ত্বেও জুলাই সনদ সইয়ের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু সরকারের ভুল পদক্ষেপে সেই ঐক্যে ফাটল ধরেছে। এর মধ্য দিয়ে চব্বিশের অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও সংস্কার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গণতন্ত্র মঞ্চের জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মঞ্চের সমন্বয়ক বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি তানিয়া রব, নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহ কায়সার, ভাসানী জনশক্তি পার্টির মহাসচিব আবু ইউসূফ সেলিম প্রমুখ।
গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা বলেন, জুলাই সনদ এবং সনদের আইনি ভিত্তি হিসেবে গণভোটকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট রাজনৈতিক অচলাবস্থার জন্য অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের দায় রয়েছে। এ অচলাবস্থার মধ্যে ঐকমত্য সৃষ্টির দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর চাপিয়ে দিয়ে সরকার দায়মুক্তির চেষ্টা করছে।
গণভোটের তারিখ নির্ধারণের দায়িত্ব সরকারের উল্লেখ করে গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা বলেন, সরকারকেই অচলাবস্থা নিরসনের দায়িত্ব নিতে হবে। গণভোটের তারিখ নির্ধারণ করতে হবে সরকারকে। অথচ তারা পরস্পরবিরোধী অবস্থানে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর হাতে এ দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে সৃষ্ট সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারকেই মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। সেই সঙ্গে নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার মানসিকতা থেকে সরে এসে দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসন করে সরকারকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের নিয়মতান্ত্রিক পন্থা অনুসরণ করতে হবে।
তারা বলেন, যথাসময়ে নির্বাচন না হলে নিরাপত্তা সংকটের মুখে পড়বে। নির্বাচন যাতে কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেই ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকারকে মনে রাখতে হবে– ঘোষিত সময়ে নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করা না গেলে দেশ ভয়াবহ নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, জুলাই সনদ প্রণয়নের ক্ষেত্রে ‘নোট অব ডিসেন্ট’গুলোকে যেভাবে লিপিবদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই ঐকমত্য কমিশন সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে।
গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরিত সনদ এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের খসড়ার মধ্যে নীতিগত পার্থক্য রয়েছে। এ বিষয়গুলো উদ্ভূত পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। যদিও ঐকমত্য কমিশন এবং সরকারের পক্ষ থেকে ইতোপূর্বে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে, তারা কোনো বিষয় চাপিয়ে দেবে না। অথচ জুলাই সনদ সই-পরবর্তী সময়ে তারা সে অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। এটা একদিকে প্রতারণার শামিল, অন্যদিকে সরকারের স্বৈরাচারী মানসিকতার প্রকাশ বলে মনে করেন তারা।
ড্যাপ সংশোধনের প্রস্তাবনা অবিলম্বে বাতিল করুন
ড্যাপ সংশোধনের প্রস্তাবনা অবিলম্বে বাতিল করুন
Summary: স্বার্থান্বেষী প্রভাবশালীদের চাপে ঢাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) সংশোধন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন পেশাজীবীরা। তারা বলেছেন, এতে এই শহর হুমকির মুখে পড়বে। সরকারের উচিত ড্যাপ সংশোধন সম্পর্কিত নতুন প্রস্তাবনা অবিলম্বে বাতিল করা।
গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে পরিবেশকর্মী, আইনজীবী, শিক্ষক, পরিকল্পনাবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিদের উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলনে এমন বক্তব্য উঠে আসে। এতে লিখিত বক্তব্য দেন পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মোহাম্মদ খান ও পরিবেশকর্মী আমিরুল রাজিব।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘যত দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকার আগের জায়গায় ফিরে যেতে পারবে ঢাকা শহরের জন্য ততটাই মঙ্গল। জুলাই অভ্যুত্থানের পর এমনভাবে ঢাকা শহরকে ধ্বংসের সুযোগ দেওয়া হবে তা আমাদের কাছে অপ্রত্যাশিত।’
ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ১৫ বছর আগেও ঢাকা শহরে গণপরিবহনের ঘণ্টায় গড় গতি ছিল ২০ কিলোমিটার। এখন সেটা পাঁচ-ছয় কিলোমিটারে নেমেছে। স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর চাপে যেভাবে ড্যাপ সংশোধন করা হচ্ছে, তাতে ভবিষ্যতে এক-দুই কিলোমিটারে নেমে আসবে। ভবন করার ক্ষেত্রে ফ্লোর এরিয়া রেশিও (ফার) বাড়িয়ে দেওয়া ঢাকা শহরের জন্য আত্মঘাতী। সংশোধিত ড্যাপে প্রতিটি এলাকায় ফার বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এতে সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য ফিরোজ আহমেদ ১৭টি দাবি তুলে ধরেন। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে ড্যাপ সংশোধন সম্পর্কিত প্রস্তাবনা অবিলম্বে বাতিল, পেশাজীবীদের নিয়ে যথার্থভাবে ড্যাপ সংশোধন, জলাভূমি রক্ষায় কঠোর অবস্থান গ্রহণ, জলাশয় দখলকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, গুলশান, বনানী, ধানমন্ডির মতো এলাকায় ফ্লোর এরিয়া রেশিও কমিয়ে দেওয়া এবং পরিকল্পনা প্রণয়নে ব্যবসায়িক স্বার্থের সংঘাত আছে এমন কাউকে অন্তর্ভুক্ত না করা।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০২২ সালে ড্যাপ অনুমোদনের পর তিন বছরের মধ্যে ব্যবসায়ীদের চাপে দুবার সংশোধন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশোধন করা হচ্ছে ঢাকা মহানগরীর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা। মূলত আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাব ও ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ-আইএবির দাবির কাছে সরকার রাজধানীর বেশির ভাগ এলাকায় ভবন নির্মাণে ফার, জনঘনত্ব ও আবাসন ইউনিট বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সার্বিক বিচারে যা অপরিণামদর্শী। ঢাকা মহানগরীর বাসযোগ্যতা ও পরিবেশ-প্রতিবেশের জন্য এটা হুমকিস্বরূপ। পরিকল্পনাবিদসহ বিভিন্ন সামাজিক, পরিবেশবাদী, পেশাজীবী ও নাগরিক সংগঠনের মতামত ও দাবিকে উপেক্ষা করেই সরকার এই সংশোধনের পথে হাঁটছে। এতে জনবহুল ঢাকা শহরে উঁচু ভবনের সংখ্যা বাড়বে এবং ইতোমধ্যে স্থবির হয়ে যাওয়া শহরে পরিবহন, পরিষেবাসহ সব ধরনের নাগরিক সেবার ওপর অসহনীয় চাপ পড়বে। এই চাপ বহন করার ক্ষমতা এই শহরের নেই। এ ধরনের উদ্যোগ ঢাকা মহানগরীর বাসযোগ্যতাকে একেবারে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সহসভাপতি সৈয়দ শাহরিয়ার আমিন, ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের পরিচালক গাউছ পিয়া, পরিবেশকর্মী ইবনুল সাঈদ রানা ও জুরাইনে নাগরিক ভোগান্তি নিয়ে আন্দোলনকারী মিজানুর রহমান।
বায়রার নির্বাচন ১৭ জানুয়ারি
বায়রার নির্বাচন ১৭ জানুয়ারি
Summary: বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) দ্বিবার্ষিক নির্বাচন আগামী ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী প্রথমবার সরাসরি ভোট অনুষ্ঠিত হবে। গত ২৯ অক্টোবর বায়রা নির্বাচন বোর্ড এ-সংক্রান্ত তপশিল ঘোষণা করে।
তপশিল অনুযায়ী, ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য আগ্রহী সদস্যদের আগামী ১৮ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে হবে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ২ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র বিতরণ ও দাখিলের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ থেকে ৯ ডিসেম্বর।
এবারের নির্বাচনে ৩৮টি পরিচালক পদে ভোট হবে। এর মধ্যে পাঁচটি পদ সংরক্ষিত থাকবে অঞ্চলভিত্তিক প্রতিনিধিত্বের জন্য। নির্বাচনে অংশ নিতে প্রার্থীদের অবশ্যই বৈধ সদস্য হতে হবে এবং নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোট গ্রহণ হবে ঢাকার নির্ধারিত কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ভোটারদের পরিচয় নিশ্চিত করতে জাতীয় পরিচয়পত্র ও সদস্য পদ যাচাই করা হবে।
বায়রার নির্বাচন ঘিরে ইতোমধ্যে সদস্যদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান জানান দিতে শুরু করেছেন। নির্বাচন কমিশন সদস্যদের প্রতি নির্ধারিত সময়সীমা মেনে সব কার্যক্রম সম্পন্নের আহ্বান জানিয়েছে।
বায়রা দেশের বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সংগঠন হিসেবে অভিবাসন খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এবারের নির্বাচন ঘিরে সংগঠনের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসবে কিনা, তা নিয়ে সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা হবে ১০০ কোটি ডলারের সয়াবিন
যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা হবে ১০০ কোটি ডলারের সয়াবিন
Summary: এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১০০ কোটি ডলারের সয়াবিন কিনবে বাংলাদেশের তিন বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানগুলো হলো মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, সিটি গ্রুপ ও ডেল্টা অ্যাগ্রোফুড ইন্ডাস্ট্রিজ। এর মধ্যে মেঘনা আনবে ১০ লাখ টন সয়াবিন বীজ, যা মোট আমদানির অর্ধেক।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর এক হোটেলে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইউএস সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিল (ইউএসএসইসি) ও ইউএস সয় আয়োজিত লেটার অব ইন্টেন্ট (এলওআই) সই অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়।
স্মারক সই অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করে ইউএসএসইসির (মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়া) নির্বাহী পরিচালক কেভিন এম রোপকি। উপস্থিত ছিলেন ডেল্টা অ্যাগ্রোফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল, সিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাসান, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক তানজিমা বিনতে মোস্তফা ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নাসের এজাজ বিজয়সহ অন্যান্য ব্যবসায়ী ও খাত-সংশ্লিষ্টরা।
স্মারক সই অনুষ্ঠানে আমিরুল হক বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের মান সব সময়ই অন্যদের চেয়ে ভালো থাকে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন বীজের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক। তবে আমি দাম নিয়ে কথা বলতে চাই না। আমাদের সামনে আরও অনেক সুযোগ রয়েছে। আমরা চাইলে বাংলাদেশে এলপিজি এবং অপরিশোধিত তেল আমদানি করতে পারি। দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে প্রায় ছয় বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। তবে আমরা এলপিজি, অপরিশোধিত তেল ও সয়াবিন আনতে পারলে দুই দেশের মধ্যে সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যে করতে পারব।
তানজিমা বিনতে মোস্তফা বলেন, আমরা গর্বিত যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন আমদানির মাধ্যমে বাংলাদেশের খাদ্য ও পশুখাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার অংশীদারিত্বে যুক্ত হতে পেরেছি। এ বছর মেঘনা যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১০ লাখ টন সয়াবিন আমদানির পরিকল্পনা নিয়েছে।
মো. হাসান বলেন, বাংলাদেশের খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলে গুণগত মান ও টেকসই নিশ্চিত করতে আমরা সব সময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সহযোগিতার মাধ্যমেই এ লক্ষ্য বাস্তবায়িত হচ্ছে।
এরপর তিন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে এলওআই সই হয়। এলওআই সইয়ের পর ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি জ্যাকবসন বলেন, আমরা আসলে দুই দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সম্পর্কের কথা বলছি, যেখানে কৃষি একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে ৭৭৯ মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়েছে। আর এ বছর তা এক বিলিয়ন ডলারের বেশি হবে বলে আশা করছি।
তিনি বলেন, আমরা ৩৫০ মিলিয়ন ডলার থেকে এক বিলিয়নে পৌঁছেছি। এটি তিন গুণ বৃদ্ধি। এটি বাংলাদেশের বাজারের শক্তি ও সম্ভাবনা প্রমাণ করে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, সয়াবিন বীজ আমদানি হয় মূলত ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে। গত অর্থবছরে সব মিলিয়ে ৭৮ কোটি ডলারের ১৭ লাখ ৩৫ হাজার টন সয়াবিন আমদানি হয়েছিল। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি হয়েছিল ৩৫ কোটি ডলারের সয়াবিন বীজ।
গণহারে বাংলাদেশি ও ভারতীয়দের ভিসা বাতিলের ক্ষমতা চাইছে কানাডা
গণহারে বাংলাদেশি ও ভারতীয়দের ভিসা বাতিলের ক্ষমতা চাইছে কানাডা
Summary: জালিয়াতির অভিযোগ তুলে কানাডার সরকার বিদেশিদের গণহারে ভিসা বাতিলের ক্ষমতা পাওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ ও ভারত থেকে পাঠানো ভিসা আবেদনে জালিয়াতির ঘটনা ঘটছে। সূত্রের বরাত দিয়ে গত সোমবার কানাডার গণমাধ্যম সিবিসি নিউজ জানায়, কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ব বিভাগ (আইআরসিসি) এবং কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির (সিবিএসএ) কর্মকর্তারা মার্কিন অংশীদারদের সঙ্গে মিলে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ তৈরি করেছেন। এ গ্রুপের লক্ষ্য হচ্ছে ভ্রমণ ভিসার জাল আবেদনগুলো চিহ্নিত ও বাতিল করা এবং এ জন্য তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
অভ্যন্তরীণ সরকারি নথিতে ভারত ও বাংলাদেশকে ‘নির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জিং দেশ’ হিসেবে উল্লেখ করে এ ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। গণহারে ভিসা বাতিলের ক্ষমতা কী কী ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে, সেই তালিকায় ‘নির্দিষ্ট দেশের ভিসাধারীদের’ কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রকাশ্যে কানাডার অভিবাসনমন্ত্রী লেনা মেটলেইজ দিয়াব এ ক্ষমতা চাওয়ার কারণ হিসেবে কেবল মহামারি বা যুদ্ধের কথা বলেছেন। তিনি নির্দিষ্ট কোনো দেশের কথা উল্লেখ করেননি।
এ ক্ষমতা রেখে বিল সি-১২ নামে একটি প্রস্তাব পার্লামেন্টে তোলা হয়েছে। সরকার দ্রুত এটি পাসের আশা করছে। এ আইন নিয়ে সুশীল সমাজের ৩০টির বেশি সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মাইগ্র্যান্ট রাইটস নেটওয়ার্কের মতো সংগঠনগুলো বলছে, গণহারে বাতিলের ক্ষমতা সরকারকে ‘গণবহিষ্কারের যন্ত্র’ করে তুলবে। অভিবাসন আইনজীবীরাও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, আবেদন জট কমাতে সরকার এ ক্ষমতা চাইছে কিনা।
আইআরসিসি অবশ্য গত মাসে সিবিসিকে জানিয়েছিল, ‘নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা পরিস্থিতি’ মাথায় রেখে নতুন প্রস্তাব করা হয়নি। কানাডার অভিবাসন বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা সীমান্তে অপ্রয়োজনীয় ভিড় কমাতে এবং ভুয়া পর্যটক ও অবৈধ পারাপার কমাতে ‘দৃঢ় পদক্ষেপ’ নিয়েছে। বিভাগটির দাবি, ‘অপব্যবহারের সর্বোচ্চ হার থাকা দেশগুলো’ থেকে অস্থায়ী রেসিডেন্স ভিসা (টিআরভি) আবেদনের ওপর কড়া নজরদারি বাড়ানোর ফলে গত বছরের জুন থেকে অবৈধভাবে মার্কিন সীমান্ত পার হয়ে কানাডায় প্রবেশের হার ৯৭ শতাংশ কমেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় জালিয়াতির কারণে ভিসা বাতিলের হার ২৫ শতাংশ বেড়েছে।
আন্দোলন দমনের জন্য পুরস্কার দিয়েছিলেন ডিএমপি কমিশনার
আন্দোলন দমনের জন্য পুরস্কার দিয়েছিলেন ডিএমপি কমিশনার
Summary: জুলাই আন্দোলন দমনে নিলিং পজিশনে গিয়ে চায়নিজ রাইফেল দিয়ে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান। আন্দোলন দমনে পুলিশের ভূমিকার জন্য রামপুরা থানায় গিয়ে এক লাখ টাকা পুরস্কারও দিয়ে এসেছিলেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ জবানবন্দিতে এসব কথা বলেন রাজধানীর বাড্ডা থানার এসআই (নিরস্ত্র) গোলাম কিবরিয়া খান।
এদিন প্রসিকিউশনের ৫ ও ৬ নম্বর সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। জুলাই আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর রামপুরায় ছাদের কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকে গুলি করাসহ দুজনকে হত্যার ঘটনায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে পাঁচ নম্বর সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন এসআই কিবরিয়া। এরপর তদন্ত সংস্থার লাইব্রেরি সহকারী কনস্টেবল আবু বক্কর সিদ্দিকের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ১০ নভেম্বর দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
এসআই কিবরিয়া বর্তমানে বাড্ডা থানায় থাকলেও জুলাই অভ্যুত্থানের সময় রামপুরা থানায় একই পদে কর্মরত ছিলেন। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই থানায় অবস্থানকালে বেতার অপারেটরের মাধ্যমে জানতে পারি, আন্দোলন দমনে নিলিং পজিশনে গিয়ে সিআর (চায়নিজ রাইফেল) ফায়ার করার নির্দেশনা দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান। পরদিন জুমার নামাজের পর রামপুরায় বিটিভি ভবনের তিন নম্বর ফটকে দায়িত্বে ছিলাম। কিন্তু আমিসহ সব পুলিশ সদস্যকে থানায় থাকার নির্দেশনা দেন ওসি। আমরা সবাই থানায় অবস্থান করি। ওই দিন জুমার নামাজের পরপরই থানার আশপাশে জমায়েত হতে থাকে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতা। এমন পরিস্থিতিতে রামপুরা থানার ওসি মশিউর রহমান ও খিলগাঁও জোনের তৎকালীন এডিসি রাশেদুল ইসলামের নির্দেশনায় আন্দোলনরতদের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এতে রামপুরা থানা ভবনের পাশে বনশ্রী জামে মসজিদের সামনে নাদিম মিজান নামে একজন নিহত হন। পার্শ্ববর্তী রাস্তায় মায়া ইসলাম নামে আরেকজন নিহত ও মুসা খান নামে এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয় বলে জানতে পারি।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলন দমনে ভূমিকা রাখার জন্য ২১ বা ২২ জুলাই রামপুরা থানায় এসে ওসি স্যারের কাছে এক লাখ টাকা নগদ পুরস্কার দেন কমিশনার হাবিবুর রহমান। পরে রামপুরা থানা ভবনের পার্শ্ববর্তী নির্মাণাধীন একটি ভবনের ছাদের কার্নিশে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা একজনকে লক্ষ্য করে গুলি করার ভিডিও ভাইরাল হয়। পরে জানতে পারি, ঝুলন্ত ব্যক্তিকে এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া ও এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার গুলি করেছে।
সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এসআই কিবরিয়াকে জেরা করেন পলাতক চার আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন ও গ্রেপ্তার চঞ্চল চন্দ্র সরকারের আইনজীবী সারওয়ার জাহান। এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন ছয়জন।
সাক্ষী না আসায় পেছাল সাক্ষ্য
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় রংপুরে আবু সাঈদ হত্যা মামলায় পরপর তিন ধার্য তারিখে সাক্ষী না আসায় সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ পিছিয়ে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। নতুন করে আগামী ১০ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ গতকাল এ তারিখ দেন।
পরে দুই আসামির আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের বলেন, প্রসিকিউশনের দায়িত্ব হলো কোনো ব্যক্তি বা আসামির বিরুদ্ধে চার্জ প্রমাণ করা। এর অন্যতম প্রক্রিয়া সাক্ষী উপস্থাপন। অথচ সেই সাক্ষীই গত তিনটি কার্যদিবসে হাজির হয়নি। আমরা কারণ জানতে না পারলেও প্রতীয়মান– প্রসিকিউশনের ব্যর্থতার কারণে আদালতে আসেননি সাক্ষী।
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের হওয়া এই মামলায় কনস্টেবল সুজনসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। তবে সাক্ষী না আসায় বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে বলে আদালত পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন।
তুলা রপ্তানিতে জটিলতায় পড়ছেন মার্কিন ব্যবসায়ীরা
তুলা রপ্তানিতে জটিলতায় পড়ছেন মার্কিন ব্যবসায়ীরা
Summary: বাংলাদেশে তুলা রপ্তানিতে বাণিজ্যিক ডকুমেন্টেশন প্রস্তুতের কিছু ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা ও জটিলতার অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা রপ্তানিকারকদের সংগঠন কটন ইউএসএ। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, মার্কিন তুলা ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী পোশাকের মান আরও উন্নত করা সম্ভব। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা কাজে লাগিয়ে রপ্তানি আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। ডকুমেন্টেশন জটিলতা দূর করতে বিজিএমইএর সহযোগিতা চেয়েছেন তারা।
তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে কটন ইউএসএর নেতারা এসব কথা তুলে ধরেন। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ ভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে ইউএস কটনের ৯ সদস্যের প্রতিনিধি দলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের তুলা উৎপাদন ও রপ্তানিকারক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা ছিলেন। অন্যদিকে বিজিএমইএর পক্ষে নেতৃত্ব দেন সংগঠনের সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। এ ছাড়া সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান বাবলু ও পরিচালক নাফিস-উদ-দৌলা আলোচনায় অংশ নেন।
বৈঠকের মূল বিষয় ছিল ন্যূনতম ২০ শতাংশ মার্কিন তুলা ব্যবহারে উৎপাদিত বাংলাদেশের পোশাকে শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধার বিষয়টি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে জারি হওয়া শুল্ক কাঠামো অনুযায়ী, দেশটির বাজারে রপ্তানিযোগ্য কোনো পণ্য উৎপাদনে যদি ন্যূনতম ২০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনা কাঁচামাল ব্যবহার করা হয়, তাহলে ওই পণ্যে যতটুকু মার্কিন কাঁচামাল ব্যবহার করা হয়েছে, তার মূল্যের ওপর ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক প্রযোজ্য হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া বাংলাদেশি পণ্যের মধ্যে তৈরি পোশাক প্রায় ৮৮ শতাংশ। অর্থাৎ এই ৮৮ শতাংশে শুল্ক ছাড় পাওয়ার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। অবশ্য পণ্যে তুলার বাইরে এক্সেসরিজসহ অন্য কাঁচামালের যতটুকু ব্যবহার, ততটুকুর ওপর নতুন শুল্ক কার্যকর হতে পারে।
জানতে চাইলে ইনামুল হক খান বাবলু সমকালকে বলেন, ‘মার্কিন প্রতিনিধিরা আসলে তাদের তুলার বিপণন বাড়াতে এসেছে। আমরা চাহিদার খুব অল্প তুলাই যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করে থাকি। এ হার এত কম কেন, কীভাবে বাড়ানো যায়– বিশেষ করে মার্কিন তুলা ব্যবহারে উৎপাদিত পোশাকে ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক ছাড়ের যে সুযোগ রয়েছে, সেটা কীভাবে কাজে লাগানো যায় সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে মার্কিন তুলার একটি ওয়্যারহাউস নির্মাণের বিষয়েও কথা হয়েছে। এটিকে বড় সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে তুলা আগাম আমদানি করে ওয়্যারহাউসে রাখা হবে, যাতে সারাবছর যে কারখানার যতটুকু প্রয়োজন তারা তাৎক্ষণিকভাবে ততটুকু নিতে পারে। এতে তুলা আমদানিতে ৩৫ দিন থেকে ৪০ দিনের যে সময় বা লিড টাইম লাগে সেটা বাঁচবে।
সূত্র জানায়, বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিরা বলেন, বাংলাদেশের বস্ত্র ও পোশাক শিল্প বিশ্ববাজারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন তুলা তার টেকসই গুণাবলি, নির্ভরযোগ্যতা এবং উচ্চমানের জন্য সুপরিচিত। মার্কিন তুলা ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকরা তাদের পণ্যের মান আরও উন্নত করতে পারবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্ক সুবিধা কাজে লাগিয়ে নিজেদের ব্যবসা সম্প্রসারিত করতে পারবে। তবে বাংলাদেশে তুলা রপ্তানিতে বাণিজ্যিক ডকুমেন্টেশন প্রস্তুতের কিছু ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা ও জটিলতা রয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে বিজিএমইএর সহযোগিতা প্রয়োজন।
বিজিএমইএ সভাপতি বাংলাদেশে তুলা রপ্তানিতে বাণিজ্যিক ডকুমেন্টেশন-সংক্রান্ত সমস্যার বিস্তারিত জানতে চান। এ বিষয়ে সমস্যাগুলো সুনির্দিষ্ট করে লিখিত আকারে বিজিএমইএকে জানাতে মার্কিন প্রতিনিধিদের অনুরোধ করেন তিনি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগে এ বিষয়ের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা বা জটিলতাগুলো দ্রুত নিরসনের চেষ্টা করা হবে।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, এই নতুন শুল্ক ছাড়ের সুযোগ বাংলাদেশের শিল্প খাতের জন্য এক বিশাল সম্ভাবনা এনে দিয়েছে, যা আমাদের পণ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, এ সুবিধা বাংলাদেশের স্পিনিং মিল ও পোশাক কারখানাগুলো কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লাভ করবে, সে বিষয়ে এখনও বিজিএমইএর কাছে সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই। মার্কিন প্রশাসনের কাছ থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় স্পষ্টীকরণ ডকুমেন্টস বিজিএমইএকে সরবরাহ করা হলে ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন। এতে বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা শুল্ক সুবিধা নিতে প্রস্তুতি নিতে পারবেন।
মাহমুদ হাসান খান আরও বলেন, বর্তমানে আমদানি করা তুলার প্রায় ১০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসে, যা দ্বিগুণ বা তিন গুণ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ বছরে ৪৮০ কোটি থেকে ৫২০ কোটি ডলারের তুলা আমদানি করে। মোট তুলার ৫০ শতাংশ ভারত থেকে আসে। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, অস্ট্রিলিয়া ও আফ্রিকার কিছু দেশ থেকেও তুলা আমদানি করা হয়।
আইএফআইসির সাবেক এমডি শাহ আলমকে ৫ কোটি টাকা জরিমানা
আইএফআইসির সাবেক এমডি শাহ আলমকে ৫ কোটি টাকা জরিমানা
Summary: আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম সারওয়ারকে ৫ কোটি টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। অন্য প্রতিষ্ঠানের বন্ডকে ‘আইএফআইসি আমার বন্ড’ নামে বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণার দায়ে এ জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিএসইসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আইএফআইসি গ্রান্টেড শ্রীপুর টাউনশিপ গ্রিন জিরো কুপন বন্ড নামে শ্রীপুর টাউনশিপ নামের কোম্পানি দেড় হাজার কোটি টাকার বন্ড ইস্যু করেছে। এ বন্ডের জামিনদার (গ্যারান্টর) ছিল আইএফআইসি ব্যাংক এবং পরামর্শক ও ব্যবস্থাপনাকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ব্যাংকটির সহযোগী প্রতিষ্ঠান আইএফআইসি ইনভেস্টমেন্ট। অথচ এই বন্ডের বিজ্ঞাপন প্রচার হয়েছে ‘আইএফআইসি আমার বন্ড’ নামে। এভাবে বিনিয়োগকারীদের প্রতারিত করে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা হয়। গত ৩০ জুলাই এ বিষয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এর অংশ হিসেবে বন্ডটি ইস্যুর সময় ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী শাহ আলম সরওয়ারকে ৫ কোটি টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বাজার সংক্ষেপ
এদিকে টানা তৃতীয় দিনে দর পতন হয়েছে দেশের শেয়ারবাজারে। ডিএসইতে তালিকাভুক্ত ৩৬০ কোম্পানির শেয়ারের মধ্যে মাত্র ৫০টির দর বেড়েছে, কমেছে ২৫৭টির এবং অপরিবর্তিত থেকেছে ৫০টির দর। মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও ছিল নিম্নমুখী ধারা। অধিকাংশ শেয়ার দর হারানোয় ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স প্রায় ৪২ পয়েন্ট হারিয়ে ৫০১৯ পয়েন্টে নেমেছে। এ নিয়ে সর্বশেষ তিন কর্মদিবসে সূচকটি ১০৩ পয়েন্ট হারাল।
মথ ডাল প্রচুর আমদানি হলেও বাজারে নেই
মথ ডাল প্রচুর আমদানি হলেও বাজারে নেই
Summary: দেশে গত অর্থবছরে ২১ হাজার ৮৯১ টন মথ ডাল আমদানি হয়েছে। কিন্তু বাজারে এ ডালের কোনো অস্তিত্ব নেই। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বলছে, ক্ষতিকর রং মিশিয়ে এই ডাল বিক্রি হচ্ছে মুগ ডাল নামে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এমন পরিস্থিতিতে রং মেশানো মথ ডাল না কেনার পরামর্শ দিয়েছে বিএফএসএ।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থবছরে মুগ ডাল আমাদানি হয়েছে ১০ হাজার ৯৬১ টন। অন্যদিকে মথ ডাল আমদানি হয়েছে ২১ হাজার ৮৯১ টন। মুগ ডালের তুলনায় মথ ডালের আমদানি প্রায় দ্বিগুণ। কিন্তু বাজারে মথ ডাল নামে কোনো ডাল পাওয়া যাচ্ছে না।
মথ ডালে ক্ষতিকর রং মিশিয়ে মুগ ডালের নামে বিক্রি করা হচ্ছে– এমন তথ্য পেয়ে অনুসন্ধানে নামেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। তারা বিভিন্ন বাজার থেকে মুগ ডালের ৩৩টি নমুনা সংগ্রহ করেন। প্রাথমিক পরীক্ষায় ১৮টি নমুনার মধ্যে হলুদ রঙের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। রং মিশ্রিত ডালের একটি নমুনা বিএসটিআইর ল্যাবরেটরিতে পাঠালে পরীক্ষা করার পর ওই নমুনায় টারট্রাজিন রং পাওয়া যায়। খাদ্য-সংযোজন দ্রব্য ব্যবহার প্রবিধানমালা, ২০১৭ অনুযায়ী, টারট্রাজিন রংটি সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহারযোগ্য।
বিএফএসএর চেয়ারম্যান জাকারিয়া সমকালকে বলেন, ডাল বা শস্যে রং ব্যবহারের অনুমোদন নেই। এতে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। আমদানির সময় মুগ ও মথ ডালের রং পরীক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং রং মিশ্রিত ডাল যাতে বাংলাদেশে আমদানি না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিএফএসএর নির্দেশে মথ ডালের অস্তিত্ব খুঁজতে মাঠে নামে ভোক্তা অধিদপ্তর। গত তিন-চারদিন ঢাকার রহমতগঞ্জ, কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, গাজীপুরসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মথ ডালের কোনো অস্তিত্ব পায়নি অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। রং মিশিয়ে মুগ ডাল নামে বিক্রি করার অপরাধে কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ১০ লাখ টাকা জরিমানা করে তারা।
অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা সমকালকে জানান, ডাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানির পর রং মেশানো হয়। ভোক্তারা ডালের রং উজ্জ্বল না হলে কিনতে চান না। সে জন্য এই রং ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তাদের অভিযানে তথ্য মিলছে।
ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে আস্থা ও সুশাসন ফিরিয়ে আনা জরুরি
ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে আস্থা ও সুশাসন ফিরিয়ে আনা জরুরি
Summary: মাত্রাতিরিক্ত খেলাপি ঋণ ও মূলধন ঘাটতি নিয়ে দেশের ব্যাংক খাত বেশ সংকটাবস্থায় আছে। এ অবস্থা উত্তরণে পুনর্মূলধনের জোগান দেওয়া দরকার। মূলধন জোগানের বড় উৎস হতে হবে পুঁজিবাজার। এ জন্য ব্যাংক খাতের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং কঠোরভাবে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এমন মত দিয়েছেন। ‘বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে আস্থা পুনর্গঠন: কেন এখন মূলধনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনাটি গত সোমবার রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়।
সভাপতির বক্তব্যে পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, ব্যাংকনির্ভর অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ২৭ শতাংশের বেশি খেলাপি ঋণ এবং এক লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার মূলধন ঘাটতি নিয়ে ব্যাংক খাত নিজেই এখন সংকটাবস্থায়। এ অবস্থায় বিনিয়োগের অর্থ আসবে কোথা থেকে, ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি কীভাবে মিটবে– এ প্রশ্ন বড় হয়ে এসেছে। আপাতদৃষ্টিতে পুঁজিবাজারই প্রধান বিকল্প। তবে এ বাজার এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী নয়।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ব্যাংক খাত নিয়ে মানুষের মধ্যে যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে, তা অন্তর্বর্তী সরকারের ১৪ মাসেও ঠিক হয়নি। মানুষের আস্থা ফেরাতে ব্যাংক ও পুঁজিবাজারের দুই খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সমন্বয় বাড়াতে হবে। প্রাইম ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান ও. রশিদ বলেন, ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি আমাদের সামনে অপেক্ষা করছে। পুঁজি গঠনে পুঁজিবাজারকে সামনে নিয়ে এগোতে হবে।
নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান হুদা ভাসি চৌধুরীর সিনিয়র পার্টনার এ. এফ. নেসারউদ্দিন বলেন, শুধু ব্যাংক একীভূত করলেই সমাধান হবে না; প্রয়োজন স্বচ্ছ প্রতিবেদন, ব্যাংকের মূলধন মূল্যায়ন ও বাস্তবভিত্তিক পুনর্গঠন কাঠামো। ডিএসইর ব্রোকারদের সংগঠন ডিবিএর সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, কার্যকর বন্ড বাজার গঠনে সরকার চাইলে ট্রেজারি বন্ড পুঁজিবাজারের মাধ্যমে ইস্যু করে বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দ্য সিটি ব্যাংকের সিএফও মাহবুবুর রহমান, আইন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের ম্যানেজিং পার্টনার ব্যারিস্টার সৈয়দ আফজাল হাসান উদ্দিন প্রমুখ।
তৃণমূলের প্রতিরোধের মুখে বিএনপির মিত্ররা
তৃণমূলের প্রতিরোধের মুখে বিএনপির মিত্ররা
Summary: বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে সম্ভাব্য কোনো প্রার্থী দেয়নি বিএনপি। ধারণা করা হচ্ছে, যুগপৎ আন্দোলনের শরিক নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার জন্য আসনটি ফাঁকা রেখেছে দলটি। তবে এখানে মান্নাকে ঠেকাতে একাট্টা তৃণমূলের নেতাকর্মী।
বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী মীর শাহে আলমের নেতৃত্বে মান্নাবিরোধী বিশাল বলয় গড়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে মান্নাকে শিবগঞ্জে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।
শুধু বগুড়া-২ নয়, ফাঁকা রাখা এমন একাধিক আসনে শরিক দলের প্রার্থীকে মেনে নিচ্ছে না বিএনপির তৃণমূল। তাদের ঠেকাতে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী দাঁড় করানোর কাজও চলছে।
জোটের প্রার্থীরা বলছেন, সমঝোতার অংশ হিসেবে তাদের আসনে প্রার্থী দেয়নি বিএনপি। এখন কেন্দ্রীয় বিএনপিকেই স্থানীয় নেতাকর্মীদের সামলাতে হবে। তা না হলে পরিস্থিতি সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
বগুড়া-২ আসনে ২০১৮ সালে ‘ধানের শীষ’ নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। এবারও শরিক দল হিসেবে তাঁর মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে এখানে বেঁকে বসেছেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর শাহে আলম। তাঁর অনুসারীরা জানিয়েছেন, কোনোভাবেই তারা মান্নাকে মেনে নিবেন না।
শাহে আলমের অনুসারী শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওহাব বলেন, আমরা মীর শাহে আলমের পক্ষেই আছি। আমরা এখনও আশাবাদী, দল তাঁকেই মূল্যায়ন করবে। অবশ্য তিনি দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কিছু করবেন না বলেও জানান।
শাহে আলম বলেন, আমি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে কাজ করছি। তাঁর নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছি।
এ ব্যাপারে মান্না বলেন, বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করে আসছি। ধানের শীষে নির্বাচনও করেছি। বগুড়া-২ আসনে জোটবদ্ধ হয়ে সামনের নির্বাচন করতে চাই।
নুরের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী করার তোড়জোড়
পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা ও দশমিনা) আসন ফাঁকা রেখেছে বিএনপি। ধারণা করা হচ্ছে এখানে জোটের প্রার্থী হবেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। বিএনপির হাইকমান্ড ছাড় দিলেও স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাঁকে মানতে নারাজ। বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য হাসান মামুনকে ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ করে হলেও নুরুকে ঠেকানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা দফায় দফায় সভা করেন।
গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাত্তার হাওলাদার বলেন, আমরা ১৭ বছর এলাকায় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে লড়েছি। গণঅধিকার পরিষদ কার্যক্রম শুরু করেছে গত বছরের ৫ আগস্টের পর। নুরকে বিএনপি সমর্থন দিলে, তাঁর মার্কা হবে ট্রাক। আমরা ধানের শীষের বাইরে যাব না।
নুরুর নির্বাচন সমন্বয়কারী ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আবু নাইম বলেন, হাসান মামুন দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যাবেন না বলে আমরা বিশ্বাস করি। তবে গণঅধিকার পরিষদেরও এককভাবে জয়ের সাংগঠনিক শক্তি রয়েছে।
হাসান মামুনের বক্তব্য জানতে পারেনি সমকাল। নুর বলেছেন, সমঝোতার পর বিএনপির দায়িত্ব হলো নিজেদের কোনো প্রার্থী থাকলে তাঁকে বিরত রাখা। তা না হলে জোট কেন?
ভোলা-১ (সদর) আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জেলা সভাপতি গোলাম নবী আলমগীরের নাম ঘোষণা করেছে।
বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এ আসনটি পেতে মরিয়া ছিলেন। এ নিয়ে গত কয়েক মাসে দুই পক্ষের মধ্যে ছোটখাটো ঘটনা ঘটলেও গত শনিবার রক্তাক্ত সংঘর্ষ হয়। এতে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। পরে উপজেলা বিএনপির কমিটি বাতিল করে কেন্দ্র।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক বলেন, পার্থকে ঢাকা-১৭ আসন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তার পরও তাঁর লোকজন কয়েক মাস এলাকায় নানা তৎপরতা চালায়, যা তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মেনে নিতে পারেননি।
জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক মোন্তাসির বিল্লাহ বলেন, পার্থ ঢাকা-১৭ আসনের পাশাপাশি নিজ জেলা ভোলায় নিজে কিংবা দলের অন্য কাউকে প্রার্থী করতে চান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অন্য কাউকে মানবে না তৃণমূল
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগর একাংশ) ও ৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী দেয়নি বিএনপি। ধারণা করা হচ্ছে, আসন দুটি শরিকদের জন্য ছেড়ে দেবে দলটি। এ নিয়ে তৃণমূলে হতাশা দেখা দিয়েছে। তারা ধানের শীষের প্রার্থী ছাড়া কাউকে মানবে না বলে জানিয়েছে।
সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সহসম্পাদক রুমিন ফারহানা ছাড়া অন্য কাউকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে মনোনয়ন দিলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁর অনুসারীরা।
সরাইল উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিছুল ইসলাম ঠাকুর বলেছেন, এখানে রুমিন ফারহানার ব্যাপক জনপ্রিয়তা আছে। জোটের শরিক কাউকে (মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবী) মনোনয়ন দেওয়ার পর রুমিন ফারহানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে জোটের প্রার্থী জামানত হারাবেন। এখানে ৭০ শতাংশ দলীয় নেতাকর্মী রুমিন ফারহানার পক্ষে থাকবেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে রুমিন ফারহানার এক অনুসারী বলেন, এখানে তাঁকে (রুমিন ফারহানা) ছাড়া অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলে আমরা প্রথমে আন্দোলন করব। প্রয়োজন হলে অন্য চিন্তা করব।
রুমিন ফারহানা বলেন, আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের জনগণের সঙ্গে ছিলাম, এখনও আছি। ২০১৭ সাল থেকে এলাকার মানুষের পাশে রয়েছি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এ বিষয়ে ভালো জানেন, তিনিই সিদ্ধান্ত নেবেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, এখানে আমার নাম ঘোষণা না হওয়ায় শত শত অনুসারী কান্নাকাটি করছেন। বিষয়টি নিয়ে এখনও ভাবিনি। পরে প্রতিক্রিয়া জানাব।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে শরিক গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি প্রার্থী হচ্ছেন, এটি প্রায় নিশ্চিত। তবে আগে থেকেই সাকির বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি করেছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।
তারা সাবেক এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম এ খালেক এবং বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, ধানের শীষ বিএনপি নেতাদের হাতেই থাকুক। তবে দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতিও তারা শ্রদ্ধাশীল থাকবেন জানিয়েছেন।
বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী মেহেদী হাসান পলাশ বলেন, নেতাকর্মীরা হতাশ। তবে দল যে সিদ্ধান্ত নেবে তা-ই হবে। আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী এম এ খালেক বলেন, আমি এ আসনের সাবেক এমপি। ২০০৮ ও ২০১৮ সালে দল থেকে নির্বাচন করেছি। আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলাম। এখন দল যা সিদ্ধান্ত দেবে, তা মেনে নেব।
(প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়েছে বরিশাল ও বগুড়া ব্যুরো এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি)
ড্রাইভিং কোর্সের ন্যূনতম বয়স বাড়ানোয় বিপাকে তরুণরা
ড্রাইভিং কোর্সের ন্যূনতম বয়স বাড়ানোয় বিপাকে তরুণরা
Summary: নারায়ণগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ড্রাইভিং শিখতে আগে বয়সসীমা ছিল ১৮ থেকে ৪৫ বছর। এ বছর তা করা হয়েছে ২১ থেকে ৪৫ বছর। ফলে সদ্য এইচএসসি পাস শিক্ষার্থীরা ড্রাইভিং শিখতে ভর্তি হতে পারছেন না। অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জ বিআরটিসিতে ড্রাইভিং কোর্স থাকলেও এজন্য গুনতে হয় মোটা অঙ্কের ফি। শিক্ষিত তরুণ-যুবকদের গাড়ি চালানো শেখা সহজ করতে নারায়ণগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ড্রাইভিংয়ের বয়স কমানো ও বিআরটিসিতে বিনামূল্যে ড্রাইভিং ও অটোমোবাইল কোর্স চালুর দাবি জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের বিশিষ্টজন।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার জালকুড়িতে নারায়ণগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র অবস্থিত। এখানে কথা হলো নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার চুনাভুরা থেকে আসা রায়হানুল ইসলামের সঙ্গে। বন্দরের একটি কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পাস করেছেন তিনি। তাঁর বাবা একটি এনজিওতে চাকরি করেন। মা-বাবার ইচ্ছা ছেলেকে ড্রাইভিং ও অটোমোবাইল শেখানো। কারণ, দেশ ও বিদেশ–দুই জায়গাতেই এই দুটি কাজের চাহিদা রয়েছে। ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেখে নারায়ণগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ড্রাইভিং শিখতে ভর্তি হতে গিয়ে বিপাকে পড়েন রায়হানুল। আগে ড্রাইভিং কোর্সে ভর্তির ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর থাকলেও এ বছর সেটি বাড়িয়ে ২১ বছর করা হয়েছে। এইচএসসি পাস করা ছাত্রদের অধিকাংশেরই এ বয়স হয়নি। একমাত্র নারায়ণগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রেই বিনা ফিতে ড্রাইভিং শেখানো হয়। উল্টো একটি খরচ সরকারের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণার্থীদের দেওয়া হয়। বয়সের সমস্যার কারণে রায়হানুল এখানে এই কোর্স করতে পারছেন না।
একই রকম তথ্য জানালেন নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করা আফনান আহমেদ ও তাপস সাহা। তারা ফতুল্লা থেকে এসেছেন। তারা বললেন, সরকারিভাবে এই কেন্দ্র ছাড়া আর ড্রাইভিং কোর্স চালু আছে বিআরটিসিতে। বিআরটিসির নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুরে অবস্থিত ট্রেনিং সেন্টারে ড্রাইভিং শেখানো হয়। সেখানে কোর্স ফি আট হাজার টাকা।
আফনান আহমেদ আরেকটি প্রসঙ্গ টানলেন। যারা বিদেশে ড্রাইভিংয়ের কাজে যাবেন তাদের একই সঙ্গে অটোমোবাইল কোর্স জানা থাকলে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। আগে নারায়ণগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ড্রাইভিং ও অটোমোবাইল কোর্স দুটিই শেখানো হলেও এখন শুধু ড্রাইভিং শেখানো হয়। এখানে ড্রাইভিংয়ের বয়স কমানোর পাশাপাশি অটোমোবাইল কোর্সটিও ফের চালু করার উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট এ বি সিদ্দিক বলেন, এবার এইচএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট ২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ হয়েছে। প্রায় ৪১ ভাগ ছাত্র ফেল করেছে। এই ছাত্রের বেশির ভাগ হয়তো আর পড়াশোনায় ফিরে যাবে না। তারা কোনো কাজে ঢুকবে। আবার পাস করা ছাত্রদের একটা বড় অংশও অনার্সে ভর্তি হবে না। তারাও কোনো কাজে ঢুকবে। কাজে ঢোকার আগে তাদের কোনো না কোনো ট্রেড শেখা প্রয়োজন। এটি দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রেও কাজে লাগবে। তাই সরকারের উচিত কারিগরি প্রশিক্ষণের জায়গাগুলো এসব ছাত্রের জন্য সহজ করে দেওয়া। সেখানে নারায়ণগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ড্রাইভিংয়ে ভর্তির বয়স বাড়িয়ে দিয়ে উল্টো পথে হাঁটছে।
নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি জিয়াউল ইসলাম কাজল বলেন, সরকারের এসেট প্রকল্পের আওতায় নারায়ণগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিনামূল্যে ড্রাইভিং শেখানো হয়। জালকুড়ি নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে বেশ দূরে। শহরেও এ প্রকল্প চালু করা প্রয়োজন। পাশাপাশি এর আসন সংখ্যাও বাড়ানো প্রয়োজন।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, বিআরটিএ’র প্রফেশনাল ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে বয়স কমপক্ষে ২১ হতে হবে। তাই ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের ন্যূনতম বয়সও বাড়ানো হয়েছে। এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের এ কোর্স করতে অপেক্ষা করতে হবে। শিক্ষক সংকটের কারণে এ কেন্দ্রে অটোমোবাইল কোর্স বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
অধ্যক্ষ বলেন, ‘আমাদের এখানে ড্রাইভিংয়ের কোর্সে ২৪ জন ভর্তির সুযোগ আছে। প্রতিবার ভর্তির ফরম কেনে প্রায় তিনশজন। তাদের মধ্য থেকে লটারি করে আমরা ভর্তি করি। ড্রাইভিংয়ের আসন সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, তারাই সিদ্ধান্ত নেবেন।’
তবে অধ্যক্ষের তথ্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে নারায়ণগঞ্জের পুলিশের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আব্দুল করিম জানান, ১৮ বছর হলে এবং ড্রাইভিং জানা থাকলে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা যায়। তাই ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে ২১ বছর বয়স লাগে এ দাবি সত্য নয়।
এ বিষয়ে বিআরটিসির নারায়ণগঞ্জ ডিপোর ম্যানেজার আব্দুল কাদির জ্বিলানী জানান, পেশাদার চালকের লাইসেন্সের ক্ষেত্রে ২১ বছর বয়স লাগে। আর অপেশাদার বা ব্যক্তিগত ড্রাইভিংয়ের ক্ষেত্রে ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর। হয়তো টিটিসি এ কারণে ২১ বছর ন্যূনতম বয়স নির্ধারণ করেছে। এটা তারাই ভালো বলতে পারবে।
তিনি আরও জানান, বিআরটিসির দেশের বিভিন্ন স্থানে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা
আছে। নারায়ণগঞ্জেও বিশ্বব্যাংকের একটি প্রকল্প ডিসেম্বরে অথবা আগামী বছরের শুরুতে চালুর সম্ভাবনা আছে।
পাঁচ আদিবাসী পরিবার উচ্ছেদের প্রতিবাদ
পাঁচ আদিবাসী পরিবার উচ্ছেদের প্রতিবাদ
Summary: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বাবুডাইং এলাকার আদিবাসী কোল সম্প্রদায়ের পাঁচটি পরিবারকে উচ্ছেদের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি গণেশ মার্ডি। বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বিমল চন্দ্র রাজোয়াড়, সহসভাপতি রাজকুমার শাও, প্রেসিডিয়াম সদস্য ক্রিষ্টিনা বিশ্বাস, সহসংগঠনিক সম্পাদক রূপচাঁদ এক্কা, বরেন্দ্র উন্নয়ন প্রচেষ্টার পরিচালক ফয়জুল্লাহ্ চৌধুরী, হাবিবুর রহমান হাসিবুল, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব জামাল কাদেরী, আদিবাসী পরিষদের সদস্য আন্দ্রিয়াস বিশ্বাস, মেরিনা হাঁসদা, মুকুল বিশ্বাস, ছোটন সরদার প্রমুখ।
আদিবাসী পরিষদের নেতা গণেশ মার্ডি বলেন, আদালতের একতরফা রায়ের ভিত্তিতে আদিবাসী পরিবারগুলোকে উচ্ছেদ করা হয়েছে।
আদালতের কোনো নোটিশ ছাড়াই প্রশাসন অতিউৎসাহী হয়ে তাদের ঘরবাড়ি ভেঙে দেয়। খাট, চেয়ার, টেবিলসহ কোনো আসবাব বের করতে পারেননি ভুক্তভোগীরা। ঘরবাড়ি হারিয়ে বাঁশঝাড়ের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
বরেন্দ্র উন্নয়ন প্রচেষ্টার পরিচালক ফয়জুল্লাহ্ চৌধুরী বলেন, জমিগুলো কোল সম্প্রদায়ের মানুষেরই। প্রকৃত মালিককে হিন্দু দেখিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করে নেওয়া হয়েছে।
জমির রেজিস্ট্রির এ প্রক্রিয়া সঠিক নয়। অবিলম্বে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, জমির মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
গোদাগাড়ী উপজেলার বাবুডাইং গ্রামে ২৭ অক্টোবর আদালতের উচ্ছেদ আদেশে আদালতের প্রতিনিধি ও থানা-পুলিশের উপস্থিতিতে কোল জনগোষ্ঠীর পাঁচটি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। পরিবারগুলোর সদস্য সংখ্যা ১৫ থেকে ২০। উচ্ছেদের পর থেকে তারা একটি বাঁশঝাড়ের নিচে রাতযাপন করেছেন।
শত বছরের পুরোনো মাঠ বাজার-স্থাপনায় দখল
শত বছরের পুরোনো মাঠ বাজার-স্থাপনায় দখল
Summary: খেলার মাঠ দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন স্থাপনা। ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, ভূমি অফিস, ক্লাব ও দোকানপাট নির্মাণে মাঠটি ক্রমেই ছোট হয়ে পড়ছে। মাঠের অবশিষ্ট জায়গায় এখন আবার বসানো হচ্ছে সাপ্তাহিক গরুর হাট। প্রতিদিন
বসছে মাছ ও কাঁচাবাজার। এতে নষ্ট হচ্ছে খেলার মাঠটি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এমন অবস্থা দেখা গেছে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কাকরকান্দি ইউনিয়নের কাকরকান্দি খেলার মাঠে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় শতবছর আগে এলাকার আদিবাসী পরদ চন্দ্র দিও জনসাধারণের খেলার জন্য নিজের কাকরকান্দি মৌজার ২০৮৯ নম্বর দাগে ২ একর ৭০ শতাংশ জমি দান করেন। সেই জমিতে তৈরি হয় খেলার মাঠ। কাকরকান্দি খেলার মাঠ থেকে শুরু হয়েছিল নালিতাবাড়ীর প্রথম ফুটবল খেলা। এখানে প্রতিবছর গ্রামীণ ফুটবল ও ভলিবল প্রতিযোগিতা হতো। আশপাশের থানা ও গ্রাম থেকে দল এসে প্রতিযোগিতায় অংশ নিত। মাঠটিই ছিল তরুণদের শৈশবের আনন্দ ক্ষেত্র।
এই মাঠ ছিল স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের প্রাণের স্পন্দন। গ্রামের তরুণদের বিকেলের আড্ডা, উৎসব ও টুর্নামেন্টের প্রধান কেন্দ্র। কিন্তু আজ সেই মাঠ অস্তিত্ব হারাতে বসেছে।
স্থানীয় ফুটবল খেলোয়াড় পনির বলেন, ‘এই মাঠেই আমাদের ফুটবল শেখা। এই মাঠেই আয়োজন করা হতো বড় বড় ফুটবল টুর্নামেন্ট। মাঠের জায়গা দখল হয়ে যাওয়ায় আমরা খেলার সুযোগ হারাচ্ছি।’
জমিদাতা পরদ চন্দ্র দিওর ছেলে প্রবীণ ফুটবলার পিযুষ চন্দ্র দিও জানান, এটি শুধু একটি খেলার মাঠ নয়, এটি ইতিহাসের অংশ। তাঁর বাবা জনকল্যাণের জন্য মাঠ দিয়েছিলেন। এখন সেটি বাজারে পরিণত হয়েছে, চারপাশ দখল হয়ে গেছে– যা কষ্টদায়ক।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, গরুর হাটের জন্য জায়গা নির্ধারণ করা থাকলেও খেলার মাঠে বসানো হচ্ছে হাট। বসানো হচ্ছে মাছ ও কাঁচাবাজার। প্রায় চার বছর আগে প্রশাসনের উদ্যোগে মাঠ সংরক্ষণের জন্য সীমানা পিলার স্থাপন করা হয়েছিল, কিন্তু এখন পিলারের জায়গায় পিলার আছে, গরুর হাট, কাঁচাবাজার সবই চলছে। ফলে শিশু-কিশোররা খেলাধুলা থেকে বিমুখ হয়ে মোবাইল ফোনে আসক্ত হয়ে পড়ছে।
উপজেলা সহকারী কর্মকর্তা (ভূমি) আনিসুর রহমান জানান, ইউএনও ছুটিতে আছেন। তিনি এলে তাঁর সঙ্গে কথা বলে মাঠের বিষয়টি স্থানীয়দের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে খতিয়ে দেখা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আড়াই কোটি টাকা নিয়ে উধাও সিগারেট কোম্পানির এসআর
আড়াই কোটি টাকা নিয়ে উধাও সিগারেট কোম্পানির এসআর
Summary: নারায়ণগঞ্জের বন্দরে একটি সিগারেট কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি (এসআর) ২৫ জনের কাছ থেকে প্রায় আড়াই কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছেন। এ ব্যাপারে পুলিশ মামলা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে পাওনা টাকা আদায়ে ব্যবসায়ীরা দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
বন্দর উপজেলার ফরাজিকান্দার বাসিন্দা সামসাদুল সালাম রুপম জানান, ফরাজিকান্দা এলাকার মৃত মোহাম্মদ শফিকুর রহমানের ছেলে সাব্বির রহমান সম্রাট ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর (বিএটি) গোল্ডলিফ ব্র্যান্ডের সিগারেটের বিক্রয় প্রতিনিধি। এখানেই তিনি সপরিবারে বসবাস করতেন। গত জুন মাসে তিনি আমাকে জানান, বাজেটে সিগারেটের দাম বাড়বে। তাই আগে থেকে বর্তমান রেটে সিগারেট কিনে মজুত করে রাখলে পরে বর্ধিত দামে বিক্রি করা যাবে। সে অনুযায়ী সিগারেট কিনতে রুপম দুই লাখ ৭০ হাজার টাকা দেন সম্রাটকে।
বন্দরের ১৭ জনের কাছ থেকে সম্রাট এক কোটি ১৭ লাখ টাকা, নারায়ণগঞ্জ শহরের ৮ ব্যক্তির কাছ থেকে এক কোটি ৩৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা নেন। গত ১৫ অক্টোবর সম্রাট সপরিবারে পালিয়ে যান।
ফরাজিকান্দার পাইপ ফিটিংয়ের মিস্ত্রি শফিউল্লাহ আহমেদ মিন্টু জানান, তিনি সম্রাটকে ত্রিশ হাজার টাকা দেন। ১৬ অক্টোবর টাকা দেওয়ার কথা ছিল। এ ব্যাপারে ১৮ অক্টোবর বন্দর থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশ মামলা নিচ্ছে না বলে জানান ভুক্তভোগীরা। তবে বন্দর থানার ওসি মোহাম্মদ লিয়াকত আলী বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি জানি না। খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেব।
গোল্ডলিফ সিগারেটের নারায়ণগঞ্জের ডিস্ট্রিবিউটর জামাল অ্যান্ড কোং এর ম্যানেজার উত্তম কুমার ভৌমিক বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকেও ১৫ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়েছে সম্রাট। তার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ থানায় মামলা করেছি।
শাহজালালে ভল্ট ভাঙা, চুরি কিনা তদন্ত করছে সরকার
শাহজালালে ভল্ট ভাঙা, চুরি কিনা তদন্ত করছে সরকার
Summary: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অগ্নিকাণ্ড ও চুরির ঘটনায় তদন্ত চলছে। তদন্তের জন্য চার-পাঁচটি দেশে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দু-একটি দেশের বিশেষজ্ঞ এরই মধ্যে চলে এসেছেন। তদন্তের পর জানা যাবে চুরি হয়েছে, নাকি হয়নি। যদি চুরি হয়ে থাকে, তাহলে কার মাধ্যমে হয়েছে, কে দায়ী, তাঁকে আইনের আওতায় আনা হবে।
গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক কোর কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। কোর কমিটির সভায় আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সামাজিক মাধ্যমে উস্কানিমূলক বক্তব্য, নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকা, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার নিয়ে আলোচনা হয়।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনি, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা।
এদিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পুড়ে যাওয়া কার্গো কমপ্লেক্স থেকে সাতটি অস্ত্র চুরির ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। জিডি করা হয়েছে বিমানবন্দর থানায়। খোয়া যাওয়া অস্ত্রের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এমফোর কার্বাইন ও ব্রাজিলের টরাস পিস্তল রয়েছে। তবে সেগুলো কোন বাহিনীর তা জানা যায়নি। গত ১৮ অক্টোবর কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ আগুন লাগে। সেখানে থাকা বিভিন্ন আমদানি-রপ্তানিপণ্যের পাশাপাশি কিছু সরকারি সংস্থার মালপত্র সংরক্ষিত ছিল। পরে জানা যায়, সেখানে রক্ষিত একটি ভল্ট ভেঙে সাতটি অস্ত্র চুরি হয়েছে।
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের আইনিভাবে ফয়সালা হবে
অন্তর্বর্তী সরকারের ১৪ মাসে ৪০টির মতো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের তথ্য এসেছে, কারা এসব হত্যাকাণ্ডে জড়িত, এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী বা যেকোনো বাহিনী বা যার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ড হোক না কেন, প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে ফয়সালা করা হবে।
নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনীর বিচারিক ক্ষমতা থাকছে কিনা–এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা এখনই আছে। নির্বাচনের সময় বন্ধ হবে কেন? আমরা বন্ধ করছি নাকি? নির্বাচন আসুক, সে সময় জিজ্ঞাসা করিয়েন।
‘বডি ক্যামেরা’ কেনার অর্থ বরাদ্দে বিলম্ব
সভায় উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা সমকালকে জানিয়েছেন, বৈঠকে পুলিশের আইজি বাহারুল আলম বলেন, আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে পুলিশের জন্য প্রায় ৪০ হাজার ‘বডি ক্যামেরা’ কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এসব ‘বডি ক্যামেরা’ কেনার জন্য টাকা বরাদ্দে দেরি করছে অর্থ বিভাগ। অথচ জাতীয় নির্বাচনের আর বেশি সময় নেই। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অর্থ বরাদ্দের কাজ দ্রুত শেষ করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন।
পরিবর্তন হতে পারে পুলিশ, র্যাব ও আনসারের পোশাকের রং
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সাধারণ পুলিশ সদস্যদের দাবি ছিল, বর্তমান পোশাক পরিবর্তন করা। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার চলতি বছরের শুরুতে পুলিশ, র্যাব ও আনসার বাহিনীর পোশাক বদলরে সিদ্ধান্ত নেয়। বৈঠক সূত্রে জানা যায়, ৯ মাস পর সেই নতুন পোশাক চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য গতকাল কোর কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। তবে কোর কমিটির সদস্যরা বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে বলেছেন। পুলিশের পোশাকের রং নির্ধারণ হয়েছিল আয়রন, র্যাবের জলপাই আর আনসারের সোনালি গমের। বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনের আগে বইমেলা না করার ব্যাপারেও সভায় সুপারিশ আসে।
নির্বাচনের আগে অস্ত্র উদ্ধারের অগ্রগতি নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা চট্টগ্রামের রাউজানে ১১ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের কথা জানিয়ে বলেন, রাউজান, ফটিকছড়ি একটু কঠিন এলাকা। আগেও ছিল, এখনও আছে। এসব জায়গায় অপরাধ করে অপরাধীরা পাহাড়ে চলে যায়।
নেতাকর্মীকে অবৈধ সুবিধা দিলে ব্যবস্থা
নির্বাচনে পুলিশ যদি কোনো দলকে বিশেষ সুবিধা দেয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে–এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, কারও কোনোরকম গাফিলতি থাকলে সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে আইনের আওতায় আনা হবে। আগে জিডি করে রাখা হতো, এবার সঙ্গে সঙ্গে আইনের আওতায় আনা হবে। নির্বাচন হতে হবে উৎসবমুখর।
বিগত নির্বাচনে যেসব ওসি বিভিন্ন থানায় দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের অনেকেই এখন ঢাকা মহানগর পুলিশের বিভিন্ন থানায় ওসি। তাদের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা–এ প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমরা বলেছি ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ নির্বাচনে যারাই ছিল, তাদের অধিকাংশকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করব। আমাদেরও সীমাবদ্ধতা আছে। আমরা সবাইকে তো পারব না। প্রথম যারা তিনটা নির্বাচনে জড়িত ছিল তাদের বাদ দেব। তারপরে যারা দুটির সঙ্গে জড়িত ছিল তারা, তারপরেও যদি দেখি জনবল রয়ে গেছে, তখন একটার সঙ্গে জড়িতদের বাদ দিয়ে দেব। আমি তো নিয়োগ দিয়ে নতুন ওসি নিয়ে আসতে পারব না। তারপর দেখব, যে একটা নির্বাচনে জড়িত ছিল, তাঁর বিরুদ্ধে তেমন কোনো অভিযোগ নেই, তাঁকে তো আমাদের কাজে লাগাতে হবে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, শিগগির পুলিশ কমিশন হয়ে যাবে।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে পালিয়ে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, দেশের বাইরে যারা পালিয়ে আছেন, তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। এছাড়া দেশকে নানাভাবে বিশৃঙ্খল করার জন্য দেশে এবং দেশের বাইরে থেকেও সামাজিক মাধ্যমে উস্কানিমূলক বক্তব্য আসছে।
রোহিঙ্গা শিবিরে মাত্র ৩ শতাংশ মেয়েশিশু শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে
রোহিঙ্গা শিবিরে মাত্র ৩ শতাংশ মেয়েশিশু শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে
Summary: বাংলাদেশে অবস্থানরত মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের ৫২ শতাংশ মেয়েশিশু। অথচ তাদের মধ্যে মাত্র ৩ শতাংশ শিক্ষা লাভের সুযোগ পাচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর এক হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘জাস্টিস ফর অল’।
সংগঠনের ‘বার্মা টাস্কফোর্স’ ২০২৪ সালের নভেম্বরে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে জরিপ চালায়। পরে ডিসেম্বরে সংগঠনের সাত কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক কুতুপালং শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেন।
জরিপের ফল তুলে ধরে জাস্টিস ফর অলের প্রেসিডেন্ট ও বার্মা টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান আবদুল মালিক মুজাহিদ বলেন, বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের মতো আর কেউ রোহিঙ্গাদের প্রতি সহানুভূতি দেখায়নি। একটি সুসংহত ও স্বীকৃত শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে; যাতে রোহিঙ্গা শিশুরা বঞ্চিত না হয়।
রোহিঙ্গা শিবিরে শিক্ষার বর্তমান অবস্থা নাজুক উল্লেখ করে ‘বার্মা টাস্কফোর্স’ জানিয়েছে, ইউনিসেফ ও সেভ দ্য চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল গত জুনে জানিয়েছে, তহবিল সংকটে অনেক শিক্ষাকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। এতে প্রায় ছয় হাজার ৪০০টি কেন্দ্র ও তিন লাখ শিশুর শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ইতোমধ্যে দুই হাজার ৭৮৯ শিক্ষাকেন্দ্র বন্ধে এক লাখ ৫৯ হাজার ৪২০ শিক্ষার্থী শিক্ষার সুযোগ হারিয়েছে এবং চার হাজার ৯১৪ স্বেচ্ছাসেবক শিক্ষক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডমের চেয়ারম্যান নাদিন মানজা বলেন, রোহিঙ্গা শিবিরে শিক্ষা কেবল মানবিক কাজ নয়, এটি কৌশলগত বিনিয়োগ। শিক্ষিত প্রজন্ম শান্তি ও স্থিতিশীলতার দিকে ধাবিত করতে পারে।
রংপুরে মনোনয়ন পেয়েই প্রচারে বিএনপি প্রার্থীরা
রংপুরে মনোনয়ন পেয়েই প্রচারে বিএনপি প্রার্থীরা
Summary: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২৩৭ আসনে প্রার্থীদের নামের প্রাথমিক তালিকা ঘোষণা করেছে বিএনপি। তালিকা প্রকাশের পরেই ৩৯ বছর আগে হারানো সংসদীয় ছয়টি আসন পুনরুদ্ধারে প্রচারে নেমেছেন দলের নেতারা।
রংপুরে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা হলেন রংপুর-১ মোকাররম হোসেন সুজন, রংপুর-২ মোহাম্মদ আলী সরকার, রংপুর-৩ সামসুজ্জামান সামু, রংপুর-৪ এমদাদুল হক ভরসা, রংপুর-৫ গোলাম রব্বানী ও রংপুর-৬ সাইফুল ইসলাম।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর কেরামতিয়া জামে মসজিদে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে জোহরের নামাজ আদায় করেন রংপুর-৩ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু। পরে শাহ্ কারামত আলী (রহ.) জৌনপুরীর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে প্রচার শুরু করেন। এর পর কোর্ট চত্বর, কাচারি বাজার, সিটি বাজার ও নবাবগঞ্জ বাজার এলাকায় গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেন। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। সামসুজ্জামান সামু বলেন, এ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা উন্নয়ন করতে পারেননি। এবার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে ভোটের মাঠে নেমেছি। বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় নিশ্চিত করে পরিকল্পিত ‘সমৃদ্ধ রংপুর’ গড়তে চাই। রংপুরের উন্নয়নে ১৯টি প্রস্তাবনা তুলে ধরেছি। সবার সাড়া পাচ্ছি।
এ আসনে বিএনপির এই প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল, বাংলাদেশ ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের (চরমোনাই) রংপুর মহানগরের সাধারণ সম্পাদক আমিরুজ্জামান পিয়াল। আলোচনায় রয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মহানগর কমিটির যুগ্ম সমন্বয়ক আলমগীর হোসেন নয়ন।
রংপুর-৬ আসনে (পীরগঞ্জ) দল মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বাবনপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে প্রচার শুরু করেন। এ সময় শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
বিএনপির প্রার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল। গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন। মানুষ ভোট প্রদানের সুযোগ পেলে ধানের শীষের জয় সুনিশ্চিত।
রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া ও সিটি করপোরেশনের আংশিক) আসনের মনোনীত প্রার্থী মোকাররম হোসেন সুজনও গণসংযোগ শুরু করেছেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭৯ সালে এই আসনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মশিউর রহমান যাদু মিয়া এমপি নির্বাচিত হন। তাঁর মৃত্যুর পর ছেলে শফিকুল গণি স্বপন সংসদ সদস্য হন। এরপর চার দশক আসনটি জাতীয় পার্টির দখলে থাকে।
মোকাররম হোসেন সুজন বলেন, ‘বিএনপি স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী ও সুসংগঠিত। ষড়যন্ত্র ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপির বিজয় শতভাগ নিশ্চিত।’
প্রার্থিতা ঘোষণার পর একইভাবে রংপুর-২, রংপুর-৪ ও রংপুর-৫ আসনের প্রার্থীরাও নতুন উদ্যোমে মাঠে প্রচারণায় নেমেছেন।
ধর্ষণের ঘটনার ৬ দিন পর মামলা নিল পুলিশ
ধর্ষণের ঘটনার ৬ দিন পর মামলা নিল পুলিশ
Summary: সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ধর্ষণের ঘটনার ছয় দিন পর মামলা নিয়েছে পুলিশ। এর আগে ভুক্তভোগী পরিবারকে অপহরণ মামলা করা হবে– এমন ভয় দেখিয়ে মীমাংসা করে নিতে বলা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে সোমবার রাতে মামলাটি গ্রহণ করা হয়। এ অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী।
বাদীর অভিযোগ, গুনগাতী গ্রামের বায়েজীদ আকন্দ দীর্ঘদিন ধরে শিশুটিকে ধর্ষণ করে আসছিল। ভয়ে শিশুটি কাউকে জানায়নি। গত ২৮ অক্টোবর বায়েজীদ আবার বাড়ি এসে তাকে ধর্ষণ করে। বিষয়টি দেখে ফেলেন স্বজনরা। এর পর তাকে আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। বায়েজিদের পরিবার জানতে পেরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দেয়। জানায়, বায়েজিদকে অপহরণ করা হয়েছে। খবর পেয়ে থানার এসআই আব্দুল মতিন এসে বায়েজীদকে নিয়ে যান। যাওয়ার সময় ওসি সাহেবের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় গিয়ে দেখেন, বায়েজীদ নেই। বিষয়টি জানাজানি হলে গণমাধ্যমকর্মীদের তৎপরতায় ছয় দিন পর সোমবার পুলিশ মামলা রেকর্ড করে।
মামলার বাদী বলেন, আমরা থানায় গিয়ে দেখি, বায়েজীদ নেই। কথা হয় ওসি মাসুদ রানার সঙ্গে। তিনি অপহরণ মামলার ভয় দেখিয়ে বলেন, ‘মেয়েটি একেবারেই শিশু। কীসের ধর্ষণ? আপনারা অবৈধভাবে ছেলেকে অপহরণ করে বাড়িতে আটকে রেখেছেন। কম করে হলে প্রত্যেকের ১৪ বছর জেল হবে। অপহরণ মামলা থেকে বাঁচতে চাইলে দ্রুত মীমাংসা করেন। নতুবা পস্তাবেন।’
থানার এসআই আব্দুল মতিন বলেন, ছেলেটির পরিবার থেকে জানানো হয় তাকে অপহরণ করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গিয়ে দেরি হয়েছে। সোমবার মামলা হয়েছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম মাসুদ রানা বলেন, ২৮ অক্টোবর রাতে ট্রিপল নাইনে ফোন দিয়ে বায়েজীদকে অপহরণ করা হয়েছে বলে তার পরিবার জানায়। পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। বায়েজীদের পরিবার অপহরণ মামলা করে। পরে ৩০ অক্টোবর শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়। এর আগে তারা নানা ধরনের অভিযোগ করে। যার সত্যতা পাওয়া যায়নি। মামলা নিতে গড়িমসির অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, থানা মামলা রেকর্ডের জায়গা। অভিযোগ সত্য, না মিথ্যা– তা তদন্তে ধরা পড়বে। এখানে কাউকে ভয় দেখানোর সুযোগ নেই। শিশুটির মা আছেন। এর পরও অন্য একজন মামলা করেছেন। তাই মামলা নিতে কিছুটা দেরি হয়েছে। আসামিকে ধরার চেষ্টা চলছে।
রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম বলেন, এজাহারে অসংগতি ও বাদীর সঙ্গে যোগাযোগ না হওয়ার কারণে মামলা নিতে অনেক সময় দেরি হয়। মামলাটি রেকর্ড হয়েছে। এক্ষেত্রে পুলিশের দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে, ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার দুপুরে শিশুটিকে সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ টি এম নুরুজ্জামান জানান, শিশুটির প্রাথমিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। সে সুস্থ হলেও ট্রমার মধ্যে আছে বলে জানান তিনি।
২০ হাজার মানুষের আক্ষেপ আশ্বাসের ফাইলবন্দি সেতু
২০ হাজার মানুষের আক্ষেপ আশ্বাসের ফাইলবন্দি সেতু
Summary: বিগত ১৭ বছর শুনেছেন উন্নয়নের ফিরিস্তি। নির্বাচন এলে নেতাদের জনদুর্ভোগ দূর করার প্রতিশ্রুতি আর সরকারি দপ্তরের আশ্বাস। এর ভিড়ে বার বার হারিয়ে যায় বিয়ানীবাজার উপজেলার বরুরদল নদীর ওপর ২০ হাজার বাসিন্দার প্রত্যাশিত সেতুটির কথা।
ক্ষোভ নিয়ে কথাগুলো জানালেন বিয়ানীবাজার উপজেলার বিবিরাই গ্রামের কয়েক তরুণ বাসিন্দা। তারা বলেন, উপজেলার এই অংশের বাসিন্দারা প্রান্তিক কৃষি ও নানামুখী বাণিজ্যিক কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙা রেখেছেন বহু কষ্টে। এই সমস্যা ও এর সমাধানের মাঝে একটি সেতুর দূরত্ব শুধু। বহুবার বিভিন্ন পর্যায় থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকেও মিলছে আশ্বাস। তবে বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেই। সেটি যেন এই আশ্বাস আর প্রতিশ্রুতির ভারে চাপা পড়েছে।
উপজেলার বরুরদল নদীর দুই পারে রয়েছে বিস্তৃত জনবসতি। এর মাঝে তিলপাড়া ইউনিয়নের বিবিরাই, বিলবাড়ি ও কালাইন এবং পার্শ্ববর্তী গোলাপগঞ্জ উপজেলার একাংশসহ অন্তত ১০টি গ্রামের ২০ হাজার মানুষ দীর্ঘ দিন ধরে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে; যার সমাধান হতে পারে ওই বরুরদল নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের মাধ্যমে।
স্থানীয়রা বলছেন, একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোর ওপর ২০ হাজার মানুষের নিত্য জীবনের পথচলা নির্ভর করছে। যেকোনো সময় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। শিশু শিক্ষার্থীরা এই সাঁকো ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। ব্যবসায়ী ও কৃষকরা পণ্য নিয়ে নদী পারাপারে সময় ও অর্থ দুটোই বেশি ব্যয় করছেন।
প্রান্তিক কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বলেন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় উপজেলার ওই অংশ অন্তত ১০টি গ্রামের কৃষক উৎপাদিত পণ্য সরবরাহের ব্যাপ্তি বাড়াতে পারছেন না। স্থানীয় ছোট ও পাইকারি পণ্যের ব্যবসায়ীরা পণ্য পরিবহন ও সরবরাহে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন; যা সার্বিকভাবে তাদের অগ্রগতিকে পিছু টেনে ধরেছে। সেতুর অভাবে সড়ক যোগাযোগ গড়ে না ওঠায় উন্নয়নবঞ্চিত রয়েছে এসব এলাকা।
বিয়ানীবাজার উপজেলার সীমান্তঘেঁষা বরুরদল নদী এলাকায় গিয়ে জানা যায়, ওই অংশে গ্রামবাসী নিজ উদ্যোগে যাতায়াতের জন্য বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছেন। এ সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ পারাপার করেন। বিশেষ করে মহিলা ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েন। সাঁকো পারাপারে প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা।
তাছাড়া জেলা শহর সিলেট যাওয়ার অন্যতম সহজ মাধ্যম হওয়ায় এই সড়ক দিয়ে সাধারণ মানুষের যাতায়াত বেশি। বর্ষা মৌসুমে নিমেষেই নদীসহ আশপাশের এলাকা তলিয়ে যাওয়ার কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। গত ৫৪ বছরে এসব এলাকায় উন্নয়নে ছোঁয়া লাগলেও বিবিরাই, বিলবাড়ি, কালাইন গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী গোলাপগঞ্জ এলাকার বেশ কিছু অংশ অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে আছে।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে এখানে একটি সেতু নির্মাণ করা। বিবিরাই গ্রামের বাসিন্দা দুবাই প্রবাসী আলিম উদ্দিন বলেন, এখানে একটি সেতু নির্মাণ হলে এ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কমবে এবং ভাগ্য বদলে যাবে। একই এলাকার এবাদ আহমদ বলেন, গ্রামের মুরব্বিদের সঙ্গে নিয়ে বিগত বছরগুলোতে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, সাবেক এমপি সৈয়দ মকবুল হোসেন লেচু ও শফর উদ্দিন খসরুর কাছে সেতু নির্মাণের দাবিতে স্মারক দেওয়া হয়েছে দফায় দফায়। প্রত্যেকে আশ্বাস দিয়েছেন, সেতু দেননি কেউ।
তিলপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর হরমান বলেন, বরুরদল নদীর ওপর সেতু হলে যোগাযোগসহ এলাকার সর্বস্তরের মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারিত হবে। একই সঙ্গে মুমূর্ষু রোগীদের উপজেলা সদরে নিতে ব্যাপক ঝুঁকি নিতে হয়। গত পয়ত্রিশ বছরে নির্বাচিত তিনজন সংসদ সদস্যের কেউ একটা সেতু এই এলাকার মানুষকে দিতে পারেননি।
এদিকে সেতু নির্মাণের জন্য বিগত বছরগুলোতে উপজেলার মাসিক সমন্বয় সভায় বার বার দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এই ২০ হাজার মানুষের ভোট মনে হয় কেউ চান না।
উপজেলা প্রকৌশীল দীপক কুমার দাস বলেন, বরুরদল নদীতে প্রায় ৪০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মিত হলে দুই উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ উপকৃত হবে। এই এলাকার জনবল উন্নয়নে নদীর ওপর সেতু জরুরি। এরই মধ্যে এখানে সেতু নির্মাণের জন্য স্থানীয়রা দাবি জানিয়েছেন। একশ মিটার সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় এখানে সেতু নির্মাণ করার প্রাথমিক প্রস্তাবনা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে শিগগিরই।
৩০ বছর পর দলীয় প্রার্থী উচ্ছ্বসিত তৃণমূল নেতারা
৩০ বছর পর দলীয় প্রার্থী উচ্ছ্বসিত তৃণমূল নেতারা
Summary: প্রায় ৩০ বছর পর দলীয় প্রার্থীকে ঘিরে নির্বাচনী প্রস্তুতির সুযোগ পেয়েছেন জগন্নাথপুর বিএনপির নেতাকর্মীরা। সুনামগঞ্জ-৩ আসনের আওতাধীন এই উপজেলায় শুরু হয়েছে নির্বাচনী প্রচারের প্রস্তুতি।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে ধানের শীষের প্রতিনিধিত্ব করবেন দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদ। এর আগে একাধিক নির্বাচনে জোট শরিকদের এই আসনটি ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। অবশেষে আসন্ন নির্বাচনের জন্য দলীয় প্রার্থী পেল স্থানীয় বিএনপি।
গত সোমবার কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাচনী বোর্ড সুনামগঞ্জ-৩ আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে কয়ছর এম আহমদের নাম ঘোষণা করার পর পরই এলাকাজুড়ে উচ্ছ্বাসে মাতেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। তবে দলের মনোনয়ন না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন অনেকে।
দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-৩ আসনে সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রার্থীতে নির্বাচন করেছিল। সেবার প্রার্থী ছিলেন জয়নুল জাকেরীন। এর পর ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা শাহিনুর পাশা চৌধুরী এখান থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছেন। তার মধ্যে ২০০৫ সালে আব্দুস সামাদ আজাদের মৃত্যুর পর শূন্য আসনে চার দলীয় জোট প্রার্থী হিসেবে মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী স্বতন্ত্র বিজয়ী হয়েছিলেন।
২০১৪ ও ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের সরকারের একতরফা নির্বাচন আয়োজন বয়কট করে বিএনপি। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারে পতনের পর আওয়ামী দুর্গ হিসেবে খ্যাত এই আসন দখল নিয়ে বিএনপি, জামায়াতসহ গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলো সরব হয়ে ওঠে।
সোমবার বিএনপির প্রার্থিতা ঘোষণার পর সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী এলাকার উপজেলা বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। এ সময় দলের একাংশের নেতাকর্মীরা ছিলেন একেবারে নীরব।
উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল হাসিম ডালিম বলেন, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এই আসন থেকে দলীয় প্রার্থী নিয়ে নির্বাচন করার। আসন্ন নির্বাচনে সে সুযোগ আসছে এবং ভূমিধস জয় দিয়ে তারেক রহমানসহ দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।
জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু হোরায়রা ছাদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিল না। এতে দল নিরুত্তাপ ছিল। শরিক দলের কারণে আসনটি বার বার ছেড়ে দিতে হয়েছে। এবার নির্বাচন উদযাপন করবে জগন্নাথপুর।
সুনামগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কয়ছর এম আহমদ বলেন, দল তাঁকে মনোনয়ন দেয়নি এই আসনের প্রতিটি যোগ্য মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে। তিনি শুধু তাদের প্রতিনিধি। এই আসনে ঐক্যবদ্ধ বিএনপি কতটা শক্তিশালী, সেই বার্তাই তিনি দিতে চান। সে জন্য দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাকে প্রতিনিধি করে সুনামগঞ্জ-৩ আসনে তারেক রহমান মনোনয়ন দিয়েছেন দলের প্রতিটি নেতাকর্মীকে। এই মূল্যায়ন তৃণমূল থেকে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের। আমি শুধু তাদের প্রতিনিধি। ঐক্যবদ্ধ বিএনপি ভোটের মাঠে প্রতিপক্ষকে ধসিয়ে দিয়ে জানান দেব, ফ্যাসিবাদের দিন শেষ, ৩১ এর বাংলাদেশ।’
এ সময় তিনি দলের সবাইকে একসঙ্গে দল ও ধানের শীষের জন্য মাঠে নামার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিএনপির প্রতিটি সদস্য অভিন্ন।
সম্প্রীতির উৎসব মণিপুরিদের মহারাসলীলা আজ
সম্প্রীতির উৎসব মণিপুরিদের মহারাসলীলা আজ
Summary: বর্ণাঢ্য আয়োজন আর বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে মণিপুরি সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রীশ্রী কৃষ্ণের মহারাসলীলা।
সকাল থেকে মণিপুরি অধ্যুষিত জনপদ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ও আদমপুরে এ উৎসব উদযাপনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে গতকাল রাতেই। মূলত তখন থেকেই অনানুষ্ঠানিকভাবে এর উদযাপন শুরু হয়ে গেছে।
কমলগঞ্জের মাধবপুর শিব বাজারের জোড়ামণ্ডপ এলাকায় এবারও রাখালনৃত্য ও রাতে রাসনৃত্য উৎসবের আয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি আদমপুরে মৈতৈই মণিপুরি সম্প্রদায় মণিপুরি কালচারাল কমপ্লেক্সে পৃথক উৎসব উদযাপন করা হবে।
বৃহস্পতিবার ভোরে শেষ হবে শ্রীকৃষ্ণের মহারাসলীলা। উৎসব উপলক্ষে উভয় স্থানে মেলা বসেছে। জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মৌলভীবাজারে জেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ এই উৎসব উপভোগ করতে ছুটে এসেছেন কমলগঞ্জে। হাজার হাজার ভক্তসহ পর্যটকদের ভিড়ও বাড়ছে উৎসব ঘিরে।
বৃহত্তর সিলেটের আদিবাসী মণিপুরি সম্প্রদায়ের বৃহত্তম ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী মণিপুরি মহারাসলীলা উপজেলার মাধবপুর শিববাজার জোড়ামণ্ডপে মণিপুরি মহারাসলীলা সেবা সংঘের আয়োজনে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি সম্প্রদায়ের ১৮৩তম এবং আদমপুর মণিপুরি কালচারাল কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে মৈতৈ মণিপুরি সম্প্রদায়ের ৪০তম মহারাস উৎসব হবে এবার। এ উপলক্ষে উভয় জায়গায় বসবে বিরাট মেলা। রাসলীলা উপলক্ষে ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
কমলগঞ্জের মণিপুরি অধ্যুষিত গ্রাম ও পাড়াগুলোতে বইছে উৎসবের হাওয়া। আজ বুধবার দুপুরে উভয় স্থানে গোষ্ঠলীলা বা রাখালনৃত্য এবং রাতে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা, গুণীজন সংবর্ধনা ও রাসনৃত্য।
এ ছাড়া মণিপুরি রাসোৎসব উপলক্ষে আজ বুধবার বিকেল ৫টা ও সন্ধ্যা ৬টায় মণিপুরি ললিতকলা একাডেমি মিলনায়তনে মণিপুরি থিয়েটারের আয়োজনে নুংশিপি চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
রাতভর খামারে দুর্বৃত্তের তাণ্ডব কর্মচারী আহত, ক্ষতি ২৫ লাখ
রাতভর খামারে দুর্বৃত্তের তাণ্ডব কর্মচারী আহত, ক্ষতি ২৫ লাখ
Summary: হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাটিয়াজুরী ইউনিয়নে জমি দখলকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রতিপক্ষের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অপর পক্ষের মুরগির খামার। আহত হয়েছেন দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তি।
হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় বাসিন্দা ছিদ্দিক আলী জানান, শেখপাড়া গ্রামে তাঁর মুরগির খামারে সোমবার রাতে হামলা চালানো হয়। তাঁর সঙ্গে বাসুদেবপুর এলাকার একটি জমি নিয়ে এলাকার কয়েকজনের দ্বন্দ্ব চলমান। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনার রাতে স্থানীয় এংরাজ মিয়া, নিজাম উদ্দিন, আক্তার মিয়া, ইছাক আলী, সোহাগ মিয়া, আফরোজ মিয়া, হারুন মিয়া, ফরিদ মিয়া, চেরাগ আলী, আরমান মিয়া, তালহা মিয়াসহ আরও কয়েকজন এই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সোমবার রাতে কাইছনাজুরি এলাকায় এসে প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা চালায়। এ সময় খামারের কর্মচারী আব্দুল আহাদ গুরুতর আহত হন। খামারের পাশাপাশি পাশের একটি বাড়িতেও হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে।
এদিকে এই হামলার ঘটনায় মঙ্গলবার চুনারুঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন খামার মালিক ছিদ্দিক। হামলাকারীরা তাঁর ফার্মে ভাঙচুর চালিয়েছে। এতে পোলট্রির সরঞ্জাম, ঘরের টিন, দরজা-জানালা ও ফলদ গাছসহ বহু সম্পদ নষ্ট হয়। ঘটনার পর ৯৯৯-এ ফোন করা হলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিদর্শন করে।
চুনারুঘাট থানার ওসি মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে বক্তব্য বা জবানবন্দি নেওয়ার জন্য তাদের বাড়িতে গেলে সেখানে উপস্থিত ছিলেন না তারা।
অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে চলছে ৪৯ ইটভাটা
অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে চলছে ৪৯ ইটভাটা
Summary: রামগতিতে পরিবেশ ছাড়পত্র না থাকা সত্ত্বেও ৪৯টি ইটভাটায় অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তারা অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এসব ইটভাটায় বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছেন। এ কারণে আদালতের নির্দেশনা সত্ত্বেও পরিবেশ দূষণকারী এসব ইটভাটার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পদক্ষেপ নিচ্ছেন না তারা।
লক্ষ্মীপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হারুন অর রশিদ বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৫১টি ইটভাটার মধ্যে বনলতা ও সরকার ব্রিকস নামে দুটি ইটভাটা পরিবেশ ছাড়পত্র নিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী শুধু তারাই বিদ্যুৎ সংযোগ পাবে। বাকি ৪৯টির জন্য কোনো ছাড়পত্র নেওয়া হয়নি। তাই বিদ্যুৎ সংযোগ পাবে না। বিদ্যুৎ বিভাগকে বিষয়টি জানানো হবে। অবৈধ ভাটাগুলো বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুতই হাইকোর্টের সুস্পষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী সব অবৈধ ইটভাটা বন্ধ রাখার আদেশ অনতিবিলম্বে কার্যকর করা হবে।
সরেজমিন দেখা যায়, অবৈধ ইটভাটাগুলো ইট উৎপাদনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কোনো কোনো ভাটায় কাঁচা ইট প্রস্তুত শেষ পর্যায়ে, এখন শুধু আগুন জ্বালানো বাকি। এসব ভাটায় কাজ করছেন শত শত শ্রমিক। ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। ভাটাগুলোতে অনেক শিশুকেও কাজ করতে দেখা গেছে। ভাটাগুলো আশপাশের ফসলি জমির ফসল ও বিভিন্ন রবিশস্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইট তৈরিতে ব্যবহৃত মাটির পুরোটাই আসছে ফসলি জমি থেকে।
চর রমিজ ইউনিয়নের চর আফজল গ্রামের মিলন মিয়া জানান, ভাটার পাশেই স্কুল, সড়ক, বসতবাড়ি, কৃষিজমি, হাটবাজার ও গাছপালার বাগান। কিছু দিনের মধ্যে শুরু হবে ইট উৎপাদন। প্রতিবছর নতুন নতুন ইটভাটা গড়ে উঠছে এলাকায়। ইট উৎপাদন মৌসুমে নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হয়।
উপজেলা ব্রিকস ফিল্ড মালিক সমিতির সভাপতি খলিল উল্যাহ ৪৯ ভাটার বৈধতা নেই বলে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, তাদের সংগঠনের কিছু ভাটার মালিক বৈধ লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছেন।
ইটভাটা বন্ধের জন্য হাইকোর্টে একটি রিট করেছিলেন স্থানীয় জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. সালাহ উদ্দিন। তিনি জানান, গত বছর তিনি লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগরের সকল অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধের আদেশ চেয়ে রিট করেন। এতে রামগতির ৪৮ এবং কমলনগরের ১০টি ইটভাটা বন্ধের আদেশ চাওয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে আদালত অবৈধ ইটভাটাগুলো বন্ধের আদেশ দিয়েছেন।
লক্ষ্মীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির রামগতি জোনাল অফিসের জেনারেল ম্যানেজার খায়রুল ইসলাম দাবি করেন, উপজেলার ৫১টি ইটভাটার মধ্যে বৈধ সংযোগ রয়েছে ৭টির। অবৈধ ইটভাটায় কেন সংযোগ দেওয়া হয়েছে– এ প্রশ্নের সঠিক জবাব দিতে পারেননি তিনি।
রামগতির ইউএনও সৈয়দ আমজাদ হোসেন বলেন, হাইকোর্টের আদেশ কার্যকর করতে ও অবৈধ ইটভাটা বন্ধ রাখতে প্রশাসন তৎপর। গত আগস্ট মাসে যেসব এলাকায় ইটভাটা রয়েছে, মাইকিং করা হয়েছে। অনুমোদনহীন এসব ইটভাটা বন্ধে সম্প্রতি এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ইটভাটায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপসো স্যালাইন কারখানার অচলাবস্থা কাটেনি
অপসো স্যালাইন কারখানার অচলাবস্থা কাটেনি
Summary: শ্রমিকদের টানা কর্মবিরতিতে বরিশালে অপসো স্যালাইন লিমিটেড কারখানায় অচলাবস্থা কাটেনি। আন্দোলনকারী শ্রমিকদের দেওয়া ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম মঙ্গলবার বিকেলে শেষ হয়। সমস্যা সমাধানে এ সময়ের মধ্যে মালিকপক্ষ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। কারখানাটির অচলাবস্থা কাটাতে আজ বুধবার মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে সভা ডেকেছে বরিশাল শ্রম অধিদপ্তর।
৫৭০ জন শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করার প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার থেকে কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করছেন শ্রমিকরা। গত শনিবার নগরের বগুড়া সড়কে কারখানার প্রধান ফটকের সামনে সামিয়ানা টানিয়ে শ্রমিকরা সেখানে অবস্থান নেন। মঙ্গলবার বিকেলে শ্রমিকরা বগুড়া সড়ক থেকে মিছিল নিয়ে আনুমানিক ছয় কিলোমিটার দূরে অপসোনিন গ্রুপের প্রধান কারখানার সামনে যান। সেখানে অন্যান্য কারখানার শ্রমিকদের নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। মহানগর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন সেখানে গিয়ে শ্রমিকদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
অপসো স্যালাইন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. রাকিব মিয়া জানান, বুধবার (আজ) শ্রম অধিদপ্তরের সভায় সমঝোতা না হলে সব কারখানায় কর্মবিরতি ও মহাসড়ক অবরোধের মতো কঠিন কর্মসূচিতে যাবেন।
এদিকে কর্মসূচির শুরু থেকেই আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে আসছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। এ জোটের অন্যতম দল বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) জেলা সমন্বয়ক ডা. মনিষা চক্রবর্তী জানান, বুধবার (আজ) শ্রমিক প্রতিনিধি ও মালিক প্রতিনিধিদের বরিশাল শ্রম অধিদপ্তরের কার্যালযে সভায় ডাকা হয়েছে। এ সময় পর্যন্ত নতুন কর্মসূচি না দিতে বলেছেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। সভায় সমঝোতা না হলে শ্রমিকরা কঠোর কর্মসূচিতে যাবেন।
অপসো স্যালাইন লিমিটেড দেশের অন্যতম বৃহৎ ওষুধ প্রস্তুতকারী অপসোনিন গ্রুপের প্রতিষ্ঠান।
অপসো স্যালাইন কারখানার স্টুরিপ্যাক (সিরিঞ্জ ও স্যালাইন সেট প্রস্তুতকারক) শাখার ৫৭০ জন শ্রমিককে গত বুধবার চাকরিচ্যুতির চিঠি দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে চাকরিচ্যুতরাসহ কারখানার আইভি ফ্লুইড (স্যালাইন প্রস্তুতকরণ) শাখার শ্রমিকরাও বৃহস্পতিবার থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন। চাকরিচ্যুতির চিঠিতে শ্রমিকদের পাওনা আগামী ২০ নভেম্বরের মধ্যে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের স্টুরিপ্যাক শাখাটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
চালক না থাকায় বন্ধ অ্যাম্বুলেন্স সেবা, রোগীদের দুর্ভোগ
চালক না থাকায় বন্ধ অ্যাম্বুলেন্স সেবা, রোগীদের দুর্ভোগ
Summary: শরীয়তপুর জেলায় সবচেয়ে বেশি জনবহুল উপজেলা ভেদরগঞ্জ। এ উপজেলার ৩ লাখেরও বেশি মানুষ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নেন ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। চালক না থাকায় এই হাসপাতালে গত পাঁচ মাস ধরে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের সেবা বন্ধ রয়েছে। এতে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন রোগী ও স্বজনরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগী পরিবহনের জন্য কয়েক বছর আগে একটি অ্যাম্বুলেন্স দেয় স্বাস্থ্য বিভাগ। এরপর থেকে আ্যাম্বুলেন্সটি প্রতিনিয়ত রোগী পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ছিল। গত ২৩ জুন অ্যাম্বুলেন্সটির চালককে অন্যত্র বদলি করা হয়। এরপর থেকেই হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স সেবা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চালক না থাকায় অ্যাম্বুলেন্সটি পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এদিকে অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ থাকায় হাসপাতালটিতে সেবা নিতে আসা মুমূর্ষু রোগীদের ভোগান্তির শেষ নেই। বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স, মাইক্রোবাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় রোগী পরিবহনে দুর্ভোগের পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে ভুক্তভোগীদের। কর্তৃপক্ষ বলছে, অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ থাকায় রোগীর দুর্ভোগের বিষয়টি তারা একাধিকবার মৌখিক ও লিখিতভাবে ওপর মহলে জানালেও কোনো সুরাহা হয়নি।
২৫ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার চর পায়াতলী এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পথচারীরা চার কিশোরকে উদ্ধার করে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। রোগীদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্স খুঁজতে এসে আহত রোগীর ভাই জানতে পারে অ্যাম্বুলেন্সটির ড্রাইভার নেই। বেসরকারি একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে আহতের পরিবারের সদস্যরা। অ্যাম্বুলেন্সটি জেলা সদর থেকে ভেদরগঞ্জ পৌঁছাতে অনেকটা সময় চলে যায়। এ সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ঢাকায় নেওয়ার পর আহত রোমান মাল (২২) মারা যায়।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালের সামনে কথা হয় রোগীর স্বজন কামরুল হাসানের সঙ্গে। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান,
গতকাল মাঝরাতে তাঁর মা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও নিতে পারেননি। পরে রিকশায় করে হাসপাতালে আনতে হয়েছে। হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে একজন অ্যাম্বুলেন্স চালক নিয়োগের দাবি জানান তিনি।
সখিপুর থেকে বাবাকে চিকিৎসার জন্য ভেদরগঞ্জ হাসপাতালে এসেছেন মেয়ে মারুফা বেগম। গত শনিবার সকালে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি বলেন, “আমার বাবা হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন। হাসপাতালে গিয়ে শুনলাম অ্যাম্বুলেন্স চালক নেই। পরে লোকজন মিলে মোটরসাইকেলে করে বাবাকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। এতে আমার বাবার খুব কষ্ট হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স চালক থাকলে হয়তো এই দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।’
এদিকে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ থাকায় হাসপাতালে দালাল চক্র অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট তৈরি করেছে। এ সিন্ডিকেটের সদস্যরা জোরপূর্বক রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছে। ভেদরগঞ্জ থেকে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় যেতে ৪৫০০ টাকা ভাড়া লাগলেও বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে ৮-৯ হাজার টাকা ভাড়া গুনতে হচ্ছে রোগী ও তাদের স্বজনদের।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুমন কুমার পোদ্দার বলেন, অ্যাম্বুলেন্স চালক না থাকার বিষয়টি তিনি জেলা সিভিল সার্জনকে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যালয়েও চারবার চিঠি দেওয়া হলেও প্রতিকার মেলেনি।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু আব্দুল্লাহ খান বলেন, বিষয়টির দ্রুত সমাধানের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমানে নতুন কোনো চালকের পোস্টিং হচ্ছে না জানিয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. রেহান উদ্দিন জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন। শিগগিরই ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন চালকের পোস্টিংয়ের ব্যবস্থা করতে উদ্যোগ নেবেন তিনি।
হারবাংছড়া শাখা খাল খননে চাষির উচ্ছ্বাস
হারবাংছড়া শাখা খাল খননে চাষির উচ্ছ্বাস
Summary: কক্সবাজারের চকরিয়ায় পলি জমে ভরাট হওয়া হারবাংছড়া শাখা খাল খননের কাজ শুরু হয়েছে। সম্প্রতি বিএডিসির (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন) অর্থে এই খনন কাজ শুরু হয়েছে।
হারবাংছড়ার শাখা খালটির খনন কাজ সম্পন্ন হলে আমন ও বোরো মৌসুমে বরইতলী ও হারবাং ইউনিয়নে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে। এতে প্রায় এক হাজার ২০০ একর অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আসবে। এ ছাড়া দুই ইউনিয়নের বন্যার পানি দ্রুত নিষ্কাশন হয়ে মাতামুহুরীতে মিশে যাবে। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পাবে।
বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ছালেকুজ্জামান বলেন, খালটি খননের জন্য উপজেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় আলোচনা হয়। পরে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আতিকুর রহমান খননে ব্যবস্থা নিতে বিএডিসিকে নির্দেশনা দেন। বিএডিসি চকরিয়া উপজেলা কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে একটি টিম এলাকা পরিদর্শন করে খাল খননের প্রকল্প প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠান। বিএডিসি বরাদ্দ পেলে দ্রুত দরপত্র আহ্বান করে। মেসার্স কামরুল ইসলাম কামরান নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পাওয়ার পর গত ২৫ অক্টোবর খাল খননের কাজ শুরু হয়। বর্তমানে খালের উভয় তীরে দুই কিলোমিটার অংশে খনন কাজ চলমান।
চেয়ারম্যান দাবি করেন, এই খাল খননের মাধ্যমে বৃহত্তর হারবাং বড়বিলসহ আশপাশের আরও চারটি বিলের পানি দ্রুত নিষ্কাশন হবে। এতে বন্যার পানি থেকে পহরচাঁদা ডেইঙ্গাকাটা গ্রামসহ বরইতলী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলীয় এলাকা থেকে পানি সহজে মাতামুহুরী নদীতে নেমে যাবে। তিনি আরও বলেন, এতে বরইতলী ও হারবাং ইউনিয়নের জনসাধারণ বন্যার তাণ্ডব থেকে রক্ষা পাবে এবং কৃষকদের দীর্ঘদিনের চাষাবাদের অনিশ্চয়তা কেটে যাবে।
বিএডিসির উপসহকারী প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে দুই কিলোমিটার অংশে খনন কাজ করা হচ্ছে। এর ফলে সিকদার খাল, বাইন্যারবিল খাল, পহরচাঁদা বিল লাগোয়া ছড়াখালে পানির গতিপথ সচল হতে চলছে।
কৃমি থেকে শিশুকে সুরক্ষার উপায়
কৃমি থেকে শিশুকে সুরক্ষার উপায়
Summary: শিশুদের মধ্যে কৃমির সংক্রমণ খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। সময়মতো এর ব্যবস্থা না নিলে এটি অপুষ্টি ও রক্তস্বল্পতার কারণ হতে পারে। কারণ, কৃমি মানুষের পুষ্টি উপাদান শোষণ করে নেয়।
কৃমি সংক্রমণের পথ
কৃমির ডিম বা লার্ভা সাধারণত নিম্নলিখিত উপায়ে মানবদেহের অন্ত্রে প্রবেশ করে:
lনোংরা ও অপরিষ্কার মাধ্যম: দূষিত পানি, দূষিত খাবার এবং অপরিচ্ছন্ন হাতের মাধ্যমে বেশির ভাগ কৃমির ডিম আমাদের অন্ত্রে
প্রবেশ করে।
lদূষণের চক্র: অন্ত্রে ডিম ফুটে বাচ্চা হয়। সেই বাচ্চা বড় হয়ে ডিম পাড়ে, যা মলের মাধ্যমে দেহের বাইরে বের হয়ে পানি ও খাবারকে দূষিত করে। নোংরা হাত ও মাছির সাহায্যে এই ডিম অন্যের শরীরে সংক্রমণ ঘটায়।
lচামড়া ভেদ: কিছু ক্ষেত্রে খালি পায়ে হাঁটলে কৃমির লার্ভা পায়ের চামড়া ছিদ্র করে শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
কৃমি প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি ও করণীয়
কৃমি প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। শিশুর জন্য এটি আরও জরুরি:
lশিশুর হাতের নখ সব সময় ছোট রাখতে হবে।
lশিশু যেন হাতের আঙুল মুখে না দেয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
lহাত ধোয়ার অভ্যাস:
lখাওয়ার আগে-পরে ও প্রস্রাব-পায়খানার পর শিশুকে ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস করাতে হবে।
lরান্না ও শিশুকে খাওয়ানোর আগে অবশ্যই সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে।
lবিশুদ্ধ খাবার ও পানি:
lবিশুদ্ধ ও ফুটানো পানি পান করাতে হবে।
শিশুকে মাছ, মাংস ও শাকসবজি ভালোভাবে সেদ্ধ করে খাওয়াতে হবে।
lশাকসবজি ও ফলমূল পরিষ্কার ও বিশুদ্ধ পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।
lরাস্তার পাশে বিক্রি হওয়া আখের রস, আগে থেকে কেটে রাখা ফলমূলের রস বা অন্য পানীয় শিশুদের একেবারেই খেতে দেওয়া উচিত নয়।
lস্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার করতে হবে এবং শিশুকে জুতা পায়ে পায়খানা ব্যবহারে শিক্ষা দিতে হবে।
lতিন মাস অন্তর শিশুকে কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়াতে হবে।
লেখক: বিভাগীয় প্রধান, শিশু কার্ডিওলজি বিভাগ, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল।
দুটি দল যা বলে সরকার তাই করছে
দুটি দল যা বলে সরকার তাই করছে
Summary: দুটি দল যা বলে অন্তর্বর্তী সরকার তাই করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। সরকার ওই দুটি দলের ওপর ভর করে টিকে আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে একটি কমিউনিটি সেন্টারে বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে স্মরণসভায় তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, যারা জীবনে মাথা তুলে কথা বলতে পারেনি, তারা আজকে মাথা তুলে কথা বলে, চোখে চোখ রেখে কথা বলে। এই সাহস, এই শক্তি কোথায় পেল? আজকের যে সরকার, তাদের কার্যক্রম দেখে স্পষ্ট বোঝা যায়, তাদের নিজস্ব কোনো শক্তি নেই। এই সরকার দুটি দলের ওপরে অর্থাৎ একটি তাদের নিজস্ব সৃষ্ট দল, আরেকটি পুরোনো দল, এই দুটি দলের ওপর ভর করে টিকে আছে।
মির্জা আব্বাস বলেন, খুব আশঙ্কা করছি, এই দলগুলোকে জেতানোর জন্য সরকার যে কোনো অবৈধ প্রক্রিয়ার আশ্রয় নিতে পারে। যেটা বিগত সরকার করেছিল।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মাহমুদের সঞ্চালনায় সভায়
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম ও সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন বক্তব্য দেন।
সেনাবাহিনীর অর্ধেক সদস্যকে মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে
সেনাবাহিনীর অর্ধেক সদস্যকে মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে
Summary: আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর অর্ধেক সদস্যকে মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় বলা হয়, বিশ্রাম ও নির্বাচনকালীন প্রশিক্ষণের জন্য অর্ধেক সদস্যকে আপাতত সরিয়ে নেওয়া হবে। বুধবার থেকে তা কার্যকর হবে। তাদের বিশ্রাম ও প্রশিক্ষণের পর আবার মাঠে পাঠিয়ে বাকিদের সরিয়ে নেওয়া হবে।
সভায় উপস্থিত এক শীর্ষ কর্মকর্তা সমকালকে জানান, সেনাসদস্যদের বিশ্রাম ও নির্বাচনকালীন প্রশিক্ষণের জন্য এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন সেনাবাহিনী তাদের মতো করে সিদ্ধান্ত নেবে।
কোর কমিটির সভায় আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সামাজিক মাধ্যমে উস্কানিমূলক বক্তব্য, নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকা, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার নিয়ে আলোচনা হয়।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনি, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর উদ্ভূত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ১৭ সেপ্টেম্বর সশস্ত্র বাহিনীকে (সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী) বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেওয়া হয়।
দীর্ঘ সময় ধরে সেনাবাহিনীকে মাঠে রাখার কারণে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে। সূত্রের দাবি, সেনাসদস্যের সরিয়ে নেওয়ার আরেকটি উদ্দেশ্য হচ্ছে, মাঠে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা স্বাভাবিক থাকে– সরকার সেটিও দেখতে চায়।
শাহজালালে ভল্ট ভাঙা, চুরি কিনা তদন্ত চলছে
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পুড়ে যাওয়া কার্গো কমপ্লেক্স থেকে সাতটি অস্ত্র চুরির অভিযোগ উঠেছে। বিমানবন্দর থানায় করা এক জিডিতে বলা হয়েছে, গত ১৮ অক্টোবর কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ আগুন লাগে। সেখানে বিভিন্ন আমদানি-রপ্তানি পণ্যের পাশাপাশি কিছু সরকারি সংস্থার সরঞ্জাম সংরক্ষিত ছিল। পরে জানা যায়, সেখানে রক্ষিত একটি ভল্ট ভেঙে সাতটি অস্ত্র চুরি হয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এমফোর কার্বাইন ও ব্রাজিলের টরাস পিস্তল থাকলেও সেগুলো কোন বাহিনীর– তা জানা যায়নি।
অগ্নিকাণ্ড ও চুরির ঘটনায় তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। কোর কমিটির সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তদন্তের জন্য চার-পাঁচটি দেশে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দু-একটি দেশের বিশেষজ্ঞ এরই মধ্যে এসেছেন। চুরি হয়েছে কিনা, তদন্তের পর জানা যাবে। চুরি হয়ে থাকলে কার মাধ্যমে হয়েছে, কে দায়ী– তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ফয়সালা আইনিভাবে
অন্তর্বর্তী সরকারের ১৪ মাসে ৪০টির মতো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের তথ্য এসেছে। কারা এসব হত্যাকাণ্ডে জড়িত– এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী বা যে কোনো বাহিনী বা যার মাধ্যমেই হত্যাকাণ্ড হোক না কেন, প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে ফয়সালা করা হবে।
নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনীর বিচারিক ক্ষমতা থাকছে কিনা– এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা এখনই আছে। নির্বাচনের সময় বন্ধ হবে কেন? আমরা বন্ধ করছি নাকি?
বডি ক্যামেরা কেনার অর্থ বরাদ্দে বিলম্ব
সভায় উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা সমকালকে জানিয়েছেন, বৈঠকে পুলিশের আইজি বাহারুল আলম বলেন, নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে পুলিশের জন্য প্রায় ৪০ হাজার বডি ক্যামেরা কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এসব বডি ক্যামেরা কেনার জন্য টাকা বরাদ্দে দেরি করছে অর্থ বিভাগ। অথচ জাতীয় নির্বাচনের আর বেশি সময় নেই। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অর্থ বরাদ্দের কাজ দ্রুত শেষ করতে মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন।
পরিবর্তন হতে পারে পুলিশ, র্যাব ও আনসারের পোশাকের রং
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সাধারণ পুলিশ সদস্যদের দাবি ছিল, বর্তমান পোশাক পরিবর্তন করা। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার চলতি বছরের শুরুতে পুলিশ, র্যাব ও আনসার বাহিনীর পোশাক বদলের সিদ্ধান্ত নেয়। বৈঠক সূত্র জানায়, ৯ মাস পর সেই নতুন পোশাক চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য গতকাল কোর কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। তবে কোর কমিটির সদস্যরা বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে বলেছেন। পুলিশের পোশাকের রং নির্ধারণ হয়েছিল আয়রন, র্যাবের জলপাই আর আনসারের সোনালি গমের। বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনের আগে বইমেলা না করার ব্যাপারেও সভায় সুপারিশ আসে।
নির্বাচনের আগে অস্ত্র উদ্ধারের অগ্রগতি নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা চট্টগ্রামের রাউজানে ১১ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের কথা জানিয়ে বলেন, রাউজান, ফটিকছড়ি একটু কঠিন এলাকা। আগেও ছিল, এখনও আছে। এসব জায়গায় অপরাধ করে অপরাধীরা পাহাড়ে চলে যায়।
নেতাকর্মীকে অবৈধ সুবিধা দিলে ব্যবস্থা
নির্বাচনে পুলিশ যদি কোনো দলকে বিশেষ সুবিধা দেয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে– এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, কারও কোনো রকম গাফিলতি থাকলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। আগে জিডি করে রাখা হতো। এবার সঙ্গে সঙ্গে আইনের আওতায় আনা হবে। নির্বাচন হতে হবে উৎসবমুখর।
বিগত নির্বাচনে যেসব ওসি বিভিন্ন থানায় দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের অনেকেই এখন ঢাকা মহানগর পুলিশের বিভিন্ন থানায় ওসি। তাদের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা– এ প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমরা বলেছি ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪-এর নির্বাচনে যারাই ছিল, তাদের অধিকাংশকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করব। আমাদেরও সীমাবদ্ধতা আছে। আমরা সবাইকে তো পারব না। প্রথম যারা তিনটা নির্বাচনে জড়িত ছিল, তাদের বাদ দেব। তারপরে যারা দুটির সঙ্গে জড়িত ছিল তারা। তারপরও যদি দেখি জনবল রয়ে গেছে, তখন একটার সঙ্গে জড়িতদের বাদ দিয়ে দেব। আমি তো নিয়োগ দিয়ে নতুন ওসি নিয়ে আসতে পারব না। তারপর দেখব, যে একটা নির্বাচনে জড়িত ছিল, তার বিরুদ্ধে তেমন কোনো অভিযোগ নেই। তাকে তো আমাদের কাজে লাগাতে হবে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, শিগগির পুলিশ কমিশন হয়ে যাবে।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে পালিয়ে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, দেশের বাইরে যারা পালিয়ে আছেন, তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া দেশকে নানাভাবে বিশৃঙ্খল করার জন্য দেশে এবং দেশের বাইরে থেকেও সামাজিক মাধ্যমে উস্কানিমূলক বক্তব্য আসছে।
জাকির নায়েককে আপাতত আসার অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত
ভারতীয় বংশোদ্ভূত ইসলামী বক্তা জাকির নায়েককে আপাতত বাংলাদেশে আসার অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ বিষয়ে কোর কমিটির সভায় আলোচনা হয়, জাকির নায়েক বাংলাদেশে এলে প্রচুর জনসমাগম হবে। জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রচুর সদস্যের প্রয়োজন হবে। তাঁর ঢাকায় আসাকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে এত সদস্য মোতায়েনের সুযোগ নেই। সবাই এখন নির্বাচনমুখী। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, জাতীয় নির্বাচনের পর তিনি ঢাকায় আসতে পারেন। তবে নির্বাচনের আগে নয়।
একটি প্রতিষ্ঠান জাকির নায়েককে ২৮ ও ২৯ নভেম্বর দুদিনের জন্য ঢাকায় আনতে চায়। ঢাকার বাইরেও যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। তবে জাকির নায়েকের ঢাকায় আসা নিয়ে কয়েক দিন ধরে আলোচনা চলছে।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় স্থানীয় সরকারের সক্ষমতা বাড়াতে হবে
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় স্থানীয় সরকারের সক্ষমতা বাড়াতে হবে
Summary: জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি মোকাবিলায় স্থানীয় অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে হবে। এক্ষেত্রে বাড়াতে হবে স্থানীয় সরকার, বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদের সক্ষমতা। কেন্দ্রীয়ভাবে সব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করে স্থানীয় পর্যায়ে দায়িত্ব ছাড়তে হবে। এজন্য স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করার বিকল্প নেই।গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সমকালের সভাকক্ষে ‘স্থানীয় জ্ঞান কাজে লাগিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও টেকসই উপকূল বিনির্মাণে করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন বক্তারা। সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্সেস স্টাডিজ (সিএনআরএস) ও সমকাল যৌথভাবে এর আয়োজন করে। সহযোগিতায় ছিল ‘ইনহ্যান্স ভয়েস ফর দ্য ইনক্লুশন অব দ্য ভালনারেবল অ্যান্ড দেয়ার এম্পাওয়ারমেন্ট (ইভলভ্)’ প্রকল্প।
মোহাম্মদ খলিলুর রহমান
জলবায়ু পরিবর্তন তহবিল পৃথিবীর বড় দেশগুলো দিচ্ছে। তবে এটি কোনোভাবেই পর্যাপ্ত নয়। এতে শুভঙ্করের ফাঁকি রয়েছে, অনেকটা বককে থালায় খাবার দেওয়ার মতো। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
টেকসই উন্নয়নের ‘টেকসই’ শব্দটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আপনি এখন যে উন্নয়ন করেছেন, সেটি পরে কার্যকর থাকবে কিনা, সেটি পরবর্তী উন্নয়ন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করবে কিনা, সেই উন্নয়ন আপনার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উপযোগী কিনা? তা দেখতে হবে। কেননা উন্নয়ন টেকসই করা না গেলে লাভ হবে না। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের ১১ থেকে ১৫ নম্বর পয়েন্টে টেকসই শহর ও অর্থনীতির কথা বলা আছে।
উৎপাদন ও ভোগের বিষয়ে দায়িত্বশীল হতে হবে। হাইব্রিড ফসলের পাশাপাশি স্থানীয় ফসলের বীজটাও সংরক্ষণ করতে হবে। এ ছাড়া উৎপাদনের পর কিছুটা নিজের জন্য রেখে বাকিটা বিক্রি করতে হবে। আমাদের একটা বড় সীমাবদ্ধতা হলো সঠিক তথ্য না থাকা। এটি নিয়ে কাজ করতে হবে। কেননা এই তথ্য উন্নয়নে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আমি বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে আছি। দেশের ১৬৯টি মিউনিসিপ্যালটিতে ক্লাস্টারভিত্তিক ছোট ইন্ডাস্ট্রিজের বিষয়ে আমি অনেক দাতা সংস্থার সঙ্গে প্রোগ্রাম করেছি, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছি। আশা করছি, খুব দ্রুত এ ধরনের কিছু একটা শুরু করব; যার মাধ্যমে চীন, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোর সীমিত একটা জায়গার মধ্যে ইন্ডাস্ট্রি ও কৃষি সব থাকবে। আবার পরিবেশেরও কোনো ক্ষতি না হয়। এ বিষয়গুলো মাথায় রেখে আমাদের যেটি করা দরকার, তা হলো ‘ল্যান্ড জোনিং’ করা। দেশে বার্ডের যে সমবায়ের ধারণা, তা এসেছে পাকিস্তান আমলে আখতার হামিদ খানের কাছ থেকে। চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশ এই ধারণা নিয়ে সমবায় করেছে। এ ধারণা থেকে তারা ২০টি ভবনের মধ্যে এক একটা শহর ঢুকিয়ে ফেলেছে। বাকি জায়গায় তারা ইন্ডাস্ট্রি করেছে। তাদের কৃষির উৎপাদন আমাদের থেকে দুই-তিন গুণ বেশি। তারা গ্রিন হাউস করে এভাবে উৎপাদন বাড়িয়েছে। আমাদেরও অতিসত্বর পরিকল্পনা করতে হবে।
বরুণ চন্দ্র বিশ্বাস
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ইউনিয়ন পরিষদকে শক্তিশালী করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। দেশের অধিকাংশ মানুষ ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে যুক্ত। তারা সেখান থেকে সরাসরি সেবা গ্রহণে অভ্যস্ত। তারা এই প্রতিষ্ঠান থেকে সেবা গ্রহণ করতে যতটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, উপজেলা-জেলায় গিয়ে তারা অতটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, উপকূলীয় অঞ্চলে তিন লাখ মৎস্যজীবী আছেন। মৎস্য প্রজনন মৌসুমে ৫৮ দিন সমুদ্রে মাছ ধরা বন্ধ থাকে। এই সময়টাতে তারা যেন মাছ ধরা থেকে বিরত থাকেন, সেজন্য ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে তাদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা কিংবা প্রণোদনা দেওয়া যেতে পারে। আমরা সেটি করতে পারছি না। ইউনিয়ন পরিষদের কাছে মৎস্যজীবীদের সব তথ্য থাকলে তাদের অবস্থার উন্নয়ন করা সম্ভব হতো। ইউনিয়নকে শক্তিশালী করার জন্য বাজেট বরাদ্দ করা প্রয়োজন। পরিষদগুলোতে জনবল বাড়াতে হবে। দক্ষ জনবল নিয়োগ দিতে হবে।
মোহাম্মদ মাহমুদ হোসেন
আমরা ২০২৩ সালে উপকূল এলাকায় গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করেছিলাম। গত ৩০ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে এতে দেখা যায়, প্রতি বছর ৩ দশমিক ৮ থেকে ৫ দশমিক ৮ মিলিমিটার সমুদ্রের উচ্চতা বাড়ছে। এ কারণে উপকূলীয় এলাকার জনগোষ্ঠী ঝুঁকির মধ্যে আছে। জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা থেকে আমরা হিসাব করে দেখেছি, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রায় ১৯ দশমিক ৯ মিলিয়ন মানুষ ২০৫০ সালের মধ্যে বাস্তুচ্যুত হতে যাচ্ছে। বর্তমানে লবণাক্ততার শিকার হচ্ছে ২৬ মিলিয়ন মানুষ। কৃষি উৎপাদনের দিকে তাকালে দেখা যায়, ৫ দশমিক ৮ থেকে ৯ দশমিক ১ শতাংশ চাল উৎপাদন কমে যাচ্ছে। আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের নীতিমালা ও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য একটা ট্রাস্ট ফান্ডও গঠন করা হয়েছে। ফান্ড গঠনের পর থেকে এখন পর্যন্ত সরকার প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ অর্থ এই ফান্ডে বরাদ্দ দিয়েছে। প্রায় হাজারের ওপরে প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে এবং হচ্ছে।
২০২২ সালে আমরা জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা তৈরি করেছিলাম। এটি ছিল ২৭ বছর মেয়াদি দীর্ঘ পরিকল্পনা। এতে ১১৩টি বাধা চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় অববাহিকা রক্ষায় আমরা বেশ কিছু বিষয় চিহ্নিত করেছি। এ ছাড়া ‘লোকাল এরিয়া অ্যাডাপ্টেশন ফ্রেমওয়ার্ক’ নিয়ে আমরা কাজ করছি এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সহায়তায়। এ নিয়ে রোডম্যাপ তৈরির কাজও প্রায় শেষের দিকে। ট্রাস্ট ফান্ড থেকে নিজস্ব উদ্যোগে একটা প্রকল্পও আমরা গ্রহণ করেছি। এর মাধ্যমে এ দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে উপকূলীয় এলাকায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, তা চিহ্নিত করা হবে; পাশাপাশি জলবায়ুর কারণে প্রতিবছর কত সংখ্যক মানুষ উপকূলীয় এলাকা থেকে বাস্তুচ্যুত হচ্ছে সেটিও জানা যাবে।
মোহাম্মদ যোবায়ের হাসান
শুনতে হবে তাদের কথা, যাদের কথা হয়নি শোনা। অর্থাৎ যাদের নিয়ে কাজ করা হবে, তাদের কাছ থেকে আমাদের আগে শুনতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা কিংবা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে বাজেট দরকার। এর জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা দরকার। এই সমস্যাগুলো আমরা চিহ্নিত করতে পারব, কিন্তু সমাধানে রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকলে কোনো লাভ হবে না। জাতীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে স্থানীয় ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সংযুক্তি প্রয়োজন। বাজেট প্রণয়নের ভিত্তিটাই আজ পর্যন্ত ঠিক হয়নি। বাজেট কিসের ভিত্তিতে প্রণয়ন হয়? প্রকল্প, জনপ্রতি নাকি এলাকাভিত্তিক–কোন ভিত্তিতে হচ্ছে? কোন জায়গায় কী পরিমাণ বাজেট দরকার, সেটি আগে থেকে হিসাব করা হয়? স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট থেকে একটি হিসাব করে বের করা হয়েছে যে, জনপ্রতি ৫০ ডলার বরাদ্দ করা গেলে ন্যূনতম প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। জলবায়ুর বিষয়ে এ ধরনের কোনো কিছু করা হয়েছে কিনা। উপকূল অঞ্চলের বিনির্মাণে স্থানীয় জ্ঞানের প্রয়োজন আছে। এই জ্ঞান কোন মেকানিজমের মাধ্যমে করতে হবে, তা ঠিক করতে হবে। আবার ঠিকও যে হয়নি, তা নয়। প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে, সেখানকার বিভিন্ন জ্ঞান নিয়ে বিভিন্ন দরবারে কথা বলব–এটিই মেকানিজম। এভাবে করা গেলে হয়তো আমরা একটা জায়গায় পৌঁছাতে পারব।
শাহরিয়ার মান্নান
রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের বিষয়গুলো সমাধান করা সম্ভব নয়। আসলে রাজনৈতিক নেতাদের কমিটমেন্ট প্রয়োজন। আমরা যে পরিকল্পনা করব, সেটি যেন অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়। কোন দলের কে প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং কে কোন পেশার, সেটি দেখার বিষয় নয়। যে কোনো উন্নয়ন করতে হলে বাজেট বিকেন্দ্রীকরণ অবশ্যই জরুরি। এক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে যেমন সমন্বয় প্রয়োজন, বিভাগগুলোর মধ্যেও তেমন সমন্বয় প্রয়োজন। স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ে কিংবা জাতীয় পর্যায়–সব পর্যায়ে বাজেট বিকেন্দ্রীকরণ আসলে কীভাবে হবে, সেটিও একটি প্রশ্ন থেকে যায়।
বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে জলবায়ু ঝুঁকির মধ্যে যে ইউনিয়নগুলো আছে, তাদের জন্য একটি বিশেষ বরাদ্দ রাখা যেতে পারে। কারণ দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবিলার ক্ষেত্রে দুর্যোগের পরে বাজেট দেওয়া হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়াও সারা বছর এসব ইউনিয়নের মানুষ ঝুঁকির মধ্যে দিয়ে যায়। এর জন্য বিশেষ বাজেট বরাদ্দ প্রয়োজন। শুধু অবকাঠামোর জন্য নয়, ইউনিয়ন পর্যায়ে বাজেটের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের চাহিদাও বিবেচনায় রাখতে হবে।
মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান
আমাদের প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য অভিযোজন ও প্রশমনের একটি ম্যাপিং করতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে সরকার বা অন্যান্য সংস্থার পাশাপাশি মানুষের নিজস্ব খরচও ম্যাপিং করা প্রয়োজন। সাধারণ মানুষের বাজেটকেও স্বীকৃতি দিতে হবে। ঝড় এলে কারও বাড়ি ভেঙে গেলে সংসারের অন্য কাজের জন্য জমানো টাকা বাড়ি ঠিক করতে ব্যবহার করা হয়। এভাবে প্রতিবছর তিনবার করে ঝড়ে তাঁর ঘর ভেঙে গেলে সংসারের অন্য খাতের টাকা ব্যবহার করতে হয়। সেই টাকা ব্যয়ের একটি ম্যাপিং করা দরকার। ২০২৪ সালে আগস্টের পরে যখন বন্যা হয়, বাংলাদেশের একটা প্যারাডাইম চেঞ্জ হয়ে গেল। তখন একটা দাতব্য সংস্থা একাই এক সপ্তাহে ১০০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছিল। বাংলাদেশের মানুষের কাছে টাকা আছে। সাধারণ মানুষের যে টাকাটা, তা বাজেটে স্বীকৃতি দেওয়া হোক। কোনো এলাকার উন্নয়ন করতে গেলে সেই এলাকা জলবায়ুর পরিবর্তনকেও বুঝতে হবে। সেক্ষেত্রে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ।
এ. কে. এম আজাদ রহমান
ইউনিয়ন পরিষদের ওপর সব ধরনের কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়। জলবায়ু, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের যাবতীয় কাজকর্ম এ প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। সেই প্রতিষ্ঠানটির এত ভার বহনের সক্ষমতা আছে কিনা, তা আমাদের ভাবতে হবে। কীভাবে এই প্রতিষ্ঠানটিকে পুনর্গঠন করা অথবা স্থানীয় সরকারের সেবাগুলো বিকেন্দ্রীকরণ করা যায়, সেটি দেখতে হবে। এমনও করা যায়, অন্যান্য প্রতিষ্ঠান সেবা দেবে আর ইউনিয়ন পরিষদ শুধু নজরদারি করবে। কেননা অনেক সময় দেখা যায়, সেবা দেওয়ার বিষয়টি নজরদারির কেউ থাকে না।
উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদকে যুক্ত করে স্থানীয় অবকাঠামোগত কাজ করা যেতে পারে। এর বাইরেও অনেক কাজে এসব প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা যায়। সুনামগঞ্জে আমরা বজ্রপাত থেকে বাঁচতে একটি শেল্টার করেছি। এই এলাকায় বজ্রপাতে অনেক মৃত্যু হয়। এই শেল্টার স্থাপনের পর আমরা দেখেছি, যেসব স্থানে এই শেল্টার করা হয়েছে, সেখানে মৃত্যুহারও কমেছে। অর্থাৎ স্থানীয়ভাবে সমস্যাগুলো সমাধান করা গেলে ক্ষতির পরিমাণ কমানো সম্ভব।
বাংলাদেশ যেহেতু স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হচ্ছে, ফলে এ দেশে জলবায়ু অর্থায়ন অনেক কমে গেছে, ডোনার কমে গেছে। আমাদের সঠিক উপায়ে ঋণ নিতে হবে; যাতে করে সেই ঋণ ব্যবহার করে আয় বাড়ানোর মাধ্যমে জিডিপি বাড়ানো যায়। অন্যদিকে, যেহেতু আমাদের অর্থায়ন কমে যাচ্ছে, সেহেতু মিশ্র পদ্ধতিতে যেতেই হবে। গত বছর ফেনীতে যে বন্যা হয়েছে, গত ৩০ বছরে তা হয়নি। এটা একটা ‘ওয়েক আপ কল’। অর্থাৎ আগামীতেও এমন কিছু হওয়ার আশঙ্কা আছে। এর মানে হলো এই ক্ষেত্রে আমাদের অর্থায়ন করতে হবে।
ভবিষ্যতের কৃষক ও ফসল আমাদের বাঁচাতে হবে। সুতরাং ডোনারদের আশায় বসে থাকলে চলবে না। আমাদের দেখতে হবে, ভবিষ্যতে আমাদের কতটা ক্ষতি হতে পারে, অন্য কোথাও থেকে অর্থায়ন এনে সেই ক্ষতি কমানো যায় কিনা। অর্থায়ন এনে সঠিকভাবে ব্যবহার করে জিডিপিতে অবদান রাখা যায় কিনা, তা আমাদের দেখতে হবে।
এস এম এমরান আলী
ইউনিয়ন পরিষদের তিন কোটির কিছুটা বেশি বাজেট দেখানো হয়। এটি সঠিক নয়। আমরা ইউনিয়ন পরিষদে সরাসরি পাই মাত্র আট লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা। এই টাকা দিয়ে অবকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী, শিক্ষা, স্বাস্থ্য–কী সেবা দেওয়া যেতে পারে? এটি হচ্ছে বাস্তবতা। ওপর থেকে ওইভাবে মুখস্থ কিছু প্রকল্প দেওয়া, তা বাস্তবায়ন হয়ে যায়। কতটুকু বাস্তবায়ন হলো, কী বাস্তবায়ন হলো–সেটি ইউনিয়ন পরিষদ কিছু জানে, কিছু জানে না। প্রতিটি ইউনিয়নের বাস্তব চিত্র এমন। এটি নিয়ে কাজ করতে হবে।
শিবানী সরদার
উপকূলীয় লবণাক্ত ও নদীভাঙন এলাকায় কিশোরী মেয়ে ও মায়েরা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়। কমিউনিটি ক্লিনিকে তিন থেকে চার হাজার সেবা গ্রহণকারী থাকেন। ক্লিনিকগুলোর ডাক্তারদের অধিকাংশই পুরুষ। ফলে ওই মেয়েরা ও মায়েরা নিজেদের সমস্যার কথাগুলো সরাসরি তাদের বলতে পারে না। কমিউনিটি ক্লিনিকে একজন করে হলেও নারী ভলান্টিয়ার দেওয়া উচিত।
লবণাক্ত এলাকায় চাষাবাদে মিঠাপানির প্রয়োজন। মিঠাপানির অভাবে অনেক পরিবার কৃষিকাজ ছেড়ে দিয়ে শহরগামী হচ্ছে। এই সমস্যা দূর করতে খাল খনন করতে হবে। লবণাক্ত এলাকায় এমনও পরিবার আছে যাদের বৃষ্টির পানি ধরে রাখার পাত্র নেই। কোনো পরিবার ছয় মাসের পানি ধরে রাখতে পারে, তাহলে তারা ওই পানি খেয়ে বেঁচে থাকতে পারবে। তারা পানিবাহিত রোগ থেকে মুক্ত থাকতে পারবে। এতে করে তারা অর্থনৈতিক দিক দিয়ে স্বাবলম্বী হতে পারবে। এ বিষয় নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে জানিয়েছি। সেখানে তো বাজেট কম। এজন্য এই সমস্যা সমাধানে সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
মো. রবিউল ইসলাম
আমাদের প্রাণের দাবি–আমাদের এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে। বাঁধের পাশে বৃক্ষরোপণ করতে হবে। উপকূলীয় অঞ্চলে প্লাস্টিকদূষণ রোধ করা অতীব জরুরি। পর্যাপ্ত আধার তৈরির মাধ্যমে সুপেয় পানিকে সহজলভ্য করতে হবে। লবণাক্ততার কারণে নারীদের নানা ধরনের রোগ প্রতিরোধে স্থানীয় স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরদারি বাড়াতে হবে। উপকূলীয় অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতা বিবেচনায় এনে গতানুগতিক নীতিমালা সংস্কার করা অতীব জরুরি।
শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নানা ঝুঁকির মধ্যে আমরা রয়েছি। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে মোট কৃষিজমির পরিমাণ ছিল ৬৭ দশমিক ৮৯ ভাগ। ২০১৮ সালে এটি হয়েছে ৫৯ দশমিক ৭ শতাংশ। বাংলাদেশে এখন বনাঞ্চলের পরিমাণ মোট আয়তনের ১২ ভাগ। ২০ ভাগ জলাশয়। বর্তমানে আমাদের জনসংখ্যা সাড়ে ১৭ কোটি। ২০৫০ সাল নাগাদ আমাদের জনসংখ্যা সাড়ে ২১ কোটিতে রূপান্তরিত হবে। অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে আরও চার কোটি মানুষ যোগ হবে। আমাদের যে কৃষিজমি সেটি তো বাড়ছে না। যেই জমি আছে, তা কমানো যাবে না। কারণ এই অতিরিক্ত চার কোটি মানুষের খাদ্যের জোগান দিতে হবে।
এ ক্ষেত্রে সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে এই পরিকল্পনার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি সমন্বয় করতে হবে।
অন্যদিকে, আমাদের বনভূমি এমনিতেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কম। যা আছে, এর থেকেও কমে গেলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে। পাশাপাশি জলাশয়গুলোও সংরক্ষণ করতে হবে। জাতীয় পর্যায়ের অনেক কাজ আছে, স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করার মাধ্যমে সেই কাজগুলো সহজে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এক্ষেত্রে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের কাজের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হবে। কেননা পুরোপুরি কেন্দ্রীয়করণ বা বিকেন্দ্রীকরণ হলে সুফল আসবে না। জলবায়ু রক্ষায় পরিকল্পনাগুলোর সফল বাস্তবায়ন ও টেকসই করার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারের যতগুলো সামাজিক নিরাপত্তাবিষয়ক কর্মসূচি আছে, সেগুলো মূলত বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে, ইউনিয়ন পরিষদকে বাদ দিয়ে কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করা একেবারেই অসম্ভব। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইউনিয়ন পরিষদের কোনো ভূমিকা নেই। পরিষদ কেবল এই কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করে। অথচ কোনো ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় হলে ইউনিয়ন পরিষদই আগে সাড়া দেয়। ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঢেলে সাজানো প্রয়োজন।
দেবাশীষ কুমার ঘোষ
উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে অনেক গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছে। যার ফলে সেবাদাতা ও গ্রহীতাদের মধ্যে মুখোমুখি আলোচনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি সেবার মান উন্নয়নে যৌথ পরিকল্পনা করা হয়েছে। আমরা সোশ্যাল অ্যাকাউন্টেবিলিটির একটি টুল ব্যবহার করেছি; যেটি আমরা সিএসওদের শিখিয়েও দিয়েছি। সেটিকে আমরা বলি ‘কমিউনিটি স্কোর কার্ড’। এই কমিউনিটি স্কোর কার্ড ব্যবহার করে সেবাদাতা এবং সেবাগ্রহীতাকে একসঙ্গে বসিয়ে সেবার মান উন্নয়নের যৌথ কর্মপরিকল্পনা করা হয়েছে। এই কাজটাও আমাদের প্রকল্পের মাধ্যমে হয়েছে। সিএসওরা এখন চাইলে যে কোনো দপ্তর বা ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে কমিউনিটি স্কোর কার্ড করে সেবার মান উন্নয়নে কাজ করতে পারেন।
আমাদের প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশন ও তাদের যে নেটওয়ার্কগুলো আছে, তাদের সক্ষমতা বাড়িয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ও সুবিধাবঞ্চিতদের ক্ষমতায়ন করা। এটি ছিল আমাদের প্রথম উদ্দেশ্য। দ্বিতীয় উদ্দেশ্য ছিল, বিশেষ করে নারীদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার করে তোলা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যাতে নারীরা কার্যকর অংশগ্রহণ করতে পারে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা। সর্বশেষ উদ্দেশ্য ছিল, জলবায়ু সংবেদনশীল ও জেন্ডারবান্ধব নীতি বাস্তবায়নে সরকারের কাজে সহযোগিতা করা। এই তিন উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করেই আমাদের প্রকল্পটি গত সাড়ে তিন বছর ধরে মাঠ পর্যায়ে দুটি জেলাতে বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছি।
মাহিউল কাদির
বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। নদীভাঙন, লবণাক্ততা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রতি বছর লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে শহরমুখী হচ্ছে। এই পরিবর্তন শুধু জীবিকা নয়, মানুষের সংস্কৃতি ও সামাজিক বন্ধনকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। স্থানীয় সরকারব্যবস্থার মূল স্তর হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ গ্রামীণ জনগণের কাছে সরকারি নীতি ও সম্পদ পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনায় ইউনিয়ন পরিষদগুলোর আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো অপরিহার্য। বাজেট ও পরিকল্পনায় নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে; যাতে স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সমাধান তৈরি হয়। ইউনিয়ন পরিষদগুলো যদি শক্তিশালী ও সম্পদসক্ষম হয়, তবে মানুষ গ্রামেই টেকসই জীবিকা গড়ে তুলতে পারবে। ফলে শহরমুখী অভিবাসন কমে যাবে এবং দেশ আরও জলবায়ু সহনশীল ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাবে।
শাহেদ মুহাম্মদ আলী
পুরো আলোচনার সারমর্ম করলে বলা যায়, আমাদের অর্থবছরের বাজেট ইউনিয়ন পর্যায় থেকে হওয়া উচিত। বাজেটটা ইউনিয়ন থেকে হলে অনেক কাজ করা যাবে। কারণ, এতে অপচয় কমে যাবে। আমাদের সামাজিক সুরক্ষায় যে ব্যয় হয়, তার চাহিদা ইউনিয়ন পর্যায় থেকে আসবে। তাতে সঠিক সংখ্যাটা জানা যাবে। ফলে বরাদ্দের জটিলতা কমবে, স্বচ্ছতা বাড়বে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো–স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক সংগঠন (সিএসও) এবং কমিউনিটিবেজড অর্গানাইজেশন (সিবিও) নানা ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হয়।
স্থানীয় রাজনীতিবিদরা তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী বলে মনে করেন। এই সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন। সবার আগে আমাদের যেটি করতে হবে, সেটি হলো রাজনৈতিক নেতাদের কীভাবে এই বিষয়ে সংবেদনশীল করে তোলা যায়, তার পথ বের করা।
এই আলোচনায় আরেকটি বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে তা হলো–উন্নয়নের প্রতিটি বিষয়ে জলবায়ুকে যুক্ত করা, অর্থাৎ আমাদের উন্নয়ন নীতিমালাকে জলবায়ুর সঙ্গে যুক্ত করা উচিত। কীভাবে সব অবকাঠামো উন্নয়নকে জলবায়ুবান্ধব করতে পারি, তা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। জলবায়ুর বিষয়টি উপকূল থেকে বের করে নিয়ে আসতে হবে। উত্তরবঙ্গে যে খরা হচ্ছে, তা জলবায়ু পরিবর্তনের বাইরে নয়। সুতরাং উপকূল থেকে বেরিয়ে এসে জলবায়ুকে সর্বজনীন করতে হবে। তা হলেই এর জন্য সঠিক পরিকল্পনা করা সম্ভব হবে।
সুপারিশ
ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। প্রয়োজনে পুনর্গঠন করতে হবে।
স্থানীয় পর্যায়ে বাজেট বাড়াতে হবে। উন্নয়ন বাজেটের বিকেন্দ্রীকরণ হতে হবে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগকবলিত অঞ্চলগুলোর জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখতে হবে।
প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য অভিযোজন এবং প্রশমনের ম্যাপিং করতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে সরকার বা অন্যান্য সংস্থার পাশাপাশি মানুষের নিজস্ব খরচও ম্যাপিং করা প্রয়োজন।
জলবায়ুবিষয়ক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিক নেতাদের সংযুক্ত করতে হবে।
জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় শুধু অনুদানের ওপর নির্ভর না করে সঠিকভাবে অর্থায়নও করতে হবে, যাতে জিডিপিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
আলোচক
মোহাম্মদ খলিলুর রহমান
যুগ্ম সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগ
বরুণ চন্দ্র বিশ্বাস
উপপরিচালক, মৎস্য অধিদপ্তর
মোহাম্মদ মাহমুদ হোসেন
উপপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর
মোহাম্মদ যোবায়ের হাসান
উপনির্বাহী পরিচালক, ডর্প
শাহরিয়ার মান্নান
প্রোগ্রাম হেড (ভয়েস, ইনক্লুসন অ্যান্ড কোহেসন) হেলভেটাস বাংলাদেশ
মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান
প্রোগ্রাম হেড (ওয়াটার, ফুড অ্যান্ড ক্লাইমেট)
হেলভেটাস বাংলাদেশ
এ. কে. এম আজাদ রহমান
প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর, ইউএনডিপি
এস এম এমরান আলী
সচিব, পানখালী ইউনিয়ন পরিষদ, দাকোপ, খুলনা
শিবানী সরদার
সদস্য, সিএসও নেটওয়ার্ক, দাকোপ, খুলনা
মো. রবিউল ইসলাম
সদস্য, সিএসও নেটওয়ার্ক, মোংলা, খুলনা
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন
শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান
উপদেষ্টা, সিএনআরএস
প্রকল্প উপস্থাপন
দেবাশীষ কুমার ঘোষ
প্রকল্প সমন্বয়ক, ইভলভ্, সিএনআরএস
সঞ্চালনা
মাহিউল কাদির
হেড অব বিজনেস ডেভেলপমেন্ট, সিএনআরএস
সভাপতি
শাহেদ মুহাম্মদ আলী
সম্পাদক, সমকাল
অনুলিখন
মাজহারুল ইসলাম রবিন
স্টাফ রিপোর্টার, সমকাল
সমন্বয়
হাসান জাকির
হেড অব ইভেন্টস, সমকাল
আদিবাসী পোশাকে ফিউশন
Summary: আদিবাসী বিভিন্ন ব্র্যান্ডের উদ্যোক্তা নিজেদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ফ্যাশনসচেতন বাঙালি এবং বিশ্বদরবারে ছড়িয়ে দিতে কাজ করে যাচ্ছেন। পোশাকে করছেন ফিউশন। ঐতিহ্যবাহী পিনন, কোমর তাঁতে বোনা ফেব্রিক দিয়ে তৈরি করছেন টপস, কাফতান, সালোয়ার-কামিজ, শাড়ি, কুর্তি, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, ব্লেজারসহ নানান কিছু; যেখানে থাকছে আদিবাসী মোটিফ, জ্যামিতিক প্যাটার্ন, প্রকৃতি ও পাহাড়ি সংস্কৃতির ছোঁয়া।
চোখ বন্ধ করে একবার ভাবুন তো পাহাড়ি পাথুরে পথে হেঁটে যাচ্ছেন কোনো পাহাড়ি তরুণী। সামনে ভেসে উঠবে এক অসাধারণ প্রতিচ্ছবি। হয়তো তাঁর পরনে থাকবে থামি কিংবা পিনোন-হাদি। কাঁধে ঝোলানো থাকবে বাঁশের ঝুড়ি। আদিবাসী পোশাক মানেই অন্যরকম। তাদের সংস্কৃতি, ভাষা, পোশাক, জীবনযাপন সবকিছুর আলাদা কদর রয়েছে। সমতলের বাঙালি হৃদয়েও জায়গা করে নিয়েছে তাদের পোশাক। ঐতিহ্যবাহী এসব পোশাক বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে গেছে। অনেক বাঙালি পাহাড়ে বেড়াতে গেলে তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক কেনেন। ঢাকার রাস্তায়ও অনেককে পাহাড়ি ফেব্রিকের পোশাক পরা অবস্থায় দেখা যায়। আদিবাসী বিভিন্ন ব্র্যান্ডের উদ্যোক্তা নিজেদের পোশাক পাহাড় ও সমতলের ফ্যাশনসচেতন মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে কাজ করে যাচ্ছেন। পোশাকে করছেন ফিউশন। ঐতিহ্যবাহী ফেব্রিক দিয়ে তৈরি করছেন টপস, কাফতান, সালোয়ার-কামিজ, শাড়ি, কুর্তি, পাঞ্জাবি, ব্লেজারসহ নানা কিছু।
পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পোশাক নিয়ে কাজ করে রাঙামাটির ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘দ্য ফেইরি টেল’। পিনন-হাদি, রীনাই-রিসা, থামি ইত্যাদির পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী পোশাকের অনুপ্রেরণায় তৈরি আধুনিক ফিউশন পোশাক যেমন পিনন স্কার্ট, ড্রেপড পিনন সেট, গাউন ইত্যাদি পাওয়া যায়। আধুনিক থিম নিয়ে দেশীয় পোশাক যেমন–শাড়ি, কামিজ, কুর্তি, পাঞ্জাবি, ফতুয়া ইত্যাদিও পাওয়া যায় ‘দ্য ফেইরি টেল’-এ। ফ্যাশন ব্র্যান্ডটিতে রয়েছে বিয়ের পোশাকও। নারীর ট্র্যাডিশনাল ব্রাইডাল সেট, এথনিক টাচ গাউন, শাড়ি, লেহেঙ্গা এবং পুরুষের ট্রাইবাল কুর্তা, জ্যাকেট সেট, পাঞ্জাবি, ওয়েস্ট কোট, ধুতি–এসব ব্রাইডাল ও সেরেমনিয়াল পোশাক পাওয়া যায়।
‘দ্য ফেইরি টেল’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর মিশি চাকমা বলেন, ‘আমার উদ্যোগের মূল প্রেরণা নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ফ্যাশনের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপন করা এবং আদিবাসী নারীর শিল্প, পরিশ্রম ও নান্দনিকতাকে সম্মানজনকভাবে তুলে ধরা। প্রায় ১২ বছর ধরে এ কাজটি করে যাচ্ছি। পোশাক তৈরিতে আমরা সবসময় আরামদায়ক ও মানসম্পন্ন ফেব্রিক ব্যবহারে বিশ্বাসী।’
ঐতিহ্যবাহী পোশাকের পাশাপাশি বিভিন্ন ফিউশনধর্মী পোশাক নিয়ে কাজ করে রাঙামাটির আরেক ফ্যাশন ব্র্যান্ড মিজেল হজাল। ব্র্যান্ডটিতে পিনোন-হাদি, থামি, শাড়ির পাশাপাশি পাওয়া যায় কুর্তি, সালোয়ার-কামিজ, থ্রিপিস, টুপিস, সিঙ্গেল কামিজ, কাফতান, টপস, ফতুয়া, ম্যাক্সি, শার্ট, পাঞ্জাবি ইত্যাদি। নিজস্ব ফেব্রিকে বোনা প্রায় প্রতিটি পোশাকে থাকে ঐতিহ্যবাহী নকশা ও থিম। বাঙালি ও আদিবাসী–সবার পছন্দ মাথায় রেখে পোশাকে নতুনত্ব আনেন ব্র্যান্ডটির স্বত্বাধিকারী তরী চাকমা।
তরী চাকমা বলেন, ‘আমাদের সংস্কৃতিকে তুলে ধরা এবং নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য পোশাকের নকশায় বেশি প্রাধান্য দিই। কালো ও লাল আমাদের ঐতিহ্যবাহী রং। এখন যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পোশাকে বিভিন্ন রঙের সংমিশ্রণ নিয়ে নিরীক্ষা করা হয়। বিভিন্ন পোশাকে ফ্লাওয়ার প্যাটার্নের লেস যুক্ত করি বৈচিত্র্য আনার জন্য। এগুলো প্রতিদিন পরা যায়, আবার ফিউশন যোগ হয়। সেই সঙ্গে এগুলো ট্র্যাডিশনাল পার্টের অংশ।’
ফেব্রিক
‘দ্য ফেইরি টেল’-এর পোশাকে ব্যবহৃত হয়–কটন, সিল্ক, লিনেন, ক্যাশমিলন, মসলিন, নেট ও হ্যান্ডওভেন ফেব্রিক। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত এবং মূল উপকরণ হচ্ছে স্থানীয় নারী বুননকর্মীদের কোমর তাঁতে বোনা রেয়ন সিল্কের হ্যান্ডলুম। মিশি বলেন, ‘আমরা সবসময় চেষ্টা করি আমাদের পোশাকের সঙ্গে যেন আদিবাসী ঐতিহ্যের ছোঁয়া বজায় থাকে।’ মিজেল হজালের পোশাক তৈরিতে কটন, লিনেন, হ্যান্ডওভেন ফেব্রিকের পাশাপাশি কোমর তাঁতে বোনা বিভিন্ন ফেব্রিক ও লেইস ব্যবহৃত হয়। পোশাকের ভ্যালু বাড়াতে বাটিক, এমব্রয়ডারি, জারদৌসি কাজও করা হয়।
পোশাকের নকশা, প্যাটার্ন ও থিম
আমাদের প্রতিটি নকশা মূলত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গল্প বলে। প্যাটার্নে দেখা যায়, আদিবাসী মোটিফ, জ্যামিতিক প্যাটার্ন, প্রকৃতি ও পাহাড়ি সংস্কৃতির রঙিন ছোঁয়া। নকশার থিম সাধারণত ‘মডার্ন রুটস’ ধারণা থেকে অনুপ্রাণিত– যেখানে শিকড়ের ঐতিহ্য আধুনিক রুচির সঙ্গে মিশে যায়। আমাদের বিয়ের পোশাকের থিম সাধারণত ‘এথনিক রয়ালটি’, যেখানে ঐতিহ্যবাহী মোটিফ, কারচুপি-জারদৌসি ও হ্যান্ড এমব্রয়ডারির সঙ্গে থাকে সমসাময়িক সিলুয়েট ও লাক্সারি ফিনিশ–বলেন মিশি চাকমা।
বাঙালি ও ওয়েস্টার্ন ফিউশন
আদিবাসী পোশাকে বাঙালি ও ওয়েস্টার্ন ফিউশন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মিশি চাকমা বলেন, ‘দ্য ফেইরি টেল বিশ্বাস করে যে ঐতিহ্য মানে কেবল অতীতে থাকা নয়, বরং সেটিকে সময়ের সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া। আমরা আদিবাসী পোশাকের রং, নকশা ও বুনন বজায় রেখে দেশীয় ও ওয়েস্টার্ন স্টাইলের ফিউশন তৈরি করি। যেমন–পিনন দিয়ে তৈরি গাউন-লেহেঙ্গা, ট্রাইবাল মোটিফ ব্লেজার, পাঞ্জাবি ইত্যাদি তৈরি করি। এভাবে ঐতিহ্য ধরে রেখেও আধুনিক ফ্যাশনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন রূপে উপস্থাপন করা হয়।’
পিনন, টাঙ্গাইল, মণিপুরি কাপড় ও কোমর তাঁতের ফেব্রিকের ওপর ভিত্তি করে ডিজাইনার তেনজিং চাকমা কামিজ, টপস, কুর্তি, ফ্রক, জ্যাকেট, ক্রপটপ তৈরি করেন। সেসব পোশাকে থাকে নানা নিরীক্ষা। কালো, সাদা, লাল, হলুদ, মাস্টার্ড ইয়েলো, নীল, ম্যাজেন্টা, কলাপাতা, টিয়া, ল্যাভেন্ডার, সবুজসহ বিভিন্ন রঙের পোশাকের সংগ্রহ থাকে তাঁর ব্র্যান্ড সজপদরে।
দরদাম
ব্র্যান্ডভেদে আদিবাসী পোশাকের দাম ভিন্ন। মিজেল হজালের হ্যান্ডলুমের পোশাকের দাম ৬০০ থেকে আড়াই হাজার টাকা। এগুলো তাঁতিরা তৈরি করেন। একসঙ্গে অনেক কাপড় তৈরি করা যায় বলে দাম তুলনামূলক কম। তবে ব্যাকস্ট্র্যাপ লুমে যে পোশাকগুলো বোনা হয়, সেগুলোর দাম বেশি হয়। এগুলো তৈরিতে অনেক সময় লাগে। অনেক ধাপ পাড়ি দিতে হয়। ফ্লাওয়ার প্যাটার্ন, নকশা ইত্যাদির ওপর নির্ভর করে দাম নির্ধারিত হয়। দাম সাধারণত পাঁচ হাজার থেকে ২৫-৩০ হাজারও হয়ে থাকে। ‘দ্য ফেইরি টেল’ থেকে কুর্তি তিন হাজার, কামিজ ছয় হাজার, পাঞ্জাবি-ফতুয়া দুই হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার ৫০০, ব্লেজার ১০ হাজারের বেশি দামে কেনা যাবে। ব্রাইডাল সেটের দাম পাঁচ হাজার থেকে শুরু হয়ে ৮০ হাজার হয়ে থাকে। ট্র্যাডিশনাল পোশাকের দাম (পিনন-হাদির) ১০ হাজার ৫০০ থেকে শুরু হয়। মডেল: জয়ী ও শায়েরী। পোশাক ও ছবি: দ্য ফেইরি টেল
রুক্ষ চুলের ঘরোয়া যত্ন
Summary: ঘন কালো ঝলমলে চুলে বাঙালি নারী হয়ে ওঠেন সৌন্দর্যের অনন্য মূর্তি। সুন্দর চুলের নারী দেখলেই মনে উঁকি দেয় জীবনানন্দের বিখ্যাত ও বহুল চর্চিত লাইন–‘চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা...।’ বাংলা সাহিত্যে প্রেম ও রহস্যের প্রতীক হিসেবে চুলকে বর্ণনা করা হয়েছে। নারীর সৌন্দর্যের অনন্য অংশ চুলের ব্যাপারে তাই এক চুলও ছাড় নয়! তবে আবহাওয়ার মর্জি বুঝে চুলের সৌন্দর্য রক্ষায় থাকতে হবে সদা সচেতন।
শীত আসি আসি করছে। ঋতু বদলের এ সময় চুলে লাগে পরিবর্তনের হাওয়া। চুল হয়ে যায় রুক্ষ, প্রাণহীন। রুক্ষ চুল ঝরেও বেশি। চুল পড়া রোধ ও রুক্ষতা দূর করতে এ সময় প্রয়োজন হয় বাড়তি যত্নের।
ঘরোয়া যত্নআত্তি: রুক্ষ চুলে প্রাণ ফেরাতে স্কাল্প ও পুরো চুলে তেল ম্যাসাজ করতে হবে। রূপবিশেষজ্ঞ ফারহানা রুমি জানান, তেল হলো চুলের খাবার। তাই রুক্ষ চুলের যত্নে এর বিকল্প নেই। চুলে প্রাণ ফেরাতে নারকেল তেল কুসুম-গরম করে মাথার তালু ও চুলে ম্যাসাজ করুন। ২০ মিনিট রেখে চুল শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে নিন। চাইলে অলিভ অয়েলও ব্যবহার করতে পারেন। তেল প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে। তাই আলাদা কন্ডিশনার ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না। তেল লাগিয়ে শ্যাম্পু করার পর ঝলমলে চুলের সঙ্গে মনও হবে ফুরফুরে।
ডিমের সাদা অংশ, এক চা চামচ মধু ও লেবুর রস এবং দুই চা চামচ টকদই মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এ প্যাকটি চুল ও মাথার ত্বকে ভালো করে লাগিয়ে রাখুন অন্তত ৩০-৪০ মিনিট। শ্যাম্পু করার পর দেখবেন চমক। এটি ব্যবহারে চুল হয় মাখনের মতো নরম ও কোমল। মাসে দুবার এ প্যাকটি লাগাতে পারেন। চুল অনুযায়ী উপাদানগুলোর পরিমাণ কমিয়ে-বাড়িয়ে নিতে পারেন।
অ্যালোভেরার জেল পাতা থেকে বের করে সরাসরি চুলে লাগান। ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। অ্যালোভেরার জেল তাৎক্ষণিক চুলকে ঝরঝরে ও প্রাণবন্ত করে।
কলা চটকে পুরো চুলে লাগিয়ে রাখুন অন্তত ২০ মিনিট। পাকা কলা চুলের আগা ফাটা দূর করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া এই প্যাকটি চুল রেশমি করতেও কার্যকর ভূমিকা রাখে। কলা আঠালো প্রকৃতির হওয়ায় প্রথমে বেশি পানি দিয়ে ধুয়ে নেবেন। পরে শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন।
আমলকী ও মেথির পেস্ট ৩০ মিনিট চুলে রেখে শ্যাম্পু করুন। এই ঘরোয়া প্যাকটি চুলে প্রাণ ফিরিয়ে আনতে দারুণ কার্যকর। মেথি চুল ঝলমলে করে। অন্যদিকে আমলকী চুলের গোড়া মজবুত করে। চুল পড়া বন্ধ করতে আমলকীর জুড়ি নেই।
চুলকে ময়েশ্চারাইজ করতে মেয়নেজও ব্যবহার করতে পারেন। আধা কাপ মেয়নেজ কুসুম গরম করে চুলে লাগান। ৪০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এতে চুলের রুক্ষ ভাব দূর হবে এবং চুল হবে ঝরঝরে। চুলের রুক্ষতা দূর করতে মেহেদি প্যাকও ব্যবহার করতে পারেন। বাজারে এখন বিভিন্ন ধরনের মেহেদি পাওয়া যায়। সেগুলোর প্যাক বানিয়ে ১ ঘণ্টা রেখে ধুয়ে ফেললেও চুল অনেক কোমল ও ঝরঝরে হয়ে ওঠে।
শীত আসার আগের সময়ে প্রচুর চুল পড়ে। তাই শুধু ঝলমলে চুল নয়, নতুন চুল গজাতেও করতে হবে পরিচর্যা। পরিষ্কার চুলে পেঁয়াজের রস লাগিয়ে রাখুন ঘণ্টাখানেক। বেশি পানি দিয়ে শ্যাম্পু করুন। শ্যাম্পুর সঙ্গে সামান্য লেবুর রস যোগ করে নেবেন। এতে পেঁয়াজের রসের যে কটু গন্ধ সেটি দূর হয়ে যাবে। পেঁয়াজের রসে সালফার ও অন্যান্য উপকারী উপাদান আছে। তাই এটি নতুন চুল গজাতে কার্যকর।
প্রতিটি পদ্ধতি সপ্তাহান্তে বা মাসে দুবার ব্যবহার করতে পারেন। তবে যে কোনো প্যাক ব্যবহারের আগে অবশ্যই চুল পরিষ্কার করে নেবেন। চুল বা মাথার ত্বক অপরিষ্কার থাকলে কোনো পদ্ধতিই কাজে লাগবে না।
স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল পেতে চাইলে কেমিক্যালযুক্ত হেয়ার ট্রিটমেন্ট পরিহার করতে হবে। এড়িয়ে চলতে হবে অতিরিক্ত তাপ ও ধুলোবালি। বিশেষ করে ইলেকট্রনিক হেয়ার ড্রায়ার ও স্ট্রেইটনারের ব্যবহার কমাতে হবে। দুই মাস অন্তর চুলের আগা কাটতে হবে। প্রচুর পানি পান চুলের স্বাস্থ্য রক্ষায় ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে হবে। শুধু পরিচর্চাই যথেষ্ট নয়, খাদ্য তালিকাও রাখতে হবে পুষ্টিসমৃদ্ধ। ডিম, বাদাম, মাছ, শাকসবজি এবং ভিটামিন-সি জাতীয় ফল চুলের জন্য উপকারী। এসব খাবারে প্রোটিন, ভিটামিন-সি, আইরন, ওমেগা ফ্যাটি এসিড ও বায়োটিন থাকে; যা চুল বড় করে এবং চুলকে করে ঝলমলে, ঘন ও মজবুত।
টরন্টোর বিস্ময়-সন্ধ্যা
Summary: বিমান যখন নামছে টরন্টো পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে, জানালার কাচঘেঁষে তাকিয়ে দেখি শহরের বুক চিরে দাঁড়িয়ে আছে এক সুউচ্চ দানব! রোদে ঝলমল করছে ধাতব দেহ, মাথায় মেঘের ছায়া। হঠাৎ মনে হলো, এই কি সেই বিখ্যাত সিএন টাওয়ার? যাকে বলা হয় কানাডার গর্ব, টরন্টোর প্রাণ। ছবিতে আগেই দেখেছি স্থাপনাটি। সে কারণে কিছুটা ধারণা করতে পারছিলাম এটিই সেই সিএন টাওয়ার।
টাওয়ারের প্রথম দেখা
সিএন টাওয়ারটি কেবল ইস্পাত, কাচ আর কংক্রিটের স্তম্ভ নয়–এটিকে বলা হয় টরন্টোর আত্মা। স্থানীয়রা বলে, ইফ ইউ হ্যাভন’ট সিএন টাওয়ার, ইউ হ্যাভন’ট সিএন টরেন্টো। প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক এখানে আসেন–কেউ পরিবারের সঙ্গে, কেউ প্রিয়জনের হাত ধরে, কেউবা নিঃসঙ্গ ভ্রমণকারী হয়ে নিজের মনের প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে। ফিরে যান একরাশ মুগ্ধতা নিয়ে। টরন্টোতে নেমে একদিন বিশ্রাম শেষে প্রথমেই পরিকল্পনায় ছিল সিএন টাওয়ার দেখার। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়া। লেক অন্টারিওর তীর ধরে হাঁটতে হাঁটতে দূর থেকে যখন টাওয়ারটি চোখে পড়ল, তখন মনে হলো, যেন আকাশ ছুঁয়ে থাকা কোনো জাহাজের মাস্তুলকে দেখছিলাম। কাছাকাছি আসতেই মাথা ঘুরে যায়–এত উঁচু! ৫৫৩ মিটার বা এক হাজার ৮১৫ ফুট। ওপরের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে ঘাড়-মাথা ব্যথা হওয়ার উপক্রম। তবে বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে থাকা শেষ হয় না। ১৯৭৬ সালে নির্মিত এই টাওয়ার একসময় ছিল বিশ্বের সর্বোচ্চ মানবনির্মিত স্থাপনা। যদিও এখন দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা সেই খেতাব ছিনিয়ে নিয়েছে। তবুও টরন্টোবাসীর গর্বে কোনো ঘাটতি নেই। বিশ্বের অন্যতম আধুনিক এ শহরটিতে পা রাখলেই কেউ আকাশের দিকে তাকিয়ে সিএন টাওয়ারের প্রশংসা করতে ভোলেন না; যেন শহরের হৃদয়ে গভীরভাবে খোদাই করা একটি গর্বিত প্রতীক এটি। স্কাইপড পর্যবেক্ষণ ডেক থেকে টরন্টোর বিশাল লেক অন্টারিও পর্যন্ত বিস্তৃত প্যানোরামিক দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ পাওয়া যায় এ টাওয়ারটি থেকে; যেখান থেকে জলের পৃষ্ঠটি একটি বিশাল আয়নার মতো লাগে।
ইতিহাসের আকাশছোঁয়া অধ্যায়
সত্তরের দশকের প্রথম দিকে কানাডিয়ান ন্যাশনাল রেলওয়ে কোম্পানি টাওয়ারটি নির্মাণ করে তাদের যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রতীক হিসেবে। নামের শুরুতে থাকা সিএন আসলে সেই কানাডিয়ান ন্যাশনালের সংক্ষিপ্ত রূপ। তারা চেয়েছিল এমন একটি টাওয়ার গড়ে তুলতে, যা শুধু টেলিযোগাযোগ নয়, কানাডার উদ্ভাবনী শক্তিরও প্রতীক হবে। ১৯৭৩ সালে শুরু হয়ে মাত্র ৪০ মাসে শেষ হয় এর নির্মাণকাজ। বিষয়টি আরেকটু মনোযোগ দিয়ে ভাবলে অবাক নয়–বিস্ময় জাগানিয়া প্রশ্ন উঠবে মনে। সেই সময়ের প্রযুক্তিতে কত সাহস আর পরিশ্রমের কাজ ছিল এটি; যা হয়তো অনেক দেশ কল্পনাও করতে পারত না। ফলে টাওয়ারটি আজ হয়ে আছে বিস্ময়ের প্রতীক হয়ে।
লিফটে চড়ে স্বপ্নের উচ্চতায়
টাওয়ারে প্রবেশ করতে মনে হলো যেন কোনো ভবিষ্যতের জগতে ঢুকে পড়েছি। ভেতরের কাচের লিফট যখন এক ঝটকায় ওপরে উঠতে শুরু করল, তখন বুকের ভেতরটা ধকধক করছে। ভয় জাপটে ধরছিল পুরো শরীরকে। সেই সঙ্গে রোমাঞ্চও। মাত্র ৫৮ সেকেন্ডে আমরা পৌঁছে গেলাম অবজারভেশন ডেকে। মানে প্রায় ৪৪৭ মিটার ওপরে! নিচে তাকাতেই মাথা ঘুরে গেল। বিশ্বাস হচ্ছিল না পৃথিবী থেকে এত উচ্চতায় আমি। পুরো শহরটা যেন একটা ছোট মানচিত্রের মতো লাগল। গাড়িগুলো পিঁপড়ের মতো ছুটছে, লেক অন্টারিও ধরা দিচ্ছে এক বিশাল আয়নার মতো হয়ে। টাওয়ারের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা ছিল গ্লাস ফ্লোর; যার মেঝে পুরোটা কাচের তৈরি। ওপর থেকে তাকালে প্রায় দেড় হাজার ফুট দূরে মাটি। প্রথমে পা রাখতে ভয় লাগছিল, মনে হচ্ছিল যে কোনো মুহূর্তে নিচে পড়ে যাব, গ্লাস ভেঙে নেহাত দুর্ঘটনার শিকার হবো। যখন বুঝলাম এটি ১৪ সেন্টিমিটার পুরু, ইস্পাতের চেয়েও শক্ত, তখন সাহস করে দাঁড়ালাম। সেই মুহূর্তে মনে হলো, আমি যেন আকাশে ভাসছি– একটা পাখি, যার নিচে শহর, লেক, নদী আর হাজার হাজার মানুষ। এখানে হাঁটার দারুণ অভিজ্ঞতা ভুলতে চাইলেও হয়তো ভুলা সম্ভব নয়। এরপর গেলাম টাওয়ারের বিখ্যাত ৩৬০ রেস্তোরাঁয়। এখানে বসে খাবার খেতে খেতে পুরো শহরকে ধীরে ধীরে ঘুরে দেখা যায়। এক ঘণ্টায় পুরোটা একবার ঘুরে আসে। আমি বসেছিলাম জানালার পাশে। এক পাতে স্যালমন ফিশ আর এক কাপ কানাডিয়ান কফি, সামনে শহরের আলোছায়া, দূরে নীল লেক অন্টারিও; যেন হলিউডের কোনো চলচ্চিত্রের দৃশ্যের মধ্যেই যাপন করছিলাম সময়টা। রেস্তোরাঁর কর্মী হাসিমুখে বললেন, ইউ আর ডাইনিং ইন দ্য স্কাই! সত্যিই আকাশে বসে খাবার খাওয়ার মতো অনুভূতি হয় এখানে।
টাওয়ারের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর আকর্ষণ হলো এজ ওয়াক। এটি পৃথিবীর সর্বোচ্চ হ্যান্ডস-ফ্রি ওয়াকওয়ে। অর্থাৎ আপনি কোনো রেলিং না ধরে ৩৫৬ মিটার ওপরে টাওয়ারের কিনারায় হাঁটতে পারবেন। অবশ্যই সেফটি বেল্ট পরে। আমি শুধু নিচ থেকে দেখছিলাম মানুষগুলোকে–তারা যেন মৃত্যুর সঙ্গে হাসিমুখে খেলা করছে। কিন্তু টাওয়ারের এই কিনারা দিয়ে এভাবে হাঁটার সাহস হয়নি। আবার যদি কোনোদিন আসা হয় এই টাওয়ারের উচ্চতায় হয়তো সেদিন সাহস করে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেব। ভবিষ্যতের জন্য ইচ্ছেকে তুলে রাখলাম।
রাতে অন্যরকম সৌন্দর্য
সন্ধ্যার আগমুহূর্তে যখন সূর্য ধীরে ধীরে পশ্চিমে ঢলে পড়ছিল, তখন টাওয়ারের ওপরের অবজারভেশন ডেকে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে রইলাম। লেক অন্টারিওর জলে রং বদলাচ্ছে আকাশের প্রতিফলন। নিচে নামার সময় মনে হলো, যেন একটা বন্ধুকে ছেড়ে যাচ্ছি। দিনের আলো ম্লান হতে না হতেই সিএন টাওয়ার যেন নতুন সাজে সেজে ওঠে। হাজারো রঙিন আলোয় জ্বলে ওঠে এর দেহ। কখনও লাল, কখনও নীল, কখনও সাদা–কানাডার পতাকার মতোই এর রঙের খেলা। রাতের টরন্টো তখন যেন স্বপ্নের শহর। লেকের পানিতে টাওয়ারের প্রতিফলন পড়ে, হালকা বাতাসে কাঁপে আলো, মনে হয় যেন শহরটা নিজের সৌন্দর্যে হারিয়ে গেছে।
ভাইবোনের সম্পর্কে যখন ঈর্ষা
ভাইবোনের সম্পর্কে যখন ঈর্ষা
Summary: ভাইবোনের সম্পর্ক মানবজীবনের সবচেয়ে গভীর ও আবেগপূর্ণ বন্ধনগুলোর একটি। ছোটবেলা থেকে একসঙ্গে খেলা, ঝগড়া, আদর, মন খারাপ–সব কিছুতেই থাকে অদ্ভুত এক ভালোবাসা। এ সম্পর্কের মধ্যেও অনেক সময় নীরবে জন্ম নেয় ঈর্ষা, যা ধীরে ধীরে ভাইবোনের ভালোবাসাকে ক্ষয় করে ফেলে।
ঈর্ষার সাধারণ কিছু কারণ
অভিভাবকের পক্ষপাতিত্ব: কেউ বেশি আদর বা প্রশংসা পেলে অন্যজন মনে করে সে অবহেলিত।
তুলনামূলক আচরণ: ‘তোমার ভাই বা বোন কত ভালো রেজাল্ট করে!’ এমন কথা অন্যজনের আত্মসম্মানকে আঘাত করে।
সাফল্যের পার্থক্য: একজন সফল হলে অন্যজন নিজেকে অযোগ্য মনে করতে পারে।
সম্পত্তি বা আর্থিক টানাপোড়েন: বড় হয়ে অনেক সম্পর্ক ভাঙে এসব বিষয় নিয়ে।
মনোযোগের অভাব: পরিবারের ভেতরে অবহেলার অনুভূতি ঈর্ষার জন্ম দেয়।
ঈর্ষা যখন সম্পর্কের দেয়াল হয়ে দাঁড়ায়
ঈর্ষা যদি অবচেতনে জমতে থাকে, তখন তা ধীরে ধীরে দূরত্ব তৈরি করে। কথাবার্তা কমে যায়, সম্পর্ক ঠান্ডা হয়ে পড়ে। অনেক সময় পরিবারে স্থায়ী বিভাজনও তৈরি হয়।
বেসরকারি সংস্থা আইডেনটিটি ইনক্লুশের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নাঈমা ইসলাম অন্তরা বলেন, ভাইবোনের প্রতি ঈর্ষা একটি স্বাভাবিক কিন্তু গভীর মনস্তাত্ত্বিক অভিজ্ঞতা, যা শিশুর আত্মবিশ্বাস, আচরণ ও পারিবারিক সম্পর্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। মনোযোগের প্রতিযোগিতা, তুলনা বা অসম আচরণই এর প্রধান কারণ। এর ফলে আত্মসম্মানহানি, রাগ, মানসিক চাপ ও পারিবারিক টানাপোড়েন দেখা দিতে পারে। মনোবিদ অন্তরার মতে, অভিভাবকদের উচিত সব সন্তানকে সমান ভালোবাসা ও মনোযোগ দেওয়া, সন্তানের স্বাতন্ত্র্য স্বীকার করা এবং সহযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করা। নিয়মিত পারিবারিক আলাপ ও যৌথ সময় কাটানো যে কোনো ধরনের সম্পর্ককে দৃঢ় করে তোলে।
উত্তরণের পথ
সচেতনতা, সহানুভূতি এবং খোলামেলা যোগাযোগই পারে ভাইবোনের সম্পর্ককে আবারও দৃঢ় করে তুলতে।
ঈর্ষা অনুভব করাটা স্বাভাবিক বিষয়। এটিকে অস্বীকার না করে বরং বোঝার চেষ্টা করতে হবে কেন এমন অনুভূতি হচ্ছে। যখন কেউ নিজের ভেতরের কারণটি খুঁজে বের করতে পারে, তখন তার পক্ষে সেই অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করা এবং সম্পর্কটিকে ঠিক রাখা অনেক সহজ হয়ে যায়।
পরিবারের একজনের সাফল্য মানেই পুরো পরিবারের সাফল্য–এই বিশ্বাস ধারণ করলে প্রতিযোগিতা নয়, বরং পারস্পরিক অনুপ্রেরণা জন্ম নেয়। এ মনোভাবই সম্পর্কের বন্ধনকে মজবুত করে তোলে।
যদি মনে হয় কেউ বেশি গুরুত্ব বা মনোযোগ পাচ্ছে, তবে রাগ বা অভিমান না করে শান্তভাবে কথা বলা উচিত। খোলামেলা আলোচনা সম্পর্কের দেয়াল ভেঙে একে অপরের প্রতি বোঝাপড়া বাড়ায়। অন্যের সাফল্যে হিংসা না করে প্রশংসা করা শিখতে হবে।
একসঙ্গে সময় কাটানোও সম্পর্ক মজবুত করার অন্যতম উপায়। পুরোনো স্মৃতি মনে করা, পারিবারিক অনুষ্ঠান বা একসঙ্গে কোথাও ঘুরতে যাওয়া–সম্পর্কের বন্ধনকে গভীর করে তোলে। মা-বাবার ভূমিকা এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের ন্যায়সংগত আচরণ ও ভারসাম্যপূর্ণ মনোযোগ সন্তানদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা তৈরি করে। এতে ভাইবোনেরা একে অপরের প্রতিযোগী নয়, বরং সহযোগী হয়ে ওঠে।
মনোবিজ্ঞান বলে–ঈর্ষা কমানোর মূল তিনটি উপায় হলো আত্মবিশ্বাস বাড়ানো, নিজের উন্নতির দিকে মনোযোগ দেওয়া এবং কৃতজ্ঞতার চর্চা করা। যখন একজন মানুষ নিজের প্রতি সন্তুষ্ট থাকে, তখন অন্যের সাফল্যে তাঁর মধ্যে হিংসা নয়, অনুপ্রেরণা জন্মায়।
শুঁটকির তিন পদ
Summary: একই ধরনের খাবার খেতে খেতে একঘেয়ে লাগলে হঠাৎ একদিন শুঁটকি রান্না করুন। ঝাল ঝাল করে শুঁটকি রান্না করলে কিন্তু খেতে বেশ ভালো লাগে। তিন ধরনের শুঁটকির মজাদার রেসিপি দিয়েছেন আফরোজা খানম মুক্তা
লইট্টা শুঁটকি ভুনা
উপকরণ: লইট্টা শুঁটকি ২০০ গ্রাম, পেঁয়াজ কুচি ২০০ গ্রাম, রসুন কুচি ৫০ গ্রাম, কাঁচামরিচ ফালি ৬-৭টা, আদা ও রসুন বাটা ১ চা চামচ, হলুদ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া, ধনিয়া গুঁড়া ১ চা চামচ করে, জিরা গুঁড়া হাফ চা চামচ, লবণ স্বাদমতো, তেজপাতা দুটি, সয়াবিন তেল আধা কাপ।
প্রস্তুত প্রণালি: লইট্টা শুঁটকি শুকনা তাওয়ায় ভেজে গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। সয়াবিন তেল গরম হলে পেঁয়াজ-রসুন কুচি, তেজপাতা লবণ দিয়ে হালকা ভেজে শুঁটকি দিয়ে আরও ৫-৭ মিনিট ভাজুন। পরে আদা রসুন বাটা, হলুদ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া, ধনিয়া গুঁড়া ও সামান্য পানি দিয়ে নেড়েচেড়ে রান্না করুন। তারপর জিরা গুঁড়া, কাঁচামরিচ ফালি দিয়ে আবারও নেড়ে লবণ দেখে নামিয়ে নিন।
ফেউয়া শুঁটকি ভর্তা
উপকরণ: ফেউয়া শুঁটকি ২০০ গ্রাম, শুকনা মরিচ ৪০ গ্রাম, পেঁয়াজ ১৫০ গ্রাম, রসুন ৫০ গ্রাম, লবণ স্বাদমতো, তেজপাতা দুটি, সয়াবিন তেল আধা কাপ, পেঁয়াজ কুচি আধা কাপ, রসুনের কোয়া দুই টেবিল চামচ, আদা ও রসুন বাটা আধা চা চামচ।
প্রস্তুত প্রণালি: শুকনা মরিচ পাটায় মিহি করে বেটে নিন। লবণ, রসুন, পেঁয়াজ বেটে নিন। শেষে ফেউয়া শুঁটকি বেটে রাখুন। কড়াইয়ে সয়াবিন তেল গরম হলে পেঁয়াজ কুচি সোনালি করে ভেজে তেজপাতা আর শুঁটকি বাটা দিয়ে অনবরত নাড়ুন। তেল ভেসে উঠলে গোটা রসুনের কোয়া দিয়ে নেড়েচেড়ে লবণ দেখে নামিয়ে নিন।
মুলা দিয়ে মলা শুঁটকি
উপকরণ: সাদা বা লাল মুলা এক কেজি, পেঁয়াজ কুচি আধা কাপ, রসুন কুচি দুই টেবিল চামচ, পেঁয়াজ কলি এক মুঠ, কাঁচামরিচ ফালি পাঁচ-ছয়টি, মলা শুঁটকি ১০০ গ্রাম, আদা ও রসুন বাটা ১ চা চামচ, হলুদ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া, ধনিয়া গুঁড়া এক চা চামচ, লবণ স্বাদমতো, ধনিয়া পাতা কুচি দুই টেবিল চামচ, সয়াবিন তেল চার টেবিল চামচ, তেজপাতা দুটি।
প্রস্তুত প্রণালি: মলা শুঁটকি শুকনা কড়াইয়ে ভেজে গরম পানিতে ধুয়ে নিন। পরে মুলার খোসা ফেলে গোল করে কেটে নিন। কড়াইতে সয়াবিন তেল গরম হলে পেঁয়াজ কুচি, রসুন কুচি, মলা শুঁটকি আর তেজপাতা দিয়ে দুই-তিন মিনিট ভাজুন। পরে আদা-রসুন বাটা, হলুদ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া, ধনিয়া গুঁড়া, লবণ দিয়ে কষিয়ে নিন। ফুটে উঠলে কাঁচামরিচ ফালি, পেঁয়াজের কলি দিয়ে আরও ৫-৭ মিনিট রান্না করুন। নামানোর আগে ধনিয়া পাতা কুচি ছড়িয়ে লবণ দেখে নামিয়ে নিন।
চলমান সংকটের দায় আসলে কাদের
চলমান সংকটের দায় আসলে কাদের
Summary: রাষ্ট্র সংস্কার তো বটেই; খাতওয়ারি ছোটখাটো সংস্কার নিয়েও রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে। স্রেফ ‘রাজনৈতিক অবস্থান’ দুর্বল হয়ে যাওয়ার শঙ্কায়ও অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোনো দল এমনকি ‘যুক্তিপূর্ণ’ ইস্যুতেও একমত হচ্ছে না। শঙ্কা প্রকাশ না করে দলটি হয়তো তখন আচরণ দিয়ে বুঝিয়ে দেয় তার অবস্থান। সে ক্ষেত্রে কী করা! অন্যরা একত্র হয়ে জোরাজুরি করে তো তাকে রাজি করাতে পারবে না। আর আপত্তি জানানো দলটি যদি হয় মাঠে থাকা সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল; তখন কাজটা প্রায় অসম্ভব।
জুলাই জাতীয় সনদ ঘিরে শেষ পর্যন্ত এমন পরিস্থিতিই সৃষ্টি হয়েছে। এটি নিয়ে গণভোটে সব পক্ষ রাজি হওয়ার পর প্রধান দুই দল সনদে স্বাক্ষর করায় যে স্বস্তি মিলেছিল, তার অনেকটাই মিলিয়ে গেছে এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি ঘিরে। কার্যপরিধির বাইরে গিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতি অনুসন্ধানে নেমে যাওয়াতে সংকট তৈরি হলো কিনা, সে প্রশ্নও তোলা যায়। জুলাই সনদ চূড়ান্ত করে তারা কার্যক্রম শেষ করতে পারতেন। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তারা গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ের অনেকখানি ব্যয় করে ফেলেছেন। অতিরিক্ত সময়ও দেওয়া হয়েছিল সংস্কার প্রশ্নে দলগুলোর মতপার্থক্য কমাতে। দেখা গেল, সংবিধান সম্পর্কিত অনেক সংস্কারে দলগুলো কাছাকাছি এলেও তাতে সন্তুষ্ট হয়নি ঐকমত্য কমিশন। এমনও বলাবলি হচ্ছে, রাজনীতির একটি পক্ষের পছন্দসই সংস্কারে আরেক পক্ষকে বাধ্য করার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে কমিশন। তারা অবশেষে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত বাদ দিয়ে গণভোট আয়োজনের লক্ষ্যে সরকারকে আদেশ জারির সুপারিশ করায় এ অভিযোগ বেশি করে উঠেছে।
বিপুলসংখ্যক রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে দীর্ঘ সংস্কার আলোচনার পর এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়া মোটেও কাঙ্ক্ষিত ছিল না। আলোচনার শুরুতে প্রধান উপদেষ্টা কিন্তু বলেছিলেন, রাজনৈতিক ঐকমত্যের বাইরে তারা নিজে থেকে কিছুই করবেন না। ঘোষিত এ অবস্থান বজায় থাকলে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী টালমাটাল পরিস্থিতিতে অল্প সময়েই প্রধান সংস্কারের বিষয়গুলো চিহ্নিত করে বলে দেওয়া যেত– কোথায় ঐকমত্য আছে আর কোথায় নেই। ঐকমত্যের জায়গাগুলো ধরে বাস্তবায়নের গ্রহণযোগ্য পথেও এগিয়ে যাওয়া যেত। এর বদলে ঐকমত্য কমিশন গঠন করে দীর্ঘ প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে কিছু গুরুতর মতপার্থক্যের প্রশ্নে দলগুলোকে এক জায়গায় আনতে। তাতে সাফল্য একেবারে নেই, তা নয়। তবে এতে সন্তুষ্টি কম। আছে ব্যর্থতা ঘিরে এক প্রকার অসন্তোষ। সংবিধান সংস্কারের সব প্রশ্নে গণঅভ্যুত্থানের পক্ষগুলোকে যেন এ মুহূর্তেই একমত হয়ে নির্বাচনে যেতে হবে। নইলে কিছুই যেন অর্জিত হলো না। এমন মানসিক অবস্থান থেকে সম্ভবত ভিন্নমত বাদ দিয়ে গণভোট আয়োজনের সুপারিশ করেছে ঐকমত্য কমিশন। এর ভেতর দিয়ে রাজনীতির বড় পক্ষটির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে কার্যক্রম শেষ করলেন তারা।
সংস্কারের উদ্যোগ এই প্রথম নেওয়া হলো, তা তো নয়। প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও সংস্কারের সুপারিশ তৈরির আন্তরিক উদ্যোগ নেওয়া হয়। এক-এগারোর পরও রাষ্ট্র সংস্কারে কম উদ্যোগ-আয়োজন পরিলক্ষিত হয়নি। এর ফল সবার জানা। অতঃপর সংস্কারের বিপরীতেই চলেছে দেশ। এর পরিণতিও জানা। এ অবস্থায় ছোটখাটো সংস্কার তো বটেই; রাষ্ট্র সংস্কারও প্রত্যাশিত। মাঠে থাকা কোনো রাজনৈতিক দল কিন্তু এর বিরোধিতা করেনি। সংস্কারের প্রয়োজনে দ্রুত নির্বাচনের দাবি থেকেও দ্রুত সরে এসেছে একটি দল; সুষ্ঠু নির্বাচন হলে যারা ক্ষমতায় যাবে বলে সবার ধারণা। কৌশল ও বাহুবলে দীর্ঘ সময় তাদের ক্ষমতার বাইরে রাখে বিগত সরকার, এটাও অনস্বীকার্য। গণঅভ্যুত্থানের পর তারাও কি সংস্কার আলোচনায় সময় ও শ্রম দিতে দ্বিধা করেছেন? যাদের এখনই ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা কম বা নেই বললেই চলে, তারা ‘বেশি সংস্কার’ চেয়েছেন, তাতেও দোষের কিছু নেই। সমস্যাটা ওখানে যে, সরকার দৃশ্যত তাদের পক্ষ নিয়েছে শুরু থেকে। এর পরিণতিতে ভিন্নমত বাদ দিয়ে বিষয়বস্তু স্থির করে গণভোট আয়োজনের সুপারিশ উৎপাদিত হয়েছে, বললে ভুল হবে না।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গণভোট আয়োজনের প্রশ্নেও তো ঐকমত্য তৈরি হয়েছিল। এর আগে নির্বাচিত সংসদে সিদ্ধান্ত নিয়ে গণভোট আয়োজনের কথা বলছিল একটি পক্ষ। জুলাই সনদের এক প্রকার ‘আইনি ভিত্তি’ তৈরির দাবিতেও তারা সম্মত হয়। কিন্তু এর নাম করে তাদের ভিন্নমত উড়িয়ে দিয়ে অন্য পক্ষের পছন্দমতো প্রস্তাব বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা তৈরির চেষ্টা কি গ্রহণযোগ্য হবে? উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ‘উদ্বেগ’ জানানো হয়েছে সংস্কার সম্পর্কিত কিছু প্রশ্নে রাজনৈতিক মতপার্থক্য রয়ে গেছে বলে। দলগুলোকে অতঃপর বলা হলো নিজেরা আলোচনা করে পারলে সাত দিনের মধ্যে ‘ঐক্যবদ্ধ দিকনির্দেশনা’ দিতে। সরকার নাকি এতে কোনো ভূমিকা রাখবে না। রাজনৈতিক দলগুলো ব্যর্থ হলে পরে সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। সরকারের এমন অবস্থানে শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষও উদ্বিগ্ন হতে পারে। তারা তো জানে, কোন প্রশ্নে কোন দলের কী অবস্থান। দীর্ঘ দর-কষাকষিতেও এসব মতপার্থক্য যায়নি। সরকারেরও এটি ভালো করে জানা। তারপরও সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে হয়তো আরও কিছুটা বাড়তি সময় তারা দিল। নিজেরাও সময় নিল। তবে মনে রাখা প্রয়োজন, ডিসেম্বরের শুরুতেই তপশিল ঘোষণার কথা বলা আছে নির্বাচনের রোডম্যাপে। সংস্কার ঘিরে আরও কালক্ষেপণে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ এ কাজটি যেন পিছিয়ে না যায়।
ক্ষমতাচ্যুতদের অপরাধী অংশের বিচার ও সংস্কারে দৃশ্যমান বা প্রত্যাশিত অগ্রগতি আনার শর্ত দিয়ে নির্বাচন আর পেছানোর সুযোগ কিন্তু নেই। বিচারে কতটা কী অগ্রগতি শেষ পর্যন্ত হবে, সেটি এরই মধ্যে স্পষ্ট। এদিকে ‘অধিকতর সংস্কার’ নিশ্চিত করার চেষ্টায় ‘কম সংস্কার’ও সংকটে পড়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যেসব ‘আশু বাস্তবায়নযোগ্য’ সংস্কার সেরে ফেলা যেত, সে কাজেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। মৌলিক সংস্কারে প্রত্যাশামতো অগ্রগতি আনার চেষ্টায় ব্যস্ত সরকার ছোটখাটো সংস্কারে সময় দিতে পারেনি বোধ হয়! পুলিশেও সংস্কার আনতে পারেনি এক বছরেরও অধিক সময়ে। ব্যাংক খাতের বাইরে অর্থনৈতিক সংস্কারে কোনো বলিষ্ঠ উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি। এ ক্ষেত্রটিতে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঝুঁকিও ছিল না বলা চলে। ঝুঁকিমুক্ত অথচ ব্যাপক মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলো কি তাহলে আকর্ষণ করেনি সরকারকে? দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামে সমাধানযোগ্য এবং এ মুহূর্তে ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোই কি তাহলে আকর্ষণ করেছিল? যা হোক এটা ঘিরে এক প্রকার ‘ষড়যন্ত্রতত্ত্ব’ অবশ্য এখনও উড়ে বেড়াচ্ছে বাজারে।
আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো ‘পিন পয়েন্ট’ করা কিছু ইস্যুর নিষ্পত্তি করতে পারলে তো ভালোই। সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টারা এতে অনানুষ্ঠানিকভাবে ভূমিকা রাখলেও ক্ষতি নেই। গণভোট হলে সেটি একাধিক কারণে জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গেই হতে যাচ্ছে বোধ হয়। সে ক্ষেত্রেও বেশি ‘না’ ভোট পড়ার ঝুঁকি যেন তৈরি না হয়, সেটি ভাবতে হবে সংস্কারে অতিউৎসাহীদের। তেমনটি ঘটলেও সংস্কারের মাধ্যমে গণতন্ত্র মজবুত করার পথ থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থান এ ক্ষেত্রে অসাধারণ সুযোগ তৈরি করেছিল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
হাসান মামুন : সাংবাদিক, কলাম লেখক
বিশ্বায়নের উত্থান ও পতন: কে কার ওপরে থাকবে তার লড়াই চলছে
বিশ্বায়নের উত্থান ও পতন: কে কার ওপরে থাকবে তার লড়াই চলছে
Summary: প্রায় চার শতাব্দী ধরে বিশ্ব অর্থনীতি এমন ক্রমবর্ধমান একীভূতকরণের পথে চলেছে, যা দুটি বিশ্বযুদ্ধেও পুরোপুরি থমকে যায়নি। বিশ্বায়নের এই দীর্ঘ পদযাত্রাকে শক্তি জুগিয়েছে দ্রুত বর্ধনশীল আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ; জাতীয় সীমান্ত পেরিয়ে মানুষের ব্যাপক চলাচল এবং পরিবহন ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে নাটকীয় পরিবর্তন।
অর্থনৈতিক ইতিহাসবিদ জে. ব্র্যাডফোর্ড ডেলং-এর মতে, ১৯৯০ সালে নির্ধারিত হিসাব অনুসারে, ১৬৫০ সালে বিশ্ব অর্থনীতির মূল্য ছিল ৮১.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (৬১.৫ বিলিয়ন ইউরো)। ২০২০ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৭০.৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার (৫৩ ট্রিলিয়ন ইউরো); ৮৬০ গুণ। প্রবৃদ্ধির সবচেয়ে গতিশীল যুগ দুটি সময়ের সঙ্গে মিলে যায়, যখন বিশ্ববাণিজ্য দ্রুততম গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছিল। প্রথমত, ফরাসি বিপ্লবের শেষ ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরুর মধ্যবর্তী ‘দীর্ঘ উনিশ শতক’ সময়ে, তারপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বাণিজ্যের উদারীকরণ প্রসারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ১৯৫০ থেকে ২০০৮ সালের বিশ্বব্যাপী আর্থিক সংকট পর্যন্ত।
এখন এই বিশাল প্রকল্পটি পিছু হটছে। বিশ্বায়নকে এখনও মৃত বলা যাবে না। তবে এটি মৃতপ্রায়। এটি কি উদযাপনের, নাকি উদ্বেগের? আর ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বিশ্বায়নে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টিকারী তাঁর শুল্ক আরোপ হোয়াইট হাউস ছেড়ে চলে গেলে কি চিত্রটি আবার বদলে যাবে? বিশ্বব্যাপী আর্থিক সংকটের সময় ওয়াশিংটনে কর্মরত বিবিসির দীর্ঘদিনের অর্থনীতি-বিষয়ক সংবাদদাতা হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, আমাদের বিশ্বায়নহীন ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত হওয়ার যুক্তিসংগত ঐতিহাসিক কারণ রয়েছে, এমনকি ট্রাম্প ভবন ছেড়ে যাওয়ার পরও।
সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে বিশ্বায়নের প্রতিটি যুগে একটি একক দেশ স্পষ্টত বিশ্বনেতার জায়গা নেওয়ার চেষ্টা এবং সবার জন্য বিশ্ব অর্থনীতির নিয়মকানুন তৈরি করেছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই আধিপত্যবাদী শক্তিটির এসব নিয়ম প্রয়োগ করার সামরিক, রাজনৈতিক ও আর্থিক ক্ষমতা ছিল এবং সম্পদ ও ক্ষমতার কোনো অগ্রাধিকারমূলক পছন্দ না থাকা অন্য দেশগুলোকে তা বোঝানোর সক্ষমতা ছিল।
এখন ট্রাম্পের নেতৃত্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন বিচ্ছিন্নতার দিকে ঝুঁকে পড়ছে, তখন বিশ্বে তার স্থান গ্রহণ এবং অদূর ভবিষ্যতের জন্য মশাল বহন করার জন্য অন্য কোনো শক্তি প্রস্তুত নেই। অনেকের পছন্দ চীন। কিন্তু দেশটি অনেক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, যার মধ্যে রয়েছে সত্যিকারের গ্রহণযোগ্য আন্তর্জাতিক মুদ্রার প্রচলন। আর একদলীয় রাষ্ট্র এবং বিশ্বের নতুন প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা অর্জনে প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেটও এর নেই।
যদিও বিশ্বায়ন সবসময় অনেককে লাভবান করার পাশাপাশি অনেককে ক্ষতিগ্রস্তও করেছে; ইতিহাস সাক্ষী– একটি অ-বিশ্বায়নকৃত বিশ্ব আরও বিপজ্জনক ও অস্থিতিশীল জায়গা হতে পারে। ১৮ শতকের দাস ব্যবসা থেকে শুরু করে ২০ শতকে আমেরিকার মধ্য-পশ্চিমে বাস্তুচ্যুত কারখানার শ্রমিকের ইতিহাস তা দেখিয়েছে। এর সাম্প্রতিকতম উদাহরণটি এসেছে দুই যুদ্ধের মধ্যবর্তী বছরগুলোতে, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯ শতকের আধিপত্যবাদী বিশ্বশক্তি হিসেবে ব্রিটেনের পতনের ফলে বাকি বিশ্বের দায়িত্ব গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়।
১৯১৯ সালের পরের দুই দশক বিশ্ব অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে। শেয়ারবাজারের পতন এবং বিশ্বব্যাপী ব্যাংকিং ব্যর্থতার ফলে ব্যাপক বেকারত্ব ও ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়, যা ফ্যাসিবাদের উত্থানের পাটাতন তৈরি করে। দেশগুলো বাণিজ্য বাধা তৈরি এবং তাদের দেশের রপ্তানি বৃদ্ধির নিরর্থক আশায় নিষ্ফল মুদ্রাযুদ্ধ শুরু করে। ফলে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য তীব্রভাবে হ্রাস পায়। বিপরীতে বিশ্বব্যাপী প্রবৃদ্ধি স্থবির হয়ে পড়ে।
এক শতাব্দী হতে চলল আমাদের বিশ্বায়নের অধঃপতন আবারও ঝুঁকিতে। কিন্তু আমরা একই রকম বিশৃঙ্খল ও অস্থিতিশীল ভবিষ্যতের মুখোমুখি হচ্ছি কিনা, সেটি নির্ধারণে আমাদের প্রথমে এই বিস্ময়কর বৈশ্বিক প্রকল্পের জন্ম, বৃদ্ধি এবং আসন্ন পতনের কারণগুলো অনুসন্ধান করতে হবে।
ফরাসি মডেল: বাণিজ্যবাদ, অর্থ ও যুদ্ধ
১৬ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ফ্রান্স ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। আর ফরাসিরাই প্রথম তত্ত্ব তৈরি করেছিল, কীভাবে বিশ্ব অর্থনীতি তাদের পক্ষে কাজ করতে পারে। প্রায় চার শতাব্দী পরে ট্রাম্পের মার্কিন প্লেবুক দ্বারা বেনিয়াতন্ত্রের অনেক দিক পুনরুজ্জীবিত হয়েছে, যার শিরোনাম হতে পারে– ‘আপনার প্রতিদ্বন্দ্বীদের দুর্বল করে বিশ্ব অর্থনীতিতে আধিপত্য বিস্তার’।
ফ্রান্সের বেনিয়াতন্ত্রের সংস্করণটি এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল– একটি দেশের উচিত অন্য দেশগুলো তাদের কাছে কতটা বিক্রি করতে পারে তা সীমিত করার জন্য বাণিজ্য বাধা তৈরি করা। একই সঙ্গে নিজস্ব শিল্পকে শক্তিশালী করা, যাতে নিশ্চিত করা যায় দেশে অর্থ (স্বর্ণ আকারে) বেশি পরিমাণে আসে, যা দেশ ছেড়ে যায় তার চেয়ে বেশি।
ইংল্যান্ড ও হল্যান্ড ইতোমধ্যে এ ধরনের কিছু বাণিজ্যিক নীতির ভিত্তিতে একচেটিয়া শক্তিশালী বাণিজ্য কোম্পানির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে উপনিবেশ স্থাপন করেছিল। এর লক্ষ্য ছিল স্প্যানিশ সাম্রাজ্যকে চ্যালেঞ্জ এবং দুর্বল করা, যা আমেরিকায় জব্দ করা স্বর্ণ এবং রুপা নিয়েই তারা সমৃদ্ধ হয়েছিল। এই ‘সমুদ্রবাহিত সাম্রাজ্য’র বিপরীতে চীন ও ভারতের মতো আগের অনেক বৃহত্তর সাম্রাজ্যের নিজস্ব রাজস্ব তৈরির জন্য অভ্যন্তরীণ উৎস ছিল, যা দিয়ে তারা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যুক্ত ছিল, যদিও তা ব্যাপক সমৃদ্ধির জন্য যথেষ্ট ছিল না।
ফ্রান্সে প্রথম সরকারি নীতিমালায় বেনিয়াতন্ত্র
ফ্রান্সই প্রথমবারের মতো সরকারি নীতিমালার পুরোটায় পদ্ধতিগতভাবে বেনিয়াতন্ত্র প্রয়োগ করে, যার নেতৃত্বে ছিলেন দাপুটে অর্থমন্ত্রী জিন-ব্যাপটিস্ট কোলবার্ট (১৬৬১-১৬৮৩)। রাজা চতুর্দশ লুই ফরাসি রাষ্ট্রের আর্থিক দিক শক্তিশালী করতে কোলবার্টকে অভূতপূর্ব ক্ষমতা প্রদান করেছিলেন। কোলবার্ট বিশ্বাস করতেন, বাণিজ্য রাষ্ট্রের কোষাগারকে শক্তিশালী এবং ফ্রান্সের অর্থনীতিকে বলিষ্ঠ করবে; একই সঙ্গে তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের দুর্বল করে দেবে। তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্রের ভেতরে অর্থের অনুপস্থিতি বা প্রাচুর্যই কেবল তার মহিমা ও ক্ষমতার পার্থক্য তৈরি করে।
কোলবার্টের অধীনে ফ্রান্স সুরক্ষাবাদের পথিকৃতের ভূমিকা রেখেছিল। বিদেশি পণ্যের দাম বাড়িয়ে আমদানি শুল্ক তিন গুণ করে। একই সঙ্গে তিনি ভর্তুকি ও একচেটিয়া অধিকার প্রদানের মাধ্যমে ফ্রান্সের দেশীয় শিল্পগুলোকে শক্তিশালী করেছিলেন। মসলা, চিনি ও দাস খাতের মতো অত্যন্ত লাভজনক বাণিজ্য থেকে নিশ্চিতভাবে উপকৃত হওয়ার জন্য ফ্রান্স উপনিবেশ ও সরকারি বাণিজ্য সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিল।
এক শতাব্দীর সংঘাতের পর ব্রিটেন ধীরে ধীরে ফ্রান্সের ওপর আধিপত্য বিস্তার, ভারত জয় এবং ১৭৬৩ সালে সাত বছরের যুদ্ধ শেষে তার শক্তিধর প্রতিদ্বন্দ্বীকে কানাডা ছেড়ে দিতে বাধ্য করে। ফ্রান্স কখনও ব্রিটেনের নৌশক্তি সম্পূর্ণ প্রতিহত করতে পারেনি। ১৯ শতকের গোড়ার দিকে হোরাশিও নেলসনের নেতৃত্বাধীন নৌবহরের কাছে বিশাল পরাজয়ের পর ওয়াটারলুতে ইউরোপীয় জোটের কাছে নেপোলিয়নের পরাজয় ঘটে। এর সঙ্গে ইউরোপের আধিপত্যবাদী শক্তি হিসেবে ফ্রান্স যুগের অবসান ঘটে।
বিশ্বায়নের ফরাসি মডেল বিশ্ব অর্থনীতিতে আধিপত্য বিস্তারের প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হলেও অন্য দেশগুলো এর নীতি গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে পারেনি; যেমনটা আমরা এখন ট্রাম্পকে দেখছি।
ব্রিটিশ মডেল: মুক্ত বাণিজ্য ও সাম্রাজ্য
মুক্ত বাণিজ্যের আদর্শ প্রথম তুলে ধরেন ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথ ও ডেভিড রিকার্ডো, যারা ধ্রুপদি অর্থনীতির প্রতিষ্ঠাতা। তারা যুক্তি দিয়েছিলেন, বাণিজ্য কোনো নিষ্ফল খেলা নয়, যেমনটি কোলবার্ট পরামর্শ দিয়েছিলেন; বরং সব দেশ পারস্পরিকভাবে এর থেকে উপকৃত হতে পারে। স্মিথের ধ্রুপদি পাঠ্য ‘দ্য ওয়েলথ অব নেশনস’ (১৭৭৬) অনুসারে: যদি অন্য কোনো দেশ আমাদের চেয়ে সস্তায় পণ্য সরবরাহ করতে পারে, তাহলে আমাদের নিজস্ব শিল্পের উৎপাদিত পণ্যের কিছু অংশ দিয়ে তাদের কাছ থেকে তা কিনে নেওয়া উচিত, যাতে আমাদের কিছু সুবিধা হয়।
বিশ্বের প্রথম শিল্পোন্নত দেশ হিসেবে ১৮৪০-এর দশকের মধ্যে ব্রিটেন বাষ্পীয় শক্তি, কারখানা ব্যবস্থা ও রেলপথের নতুন প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে একটি অর্থনৈতিক বলয় তৈরি করেছিল। স্মিথ ও রিকার্ডো বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের জন্য রাষ্ট্রীয় একচেটিয়া ব্যবস্থা তৈরির বিরুদ্ধে যুক্তি দিয়েছিলেন। তারা শিল্পে ন্যূনতম রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের প্রস্তাব করেছিলেন। তখন থেকে মুক্ত বাণিজ্যের সুবিধার প্রতি ব্রিটেনের বিশ্বাস অন্য যে কোনো প্রধান শিল্পশক্তির তুলনায় আরও শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী প্রমাণিত। তাদের রাজনীতি এবং জনসাধারণের চিন্তাভাবনা উভয়ের মধ্যেই এটি আরও গভীরভাবে প্রোথিত।
মার্কিন মডেল: সুরক্ষাবাদ থেকে নব্য উদারনীতিবাদ
যদিও ব্রিটেন বিশ্বব্যাপী আধিপত্যের শতাব্দী উপভোগ করেছে; ১৭৭৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র অন্য সব প্রধান পশ্চিমা অর্থনীতির তুলনায় দীর্ঘকাল ধরে সুরক্ষাবাদকে প্রশ্রয় দিয়েছে।
উদীয়মান মার্কিন শিল্পগুলোকে সুরক্ষা এবং ভর্তুকি দেওয়ার জন্য শুল্ক প্রবর্তনের বিষয়টি প্রথম ১৭৯১ সালে নতুন দেশের প্রথম ট্রেজারি সেক্রেটারি, আলেকজান্ডার হ্যামিল্টন, যিনি ছিলেন ক্যারিবিয়ান অভিবাসী এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন– চালু করেছিলেন। হেনরি ক্লে এবং তাঁর উত্তরসূরি রিপাবলিকান পার্টির নেতৃত্বে হুইগ পার্টি– উভয়ই ১০ শতকের বেশির ভাগ সময় ধরে এই নীতির শক্তিশালী সমর্থক ছিল। মার্কিন শিল্প অন্য সবাইকে ছাপিয়ে গেলেও মার্কিন সরকার বিশ্বের সর্বোচ্চ শুল্ক বাধাগুলোর কিছু বজায় রেখেছিল।
১৯ শতকের শেষ দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম ইস্পাত উৎপাদনকারী ছিল, যার সঙ্গে বিশ্বের বৃহত্তম রেল ব্যবস্থা ছিল এবং বিদ্যুৎ, পেট্রোল ইঞ্জিন এবং রাসায়নিকের ওপর ভিত্তি করে দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লবের নতুন প্রযুক্তিগুলো কাজে লাগানোর জন্য দ্রুত অগ্রসর হচ্ছিল। তবুও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী পরাশক্তির ভূমিকা গ্রহণ করে। কারণ এটি ছিল যুদ্ধে লিপ্ত একমাত্র দেশ, যার অর্থনীতি এবং অবকাঠামোর গুরুতর ক্ষতি হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র অনেক বেশি সর্বজনীন এবং নিয়মভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে, এমন একটি বৈশ্বিক সংস্থা তৈরির ওপর জোর দেয়, যা বাধ্যতামূলক নিয়মকানুন প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্বব্যাপী বাজারগুলোকে নিরবচ্ছিন্ন আমেরিকান বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করবে। এর লক্ষ্য ছিল পাউন্ড স্টার্লিংকে বিশ্বব্যাপী বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে মার্কিন ডলার দিয়ে প্রতিস্থাপন করে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক শৃঙ্খলায় আধিপত্য বিস্তার করা।
যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর মার্কিন ডলার, যা এখন তার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য প্রতি আউন্স ৩৫ ডলার একটি নির্দিষ্ট হারে স্বর্ণের সঙ্গে যুক্ত, মুক্ত বিশ্বের প্রধান মুদ্রা হিসেবে ভূমিকা গ্রহণ করে। এটি বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য লেনদেনের জন্য ব্যবহৃত হতো এবং বিদেশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো তাদের মুদ্রার রিজার্ভ হিসাবে ধরে রাখত, যা মার্কিন অর্থনীতিকে ‘অতিরিক্ত সুবিধা’ প্রদান করত। ডলারের স্থিতিশীল মূল্য মার্কিন সরকারের জন্য বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ট্রেজারি বন্ড বিক্রি করা সহজ করে তোলে। যার ফলে তারা সহজেই অর্থ ধার এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি পূরণ করতে সক্ষম হয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করত, এসব নিয়ম নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রয়োজন। কিন্তু ব্রিটিশদের মতো বিশ্বায়নের সুবিধাগুলো তখনও অসমভাবে ভাগ করা হয়েছিল। জাপান, কোরিয়া ও জার্মানির মতো রপ্তানিনির্ভর প্রবৃদ্ধি গ্রহণকারী দেশগুলো সমৃদ্ধ হলেও নাইজেরিয়ার মতো অন্যান্য সম্পদ-সমৃদ্ধ কিন্তু মূলধন-দরিদ্র দেশগুলো আরও পিছিয়ে পড়েছিল।
স্বপ্ন থেকে হতাশা
যদিও আমেরিকান স্বপ্নের মিথ বৃদ্ধি পেয়েছিল, সত্তরের দশকে মার্কিন অর্থনীতি ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে পড়তে থাকে, বিশেষ করে জার্মান ও জাপানি প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছ থেকে, যারা ততক্ষণে যুদ্ধ থেকে পুনরুদ্ধার এবং তাদের শিল্পকে আধুনিকীকরণ করেছিল।
এই অনুভূত হুমকি এবং ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতির কারণে বিচলিত হয়ে ১৯৭১ সালে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন বিশ্বকে হতবাক করে দিয়েছিলেন এই ঘোষণা দিয়ে– আমেরিকা স্বর্ণমান থেকে সরে যাচ্ছে। অন্যান্য দেশকে তাদের মুদ্রার পুনর্মূল্যায়ন করে মার্কিন অর্থ প্রদানের ভারসাম্য সংকটের জন্য সমন্বয়ের খরচ বহন করতে বাধ্য করা হয়েছিল। এর ফলে বিশ্বব্যাপী আর্থিক ব্যবস্থার ওপর গভীর প্রভাব পড়েছিল: এক দশকের মধ্যে বেশির ভাগ প্রধান মুদ্রা স্থির বিনিময় হার পরিত্যাগ করে একটি নতুন ভাসমান হার ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এভাবে কার্যত ১৯৪৪ সালের ব্রেটন উডস নিষ্পত্তির অবসান হয়।
স্থির বিনিময় হারের অবসান বিশ্ব অর্থনীতির অর্থায়নের দরজা খুলে দেয়; বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগ এবং ঋণ প্রদানের ব্যাপক প্রসার ঘটায়, যার বেশির ভাগই মার্কিন আর্থিক সংস্থাগুলো দ্বারা। এটি ক্রমবর্ধমান নব্য-স্বাধীনতাকে সহায়তা করেছিল। তবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আমরা ১৭ ও ১৮ শতকের ফরাসি বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি ফিরে আসতে দেখেছি। তাঁর দাবি, যেসব দেশের আমেরিকার সঙ্গে উদ্বৃত্ত বাণিজ্য ছিল তারা ‘আমাদের ঠকাচ্ছে’। তা এই বাণিজ্যিক বিশ্বাসের প্রতিধ্বনি করে– বাণিজ্য একটা নিষ্ফল খেলা, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেদ্বারা প্রবর্তিত ২০ শতকের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে যায় না; যেখানে বলা হয়েছে বিশ্বায়ন সবার জন্য সুবিধা নিয়ে আসে, সেই বাণিজ্যে ভারসাম্য এবার যেদিকেই থাকুক।
ট্রাম্পের কর ও শুল্ক পরিকল্পনা, যা বড় ধনীদের জন্য কর ছাড়ের সুযোগ বৃদ্ধি, অন্যদিকে সুবিধা হ্রাস এবং শুল্কচালিত মুদ্রাস্ফীতির মাধ্যমে দরিদ্রদের অসুবিধায় ফেলে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বৈষম্য বৃদ্ধি করবে।
ট্রাম্প ও তাঁর সমর্থকদের সকল পুরুষালি দাপট, তার অর্থনৈতিক নীতিগুলো আমেরিকার শক্তি নয়, বরং দুর্বলতার প্রকাশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যত্র বসবাসকারী মানুষের জন্য তিনি একটি খারাপ পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক দিকে ঠেলে দিচ্ছেন, যাদের মধ্যে তাঁর অনেক উগ্র সমর্থকও রয়েছেন।
এটাও সত্য, ট্রাম্পের দ্বারা অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিপর্যয় না এলেও মার্কিন আধিপত্যবাদী যুগের অবসান ঘটত। বিশ্বায়ন মৃত নয়, বরং এটি মৃতপ্রায়। আমরা সবাই এখন যে উদ্বেগজনক প্রশ্নের মুখোমুখি হই তা হলো, এর পর কী আছে।
স্টিভ শিফেরেস: অনারারি রিসার্চ ফেলো, সিটি পলিটিক্যাল ইকোনমি রিসার্চ সেন্টার, সিটি সেন্ট জর্জেস, লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়; দ্য কনভারসেশন থেকে ভাষান্তর ইফতেখারুল ইসলাম
সংস্কারের রাজনৈতিক ঐক্য বনাম সামাজিক চুক্তি
সংস্কারের রাজনৈতিক ঐক্য বনাম সামাজিক চুক্তি
Summary: সংস্কারের সমাজতত্ত্ব, মনস্তত্ত্ব ও শাসন বস্থা; এই তিনের মধ্যে যোগসূত্র কোথায়? এদের একটি অপরটিকে কীভাবে প্রভাবিত করে? রাষ্ট্র পরিচালনায় এ বিষয়গুলো যখন সমন্বিতভাবে ভূমিকা পালন করে, তখন রাষ্ট্রের চেহারা কেমন দাড়ায়? রাষ্ট্র তখন কতটুকু মানবিক হয়? রাষ্ট্র বিনির্মাণে এসব বিষয় বারবার আলোচনার দাবি রাখে।
সংস্কার শব্দটি আমাদের দেশে নানাভাবে ব্যবহৃত হয়। সংস্কারের বিপরীত শব্দ কী? ‘কুসংস্কার’ নামে বাংলা ভাষায় যে শব্দটি আছে তার দ্বারা অনেক সময় অন্ধবিশ্বাস বা প্রচলিত রীতিনীতিকে বোঝানো হয়, যা একটি সময়ের মানদণ্ডে ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচিত। সাধারণভাবে সংস্কার শব্দের মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তনকেই বোঝানো হয় এবং তা সাধারণ বৈশ্বিক মানদণ্ডকে বিবেচনায় নিয়েই।
প্রশ্ন থাকতে পারে, সংস্কার নিয়ে কেন বারবার কথা বলতে হয়? প্রথম যুক্তিটি হচ্ছে, সংস্কার কোনো স্থির বিষয় নয়। এর মধ্যেই নিহিত গতিশীলতার প্রাণচাঞ্চল্য। তাই আজকের সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে যেটাকে আমরা সংস্কার বলছি, অনাগত ভবিষ্যতের কোনো একসময় সেটাই কুসংস্কার হিসেবে বিবেচনা করার দাবি উঠতে পারে। যে কারণে সংস্কারের চাহিদা ধারাবাহিক। তবে আমাদের দেশের বাস্তবতায় সংস্কার বারবার আলোচনায় আসার মূল কারণ, সংস্কারের প্রতিশ্রুতি আসে বারবার, কিন্তু এর বাস্তবায়ন নেই।
এ জন্য সংস্কারের পেছনে সামাজিক চুক্তি তৈরি না করা বা সামাজিক চুক্তিতে গুরুত্ব না দেওয়াকে দায়ী করা যায়, যে চুক্তির মাধ্যমে সংস্কার প্রশ্নে জনগণের মধ্যে এক ধরনের নৈতিক দায়বদ্ধতা তৈরি হয়। এ সামাজিক চুক্তি ছাড়া সংস্কার পোশাকি, লোক দেখানো ও ক্ষণস্থায়ী। লোক দেখানো সংস্কারের প্রতিশ্রুতি ও সংস্কার নিয়ে চালাচালি যতটা সহজ, তার চেয়ে বেশ কঠিন এ সম্পর্কিত সামাজিক চুক্তিতে পৌঁছা। এই সামাজিক চুক্তিতে পৌঁছানোই সামাজিক সংস্কারের অংশ। তবে সামাজিক চুক্তিতে পৌঁছাতে যে ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার তা দৃশ্যমান নয়। যেমনটা অবহেলিত থাকে সামাজিক সংস্কারের বয়ান তৈরি ও সম্মতি উৎপাদন করা, যা মানুষের মনস্তত্ত্বকে প্রভাবিত করে টেকসই সংস্কারের পথ প্রসারিত করে।
আমাদের দেশে সংস্কার নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয় তখনই, যখন সংস্কারকে শুধু রাজনৈতিক দল ও সমাজের উপরতলার মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলা হয়। এক সময় সমাজ সংস্কারকে বেশ প্রয়োজনীয় মনে করা হতো। এই ভূখণ্ডে এ রকম কয়েক ডজন নাম স্মরণ করা যায়, যাদের পরিচয়ের ক্ষেত্রে সমাজ সংস্কারকের তকমাটা জুড়ে গেছে কালের পরিক্রমায়। তাদের মধ্যে আছেন রাজ রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বেগম রোকেয়া, নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরী, হাজী মুহম্মদ মুহসীন প্রমুখ। এ রকম আরও অনেকেই ছিলেন, যাদের নাম আমরা জানি না। তাদের মধ্যে অনেক বৈসাদৃশ্যের মধ্যেও একটা সাদৃশ্য ছিল– তারা সবাই প্রথা ভেঙেছেন, সেটা যে পর্যায়ের হোক।
এই মুহূর্তে আমাদের দেশের অনেক কিছুর মতো সংস্কার নিয়েও অস্পষ্টতা আছে, যেমনটা অস্পষ্টতা আছে সরকার ও রাষ্ট্র নিয়ে। বেশির ভাগ সময়ই আমরা রাষ্ট্র বলতে সরকার বুঝি; আর সরকার বলতে আমলাতন্ত্র এবং প্রায় ক্ষেত্রেই একটাকে অপরটার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলি। আধুনিক রাষ্ট্র কাঠামোর চরিত্র আমাদের রাষ্ট্র এখনও ধারণ করতে পারেনি, এটা তার একটি লক্ষণ হতে পারে।
বর্তমানের রাজনৈতিক বাস্তবতায় যে সংস্কার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছি তাতে এ সংস্কারের সামগ্রিকতা তো বটেই, এর উদ্দেশ্যের স্পষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। কী সংস্থার করতে চাই? রাষ্ট্রের, সরকারের, আমলাতন্ত্রের, নাকি রাজনীতির? পাশাপাশি সংস্কারের মাধ্যমে কোন প্রথাটা ভাঙতে চাই? নতুন কোন চর্চাটা শুধু করতে চাই? সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা কোথায়? সমতা, ন্যায্যতা, সহিষ্ণুতা, বৈশ্বিক মানদণ্ডের গণতান্ত্রিকতার সঙ্গে এর যোগসূত্রতা কতটুকু? এ বিষয়গুলো আলোচিত ও সুনির্দিষ্ট হওয়া দরকার। এ মুহূর্তের প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন, সংস্কার কমিশনগুলো যে সুপারিশমালা তৈরি করেছিল তার অগ্রগতি কতটুকু। অনেকেই বলে, এর অনেকটাই হিমাগারে চলে গেছে। সমালোচকরা বলছেন, বৈষম্যবিরোধী চেতনাকে কর্মসূচিতে পরিণত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। যার পরিপ্রেক্ষিতে গত এক বছরে বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তাদের অনেকেই প্রতারিত বোধ করছেন।
সংস্কার বাস্তবায়ন না হওয়া কি সরকারের সক্ষমতার অভাব, নাকি আন্তরিকতার ঘাটতি? নাকি এটি সংস্কার প্রক্রিয়ায় সামগ্রিক সামাজিক, মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক অবস্থার প্রতিফলন না হওয়ার সীমাবদ্ধতা? এ ব্যর্থতার কারণেই সংস্কারের আলোচনা অনেক সময় শুধু উপরি কাঠামো নিয়ে হয়ে থাকে। উপরি কাঠামো নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন আছে। কিন্তু এর সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক কী হবে– তা ধারণা করতে না পারা সংস্কার প্রক্রিয়া ব্যর্থ হওয়ার অন্যতম কারণ। সংস্কার প্রক্রিয়া তখনই সার্থক হয় যখন সংস্কার প্রশ্নে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর এজেন্ডাও গুরুত্ব পায়। তাদের মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিতকল্পে কোনো অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা হয়। নিজেদের মধ্যে ক্ষমতার ভাগবাটোয়ারা যে কোনো প্রচেষ্টা সংস্কারের ন্যূনতম মানদণ্ড যে স্পর্শ করতে পারে না– তার সাক্ষী ইতিহাস।
প্রশ্ন করা যায়, কোন সংস্কারটা আগে; সমাজের নাকি প্রতিষ্ঠানের? আমরা এমন একটা সময়ে বসবাস করছি, যেখানে বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠানকে সমাজ পরিচালনার একমাত্র নিয়ামক ভাবছি। রাষ্ট্রও তেমনি একটি প্রতিষ্ঠান। ইতিহাস বলে, প্রতিষ্ঠান হচ্ছে উপরি কাঠামো। এর ভিত মানুষ ও তার সংস্কৃতি– সেখানটায় সংস্কার না হলে পরিবর্তন টেকসই হয় না। সংস্কার তখনই ঠুনকো হয়ে ওঠে, যখন এখানে এক ধরনের বাহ্যিক ঐকমত্যের প্রাতিষ্ঠানিকতার মধ্যে আটকে ফেলা হয়। সংস্কার প্রক্রিয়া এ আনুষ্ঠানিকতা ও প্রাতিষ্ঠানিকতার মধ্যে হারিয়ে যায়। সেই বিবেচনায় এ সময়ের সংস্কার আলোচনার পরিণতি কী হতে যাচ্ছে, তা গুরুত্বপূর্ণ। সংস্কার কি আবারও কোনো নেতিবাচক শব্দ হতে যাচ্ছে? যেমনটা আমরা দেখছি এক-এগারো পরবর্তী সময়ে।
নাজমুল আহসান: উন্নয়নকর্মী
psmiraz@yahoo.com